মূল অংশে যান

আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ

ফাতওয়া নং: ২৩৩ তারিখ: ১৫/১২/২০২৫ ঈ.

বরাবর

ফাতওয়া বিভাগ

আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ, পোরশা ইসলামপুর, পোরশা, নওগাঁ, বাংলাদেশ।

বিষয়: স্বামী স্ত্রীর বিবাহ বিচ্ছেদ

প্রশ্নের বিবরণ:

📝 ফতোয়া চাওয়ার জন্য মেসেজ ড্রাফট বিষয়: স্বামীর খোঁজ-খবর না থাকা ও খরচ না দেওয়ার কারণে স্ত্রীর করণীয় এবং দ্বিতীয় বিবাহ সংক্রান্ত মাসআলা। শ্রদ্ধেয়/হযরত মুফতি সাহেব, আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। আমার একটি মাসআলা জানার ছিল। মাসআলাটি আমার খালাতো বোনের। তাঁর বর্তমান অবস্থা সংক্ষেপে নিচে তুলে ধরা হলো: স্বামী: সৌদি আরবে থাকেন, প্রায় ৬ মাস ধরে। স্ত্রীর অবস্থান: স্বামী বিদেশে যাওয়ার আগে থেকেই স্ত্রী তাঁর বাবার বাসায় (নাইওর) আছেন। যোগাযোগ: স্বামী বিদেশে যাওয়ার পর প্রথম দিকে মাঝেমধ্যে কথা হলেও, গত প্রায় তিন মাস ধরে স্বামীর সাথে কোনো প্রকার যোগাযোগ বা কথাবার্তা নেই। খরচ: স্বামী এই দীর্ঘ সময়ে স্ত্রীর বা সন্তানের কোনো প্রকার খরচ (নানা-খোরপোশ) দেননি বা চালাচ্ছেন না। সন্তান: তাঁদের একটি মেয়ে সন্তান আছে। স্ত্রীর অবস্থা: স্ত্রী নিজে সাভার, ঢাকায় একটি গার্মেন্টসে কাজ করে বহু কষ্টে নিজের এবং মেয়ের ভবিষ্যৎ তৈরির চেষ্টা করছেন। জিজ্ঞাসা: ১. এমতাবস্থায়, যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন এবং খরচ না দেওয়া স্বামীর অনুপস্থিতিতে স্ত্রী কি অন্য কোথাও দ্বিতীয় বিবাহ করার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন? ২. যদি পারেন, তাহলে কাজী অফিসের মাধ্যমে তালাক দিয়ে কি সঙ্গে সঙ্গে অন্য কারো সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া শরীয়তসম্মত হবে? না কি, নির্দিষ্ট কোনো সময় (ইদ্দত) অপেক্ষা করতে হবে? ৩. শরীয়তের বিধান অনুযায়ী তাঁর এখন করণীয় কী, দয়া করে জানালে কৃতজ্ঞ থাকব। বিষয়টি অতিব জরুরি। কুরআন-সুন্নাহর আলোকে সঠিক দিকনির্দেশনা দিয়ে বাধিত করবেন।

সমাধান:

بسم الله الرحمن الرحيم، حامدا ومصليا ومسلما

প্রশ্নোক্ত বিবরণ যদি সত্য হয়ে থাকে তাহলে স্বামীর দেওয়া তালাকের অধিকার ছাড়া শুধু কাজী অফিসের মাধ্যমে তালাক নিয়ে অন্যত্র বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া স্ত্রীর জন্য বৈধ হবে না। তবে স্বামী যদি মৌখিক বা লিখিতভাবে স্ত্রীকে তালাক গ্রহণের অধিকার প্রদান করে,তাহলে স্ত্রী নিজের উপর তালাক গ্রহণ করে ইদ্দত শেষে অন্যত্র বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবে। আগে থেকেই যদি স্বামীর পক্ষ থেকে তালাক গ্রহণের অধিকার না থাকে, তাহলে স্ত্রীর করণীয় হল,যে কোন উপায়ে স্বামীর কাছ থেকে তালাক নিয়ে নেওয়া । অর্থাৎ স্বামী নিজেই তালাক প্রদান করবে অথবা স্ত্রীকে তালাক গ্রহণের অনুমতি দিবে। যথাসাধ্য চেষ্টা করার পরও যদি স্বামী তালাক না দেয় অথবা তালাক গ্রহণের অনুমতিও প্রদান না করে আর স্ত্রীও ধৈর্য ধারণ করে পবিত্রতা ও সততার সঙ্গে জীবন যাপন করতে সক্ষম না হয় এবং তার ভরণ পোষণেরও কোনো ব্যবস্থা না থাকে, তাহলে প্রয়োজনমত নিম্নোক্ত পদ্ধতি অবলম্বনের সুযোগ রয়েছে:- স্ত্রী তার অভিযোগ মুসলিম বিচারকের কাছে অথবা স্থানীয় মুসলিম চেয়ারম্যান ও মেম্বারের কাছে পেশ করবে। তারা শরঈ সাক্ষ্য-প্রমাণ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি যাচাই বাছাই করবেন। যদি প্রমাণিত হয় যে স্বামী আর্থিক সচ্ছলতা থাকা সত্ত্বেও স্ত্রীর ভরণ পোষণ প্রদান করছে না বা বৈবাহিক অধিকার আদায় করছে না, তাহলে বিচারক স্বামীকে নির্দেশ দিবেন,স্ত্রীর হক ও অধিকারসমূহ আদায় করতে, অন্যথায় স্ত্রীকে তালাক প্রদান করতে। স্বামী যদি কোনটিই না করে তাহলে বিচারক বা কর্তৃপক্ষ স্বামীর পক্ষ থেকে তালাক কার্যকর করবেন। এরপর স্ত্রী চাইলে ইদ্দত পালনের পর অন্যত্র বিবাহের সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।
 في"الحيلة الناجزه" (٩٤) زوجہ متعنت کو اول تو لازم ہے کہ کسی طرح خاوند سے خلع وغیرہ کر لے،لیکن اگر باوجود سعی بلیغ کے کوئی صورت نہ بن سکے، تو سخت مجبوری کی حالت میں مذہب مالکیہ پر عمل کرنے کی گنجائش ہے کیونکہ ان کے نزدیک زوجہ متعنت کو تفریق کا حق مل سکتا ہے اور سخت مجبوری کی دو صورتیں ہیں: ایک یہ کے عورت کے خرچ کا کوئی انتظام نہ ہو سکے، یعنی نہ کوئی شخص عورت کے خرچ کا بندوبست کرتا ہو اور نہ خود عورت حفظ آبرو کے ساتھ کسب معاش پر قدرت رکھتی ہو، اور دوسری صورت مجبوری کی یہ ہے کہ اگرچہ بسہولت یا بدقت خرچ کا انتظام ہو سکتا ہے، لیکن شوہر سے علیحدہ رہنے میں ابتلاء معصیت کا قوی اندیشہ ہو-اور صورت تفریق کی یہ ہے کہ عورت اپنا مقدمہ قاضی اسلام یا مسلمان حاکم اور ان کے نہ ہونے کی صورت میں جماعت مسلمین کے سامنے پیش کرے اور جس کے پاس پیش ہو وہ معاملہ کی شرعی شہادت وغیرہ کے ذریعہ سے پوری تحقیق کرے اور اگر عورت کا دعوی صحیح ثابت ہو کہ باوجود وسعت کے خرچ نہ دیتا تو اس کے خاوند سے کہا جاوے کہ اپنی عورت کے حقوق ادا کر یا طلاق دے، ورنہ ہم تفریق کر دیں گے، اس کے بعد بھی اگر وہ ظالم کسی صورت پر عمل نہ کرے تو قاضی یا شرعا جو اس کے قائم مقام ہو طلاق واقع کر دے، اس میں کسی مدت کے انتظار اور مہلت کی باتفاق مالکیہ ضروری نہیں وفي"قاسميه"(١٦/٣٣٨) ایسی عورت کے لۓ اس شوہر سے رہائ حاصل کرنے کے لیے باتفاق ائمہ اربعہ صحیح صورت یہ ہے کہ یہ اس خاوند کو کسی طرح خلع پر راضی کرے اگر وہ شخص خلع پر راضی نہ ہو اور یہ عورت صبر کر کے اپنی زندگی عفت کے ساتھ گزار نہ سکے اور اس کے نان و نفقہ کی بھی کوئی صورت نہ ہو تو سخت مجبوری میں یہ بھی گنجائش ہے کہ مذہب مالکی کے موافق صورت ذیل اختیار کر کے رہائی حاصل کرے کہ جہاں قاضی شرعی نہ موجود ہو تو وہاں گواہوں کے ساتھ اپنا مقدمہ پیش کر دے،اور جہاں قاضی شرعی موجود ہو تو وہاں جماعت مسلمین اور محکمہ شرعیہ میں اپنا مقدمہ پیش کر دے، اور اس غائب کے ساتھ اپنا نکاح ہونا، پھر اس کی طرف سے خرچہ اخراجات کا نہ ملنا اور حقوق زوجیت کا ادا نہ کرنا گواہوں کے ذریعہ ثابت کر دے، اس کے بعد قاضی یا قائم مقام قاضی یعنی جماعت المسلمین اس غائب کے پاس حکم بھیجے کہ یا تو خود حاضر ہو کر اپنی بیوی کے حقوق ادا کرو یا اس کو وہیں بلالو یا وہیں سے کوئی انتظام کر دو ورنہ اسے طلاق دیدو اگر تم نے ان باتوں میں سے کوئی بات اختیارنہ کی تو پھر ہم خود تمہاری بیوی کو تمہاری زوجیت سے الگ کر دیں گے، اگر خاوند اس پر بھی کوئی صورت قبول نہ کرے تو قاضی۔۔۔۔۔۔ غائب کی زوجیت سے الگ کر دے، اور یہ بات یاد رکھنے کی ہے کہ زوجیت سے الگ کرنے کے لیے عورت کی طرف سے تفریق کا مطالبہ شرط ہ..انتهى، والله أعلم بالصواب

অনলাইন ফাতওয়া || ফাতওয়া বিভাগ || আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ