মূল অংশে যান

আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ

ফাতওয়া নং: ১৪৩ তারিখ: ২৭/১১/২০২৫ ঈ.

বরাবর

ফাতওয়া বিভাগ

আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ, পোরশা ইসলামপুর, পোরশা, নওগাঁ, বাংলাদেশ।

বিষয়: একসাথে তিন তালাক উচ্চারণ

প্রশ্নের বিবরণ:

বরাবর, ‎মুহতারাম মুফতী সাহেব। ‎বিষয়ঃ তালাক সংক্রান্ত একটি জিজ্ঞাসা। ‎বিবরণঃ-- আমার এক বোনের তালাক হয় ২০২৩ সালে‌। যখন তালাক হয় তখন তাদের ঘরে এক মাসের এক কন্যা শিশু রয়েছে,এই কন্যা শিশুকে নিয়ে তার পিতৃপক্ষের একটু অসন্তুষ্টি ছিল। কন্যা শিশু ও সাংসারিক মনোমালিন্যের জের ধরে পারিবারিক সালিশ পর্যন্ত গড়ায়। ওই মজলিসে বিভিন্ন জনের বিভিন্ন কথায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওই ভাই একপর্যায়ে বলে বসেন “আমি তোকে তালাক দিলাম,এক তালাক,২ তালাক, ৩ তালাক” । তাকে মুখ চেপে ধরেও থামানো যায়নি। ‎এর কিছুদিন পর তিনি বলেন তাদেরকে যেন মিলিয়ে দেওয়া হয়। তখন আমরা বললাম এখন আর সম্ভব নয়, তখন তিনি বলেন আমি এই মাযহাব মানি না, আমি আহলে হাদিসের মাযহাব অনুসরণ করি। আর আহলে হাদিসদের মতে একসাথে তিন তালাক বললে এক তালাক হয়। তিনি তার স্বপক্ষে আল হাদিসের মাযহাব অনুযায়ী ফতোয়াও আনেন‌। এবং বিভিন্ন সময় বলেন, তাদেরকে যেন মিলিয়ে দেওয়া হয় । ‎উল্লেখ্য যে, তারা একে অপরের কাছে যেতে আগ্রহী। এবং তাদের ঘরে একজন কন্যা শিশু রয়েছে । ‎এখন মুহতারাম হযরতের নিকট আমার জানার বিষয় হল। ‎▪️প্রশ্নঃ এই তালাক হয়ে গেছে কিনা? তাদেরকে কোনো ভালোভাবে মিলানো কি সম্ভব? হিলা বিয়ে কি জায়েজ? বৈধ হলে এর কোন পদ্ধতি আছে কি? এবং আল হাদিসের মত কি ভ্রান্ত ? যদি ভ্রান্ত হয় তাহলে দলিল সহ স্পষ্ট করে দিলে অনেক উপকৃত হতাম। এই মতভেতের কারণে আমরা অনেক চিন্তিত। ‎এবং তারা যদি আলাদা হয়ে যায় তাহলে তাদের সন্তানের দায়িত্ব কে নেবে?। ‎

সমাধান:

بسم الله الرحمن الرحيم، حامدا ومصليا ومسلما

(১) প্রশ্নোক্ত বিবরণ অনুযায়ী ঐ ব্যক্তির স্ত্রীর উপর তিন তালাক কার্যকর হয়েছে। তাদের বৈবাহিক সর্ম্পক সম্পূর্ণরুপে ছিন্ন হয়ে গেছে। (২) তাদের দুইজনকে আর স্বাভাবিকভাবে মিলানো সম্ভব নয়। তবে তারা যদি পুনরায় ঘর-সংসার করতে চায় তাহলে তার স্ত্রীকে তালাকের ইদ্দত অথাৎ ঋতুমতী হলে তিনটি ঋতু আর গর্ভবতী হলে সন্তান প্রসব করার পর স্বেচ্ছায় অন্যত্র বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে হবে এবং দ্বিতীয় স্বামী সহবাস করার পর কোন কারণে তালাক দেয় বা মারা যায় তাহলে তার ইদ্দত অতিবাহিত হওয়ার পর পরস্পরে রাজি থাকলে নতুনভাবে দুইজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে মোহর ধার্য করে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে এক সাথে ঘর-সংসার করতে পারবে। (৩) শরয়ী হিলা বলতে যা বুঝায় তা উপরে উল্লেখ করা হল। এই দ্বিতীয় বিবাহ পূর্ব চুক্তি ছাড়াই স্বতঃস্ফূর্তভাবে হতে হয়। সুতরাং চুক্তির ভিত্তিতে সীমিত সময়ের জন্য যদি কেউ বিবাহ করে তাহলে সে গুনাহগার হবে। হাদীস শরীফে তাদের অভিসম্পাত করা হয়েছে। হযরত আলী রা. বলেন, নিশ্চয় রাসুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হিলাকারী ও যার জন্য হিলা করা হয় উভয়কে লা’নত বা অভিসম্পাত করেছেন। ( সুনানে তিরমীযি, হাদীস নং-১১১৯) (৪) আহলে হাদীসদের মতটি সঠিক নয়। এটি চার মাযহাব ও সকল ওলামায়ে কেরামের ইজমার পরিপন্থি মতামত। এক সাথে তিন তালাক দিলেও তিন তালাক কার্যকর হয় এর স্বপক্ষে কয়েকটি দলিল নিম্নে উল্লেখ করা হল: ১. হাদীস শরীফে এসেছে, হযরত নাফে রহ. বলেন, যখন হযরত ইবনে উমর রা. এর কাছে (এক সাথে) তিন তালাক দিলে ‎তিন তালাক কার্যকর হওয়া না হওয়া (ফিরিয়ে নেওয়া যাবে কি না) বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে,‎ তিনি বলেন, যদি তুমি এক বা দুই তালাক দিয়ে থাকো তাহলে ফিরিয়ে নিতে পার। ‎কারণ, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে এরকম অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়ার আদেশ দিয়েছিলেন। আর ‎যদি তিন তালাক দিয়ে দাও তাহলে স্ত্রী হারাম হয়ে যাবে, যতক্ষণ পর্যন্ত না সে তোমাকে ছাড়া অন্য স্বামী গ্রহণ করে। (সহীহ বুখারী-২/৭৯২, ২/৮০৩ হাদীস নং ৫০৬৬) ২. অপর হাদীসে এসেছে, হযরত ইমাম মালেক রহ. এর কাছে এ বর্ণনা পৌঁছেছে যে, এক ব্যক্তি হযরত ইবনে আব্বাস রা. এর ‎কাছে জিজ্ঞাসা করল, আমি আমার স্ত্রীকে একশত তালাক দিয়েছি, এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য কি? ‎তখন ইবনে আব্বাস রা. বলেন, তুমি যা দিয়েছ তা থেকে তিন তালাক তোমার স্ত্রীর উপর ‎কার্যকর হয়েছে, আর সাতানব্বই তালাকের মাধ্যমে তুমি আল্লাহ তাআলার সাথে উপহাস ‎করেছ। (মুয়াত্তা মালেক;১৯৯, হাদীস নং ২০২১)। ৩. হযরত উমর রা. এর ফাতওয়া, যায়েদ ইবনে ওয়াহাব থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মদিনায় এক অকর্মা লোক ছিল, সে তার স্ত্রীকে এক হাজার তালাক দিল। বিষয়টি উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-এর কাছে পৌঁছানো হলে, সে বলল, আমি তো কেবল খেলাচ্ছলে করেছি। উমর (রা.) তখন তাকে দুররা (চাবুক) দিয়ে মারলেন এবং বললেন, তোমার জন্য তো তিন তালাকই যথেষ্ট ছিল। (সুনানুল কুবরা, ৭/৩৩৪) ৪. সৌদী আরবের গ্রহণযোগ্য গবেষক আলেমগণ গবেষণা করে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন যে, এক সাথে তিন তালাকে তিন তালাকই কার্যকর হবে। ‎‎(মাজাল্লাতুল বুহুসিল ইসলামিয়্যা, প্রথম খন্ড, তৃতীয় সংখ্যা, ১৩৯৭ হিজরী) আহলে হাদীসগণ যে দলীল দেন তা হল, ইবন আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে এবং আবু বকর (রা.) এর যুগে ও উমর (রা.) এর খেলাফতের প্রথম দুই বছর পর্যন্ত তিন তালাককে এক তালাক গণ্য করা হতো। (সহীহ মুসলীম,৩৫৬৫) উক্ত হাদীস সম্পর্কে কিছু কথা: 1. উক্ত হাদীস মানসুখ বা রহিত হয়ে গেছে। তাই এগুলো দলীল হিসাবে গ্রহনযোগ্য হবে না। কেননা উক্ত হাদীসগুলোর বর্ণনাকারী হলেন, ইবনে আব্বাস রা. যিনি নিজেই পরবর্তীতে এর বিপরিত ফাতওয়া দিয়েছেন। যা আমরা পূর্বে বর্ণনা করেছি। 2. এই হাদীসগুলোর মধ্যে তিন তালাক থেকে কি উদ্দেশ্য তা অস্পষ্ট। এই হাদীসগুলোতে এক মজলিসে বা একত্রে তিন তালাক দিলে এক তালাক হবে এমন কথা কোথাও নাই। সুতরাং যদি তিন তালাক দিলে এক তালাকই হয় তাহলে তিন তালাক দেওয়ার তো কোন সুযোগই থাকল না। অর্থাৎ পৃথক পৃথকভাবে তিন তালাক দিলেও বলা হবে এক তালাক হয়েছে। অথচ তারা কখনো একথা বলে না। 3. যারা এ হাদীসগুলো গ্রহণ করেছেন তাদের অনেকের মতেও এই হাদীসগুলো প্রর্যোজ্য হবে যে স্ত্রীর সাথে এখনো সহবাস বা নির্জনবাস হয়নি তার ক্ষেত্রে। তাই নাসাই শরীফে “স্বামী-স্ত্রীর সংগত হওয়ার পূর্বে বিভিন্ন সময়ে তিন তালাক দিলে করণীয়” অধ্যায়ে হাদীসটি উল্লেখ করেছেন। অতএব একথা প্রমাণিত হয় যে, একসাথে তিন তালাক দিলে তিন তালাকই কার্যকর হবে। চাই তিন তালাক এক বাক্যে প্রদান করুক, এক বৈঠকে প্রদান করুক, যেভাবেই তিন তালাক প্রদান করুক, তিন কালাকই কার্যকর হবে। এক তালাক নয়। (৬) মা-বাবার মাঝে বিচ্ছেদ ঘটলে কন্যা সন্তানের হায়েয না আসা পর্যন্ত অথাৎ বালেগ না হওয়া পর্যন্ত মা তার সন্তাকে নিজের কাছে রেখে লালন-পালনের অধিকার রাখে। তবে মা যদি অন্যত্র (সন্তানের মাহরাম ব্যতিত কারো সাথে) বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয় তাহলে কন্যা সন্তানের লালন-পালনের ক্ষেত্রে যথাক্রমে নানী,দাদী, বোন, খালা, ফুফু এই অধিকার লাভ করবে। তবে সন্তান যার কাছেই থাকুক তার লালন-পালন বাবদ যাবতীয় খরচাদি বাবাকেই বহন করতে হবে।
الإحالة الشرعية على المطلوب قوله تعالي في"سورة البقرة"(٢٣٠) ﴿فان طلقها فلا تحل له من بعد حتي تنكح زوجا غيره﴾ ۔۔ أخرج الإمام البخاري رح في"صحيحه"برقم(٥٠٦٦) وقال الليث عن نافع كان ابن عمر إذا سئل عمن طلق ثلاثا قال لو طلقت مرة أو مرتين فأن النبي صلى الله عليه و سلم أمرني بهذا فإن طلقتها ثلاثا حرمت حتى تنكح زوجا غيرك أخرج الإمام مالك رح في "موطأه"برقم(٢٠٢١) عن مالك أنه بلغه أن رجلا قال لعبد الله بن عباس إني طلقت امرأتي مائة تطليقة فماذا ترى علي فقال له ابن عباس طلقت منك لثلاث وسبع وتسعون اتخذت بها آيات الله هزوا أخرج البيهقى في"سننه الكبرى"برقم(١٥٠٦٤) عن زيد بن وهب أن بطالا كان بالمدينة فطلق امرأته ألفا فرفع ذلك إلى عمر بن الخطاب فقال إنما كنت ألعب فعلاه عمر بالدرة وقال إن كان ليكفيك ثلاث وفي"الهداية"(٢/٣٩٩)ان كان الطلاق ثلاثا في الحرة اوثنتين في الامة لم تحل له حتي تنكح زوجا غيره نكاحا صحيحا ويدخل بها ثم يطلقها او يموت عنها ۔۔۔ في "الهندية"(١\٤٢٣)وإذا قال لامراته : أنت طالق وطالق ولم يعلقه بالشرط إن كانت مدخولة طلقت ثلاثا ** في"الاشباه و النظائر"(١\٣٧٦زكريا) لو قال لزوجته : انت طالق‘طالق‘طالق‘طلقت ثلثا في"الدر المختار"(٣\٥٦٦) (والأم والجدة) لأم، أو لأب (أحق بها) بالصغيرة (حتى تحيض) أي تبلغ في ظاهر الرواية.. وعند مالك، حتى يحتلم الغلام، وتتزوج الصغيرة ويدخل بها الزوج عيني (وغيرهما أحق بها حتى تشتهى) وقدر بتسع وبه يفتى. حتى يستغني عن النساء وفي"امداد السائلين"(٤/٤٠) تین طلاقیں خواہ ایک جملے میں دے یا الگ الگ جملوں میں ، تینوں واقع ہو جاتی ہیں ، چاروں اماموں کا یہی مذہب ہے، جس نے اس کے خلاف فتاوی دیا ہے سخت حرام مرتکب ہوا ہے ، اور جو لوگ اس نکاح میں یہ جانتے ہوئے شریک ہوئے وہ بھی گناہگار ہوئے ، سب توبہ استغفار کریں -انتهي و الله تعالي اعلم بالصواب---

অনলাইন ফাতওয়া || ফাতওয়া বিভাগ || আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ