আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ
বরাবর
ফাতওয়া বিভাগ
আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ, পোরশা ইসলামপুর, পোরশা, নওগাঁ, বাংলাদেশ।
বিষয়: মীরাস সম্পর্কিত
প্রশ্নের বিবরণ:
আসসালামু আ'লাইকুম ওয়া রহ'মাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহ। আমি নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর থানার স্থায়ী বাসিন্দা। বর্তমানে আমি চাকরি সূত্রে ঢাকায় বসবাস করছি। আমার পিতা ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে মারা যান(ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। আমরা পাঁচ ভাই, চার বোন এবং আমার মা জীবিত। আমি সবার ছোট। দুই ভাই (বড় ও সেজ) দেশের বাইরে এক বোন দেশের বাইরে আর বাকি সবাই দেশে বসবাস করছে। আমার বাবা কিছু রেলওয়ে জমি কিনেছিলেন যেটার দলিল গুলোতে মেজো ভাইয়ের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সৈয়দপুর বাজারে রেলওয়ে জমি গুলো অনেকদিন ধরেই পৌরসভার তত্ত্বাবধানে আছে। এজন্য প্রকৃত জমির সাথে আরো কিছু অংশ বাড়িয়ে সৈয়দপুর পৌরসভা থেকে এলোট করা হয়েছে যেটা আমার সেজো ভাইয়ের নামে এলোটমেন্টটা বরাদ্দ। মোট কথা দলিল দস্তা বেজে আমার মেজো ও সেজো ভাইয়ের নামে জমিগুলো আছে। বাবা তার জীবদ্দশায় যে কারণেই হোক ভাইদেরকে নিজের(বাবার) নামে জমি করে দিতে বলেছিলেন কিন্তু ভাইয়েরা বাবা জমি বিক্রি করে দিবে এই সন্দেহে উনার নামে করেন নাই। পরবর্তীতে বাবা এমনও বলেছিলেন যে আমার নামে না হলে অন্তত তোমার মায়ের নামে জমিটা লিখে দাও । আমাদের যে জমিটা আছে এই জমির দুই সাইডে কয়েকটি দোকান ভাড়া দেওয়া আছে। বাবা মারা যাওয়ার আগ পর্যন্ত দোকানের ভাড়া তুলতেন এবং এই দোকান ভাড়ার টাকা কে কতটুকু পাবে সেটার একটা অছিয়ত করে গেছেন। যেখানে পরিবারের সদস্যদের বাইরে আমার এক চাচার কথা উল্লেখ আছে এবং বাবা একটি মক্তব দিয়েছিলেন ওই মক্তবের খরচ চালানোর কথা আছে। আরো উল্লেখ্য যে বাবা মারা যাওয়ার প্রায় এক বছর পরে চাচাও মারা যান। আমার মেজ ভাই উক্ত জমি ভাগের বিষয়ে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ধরনের কথা বলেছেন। যেগুলো মনে আছে সেগুলো পয়েন্ট আকারে নিচে উল্লেখ করলাম ১. বাবা যেভাবে ওসিয়ত করে গেছেন ওই অসিয়ত অনুযায়ী সবাই শুধু টাকা পাবে জমির অংশে কোন ভাগ দিবোনা। ২. বাবা আমাকে জমি কিনে দিয়েছিলেন এবং আমার আর্থিক অবস্থা ভালো না তাছাড়া দলিল দস্তা বেজে আমার নাম বা সেজো ভাইয়ের নাম আছে সেহেতু আমি যেভাবে চাইব সেভাবেই সবাইকে দিব। ৩. নিচ তলায় মার্কেট করা হবে এবং ওই মার্কেটে সবার জন্য সমান জায়গার একটা করে দোকান বরাদ্দ থাকবে। এর পরবর্তীতে যার যেমন সুবিধা হবে তেমন করে এক একটি তলা নিজ দায়িত্বে থাকার ব্যবস্থা করবে। যেখানে দ্বিতীয় তলায় মেজো ভাই এবং সেজো ভাইয়ের চেয়ে যিনি ছোট ওনারা থাকবেন। এবং তার পরবর্তী তলা গুলো সবাই যার যার ইচ্ছে মতো সুযোগ সুবিধা বুঝে করবে। ৪. মায়ের ভাগের ব্যাপারে স্পষ্ট কোন বক্তব্য নায় তবে জিজ্ঞাসা করা হলে বলেছিলেন প্রত্যেকে যে ভাড়া পাবে সেখান থেকে কিছু কিছু টাকা মাকে দিয়ে দিবে। এখন আমার বক্তব্য হল: ১. নিচ তলায় মার্কেট হলে যারা বিদেশে আছে শুধু নিচতলার দোকানের টাকা পাবে কিন্তু উপরে তো ওনাদের থাকার কোন ব্যবস্থা হচ্ছে না। ২. চাচা এক বছর বেঁচে ছিলেন ওসিয়তের পরে। চাচাকে কোন তো টাকা পয়সা দেওয়া হয়নি এর ব্যাপারে কি হবে? ৩. আর ভাই যেভাবে ভাগ করতে চাচ্ছেন সেটা কি শরীয়ত সম্মত হবে? ৪. পরিবারের সকল সদস্যরা যদি বৈঠকের মাধ্যমে কোন সিদ্ধান্তে উপনীত হয় সবাই মেনে নেয় তাহলে কি সেটা ইসলামী শরিয়া সমর্থন করে কিনা ? ৫. মায়ের ভাগের ব্যাপারে উনার কোন স্পষ্ট বক্তব্য নাই মায়ের ব্যাপারে কি হবে? ৬. বর্তমানে উক্ত জমিতে আমার মেজো ভাই পরিবারসহ ও আমার মেজো বোন (তালাকপ্রাপ্তা) থাকে। এই অমীমাংসিত বিষয় কিভাবে মীমাংসা করা যায় সেটা নিয়ে একটা বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামী শুক্রবার অথবা শনিবার তাই আপনাদের পক্ষ থেকে আমাদের সমস্যা সমাধানে ইসলামী শরীয়া অনুযায়ী লিখিত ফতোয়া দিলে ভালো হতো যেটা বৈঠকে পেশ করে সবাই উপকৃত হতাম।
সমাধান:
بسم الله الرحمن الرحيم، حامدا ومصليا ومسلما
অনলাইন ফাতওয়া || ফাতওয়া বিভাগ || আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ