মূল অংশে যান

আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ

ফাতওয়া নং: ১৫৬ তারিখ: ২৭/১১/২০২৫ ঈ.

বরাবর

ফাতওয়া বিভাগ

আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ, পোরশা ইসলামপুর, পোরশা, নওগাঁ, বাংলাদেশ।

বিষয়: মীরাস সম্পর্কিত

প্রশ্নের বিবরণ:

আসসালামু আ'লাইকুম ওয়া রহ'মাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহ। আমি নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর থানার স্থায়ী বাসিন্দা। বর্তমানে আমি চাকরি সূত্রে ঢাকায় বসবাস করছি। আমার পিতা ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে মারা যান(ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। আমরা পাঁচ ভাই, চার বোন এবং আমার মা জীবিত। আমি সবার ছোট। দুই ভাই (বড় ও সেজ) দেশের বাইরে এক বোন দেশের বাইরে আর বাকি সবাই দেশে বসবাস করছে। আমার বাবা কিছু রেলওয়ে জমি কিনেছিলেন যেটার দলিল গুলোতে মেজো ভাইয়ের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সৈয়দপুর বাজারে রেলওয়ে জমি গুলো অনেকদিন ধরেই পৌরসভার তত্ত্বাবধানে আছে। এজন্য প্রকৃত জমির সাথে আরো কিছু অংশ বাড়িয়ে সৈয়দপুর পৌরসভা থেকে এলোট করা হয়েছে যেটা আমার সেজো ভাইয়ের নামে এলোটমেন্টটা বরাদ্দ। মোট কথা দলিল দস্তা বেজে আমার মেজো ও সেজো ভাইয়ের নামে জমিগুলো আছে। বাবা তার জীবদ্দশায় যে কারণেই হোক ভাইদেরকে নিজের(বাবার) নামে জমি করে দিতে বলেছিলেন কিন্তু ভাইয়েরা বাবা জমি বিক্রি করে দিবে এই সন্দেহে উনার নামে করেন নাই। পরবর্তীতে বাবা এমনও বলেছিলেন যে আমার নামে না হলে অন্তত তোমার মায়ের নামে জমিটা লিখে দাও । আমাদের যে জমিটা আছে এই জমির দুই সাইডে কয়েকটি দোকান ভাড়া দেওয়া আছে। বাবা মারা যাওয়ার আগ পর্যন্ত দোকানের ভাড়া তুলতেন এবং এই দোকান ভাড়ার টাকা কে কতটুকু পাবে সেটার একটা অছিয়ত করে গেছেন। যেখানে পরিবারের সদস্যদের বাইরে আমার এক চাচার কথা উল্লেখ আছে এবং বাবা একটি মক্তব দিয়েছিলেন ওই মক্তবের খরচ চালানোর কথা আছে। আরো উল্লেখ্য যে বাবা মারা যাওয়ার প্রায় এক বছর পরে চাচাও মারা যান। আমার মেজ ভাই উক্ত জমি ভাগের বিষয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ধরনের কথা বলেছেন। যেগুলো মনে আছে সেগুলো পয়েন্ট আকারে নিচে উল্লেখ করলাম ১. বাবা যেভাবে ওসিয়ত করে গেছেন ওই অসিয়ত অনুযায়ী সবাই শুধু টাকা পাবে জমির অংশে কোন ভাগ দিবোনা। ২. বাবা আমাকে জমি কিনে দিয়েছিলেন এবং আমার আর্থিক অবস্থা ভালো না তাছাড়া দলিল দস্তা বেজে আমার নাম বা সেজো ভাইয়ের নাম আছে সেহেতু আমি যেভাবে চাইব সেভাবেই সবাইকে দিব। ৩. নিচ তলায় মার্কেট করা হবে এবং ওই মার্কেটে সবার জন্য সমান জায়গার একটা করে দোকান বরাদ্দ থাকবে। এর পরবর্তীতে যার যেমন সুবিধা হবে তেমন করে এক একটি তলা নিজ দায়িত্বে থাকার ব্যবস্থা করবে। যেখানে দ্বিতীয় তলায় মেজো ভাই এবং সেজো ভাইয়ের চেয়ে যিনি ছোট ওনারা থাকবেন। এবং তার পরবর্তী তলা গুলো সবাই যার যার ইচ্ছে মতো সুযোগ সুবিধা বুঝে করবে। ৪. মায়ের ভাগের ব্যাপারে স্পষ্ট কোন বক্তব্য নায় তবে জিজ্ঞাসা করা হলে বলেছিলেন প্রত্যেকে যে ভাড়া পাবে সেখান থেকে কিছু কিছু টাকা মাকে দিয়ে দিবে। এখন আমার বক্তব্য হল: ১. নিচ তলায় মার্কেট হলে যারা বিদেশে আছে শুধু নিচতলার দোকানের টাকা পাবে কিন্তু উপরে তো ওনাদের থাকার কোন ব্যবস্থা হচ্ছে না। ২. চাচা এক বছর বেঁচে ছিলেন ওসিয়তের পরে। চাচাকে কোন তো টাকা পয়সা দেওয়া হয়নি এর ব্যাপারে কি হবে? ৩. আর ভাই যেভাবে ভাগ করতে চাচ্ছেন সেটা কি শরীয়ত সম্মত হবে? ৪. পরিবারের সকল সদস্যরা যদি বৈঠকের মাধ্যমে কোন সিদ্ধান্তে উপনীত হয় সবাই মেনে নেয় তাহলে কি সেটা ইসলামী শরিয়া সমর্থন করে কিনা ? ৫. মায়ের ভাগের ব্যাপারে উনার কোন স্পষ্ট বক্তব্য নাই মায়ের ব্যাপারে কি হবে? ৬. বর্তমানে উক্ত জমিতে আমার মেজো ভাই পরিবারসহ ও আমার মেজো বোন (তালাকপ্রাপ্তা) থাকে। এই অমীমাংসিত বিষয় কিভাবে মীমাংসা করা যায় সেটা নিয়ে একটা বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামী শুক্রবার অথবা শনিবার তাই আপনাদের পক্ষ থেকে আমাদের সমস্যা সমাধানে ইসলামী শরীয়া অনুযায়ী লিখিত ফতোয়া দিলে ভালো হতো যেটা বৈঠকে পেশ করে সবাই উপকৃত হতাম।

সমাধান:

بسم الله الرحمن الرحيم، حامدا ومصليا ومسلما

প্রশ্নোক্ত বিবরণ অনুযায়ী মৃত্যু পর্যন্ত আপনার বাবাই উক্ত জমি ও দোকানের মালিক ছিলেন। তার মৃত্যুর পর উক্ত জমি,দোকান ও দোকানের আয় মিরাছের নীতিমালা অনুসারে সকল ওয়ারিশদের মাঝে বন্টিত হবে। আপনার পিতা দোকানের আয় থেকে কে কতটুকু পাবে এ মর্মে যে অসিয়ত করে গেছেন এর মধ্যে আপনার চাচা ও মক্তবের জন্য অসিয়ত কার্যকর হয়েছে। আপনার চাচা যেহেতু এক বছর বেঁচে ছিলেন তাই তার জন্য বরাদ্দ অসিয়তের অংশ এক বছরে যতটুকু হয় তা আপনার চাচার ওয়ারিশদের মাঝে মিরাছের নীতিমালা অনুযায়ী বণ্টন করে দিতে হবে। আর মক্তবের জন্য বরাদ্দ অংশ মক্তবে ব্যয় করতে হবে। তবে ওয়ারিশদর জন্য অর্থাৎ স্ত্রী ও ছেলে,মেয়ের জন্য আপনার পিতা দোকানের আয় থেকে যে অসিয়ত করেছেন তা কার্যকর হয়নি। কেননা শরীয়ত অনুযায়ী ওয়ারিশদের জন্য অসিয়ত কার্যকর হয় না। বরং শরীয়তের মিরাছ নীতিমালা অনুযায়ী দোকানের আয় তাদের মাঝে বণ্টিত হবে। সুতরাং আপনার পিতার মৃত্যুর পর যদি কোন ঋণ থাকে তাহলে তা আদায় করতে হবে। আপনার চাচা ও মক্তবের জন্য অসিয়ত সহ আরো কোন বৈধ অসিয়ত থাকলে তা তার সম্পদের এক- তৃতীয়াংশ থেকে সম্পন্ন করতে হবে।এরপর অবশিষ্ট সম্পদ স্ত্রী ও দেশে-বিদেশে অবস্থানরত সকল সন্তানদের মাঝে বণ্টন করতে হবে। নিম্নে তাদের প্রাপ্য অংশের বণ্টন দেখানো হলো:- তাসহীহ:-১৬ মাসআলা:-৮ স্ত্রী ছেলে মেয়ে অষ্টমাংশ আসাবা ১ ৭ ২ ১৪ (২+২+২+২+২)=১০ (১+১+১+১)=৪ (১০+৪)=১৪ উল্লেখ্য, দেশে অবস্থানরত ছেলে যতটুকু অংশ পাবে বিদেশে অবস্থানরত ছেলেও ততটুকু অংশ পাবে। আপনার ভাই যেভাবে ভাগ করতে চাচ্ছেন তা শরীয়ত সম্মত নয়। শরীয়ত সম্মত বণ্টন উপরে বলা হয়েছে। আর প্রত্যেক বালেগ ওয়ারিশ যদি নিজের অংশ জানার পর সম্পদ বণ্টনের ক্ষেত্রে স্বেচ্ছায় কোন সিদ্ধান্ত নেন এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে সকলে তা মেনে নেন তাহলে শরীয়তেও এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ আছে। আর আপনার মায়ের অংশ শরীয়তে নির্ধারিত। তা হলো এক অষ্টমাংশ যার বিবরণ উপরে উল্লেখ করা হয়েছে।
في"السراجي"(١١) اما للزوجات فحالتان.... والثمن مع الولد أو ولد الابن وإن سفل وفيه أيضا (١٢) واما لبنات الصلب فاحوال ثلاث.... ومع الابن للذكر مثل حظ الانثيين وهو يعصبهن. وفي"شرح المجلة"(٤)١٣٢) كل يتصرف في ملكه كيف شاء. وفيه"الدرالمختار"(٩/٢٩١) لا يجوز التصرف في مال غيره بلا اذنه. وفي"السراجية"(٥٧٠) ولو مات الموصى ثم مات الموصى له قبل أن يقبل الوصية صار ميراثا لورثة الموصى له. وفي"كتاب النوازل"(١٨/٣٦) وارث کے حق میں وصیت شرعا معتبر نہیں ہے. وفي"امداد الفتاوى"(٧/٤٨٧) سوال: عمرو نے بوجہ بغاوت حاکم وقت اپنی جائیداد بغرض محفوظی زید اپنے برادرزادہ حقیقی کے نام کرا دی اور ہمیشہ وہ جائیداد بقبض اور تصرف عمرو رہی،اور کبھی قبضہ زائد کا مالکانہ اس پر نہیں ہوا،اب زید بعد وفات عمرو فقط اس وجہ سے کہ وہ جائیداد اس کے نام بغرض مذکور کرا دی تھی،وارثان عمرو سے دعوی ملکیت کرتا ہے،تو اس صورت میں ملک اس کی ہو سکتی ہے یا نہیں؟اور یہ دعوی اس کا صحیح اور درست ہے یا نہیں؟ جواب: اس صورت میں عمرو نے محفوظی جائیداد کے واسطے ایک حیلہ کیا ہے پس زید کسی طرح اس جائیداد کا مالک نہیں ہو سکتا،کیونکہ نہ تو استیلاء حاکم اس جائیداد پر پایا گیا کہ یوں کہیں کہ حاکم کی طرف سے زید کی ملکیت ہو گئی،اور نہ قبضہ زید کا اس جائیداد پر مالکا نہ پایا گیا،پس دعوی زید کا غلط ہے ،اور وہ جائیداد وارثان عمرو کی ہے..انتهى، والله أعلم بالصواب...

অনলাইন ফাতওয়া || ফাতওয়া বিভাগ || আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ