আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ
ফাতওয়া নং: ১২৫
তারিখ: ০৩/১২/২০২৫ ঈ.
বরাবর
ফাতওয়া বিভাগ
আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ, পোরশা ইসলামপুর, পোরশা, নওগাঁ, বাংলাদেশ।
বিষয়: সদকাতুল ফিতর আদায় করতে সমাজের বাধ্যতামূলক নিয়ম করার হুকুম।
প্রশ্নের বিবরণ:
আসসালামু আলাইকুম। আমাদের গ্রামে ফিতরার টাকা ব্যক্তিগতভাবে নিজেরা আদায় করতে পারে না, এখানে মসজিদের পক্ষ থেকে সমাজের সকলেই মিলে একটি নিয়ম করেছে মসজিদের সভাপতি বা সেক্রেটারির কাছে ফিতরার টাকা গরিব বড়লোক গ্রামের সকলকেই জমা দিতে হবে। তাদের মত করে সেগুলো টাকা বিতরণ করে কিছু টাকা ঈদের আগে ও কিছু টাকা ঈদের পরে বিতরণ করা হয়। কেউ যদি টাকা জমা না দেয় তাহলে কোরবানির মাংস তাকে দেওয়া হয়না। এই গ্রামে কোরবানির মাংসও এক জায়গায় জমা করে পরবর্তীতে বিতরণ করা হয়। আমার প্রশ্ন (১) ফিতরা টাকা দেওয়া কাদের প্রতি ওয়াজিব? (২) ফিতরা টাকা এক জায়গায় জমা করার হুকুম কি ও সমাজে জমা করতে বাধ্য নিয়ম করতে পারে কিনা? (৩) ফিতরার টাকা নিজে আদায় করার সুন্নতকে পালন করতে বাধা প্রদান করার হুকুম কি? (৪) ফিতরা টাকা কোথায় এবং কিভাবে আদায় করবে ?
সমাধান:
بسم الله الرحمن الرحيم، حامدا ومصليا ومسلما
(১) ঈদুল ফিতরের দিন সুবহে সাদিকের সময় ঋণ আদায় বাদে প্রত্যেক মুসলিম নর-নারী, যার মালিকানায় মৌলিক প্রয়োজনের অতিরিক্ত সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার মূল্য সমপরিমাণ সম্পদ রয়েছে তার উপর সদকাতুল ফিতর ওয়াজিব। সদকাতুর ফিতরের নেসাবের ক্ষেত্রে টাকা-পয়সা, সোনা-রুপা, অলংকার, ব্যবসায়িক পণ্য প্রয়োজনের অতিরিক্ত জমি,বাড়ি. আসবাবপত্র ইত্যাদিরও হিসাব হবে। অর্থাৎ এসব মিলে যদি সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার সমমূল্যের সম্পদ থাকে তাহলেও সদকাতুল ফিতর ওয়াজিব।
(২) সমাজের সবার সম্মতিক্রমে যদি এক জায়গায় ফিতরার টাকা জমা করে গরীব-দুঃখীদের মাঝে সুন্দরভাবে বন্টন করতে চায় তাহলে এর সুযোগ রয়েছে। এটি বন্টনের একটি পদ্ধতি মাত্র। তবে কাউকে এব্যাপারে বাধ্য করা বৈধ হবে না।
(৩) ফিতরার টাকা নিজে আদায় করার ব্যাপারে কাউকে বাধা প্রদান করা শরীয়ত সম্মত নয়। বরং নিজ নিজ আদায় করাই উত্তম।
(৪) যাকাতের খাতই সদকাতুল ফিতরের খাত। অর্থাৎ ফকীর, মিসকীন ও যাকাত খাওয়ার উপযুক্ত ব্যক্তিদের মাঝেই তা বিতরণ করতে হবে। এ ধরণের একজন ব্যক্তিকেই পূর্ণ একটি ফিতরা দেওয়া উত্তম। অবশ্য এক ফিতরা কয়েকজনকে ভাগ করে দেওয়াও জায়েয আছে।
الإحالة الشرعية على المطلوب
قوله تعالي: ﴿إِنَّمَا الصَّدَقَاتُ لِلْفُقَرَاءِ وَالْمَسَاكِينِ وَالْعَامِلِينَ عَلَيْهَا وَالْمُؤَلَّفَةِ قُلُوبُهُمْ وَفِي الرِّقَابِ وَالْغَارِمِينَ وَفِي سَبِيلِ اللَّهِ وَابْنِ السَّبِيلِ فَرِيضَةً مِنَ اللَّهِ وَاللَّهُ عَلِيمٌ حَكِيمٌ ﴾ سورة التوبة_٦٠
في"ملتقي الابحر"(١\٣٣٤) هي واجبة على الحر المسلم المالك لنصاب فاضل عن حوائجه الاصلية و إن لم يكن ناميا
في"مجمع الانهر"(١\٣٣٧) (وندب إخراجها قبل صلاة العيد) بعد الطلوع لقوله عليه الصلاة والسلام «من أداها قبل الصلاة فهي صدقة مقبولة وإن أداها بعدها فهي صدقة من الصدقات» ويجب دفع فطرة كل شخص إلى مسكين واحد... ويجوز دفع ما يجب على جماعة إلى مسكين واحد ولكن شرط عدد الوصول إلى النصاب.
في"مراقي الفلاح"(٧٢٣) تجب على حر مسلم مكلف مالك لنصاب أو قيمته وإن لم يحل عليه الحول عند طلوع فجر يوم الفطر ولم يكن للتجارة فارغ عن الدين وحاجته الأصلية وحوائج عياله... ويستحب إخراجها قبل الخروج إلى المصلى وصح لو قدم أو أخر والتأخير مكروه ويدفع كل شخص فطرته لفقير واحد.واختلف في جواز تفريق فطرة واحدة على أكثر من فقير ويجوز دفع ما على جماعة لواحد على الصحيح-انتهي و الله تعالي اعلم بالصواب-
অনলাইন ফাতওয়া || ফাতওয়া বিভাগ || আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ