আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ
ফাতওয়া নং: ২৩২
তারিখ: ১৪/১২/২০২৫ ঈ.
বরাবর
ফাতওয়া বিভাগ
আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ, পোরশা ইসলামপুর, পোরশা, নওগাঁ, বাংলাদেশ।
বিষয়: তালাক
প্রশ্নের বিবরণ:
মুহতেরাম শায়েখ, আমি বিয়ে করেছি একবছর হয়। বিয়ের পর থেকে এই পর্যন্ত বউ আমার কোন কথা শুনে না। বিয়ের কয়েকদিন যেতে না যেতেই তার অশালীন কথা বার্তা ও আচরণ প্রকাশ পায়। প্রথমে ভেবেছি বুঝাইলে আস্তে আস্তে ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু অবাধ্যতা যেন তার রক্তে মিশে আছে। পরিবর্তনের কোন চিহ্নমাত্র নেই। তার অবাধ্যতায় ও অশালীনতায় আমার জীবন বিষিত হয়ে গেছে। শুধু আমার জীবন নয়, আমার পরিবারকেও সে অতিষ্ঠ করে রাখছে। যার কারণে তার প্রতি আমার আর মায়া মোহাব্বত জাগে না। আজ তিন মাস হয় তার সাথে দেখা, সাক্ষাত, কথা বলা বন্ধ করে রেখেছি। এখন শায়েখ, আমি চাচ্ছি তাকে তালাক দিয়ে দিব। কিন্তু ভয় হচ্ছে তালাক দেয়া তার উপর জুলুম হবে নাতো? আমি অনেক বার সালাতুত তাসবীহ পড়ে আল্লাহর কাছে ফায়সালা চেয়েছি, কিন্তু কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারছি না। সুতরাং শায়েখ ইসলামের দৃষ্টিতে একটি কল্যাণকর সমাধান বের করে দিলে চির কৃতজ্ঞ থাকবো। ( আমি তাকে নামাজ রোজা কুরআন তিলাওয়াত ও ভালো কাজের আদেশ করতাম। আর নাটক সিনেমা টিকটক রিল্স দেখতে নিষেধ করতাম।)
সমাধান:
بسم الله الرحمن الرحيم، حامدا ومصليا ومسلما
সংসার জীবনে কোন স্ত্রী যদি স্বামীর অবাধ্য হয়,তবে সেক্ষেত্রে স্বামীর জন্য রয়েছে বেশ কিছু করণীয়।কুরআনুল কারীমে এক্ষেত্রে স্বামীর জন্য সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।আল্লাহ তা'আলা বলেন,আর যে সকল স্ত্রীর ব্যাপারে তোমরা অবাধ্যতার আশংকা কর, (প্রথমে) তাদেরকে বুঝাও এবং (তাতে কাজ না হলে) তাদেরকে শয়ন শয্যায় একা ছেড়ে দাও এবং (তাতেও সংশোধন না হলে) তাদেরকে প্রহার করতে পার। অতঃপর তারা যদি তোমাদের আনুগত্য করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে কোন (ব্যবস্থা গ্রহণের) পথ খুঁজো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা সকলের উপর, সকলের বড়।(সূরা নিসা আয়াত নং ৩৪)
প্রথম পদক্ষেপ: উপদেশ দেওয়া।স্ত্রীর অবাধ্যতা দেখলেই কোন স্বামীরই উচিত নয় যে,তার ব্যাপারে উত্তেজিত হয়ে যাওয়া।বরং নিজেকে সংযত রেখে স্ত্রীকে মিষ্টি ভাষায় বোঝানোর চেষ্টা করা।আল্লাহর ভয় দেখানো।আনুগত্যের লাভ ও অবাধ্যতার ক্ষতি সম্পর্কে দরদের সাথে বোঝানো।
দ্বিতীয় পদক্ষেপ:শয্যা ত্যাগ করা।উপদেশ দেওয়ার পরও যদি স্ত্রী তার স্বামীর অবাধ্য থাকে তবে স্ত্রীর সঙ্গে রাগ-অনুরাগ,অভিমান প্রকাশ করার জন্য শয্যা ত্যাগ করা।স্বামী-স্ত্রী একসাথে রাত যাপন থেকে বিরত থাকা।স্ত্রীর ঘুমানোর জায়গা পৃথক করে দেওয়া।
তৃতীয় পদক্ষেপ:মৃদ প্রহার করা।স্ত্রী যদি উপদেশ ও শয্যা ত্যাগের মাধ্যমে সংশোধন না হয়,তবে তাদের মৃদ প্রহারের কথা কুরআনে এসেছে।এমন ভাবে হালকা প্রহার করতে হবে,যাতে শরীরে কোন যখম বা আঘাতের চিহ্ন না পড়ে এবং চেহারায় কোনভাবেই প্রহার করা যাবে না।
চতুর্থ পদক্ষেপ: উভয় পক্ষের সালিস বসানো। উল্লিখিত পন্থা গ্রহণ করার পরও যদি কোন কাজ না হয়,তবে ইসলামের নির্দেশনা হল,উভয় পক্ষ থেকে এক বা একাধিক সালিসের মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার সমস্যা নিরসনের চেষ্টা করা।আল্লাহ তাআলা বলেন,তোমরা যদি স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহ সৃষ্টির আশঙ্কা কর, তবে (তাদের মধ্যে মীমাংসা করার জন্য) পুরুষের পরিবার হতে একজন সালিস ও নারীর পরিবার হতে একজন সালিস পাঠিয়ে দেবে। তারা দু'জন যদি মীমাংসা করতে চায়, তবে আল্লাহ তাআলা উভয়ের মধ্যে ঐক্য সৃষ্টি করে দেবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্ববিষয়ে জ্ঞাত এবং সর্ববিষয়ে অবহিত।(সূরা নিসা আয়াত নং ৩৫)
উক্ত সালিসদ্বয়কে স্বামী-স্ত্রী উভয়জন এই অধিকার দিবেন যে,আপনারা আমাদের কল্যাণের জন্য যে সিদ্ধান্ত নিবেন আমরা তা মেনে নিব।এরপর সালিসদ্বয় বিবেচনা করে যদি ভালো মনে করেন সমঝোতা করে দিবেন।আর যদি দেখেন যে,কোনভাবেই সমঝোতা সম্ভব নয়,তাহলে এক তালাকের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান দিবেন। কেননা একসঙ্গে একের বেশি তালাক দেওয়া শরীয়তে নিষেধ।
উল্লেখ্য,স্বামী-স্ত্রীর মাঝে মনোমালিন্য কম বেশি অনেক পরিবারেই হয়ে থাকে।এজন্য খুব দ্রুত হুটহাট তালাক বা বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।সর্বাত্তক চেষ্টা করতে হবে তার ভুল গুলো শুধরে দিয়ে তাকে নিয়েই সংসার করার জন্য।
বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে তার বুঝেরও পরিবর্তন ঘটতে পারে।এই স্ত্রীকে তালাক দিলেই যে পরবর্তী স্ত্রী তার চেয়ে বেশি ভালো হবে এরো কোন গ্যারান্টি নাই।
তাই স্ত্রীকে দরদের সাথে বোঝানোর পাশাপাশি তার হেদায়েতের জন্য দুআও করা উচিত।কুরআন তেলোয়াত ও দ্বীনি বই পড়ার প্রতি উদ্বুদ্ধ করা যেতে পারে। প্রয়োজনে বাসায় পাঁচ থেকে দশ মিনিট কোন ভাল দ্বীনি বইয়ের তালিমেরও ব্যবস্থা করতে পারেন।
قوله تعالى: والتي تخافون نشوزهن فعظوهن واهجروهن في المضاجع واضربوهن فإن اطعنكم فلا تبغوا عليهن سبيلا إن الله كان عليا كبيرًا (سورة النساء ٣٤)۞
وقوله تعالى: وإن خفتم شقاق بينهما فبعثوا حكما من أهله وحكما من أهلها إن يريدا اصلاحا يوفّق الله بينهما إن الله كان عليما خبيرًا(سورة النساء ٣٥)۞
وفي"بدائع الصنائع"(٣/٦٠١) وأما أحكام النكاح... ومنها ولاية التأديب للزوج إذا لم تطعه فيما يلزم طاعته بأن كانت ناشزة فله أن يؤدبها لكن على الترتيب فيعظها أولًا على الرفق واللين.... فإن نجعت فيها الموعظة ورجعت إلى الفراش وإلا هجرها فإذا هجرها فإن تركت النشوز وإلا ضربها عند ذلك ضربا غير مبرح ولا شائن.... فإن نفع الضرب وإلا رفع الامر إلى القاضي ليوجه إليهما حكمين حكما من أهله وحكما من أهلها۞
وفي"البحر الرائق"(٣/٢٢٠) في حقوق الزوجين.... ومنها إذا حصل نشوز أن يبدأها بالوعظ ثم بالهجر ثم بالضرب للآية۞
وفي"معارف القران"(٢/٤٠٢) اس میں مردوں کو خطاب کر کے ارشاد فرمایا گیا کہ اگر عورتوں سے نافرمانی یا اطاعت میں کوچھ کمی محسوس کرو تو سب سے پہلے کام یہ کرو کے سمجھا بجھا کر ان کی ذہنی اصلاح کرو اس سے کام چل گیا تو معاملہ یہیں ختم ہو گیا اور اگر اس سے کام نہ چلے تو دوسرا درجہ یہ ہے کہ ان کو تنبیہ کرنے اور اپنی ناراضی کا اظہار کرنے کے لیے علحدہ بستر پر سوو اور اگر اس شریفانہ سزا پر بھی اپنی نافرمانی اور کج ردی سے باز نہ ائی تو تیسرے درجہ میں معمولی مار مارنے کی بھی اجازت دے دی گئی جس کی حد یہ ہے کہ بدن پر ان مار کا اثر و زخم نہ ہو۔۔یہ نظام تو وہ تھا کہ جس کے ذریعہ گھر کا جھگڑا گھر ہی میں ختم ہو جائے لیکن بعض اوقات ایسا بھی ہوتا ہے کہ جھگڑا طول پکڑ لیتا ہے اس دوسرے ایات میں قران کریم نے اس فساد عظیم کا دروازہ بند کرنے کے لیے حکام وقت فریقین کے اولیاء اور حامیوں کو اور مسلمانوں کی جماعتوں کو خطاب کر کے ایک ایسا پاکیزہ طریقہ بتلایا جس سے فریقین کا اشتعال بھی ختم ہو جائے۔۔۔خلاصہ یہ ہے کہ ایک حکم مرد کے خاندان کا اور ایک عورت کے خاندان کا مقرر کر کے دونوں میاں بیوی کے پاس بھیجے جائیں اب وہاں جا کر یہ دونوں کیا کام کریں اور ان کے اختیارات کیا ہے قران کریم نے اس کو متعین نہیں فرمایا البتہ آخر میں ایک جملہ یہ ارشاد فرمایا "إن يريدا اصلاحا يوفق الله بينهما"اس جملے سے دو باتیں مفہوم ہوئیں،دوسری بات اس جملہ سے یہ بھی سمجھی جاتی ہے کہ ان دونوں حکاموں کو اپنا وکیل بنا دی اور یہ تسلیم کر لی کہ تم دونوں ملکر جو فیصلہ بھی ہمارے حق میں دوگے ہمی منظور ہوگا اس صورت میں یہ دونوں حکموں کلی طور پر ان کے معاملا کے فیصلہ میں مختار ہو جائیں گی دونوں طلاق پر متفق ہو جائیں تو طلاق ہو جائے گا..انتهى، والله أعلم بالصواب۞
অনলাইন ফাতওয়া || ফাতওয়া বিভাগ || আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ