মূল অংশে যান

আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ

ফাতওয়া নং: ২৫৮ তারিখ: ০৩/০১/২০২৬ ঈ.

বরাবর

ফাতওয়া বিভাগ

আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ, পোরশা ইসলামপুর, পোরশা, নওগাঁ, বাংলাদেশ।

বিষয়: কেনায় তালাক দিয়ে স্বীকার করা

প্রশ্নের বিবরণ:

আসসালামু আলাইকুম। আমি খন্দকার রাজিয়া সুলতানা। গত ২২ তারিখে আমার স্বামীর সাথে ঝগড়ার এক পর্যায়ে আমি বলি "আমি আর আপনার সংসার করতে চাই না,আমাকে তালাক দেন"।তখন সে বলে "মনে কর দিসি"। তখন আমি বলি "দেন। দিছেন? দেন" এরকম কথা।তখন সে বলে" দিছি তো"। তাৎক্ষণিক আমি সন্দেহ পোষণ করে এই "দিছি তো" দ্বারা তালাক পতিত হয়ে গেল কি না! তখন আমি তাকে প্রশ্ন করি দিছি তো কি? দিসি তো মানে কি!তখন সে বলে মনে কর দিছি যাও এখন যা করার করো যাও।( মনে করে দিছি মানে সে বুঝিয়েছে মনে কর দিছি এখন কি করবা তুমি করো। মনে করে নাও।) এবং একটু পরেই সে আমার বোনকে জানায় এই দিছিতো মানে " মনে কর দিসি" কে বুঝিয়েছে। তালাক পতিত হয়েছে কিনা সন্দেহ হলে আমি তাৎক্ষণিক পর্দা করি তখন সে বলে "মুখ ঢাকো, পর্দা করো(সম্ভবত)সে উপহাসের স্বরে বলে সে কথা।কেননা তার ধারণা এখানে যেহেতু তার তালাকের কোন উদ্দেশ্য ছিল না তাই তালাক পতিত হবে না, আমি বাড়াবাড়ি করছি মাসাআলা নিয়ে। উল্লেখ্য, পূর্বেই আমাদের দুই তালাক সংঘটিত হয়েছিলো। এবং আমাদের দুইজন সন্তান আছে। তারপর সে লিখিত স্টেটমেন্ট নিয়ে স্থানীয় মাদ্রাসায় (জুম্মা পড়া মাদ্রাসা,রংপুর)যায় এবং সেখান থেকে ফিরে এসে জানায় যে হুজুররা মাসয়ালা দিয়েছে কোন সমস্যা নেই।মাসআলা বিশ্লেষণের একপর্যায়ে সে বলে আমি যদি এই " দিছি তো" দ্বারা আগের দু তালাককে ইঙ্গিত করতাম তাহলে আমাদের জন্য মাসয়ালা সহজ হত। কিন্তু আমি তো সেদিকে ইঙ্গিত করিনি। এবং সে আরো জানায় হুজুররা নাকি তাকে এই প্রশ্ন করেছিল যে আপনি কি '' দিছি তো" দ্বারা আগের দু ' তালাক কে বুঝিয়েছিলেন।সে উত্তর দিয়েছিলো " না"। এরপর যখন আমি মাসাআলা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে চাই তখন সে মর্মাহত হয় এবং বিভিন্ন আবেগী কথা বলতে থাকে। যেগুলোকে ইসলামও সমর্থন করে না। কেননা বিচ্ছেদ চায়না।সে জায়েজ নাজায়েজ সম্পর্কে মনগড়া কথা ব্যক্ত করে।যেমন:আমার আল্লাহ কি বোঝেননা!!আমি বুঝবো আর আল্লাহ বুঝবে। তোমার তো কোন পাপ নেই। ইত্যাদি ইত্যাদি! এসবের এক পর্যায়ে এসে তার কথা ঘুরিয়ে নেই এবং বলে "দিছি তো" দ্বারা আগের দু' তালাক কে বুঝিয়েছিলাম(অথচ সে আগের দিনই হুজুরদের তার বিপরীত কথা বলে আসে)। এখানে আমার ধারণা সে মিথ্যা বলছে সংসার বাঁচাতে।যেহেতু আগের দিন শুনে এসেছে এরকমটা হলে মাসআলা সহজ হবে। তারপরে আমি মাসালা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ার জন্য ওই মাদ্রাসায় আবার যেতে চাই কিন্তু সে আমাকে ওই মাদ্রাসায় না নিয়ে অন্য মাদরাসায়(জামিউল উলূম,তাঁতিপাড়া,রংপুর) নিয়ে যায়। সেখানে আমি ও সে লিখিত স্টেটমেন্ট জমা দেই। সেখানে সে যে স্টেটমেন্ট দেয় তার কথার সারাংশ হলো "দিছি তো" দ্বারা আগের দু ''টাকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। ওই মাদ্রাসার হুজুর যখন আগের মাদরাসার মাসয়ালা সম্পর্কে জানতে চায় তখন সে বলে ওই মাদ্রাসা থেকে এখনো কেউ কোন মাসয়ালা দেয়নি।তারাও ৩-৪ দিন সময় নিয়েছে। অথচ আমি এ বিষয়টা জানতাম না। জানতাম যে তারা বলে দিয়েছে যে কোন সমস্যা নেই। হুজুর,এখানে "দিছি তো" দ্বারা তালাকের কোন উদ্দেশ্য ছিল না। এমনকি সে জানতোও না যে এই শব্দ দ্বারা তালাক পতিত হয়ে যেতে পারে। আর তার এই "দিছি তো" কথাটা মিথ্যা কথা।কেননা সে কখন তালাক দিল? একবারও তো বলেন "দিলাম"! বলেছে "দিছি তো", " মনে করো দিছি", "যাও মনে করো দিছি " ইত্যাদি। এমতাবস্থায়, ১.কোনো তালাক পতিত হয়েছে কি? ২.আবার সে তো দ্বিতীয় মাদ্রাসায় তার স্টেটমেন্ট উল্টিয়ে ঘুরিয়ে পেশ করে। তালাকের মাসআলা তো স্বামীর কথা অনুযায়ী হবে। এখন যদি তার কথার উপর ভিত্তি করে ওনারা মাসআলা দেয় সেই মাসআলা আমি গ্রহণ করতে পারবো কিনা? (এটা আমার জন্য মেনে নেওয়া কঠিন হবে,হুজুর। কেননা বিষয়টা এমন হয়ে গেছে যে কেউ একজন আমার সামনে গ্লাসে মদ ঢেলে বলল যে নাও এটা পানি,খাও। যদি কোন গুনাহ হয় তা আমার হবে।কিন্তু আমি স্পষ্ট দেখলাম এটাতো মদ।এক্ষেত্রে আমার করনীয় কি?)

সমাধান:

بسم الله الرحمن الرحيم، حامدا ومصليا ومسلما

প্রশ্নোক্ত বিবরণ অনুযায়ী বাস্তবেই যদি আপনার কথা “তালাক দেন” এর উত্তরে আপনার স্বামী “দিছি তো” বলে এবং পরবর্তীতে স্বীকার করে যে, “দিছি তো” দ্বারা আগের তালাক উদ্দেশ্য ছিল না, তাহলে আপনার উপর তিন তালাক কার্যকর হয়ে গেছে। আপনারা একে অপরের জন্য হারাম হয়ে গেছেন। আপনাদেরকে এখনই পৃথক হয়ে যেতে হবে। ঐ স্বামীর সাথে আর স্বাভাবিকভাবে ঘর-সংসার করা বৈধ হবে না। তবে যদি আপনার তালাকের ইদ্দত শেষ হওয়ার পর অর্থাৎ ঋতুমতী হলে তিনটি ঋতু, আর গর্ভবতী হলে সন্তান ভুমিষ্ঠ হওয়ার পর স্বেচ্ছায় অন্যত্র বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন এবং দ্বিতীয় স্বামী সহবাস করার পর যদি কোন কারণে তালাক দেয় বা মারা যায় তাহলে আপনার ইদ্দত শেষ হওয়ার পর আপনারা পরস্পরে রাযি থাকলে নতুন ভাবে দু'জন সাক্ষীর উপস্থিতিতে মোহর ধার্য করে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে ঘর-সংসার করতে পারবেন। প্রকাশ থাকে যে, প্রশ্নোক্ত স্বামীর স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে তালাকের বিধান প্রয়োগ হবে। এ স্বীকারোক্তির বিষয়টি গোপন রেখে বিবরণ পাল্টিয়ে সত্যকে আড়াল করে স্বামী যদি কোন মাসআলা নিয়ে আসে তাহলে আপনার জন্য তা গ্রহণ করা বৈধ হবে না।
الإحالة الشرعية على المطلوب-  قال الله تعالى في"سورة البقرة " (٢٣٠) فان طلقها فلا تحل له من بعد حتى تنكح زوجا غيره۞  وأخرج الإمام البخاري رح في" صحيحه"(٢/٧٩١) عن عائشة رضي الله تعالى عنها أن رجلا طلق امرأته ثلاثا فتزوجت فطلق فسئل النبي صلى الله عليه وسلم اتحل للاول قال لا حتى تذوق كما ذاق الأول۞  في "در المختار" (٤/٥٢١) كرر لفظ الطلاق وقع الكل وان نوى التاكيد دين۞ وفي أيضا ولو قيل له طلقت امرأتك فقال نعم أو بلى بالهجاء طلقت۞ وفي أيضا (٤/٤٤٠) ولو أقر بالطلاق كاذبا أو هازلا وقع قضاء لا ديانة۞  وفی "قاسمیۃ" (١٤/٥٣٩) ایک طلاق دینے کے بعد پھر دو بارہ جو "جا دی" کے الفاظ استعمال کئے ہیں اس سے بظاہر معلوم ہوتا ہے کہ پہلے جو طلاق دی تھی اس کی خبر دینا اور اس کی تاکید کرنا مقصود ہے اگر شوھر کا ارادہ واقعۃ یہی ہے، تو مذکورہ واقعۃ میں بیوی پر صرف ایک طلاق واقع ہوگئ اور اگر ان الفاظ سے بھی طلاق ہی مقصود ہے تو طلاق مغلظہ واقع ہوجائے گئ اس کا فیصلہ شوھر ہی کر سکتاہے۞  وفي أيضا "قاسمية" (١٤/٢٨٢) "دارالعلوم كراچی" (٣/٤٢٦) انتهى، والله أعلم بالصواب۞

অনলাইন ফাতওয়া || ফাতওয়া বিভাগ || আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ