আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ
ফাতওয়া নং: ১৯৪
তারিখ: ০৭/১২/২০২৫ ঈ.
বরাবর
ফাতওয়া বিভাগ
আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ, পোরশা ইসলামপুর, পোরশা, নওগাঁ, বাংলাদেশ।
বিষয়: বিবাহ ও তালাক
প্রশ্নের বিবরণ:
আসসালামু আলাইকুম শায়েখ, আমার বাবা বা কোনো ভাই নেই। আমার বোনের (মিলি হক তোয়া) বয়স ছিল ১৫ বছর এবং ছেলে(রাফিউল ইসলাম) এর বয়স ছিল ২২ বছর, বিয়ের সময় ২০২৩ সাল। তারা দুইজন সাক্ষী এর উপস্থিতিতে ২৫০০০ টাকা দেন মোহরে ও নগদ ১০০০ টাকা পরিশোধ করে ছেলের পক্ষ থেকে অভিভাবকের অনুপস্হিতিতে প্রস্তাব দেয়ার মাধ্যমে মেয়ে কবুল করে বিয়ে করে নেয়।মেয়ে প্রাপ্ত বয়স্ক না হওয়ায় কোনো কাবিন বা রেজিষ্ট্রেশন করা হয়নি ছিল না কোনো কাজি কিন্তু ২ জন সাক্ষী উপস্থিত ছিল।তাদের বিয়ের বয়স প্রায় ২.৫ বছর।এখন আমার বোন আর এই ছেলের সাথে থাকতে চাচ্ছে না।তারা একাধিকবার শারীরিক মেলামেশা করেছে এবং আমার বোনের একবার অ্যাবোরশন(গর্ভপাত) ও করা হয়েছে।বিষয় টি আমরা জানার পর এখন চাচ্ছি না আমার বোনের সাথে এই বিয়ে থাকুক।যদি ও তাদের সাথে আমাদের বংশগত কোনো বৈষম্য নেই।এখন অনলাইন মাধ্যমে অনেক আলেম বলছে বিয়ে হয়ে গেছে আবার অনেকেই বলছে বিয়ে হয়নি।এমতাবস্থায় শায়েখ আপনার কাছে আমার প্রশ্ন--- ১/তাদের বিয়ে কি শুদ্ধ হয়েছে?? ২/ছেলেকে বলেছি তালাক দিতে।ছেলে সরাসরি তালাক দিবে না বলেছে।এমতাবস্থায় আমার বোন কে কি অন্যত্র বিয়ে দেয়া যাবে?? ৩/এই মুহূর্তে কিভাবে এই বিচ্ছেদ করা যায় যেহুতু ছেলে তালাক না দিয়ে সংসার করতে চায়।আমার বোন কোনো অবস্থাতেই থাকতে রাজি না।এই বিষয় সম্পর্কে শুধু আমি আর আমার মা জানি। আমার বোনকে অন্যত্র বিয়ে দেয়ার উপায় কি উল্লেখ্য আমরা উভয় পরিবারই হানাফি মাযহাব এর অনুসারী। শায়েখ যদি কষ্ট করে উত্তর গুলো দিতেন তাহলে কৃতজ্ঞ থাকতাম।
সমাধান:
بسم الله الرحمن الرحيم، حامدا ومصليا ومسلما
প্রশ্নোক্ত বিবরণ অনুযায়ী আপনার বোনের বিয়ে শুদ্ধ হয়েছে এবং তাদের বৈবাহিক সম্পর্ক এখন পর্যন্ত বহাল আছে। এমতাবস্থায় আপনার বোনকে অন্যত্র বিবাহ দেওয়া জায়েয হবে না। কেননা একজনের বিবাহ বন্ধনে থাকা অবস্থায় অন্যত্র বিবাহ করা জায়েয নেই। আর সংসার জীবনে স্বামী স্ত্রীর মাঝে ঝগড়া-বিবাদ এবং মনোমালিন্য হওয়াটা স্বাভাবিক বিষয়। তাই একজন অপরজনকে মেনে নেওয়া এবং সংসার জীবনে ধৈর্যশীল হওয়া উচিত। দ্রুত তালাকের সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। এরপরেও যদি সংসার করা সম্ভব না হয় এবং স্বামীও তালাক না দেয় তাহলে আপনার বোন খোলা করে নিতে পারে অর্থাৎ আপনার বোন মোহর মাফ করে দেওয়ার শর্তে অথবা কিছু সম্পদের বিনিময়ে অথবা অন্য কোনভাবে স্বামীকে রাজি করে স্বামীর কাছে খোলা তালাকের প্রস্তাব পাঠাতে পারে। স্বামী সেই প্রস্তাবে সম্মত হয়ে খোলা করে দিলে তালাক হয়ে যাবে। স্বামীর কাছ থেকে তালাক নেওয়া ছাড়া অন্যত্র বিবাহ করা কোনভাবেই বৈধ হবে না।
في "الدر المختار" (٤/١٥٥) (نفذ نكاح حرة مكلفة بلا) رضا ( ولي) والأصل أن كل من تصرف في ماله تصرف في نفسه، ومالا فلا (وله) أى للولي (إذا كان عصبة الاعتراض في غير الكفء)۞
وفى "الهداية (٢/٣١٤) وينعقد نكاح الحرة العاقلة البالغة برضائها، وإن لم يعقد عليها ولي بكرا كانت اوثیبا - إلى قوله - ثم فی ظاهر الرواية: لافرق بين الكفوء وغير الكفوء، لكن للولي الاعتراض في غير الكفوء۞
وفي "الشامي" (٤/٢٧٤) وأما نكاح منكوحة الغير ومعتدته فلم يقل أحد بجوازه فلم ينعقد أصلا۞
وفي "التاتارخانية" (٤/٦٦) ولا يجوز نكاح منكوحة الغير ومعتدة الغير عند الكل۞
و في "كتاب النوازل" (٨/٣٥٧) عاقل بالغ لڑکا لڑ کی اگر شرائط نکاح کی رعایت کرتے ہوئے نکاح کر لیں، تو ان کا کیا ہوا نکاح منعقد ہو جاتا ہے، خواہ والدین کی رضا مندی ہو۔ بانہ ہو، البتہ اگر لڑکی نے غیر کفو میں نکاح کیا ہے، تو اولیاء کو حق اعتراض حاصل ہے، وہ اس معاملہ میں قریبی محکمہ شرعیہ سے رجوع کر سکتے ہیں۞
و في "كتاب النوازل" (١٠/٢٧) میاں بیوی کا جب ساتھ رہنا ممکن نہ ر ہے اور شوہر طلاق بھی نہ دے، تو ایسی صورت میں شریعت نے بیوی کو یہ حق دیا ہے کہ وہ کچھ دے دلا کر یا اپنا مہر معاف کر کے شوہر سے طلاق لے لے، اسی کو بھی شرعی اصطلاح میں خلع کہتے ہیں ..انتهى، والله أعلم بالصواب۞
অনলাইন ফাতওয়া || ফাতওয়া বিভাগ || আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ