আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ
ফাতওয়া নং: ২৬১
তারিখ: ০৫/০১/২০২৬ ঈ.
বরাবর
ফাতওয়া বিভাগ
আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ, পোরশা ইসলামপুর, পোরশা, নওগাঁ, বাংলাদেশ।
বিষয়: তালাক সম্পর্কে
প্রশ্নের বিবরণ:
আসসালামুয়ালাইকু। আমি একজন ওসওসা রোগি। আমার প্রশ্নটি হলো , তালাকের মাসআলা পড়ার সময় স্ত্রীর দিকে লক্ষ্য চলে গেলে স্ত্রী কী তালাক হয়ে যাবে?আর কিনায়া তালাক স্ত্রীর অনুপস্থিতিতে হয়ে যায় নি?কেউ যদি তার একজন কলিক অথবা সাথি ভাইকে বিদায় দেওয়ার সময় বলে আচ্ছা ঠিক আছে যাও। এটা বলার পর ওসওসা চলে আসে তাহলে কী তার স্ত্রী তালাক হয়ে যাবে নি? ওসওসা ব্যাক্তি তালাকের নিয়ত সম্পর্কে বোঝেনা। তারা যদি তাদের স্ত্রীকে কোথাও যাওয়ার সময় বলে যাও ,পরে ওসওসা চলে আসে এর হুকুম কি?আর স্ত্রীর অনুপস্থিতিতে কিনায়া তালাক কী স্ত্রীর নাম ধরে বলতে হবে?না খেতাব দিয়ে বলতে হবে। দয়াকরে উত্তর দিবেন।
সমাধান:
بسم الله الرحمن الرحيم، حامدا ومصليا ومسلما
প্রশ্নে উল্লেখিত কোন ক্ষেত্রেই তালাক কার্যকর হবে না। কেননা এধরনের সন্দেহের কারণে কোন তালাক কার্যকর হয় না। হাদীস শরীফে এসেছে, হযরত আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু তা'আলা আনহু থেকে বর্ণিত, রসূলুল্লাহ বলেছেন, নিশ্চয় আল্লাহ তা'য়ালা আমার উম্মতের অন্তরে যা উদিত হয় সেগুলোকে মাফ করে দিয়েছেন যতক্ষণ পর্যন্ত তা না বলে অথবা আমল না করে। (সহীহ মুসলিম ১২৭) আর স্ত্রীর অনুপস্থিতিতে কেনায়া তালাক দেওয়ার জন্য স্ত্রীর নাম ধরে বলা শর্ত নয়। বরং তালাকের নিয়তে স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে কেনায়া শব্দ বললেও তালাক কার্যকর হয়ে যায়। আপনি মূলত সন্দেহের রোগে আক্রান্ত। সন্দেহ একটু মারাত্মক ব্যাধি যা সাধারণত শয়তানের কুমন্ত্রণার কারণে হয়ে থাকে। এর দ্বারা শয়তান মুমিনদেরকে চিন্তা পেরেশানিতে আবদ্ধ রাখে। এর প্রতিকারে কিছু দিক নির্দেশনা নিম্নরূপ। যথা:
(১) এই ধরনের সন্দেহের দিকে ভ্রুক্ষেপ না করা।
(২) বেশী বেশী যিকির করা।
(৩) গুনাহ থেকে বিরত থাকা।
(৪)তাওবা ইস্তিগফার করা।
(৫) আর সন্দেহ আসলে সাথে সাথে اعوذ بالله من الشيطان الرجيم পড়তে থাকা।
۞۞اخرج الامام "مسلم في صحيحه"(١/٧٨)عن أبي هريرة رضي الله تعالى عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم إن الله تجاوز لأمتى ما حدثت به انفسهما ما لم يتكلموا و يعملوا به۞
۞۞وفى "حاشية الطحطاوى"( ۲۱۹) حتى لواجرى الطلاق على قلبه وحرك لسانه من غير تلفظ يسمع لا يقع وإن صحح الحروف۞.
۞۞وفى "الدر المختار"(٤/٥١٦) فالكنايات لاتطلق بها قضاء الابنية او دلالة الحال وهى حالة مذاكرة الطلاق أو الغضب، فالحالات ثلاث رضا وغضب ، ومذاكرة، والكنايات ثلاث ما يحتمل الرد أو ما يصلح للصب ، أولا ولا، فنحوا أخرجي وإذ هبي وقومي ... يحتمل ردا...وفي مذاكرة الطلاق يتوقف الأول فقط . وقال الشامي تحت قوله-يتوقف الأول. فقط اى ما يصلح للرد والجواب - لأن حالة المذاكرة لرد كما تصلح للطلاق دون الشتم والفاظ - الأول كذالك فإذا نوى بها الرد لا الطلاق فقد نوى محتمل بلامخالة للظاهر فتوقف الوقوع على النيت۞
۞۞وفي" الفقه الإسلام وادلته"(٧/٣٦٨) يشترط بالاتفاق القصد في الطلاق وهو ارادة التلفظ به ولو لم ينو فلا يقع طلاف فقبه بكره ولا طلاق. حاك عن نفسه أو غيره لأنه لام بقصد معناه بل قصد التعليم والحكاية۞
۞۞وفي" فتح القدیر" (٤/٤) لوكرر و مسائل الطلاق بحضرة زوجته ويقول :أنت طالق ولا ينوى طلاقا لا تطلق۞
۞۞وفي "رد المحتار"(٣/٢٤٦) لا بشترط تسمية الزوجة..انتهى، والله أعلم بالصواب..
অনলাইন ফাতওয়া || ফাতওয়া বিভাগ || আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ