আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ
ফাতওয়া নং: ২৬৪
তারিখ: ৩১/১২/২০২৫ ঈ.
বরাবর
ফাতওয়া বিভাগ
আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ, পোরশা ইসলামপুর, পোরশা, নওগাঁ, বাংলাদেশ।
বিষয়: বাংলাদেশে জুমার নামায পড়ার বিধান
প্রশ্নের বিবরণ:
মুহতারাম মুফতী সাহেব আপনার নিকট আমাদের জানার বিষয় হলো যে,
১। যে সকল দেশ ও আদালতে কুরআন সুন্নাহর পরিপন্থি মানব রচিত আইন প্রতিষ্ঠিত রয়েছে এবং সে আইনে দেশের শাসন ও বিচার কার্য পরিচালিত হচ্ছে সে সকল দেশে জুমার নামায আদায় করার শরয়ী হুকুম কি? জুমার নামায় পড়লে আদায় হরে? না কি যোহরের নামায পড়তে হবে?
২। জুমার নামায আদায়ের জন্য ফুকাহায়ে কেরাম যে সকল শর্ত আরোপ করেছেন সে সকল শর্ত ঐ দেশে পাওয়া যায় কি না? কুরআন সুন্নাহ ও ফিকহী দলীলসহ জবাব দিয়ে উম্মাকে চিন্তা মুক্ত করবেন।
সমাধান:
بسم الله الرحمن الرحيم، حامدا ومصليا ومسلما
১। যে সকল দেশ ও আদালতে কুরআন সুন্নাহর পরিপন্থি মানব রচিত আইন প্রতিষ্ঠিত রয়েছে এবং সে আইনে দেশের শাসন ও বিচার কার্য পরিচালিত হচ্ছে সে সকল দেশেও জুমার নামায আদায় করা ওয়াজিব। কেননা জুমার নামায আদায় সহীহ হওয়ার জন্য একটি শর্ত হলো শহর হওয়া। আর শহরের সংজ্ঞা হলো যেখানে বাজার এবং দোকান রয়েছে এবং নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস পাওয়া যায়। তবে যে সমস্ত ফুকাহায়ে কেরাম শহরের সংজ্ঞায় কাযী থাকা এবং হুদুদ ও কেসাস জারী থাকার কথা বলেছেন তারা তাদের যুগ হিসাবে ব্যাখ্যা করেছেন। কারণ তাদের যুগে প্রায় প্রত্যেক শহরে কাযী ছিল এবং হুদুদ ও কেসাস জারী ছিল।
২। জুমার নামায আদায়ের জন্য ফুকাহায়ে কেরাম যে সকল শর্ত আরোপ করেছেন সেগুলো হলো ৭ টি। ১। শহর হওয়া ২। বাদশাহ বা তার প্রতিনিধি উপস্থিত থাকা ৩। যোহরের ওয়াক্ত হওয়া ৪। খুৎবা দেওয়া ৫। নামাযের আগে খুৎবা দেওয়া ৬। জামাত হওয়া অর্থাৎ ইমাম ছাড়া কমপক্ষে তিনজন মুসল্লি থাকা ৭।ব্যাপক অনুমতি থাকা। এই শর্তগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় শর্তটি যদিও সরাসরি পাওয়া যায় না, কিন্তু উক্ত শর্তের উদ্দেশ্য হলো ফেৎনা দূর করা এবং শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখা। আর সকল মুসল্লি শৃঙ্খলা ও সন্তুষ্টি থাকার দ্বারা উক্ত শর্তটির উদ্দেশ্য অর্জিত হয়ে যায়। তাই শর্তটি পরোক্ষভাবে পাওয়া যায়।
الإحالة الشرعية على المطلوب-
۞۞في "بدائع الصنائع"(٢/١٩٢) أما المصر الجامع فقد اختلف الأقاويل في تحديده ذكره الكرخي أن المصر الجامع ما اقيمت فيه الحدود ونفذت فيه الأحكام... وروى عن أبي حنيفة أنه بلدة كبيرة فيها سكك واسواق ولها رساتيق وفيها وال يقدر على انصاف المظلوم من الظالم بحشمه وعلمه أو علم غيره وللناس يرجعون اليه في الحوادث وهو الأصح۞
۞۞وفي "رد المحتار"(٣/١٦) فلو الولاة كفارا يجوز للمسلمين إقامة الجمعة ويصير القاضي قاضيا بتراض المسلمين ويجب عليهم أن يلتمسوا واليا مسلما ۞
۞۞وفي "رد المحتار"(٣/٢٨) السادس الجماعة وأقلها ثلاثة رجال ولو غير ثلاثة الذين حضروا الخطبة سوى الإمام بالنص لأنه لابد من الذاكر وهو الخطيب وثلاثة سواه بنص ۞
۞۞وفي "الهداية"(١/١٦٨) ولا يجوز إقامتها إلا للسلطان أو لمن أمره السلطان لأنها تقوم بجمع عظيم وقد تقع المنازعة في التقدم والتقديم وقد تقع في غيره فلابد منه تثميما لأمرها۞
۞وفي "امداد الفتاوى"(٣/١٦٠) مصر کی تعریف میں جو اقوال مذکور ہے ان میں سے کوئی حد مصر نہیں جو اس شان کی ہو۔ بلکہ وہ سب تعریفیں رسوم ہے کیونکہ حد کا تعدد محال ہے اور رسوم کا جائز۔ مصر کی تفسیر میں جو فقہاء نے مختلف تعریف بیان فرمائی ہیں اس میں بغور ملاحظہ کرنے سے یہ معلوم ہوتا ہے کہ یہ سب اختلافات اختلاف عنوان ہے نہ اختلاف معنون یعنی الفاظ کا بیان جدا جدا ہے اور مصداق سب کا ایک ہے سب لوگوں نے اپنے اپنے زمانہ کی اعتبار سے جو علامات مصری پائی جاتی تھیں بیان کردی ہیں زمانہ اول میں امصار میں اکثر اوقات حدود اور قصاص ہوتا تھا اور فیصل خصومات کے لئے قاضی ہوتا تھا دیہات میں یہ امور نہ تھے جیسے آجکل کچہری فوجداری منصفی وغیرہ دیہاتوں میں نہیں ہوتی ہے۔ اس لیے اگلے لوگوں نے یہی علامت بیان کیں پھر جب زمانہ میں تغیر ہوا تو زائل ہوگئیں اور مختلف تعریفیں لوگوں نے کیں بلکہ ایک نہ ایک شخص سے کئ کئ تعریفیں فقہ کی کتابوں میں مروی ہے۞ انتهى، والله أعلم بالصواب۞
অনলাইন ফাতওয়া || ফাতওয়া বিভাগ || আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ