মূল অংশে যান

আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ

ফাতওয়া নং: ১৫২ তারিখ: ০১/১২/২০২৫ ঈ.

বরাবর

ফাতওয়া বিভাগ

আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ, পোরশা ইসলামপুর, পোরশা, নওগাঁ, বাংলাদেশ।

বিষয়: খোলা তালাক: স্বামী অত্যাচারের ক্ষেত্রে দ্বিতীয় বিয়ে করতে শরিয়ায় কোনো বাঁধা আছে?

প্রশ্নের বিবরণ:

আসসালামু আলাইকুম, আমি একজন মাজলুম নারী। আমার বিয়ে হয় ১৩/৯/২০১৩ তাং।বিয়ে পর থেকে আমার স্বামী আমাকে শারীরিক এবং মানুষিক অত্যাচার করে আসছে। বিনা কারেন সে আমাকে অত্যাচার করে। আমার একটি পুত্র সন্তান আছে। তাকেও সে অত্যাচার করে।সে আমাদের ভরনপোষণ দেয় না। সে কোন কাজ কর্ম করে না। সে নেশা করে। অনেক বার আমাকে মেরে ফেলতে চাইছে। পারিবারিক ভাবে মিমাংসা করার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু সে আগের মতোই মারদোর করে।গত১০/৯/২০২০ তাং সে আমার মাথা ফাটায় ফেলে। তারপরে আমার শাশুড়ী তাকে পুলিশ দেকে ধরিয়ে দেয়।একটি মামলাও হয়। কিন্তু কিছু দিন পর তারাই তাকে বের করে আনে। তখন আমি আমার বাবা বাসায় চলে আসি। কারন এইবার আমাকে নিশ্চিত মেরে ফেলবে।বাবার বাড়িতে আসার পর সে আমাদের কোনো খোঁজ খবর নেয় না। এমনকি ছেলের ভরনপোষণ দেয় না। এইভাবে ৩ বছর পার হলে গত ২৮/৬/২০২৪ আমি কাজির মাধ্যে তাকে খোলা তালাক পাঠাই। কিন্তু ১ বছরেও তার পক্ষ থেকে কোনো উত্তর আসেনা। কোন নোটিশ আসেনা। আমার এই তালাক কি কার্যকর হয়েছে। না হয়ে থাকলে শরিয়া মতাবেগে কিভাবে আমি তার থেকে মুক্ত হতে পারবো।সে কোনো দিন সমঝোতায় বসবেনা সে চায় আমি এইভাবে দুখে দুখে মরি। আর আমার কি দ্বীতিয় বিয়ে করতে শরিয়া কোনো বাঁধ আছে।

সমাধান:

بسم الله الرحمن الرحيم، حامدا ومصليا ومسلما

(১) প্রশ্নোক্ত বিবরণ অনুযায়ী আপনার স্বামী আপনার খোলা তালাকের প্রস্তাব কবুল না করার কারণে আপনার উপর কোন তালাক কার্যকর হয়নি। (২) আপনি আপনার বিষয়টি আদালতে মামলা করে কোন মুসলিম বিচারকের মাধ্যমে বিবাহ বিচ্ছেদের ফায়সালা গ্রহন করতে পারেন। অথবা, ইউনিয়ন পরিষদে গ্রাম্য আদালতে অভিযোগ দায়ের করে মুসলিম চেয়ারম্যান-মেম্বার ও স্থানীয় নেতৃবর্গের সালিশী বৈঠকের মাধ্যমেও বিচ্ছেদের ফায়সালা গ্রহন করতে পারেন। (৩) আপনি আদালতের মাধ্যমে বা ইউনিয়ন পরিষদে বা গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে বিচ্ছেদের পর আপনাকে তালাকের ইদ্দত তথা ঋতুমতী হলে তিনটি ঋতু আর গর্ভবতী হলে সন্তান প্রসবের পর আপনি দ্বিতীয় বিবাহ করতে পারবেন।
الإحالة الشرعية على المطلوب في"الدر المختار"(٣\٢٤٠) (المتوقفة على قبولها) خرج ما لو قال: خلعتك - ناويا الطلاق - فإنه يقع بائنا غير مسقط للحقوق لعدم توقفه عليه، وفي "الحيلة الناجزة"(١٢٩-١٣٠) سوال جو شخص قدرت کے باوجود اپنی بیوی کے حقوق نان و نفقہ ادا نہ کرتا ہو کیا اس کی بیوی کو حق ہے کہ کسی طرح خود کو اس کے نکاح سے الک کر لے؟ اگر ہے تو اس کی کیا صورت ہے. جواب اور تفریق کی صورت یہ ہے کہ عورت اپنا مقدمہ قاضی شرح یا مسلمان حاکم اور ان دونوں کے نہ ہونے کی صورت میں شرعی کمیٹی جماعت مسلمین میں پیش کرے اور جس شخص کی پاس پیش ہو وہ معاملہ کی شرعی شہادت وغیرہ کے دریعہ سے مکمل تحقیق کرے اور اگر عورت کا دعوی صحیح ثابت ہو کہ وسعت کی باوجود شوہر نان و نفقہ ادا نہیں کرتا تو اس عورت کے شوہر سے کہا جائے کہ تم یا تو اپنی بیوی کے حقوق ادا کرو یا طلاق دے دو ورنہ ہم تفریق واقع کردیں گے وفي "كتاب النوازل"(١٠/٢٨) سوال زید اپنی بیوی سے چھ سال نہ ملا اور نہ کوئی خرچ دیا ہے اور دوسری شادی کرلی اور دوسری بیوی کے ساتھ رہتے ہیں اس سے بچے بھی ہیں اور ہمارے دو بچے ان کے ساتھ ہے ایک بچہ ہمارے ساتھ ہے قرآن و حدیث کی روشنی میں خلع یا طلاق چاہتی ہوں تو میرے لیے شرعا کیا حکم ہے.جواب خلع کے لیے شوہر کی رضامندی ضروری ہے اس لیے اپنا معاملہ برادری کے بااثر افراد یا محکمہ شرعیہ کے سامنے رکھ کر حل کرانے کی کوشش کرے..انتهى، والله أعلم بالصواب

অনলাইন ফাতওয়া || ফাতওয়া বিভাগ || আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ