মূল অংশে যান

আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ

ফাতওয়া নং: ২৪১ তারিখ: ২৩/১২/২০২৫ ঈ.

বরাবর

ফাতওয়া বিভাগ

আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ, পোরশা ইসলামপুর, পোরশা, নওগাঁ, বাংলাদেশ।

বিষয়: তালাক সম্পর্কিত

প্রশ্নের বিবরণ:

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ।আমার ২০২১ সালে বিবাহ হয়েছিল।আমার স্বামীর সাথে বনিবনা ভালো ছিল না।আমার বাবা মা সিদ্ধান্ত নেন যে তাদের মেয়েকে আর ওই সংসারে পাঠাবে না। আমার স্বামী আমায় কল দিয়ে জিজ্ঞেস করেছিলেন যে আমি আর কখনও ফিরব কি না।আমি উত্তরে বলি যে "না"।সে এটা শুনে বলল "আচ্ছা"।তারপরে আর কখনও তার সাথে কথা হয় নি।তারপরে বাকি কথা হয়েছে আমার শ্বাশুড়ির সাথে।আমি বলেছিলাম তালাক আমার পক্ষ থেকেই হবে।তোমাদের কিছু করতে হবে না।আমার শ্বাশুড়ি বললেন ঠিক আছে।তারপর যথারীতি আমি কাজীর নিকট গেলাম,সে দরখাস্ত লিখলেন,সেটা আমার শ্বাশুড়ি তার বাসায় না দিয়ে তার বাবা অর্থাৎ ছেলের নানার বাসায় পাঠাতে বলে,যদিও আমার শ্বাশুড়ি পরে চিঠিটি কালেক্ট করে নিয়েছিলেন।।এর তিন মাস পরে তালাক রেজিস্ট্রেশন করলাম।কাবিননামার ১৮ নাম্বার কলামের ক্ষমতায় আমি তালাক নিয়েছি।এখন আমার প্রশ্ন হলো,ইসলাম তালাকের ক্ষমতা দিয়েছে পুরুষকে।তারপরেও যদি কাবিননামায় ১৮ নাম্বার কলামে "হ্যাঁ" লেখা থাকলে স্ত্রী তালাক নিতে পারে।কিন্তু বর্তমানে যেটা দেখা যায় যে,বেশিরভাগ সময়েই বিয়ের রেজিস্ট্রি হবার পর অর্থাৎ স্বামীর সই করার পরে কাজী ফাঁকাঘর গুলো পূরণ করেন,যেখানে স্বামী ১৮ নাম্বার কলাম সম্পর্কে অসচেতন থাকেন। এখন আমার প্রশ্ন১.এক্ষেত্রে কি আমার তালাক হয়েছে?২.না হয়ে থাকলে যদি এখন আমি তাকে কল দিয়ে তার মুখ থেকে একবার খোলা তালাক নিয়ে নেই,তাহলে কি তালাক হবে?৩.এবং যদি মৌখিক ভাবে খোলা তালাক নেই তাহলে কতদিন পর আমি পুনরায় অন্য কাউকে বিবাহ করতে পারবো। শরীয়াহ সম্পূর্ণভাবে আলোচনার অনুরোধ রইলো।আমি আমার দুনিয়া এবং আখিরাত জীবনকে ক্ষুণ্ন করতে চাই না।

সমাধান:

بسم الله الرحمن الرحيم، حامدا ومصليا ومسلما

(১) প্রশ্নোক্ত বিবরণ অনুযায়ী বিবাহের পর কাবিননামার ১৮ নং কলাম যদি স্বামীকে জানিয়ে “হ্যাঁ” লেখা হয়, অথবা বিবাহের পর স্বামী তালাকের অনুমতির বিষয়টি জেনে শুনে কাবিননামায় স্বাক্ষর করে থাকেন, আর আপনি সেই অধিকার বলে এভাবে তালাক নেন যে, “আমি নিজের উপর তালাক গ্রহণ করলাম” তাহলে আপনার উপর তালাকে বায়েন কার্যকর হয়েছে। আর যদি স্বামী বিবাহের আগে স্বাক্ষর করেন অথবা না জেনে শুনে কাজির অনধিকার হস্তক্ষেপে “হ্যাঁ” লেখা থাকে তাহলে আপনি তালাকের কোন অধিকার লাভ করেননি। তাই এভাবে তালাক নেওয়ার দ্বারা আপনার উপর কোন তালা কার্যকর হয়নি। (২) পূর্বের তালাক গ্রহণ যদি কার্যকর না হয়ে থাকে তাহলে আপনি আপনার স্বামীর থেকে মৌখিকভাবে খোলা তালাক নিলেই আপনার উপর তালাক কার্যকর হবে। (৩) মৌখিকভাবে তালাক গ্রহণের পর অন্যত্র বিবাহের আগে ইদ্দত পালন করা আবশ্যক। ইদ্দত শেষ হওয়ার পর অন্যত্র বিবাহ করা বৈধ হবে তার আগে নয় আর ইদ্দত হলো তালাকের পর থেকে মহিলা ঋতুমতি হলে তিনটি ঋতু অতিবাহিত হওয়া পর্যন্ত আর গর্ভবতী হলে সন্তান প্রসব করা পর্যন্ত অপেক্ষা করা।
 قوله تعالي ﴿وَاللَّائِي يَئِسْنَ مِنَ الْمَحِيضِ مِنْ نِسَائِكُمْ إِنِ ارْتَبْتُمْ فَعِدَّتُهُنَّ ثَلَاثَةُ أَشْهُرٍ وَاللَّائِي لَمْ يَحِضْنَ وَأُولَاتُ الْأَحْمَالِ أَجَلُهُنَّ أَنْ يَضَعْنَ حَمْلَهُنَّ وَمَنْ يَتَّقِ اللَّهَ يَجْعَلْ لَهُ مِنْ أَمْرِهِ يُسْرًا ﴾ سورة الطلاق-٤  في"رد المحتار"(٣\٢٤٧) وكذا كل كتاب لم يكتبه بخطه ولم يمله بنفسه لا يقع الطلاق ما لم يقر أنه كتابه اهـ ملخصا۞  في"فتح القدير"(٤\٢١١) فالصحيح إزالة ملك النكاح ببدل بلفظ الخلع، فإن الطلاق على مال ليس هو الخلع بل في حكمه من وقوع البينونة لا مطلقا۞-  في"الموسوعةالفقهية"(٣٤\١٧٦)وكذا ‌كل ‌كتاب ‌لم ‌يكتبه ‌بخطه ‌ولم ‌يمله ‌بنفسه ‌لا ‌يقع ‌الطلاق ‌ما ‌لم ‌يقر ‌أنه ‌كتابه۞  في "الهداية"(٢\٣٩٤) وإذا طلق الرجل امرأته تطليقة رجعية أو تطليقتين فله أن يراجعها في عدتها رضيت بذلك أو لم ترض " لقوله تعالى: {فَأَمْسِكُوهُنَّ بِمَعْرُوفٍ} [البقرة: ٢٣١]---  في"الهندية"(١\٥٣٣) وإذا طلق الرجل امرأته تطليقة رجعية أو تطليقتين فله أن يراجعها في عدتها رضيت بذلك أو لم ترض كذا في الهداية.-انتهي و الله تعالي اعلم بالصواب

অনলাইন ফাতওয়া || ফাতওয়া বিভাগ || আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ