মূল অংশে যান

আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ

ফাতওয়া নং: ১০৫ তারিখ: ১১/১১/২০২৫ ঈ.

বরাবর

ফাতওয়া বিভাগ

আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ, পোরশা ইসলামপুর, পোরশা, নওগাঁ, বাংলাদেশ।

বিষয়: তালাক সংক্রান্ত

প্রশ্নের বিবরণ:

আমাদের স্বামী স্ত্রীর মাঝে ভুল বুঝা বুঝি ও রাগা রাগীর কারণে, আমরা আমাদের ফ্যামিলিকে জানাই, দুই ফ্যামিলি সিদ্ধান্ত নেয় বিচ্ছেদের, কিন্তু আমরা দুজনে বিচ্ছেদ চাইনি কখনো। আমরা বুঝতে পারিনি যে আমাদের বিচ্ছেদ করাই নিবে। আমরা জানতাম আমাদের দুজনের মাঝে একটা সময় দিবে আমাদের এক হওয়ার জন্য। কিন্তু আমাদের এই সময় দেওয়া হয়নি। আমাদের একদিনের মধ্যেই বিচ্ছেদ করায় নেয়। যেইটা আমরা স্বামী স্ত্রী কখনোই চাইনি। আমাদের ফ্যামিলি এমন পরিস্থিতি তৈরি করেছিল যে আমরা কিছুই বুঝতে পারিনি। আমরা স্বামী স্ত্রী আলাদা ভাবে কথা বলবো এই সুযোগ টাও আমাদের দেওয়া হয়।নি বাধা দেওয়া হয়েছে। তারা সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছিল আমাদের বিচ্ছেদ করাই নিবে। তারপর একজন কাজির কর্মচারী এসেছিল, এসে আমাদের বিচ্ছেদ এর জন্য লিখিতো কাজ শুরু করে। কাজ শেষ হওয়ার পর আমাদের মৌখিক ভাবে তালাক বলায় নেয়। "কাজির কর্মচারী তালাক দেওয়ার জন্য বলে এবং আমাকে বলতে বলে যে আমি আমার স্ত্রীকে তিন তালাকে তালাক দিলাম। এই ভাবে তালাক বলতে বলেছিল। আর আমি এই ভাবেই বলেছিলাম। আর তালাক দেওয়ার সময় আমার স্ত্রী হায়েয অবস্থায় ছিল, এইটা আমি জানতাম না। " আমি মন থেকে কখনোই আমার স্ত্রীকে তালাক দিতে চাইনি। আমি চেয়েছিলাম আমরা এক থাকবো সব সময়। কিন্তু পরিস্থিতি স্বাভাবিক ভাবে ছিল না। যার কারণে আমাদের বিচ্ছেদ হয়ে যায়। আমি মুখে তালাক দিতে চাইনি কখনো, কিন্তু আমাকে মুখে বলাই নিছে। আর আমরা স্বামী স্ত্রী দুজনেই রাগের মাথায় ছিলাম। আর এই সুযোগ টাই আমাদের দুজনের ফ্যামেলি নিয়েছে, কারণ আমাদের ফ্যামেলী আমাদের এই সম্পর্ক ভেঙে যাক এইটাই চাইতো। আমরা আমাদের ফ্যামিলিকে জানাইছিলাম সমাধানের জন্য কিন্তু তারা যে এই সুযোগে আমাদের বিচ্ছেদ করাই নিবে কখনোই বুঝতে পারিনি। (এখন আমরা দুজন একসাথে হওয়ার জন্য সমাধান চাচ্ছি। আমরা দু জনে সংসার করবো এইটা আমরা চাচ্ছি। আর আমাদের তালাক এর সময় চলতেছে ১ মাস ১৩ দিন। )

সমাধান:

بسم الله الرحمن الرحيم، حامدا ومصليا ومسلما

প্রশ্নোক্ত বিবরণ সত্য হলে শরীয়তের বিধান অনুযায়ী চার মাযহাবের ঐক্যমতে আপনার বক্তব্য “আমি আমার স্ত্রীকে তিন তালাকে তালাক দিলাম”বলার কারণেই আপনার স্ত্রীর উপর তিন তালাক কার্যকর হয়েছে।কারণ কোন ব্যক্তি যদি তার স্ত্রীকে তালাকের নিয়ত ছাড়াই এবং হায়েয চলমান অবস্থায় ও তালাক দেয় তাহলেও স্ত্রীর উপর তালাক কার্যকর হয়ে যায়।সুতরাং আপনাদের বৈবাহিক সম্পর্ক সম্পূর্ণরূপে ছিন্ন হয়ে গেছে।আপনারা একে অপরের জন্য হারাম হয়ে গেছেন। আপনার জন্য ঐ স্ত্রীকে নিয়ে আর স্বাভাবিকভাবে ঘর-সংসার করা বৈধ হবে না।তবে যদি আপনারা পুনরায় একসাথে ঘর-সংসার করতে চান তাহলে আপনার স্ত্রী ইদ্দত পালনের পর অর্থাৎ গর্ভবতী হলে সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর আর যদি ঋতুমতি হয় তাহলে তিনটি ঋতু অতিবাহিত হওয়ার পর স্বেচ্ছায় অন্যত্র বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হবে এবং দ্বিতীয় স্বামী সহবাস করার পর যদি কোন কারণে তালাক দেয় বা মারা যায় তাহলে তার ইদ্দত শেষ হওয়ার পর আপনারা পরস্পরে রাযি থাকলে নতুনভাবে দু'জন উপযুক্ত সাক্ষীর উপস্থিতিতে মোহর ধার্য করে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে একসাথে ঘর সংসার করতে পারবেন।
قوله تعالى في سورة البقرة (٢٣٠) فإن طلقها فلا تحل له من بعد حتى تنكح زوجا غيره وأخرج الإمام البخارى فى "صحيحه" (٥٠٦٦) وقال الليث عن نافع كان ابن عمر رضى الله عنهما إذا سئل عمن طلق ثلاثا قال لو طلقت مرة أو مرتين فإن النبى صلى الله عليه وسلم أمرني بهذ طلقها ثلاثا حرمت حتى تنكح زوجا غيره وفي"عمدة القارى"(٢٠/٢٣٣) ومذهب جماهير العلماء من التابعين و من بعدهم منهم الأوزاعي والنخعي و الثوري وأبوحنيفة وأصحابه ومالك وأصحابه والشافعي وأصحابه وأحمد وأصحابه واسحاق وأبو ثور وأبو عبيد وآخرون كثيرون على أن من طلاق إمرأته ثلاثا وقعن ولكنه يأثم. وقالوا من خالف فيه فهو شاذ مخالف لأهل السنة ‘ وإنما تعلق به أهل البدع ومن لا يلتفت إليه لشذوذه عن الجماعة التي لا يجوز عليهم التواطؤ على تحريف الكتاب و السنة وفي"الهدايه"(٢/٣٩٩) ان كان الطلاق ثلاثا في الحرة اوثنتين في الأمة لم تحل له حتي تنكح زوجا غيره نكاحا صحيحا ويدخل بها ثم يطلقها او يموت عنها وفي"الهداية" (٢/٣٥٨) وإذا طلق الرجل إمرأته في حالة الحيض وقع الطلاق لأن النهي عنه لمعني في غيره وفي"الهندية"(١/٣٥٥) ان كان الطلاق ثلاثا في الحرة اوثنتين في الأمة لم تحل له حتي تنكح زوجا غيره نكاحا صحيحا ويدخل بها ثم يطلقها او يموت عنها وفي"فتاوي دارالعلوم ديو بند"(٩/٣٠٥) حائضہ کو حالت حیض میں طلاق دینا بیشک بدعت ہے لیکن طلاق واقع ہو جاتی ہے اور تین طلاق کے بعد رجعت درست نہیں ہے اور حلالہ کے بغیر اس سے شوہر اول کا نکاح جائز نہیں ہے.. ..انتهى، والله أعلم بالصواب

অনলাইন ফাতওয়া || ফাতওয়া বিভাগ || আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ