মূল অংশে যান

আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ

ফাতওয়া নং: ২৬৯ তারিখ: ০৫/০১/২০২৬ ঈ.

বরাবর

ফাতওয়া বিভাগ

আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ, পোরশা ইসলামপুর, পোরশা, নওগাঁ, বাংলাদেশ।

বিষয়: তালাকের মাসালা

প্রশ্নের বিবরণ:

১/ স্বামী থাকে ঢাকায় এবং স্ত্রী থাকে গ্রামের বাড়িতে। এমন অবস্থায়, তালাক সংক্রান্ত মাসালা জানার পরে এবং বিভিন্ন মাসালা পড়ার পড়ে স্বামীর মাথায় এসব ঘুরপাক খায়। একদিন ঘুমানোর পরে, স্বামী ঘুম ঘুম ভাব অবস্থায় পুরোপুরি ঘুমন্ত কিনা সেটাও নিশ্চিত নয়। এমতাবস্থায়, হঠাৎ করে খেয়াল করে যে স্বামী, আমি আমার স্ত্রীকে তালাক দিলাম। এই, কথাটি হুট করে আসে। স্বামী নির্দিষ্ট ভাবে অবগত কি বললে তালাক হবে। নিজের খেয়াল থাকাকালীন কখনো সে এমন কিছু বলতো না। এটাও নিজে নিজে বলে। এখন, স্বামীর তালাক দেওয়ার নিয়ত বা উদ্দেশ্য এইরকম কিছুই ছিলোনা। তখন, স্ত্রীর কথা মাথায় ও ছিলোনা যেহেত হুট করে এমন হয়। হুট করে কি উদ্দেশ্য হয়ে যেতে পাড়ে? স্বামী দ্বিধায় পড়ে যায় এটা নিজে বলেছে কি নাকি ঘুমের মধ্যে নাকি স্বপ্নের মধ্যে। জিব্বা নাড়ানোর আলামত পাওয়া যায়নি এবং শব্দের আওয়াজ শুনা যায়নি। এমন অবস্থায় তা পতিত হবে কি? ২ / শুধু তালাক বলাতেই কি তা পতিত হয়ে যায়? নাকি সামনে পিছনে আরো কিছু সংযুক্ত করতে হয়? ৩/ তালাকের ব্যাপারে, স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলা বলতে কি বুঝায়? এটা একটু খুলে বললে ভালো হতো। ৪/ স্ত্রীর দিকে নিসবত বলতে কি বুঝায়? সেটাও খুলে বললে ভালো হতো। ৫/ স্ত্রীকে তালাক দেবার উদ্দেশ্য না থাকলে,এবং নিসবত না থাকলে, এমনিতেই যদি বলে, আমি আমার স্ত্রীকে তালাক দিলাম। সেক্ষেত্রে তা পতিত হবে কি? ৬/ নিজের অজান্তে তালাক হয় কি? ৭/ তালাকের ব্যাপারে, পুরোপুরি নিশ্চিত না হতে পারলে সেক্ষেত্রে তা পতিত হবে কি? ৮/ তালাক সংক্রান্ত আর্টিকেল পড়লে তা পতিত হবে কি?

সমাধান:

بسم الله الرحمن الرحيم، حامدا ومصليا ومسلما

১। প্রশ্নের এক নং বিবরণ যদি সঠিক হয়ে থাকে তাহলে প্রশ্নোক্ত ঘটনার কারণে তার স্ত্রীর উপর কোন তালাক কার্যকর হয়নি । কেননা স্ত্রীকে লক্ষ্য করে তালাক উচ্চারণের ব্যাপারে সুনিশ্চিত হওয়া ছাড়া শুধু ধারণা বা সন্দেহের কারণে কোন তালাক কার্যকর হয় না। ২। স্ত্রীর প্রতি লক্ষ্য করে তালাক শব্দ বললেও তালাক পতিত হয়ে যায়। ৩, ৪। স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বা নিসবত করে তালাক বলার অর্থ হলো তালাকের কথাটি বলার সময় স্ত্রীকে লক্ষ্য করে কথাটি বলা যেমন একটি বইয়ে লেখা আছে “আমি আমার স্ত্রীকে তালাক দিলাম বললেই তালাক হয়ে যায়।” এই বাক্যটি পড়ার সময় যেহেতু নিজ স্ত্রীর প্রতি লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য করে পড়েনি তাই তার স্ত্রী তালাকপ্রাপ্ত হবে না। কেননা এখানে স্ত্রীর প্রতি নিসবত পাওয়া যায়নি। ৫। না, নিসবত বা উদ্দেশ্য না থাকলে তালাক কার্যকর হয় না। ৬, ৭। নিজের অজান্তে যেমন ঘুমের ভাব অবস্থায় এবং তালাকের ব্যাপারে পুরোপুরি নিশ্চিত না হয়ে শুধুমাত্র তালাকের সন্দেহের কারণে তালাক পতিত হয় না। ৮। তালাক সংক্রান্ত আর্টিকেল বা তালাকের মাছআলা মাছায়েল পড়লেও তালাক কার্যকর হয় না।
الإحالة الشرعية على المطلوب-  أخرج الإمام مسلم في صحيحه(١/١٤٣)جديد)عن أبي هريرة قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم إن الله تجاوز لأمتي ما حدثت به انفسها ما لم يتكلموا أو يعملوا به (رقم الحديث ٣٣٢(  الأشباه والنظاءر(١/٩١)لو كرر مساءل الطلاق بحضرتها ويقول في كل مرة أنت طالق لم يقع  في رد المحتار(٤/٤٤٤) ولا يلزم كون الإضافة صريحة في كلامه لما في البحر لو قال طالق فقيرا له من عنيت؟فقال امرأتي طلقت امرأته  الأشباه والنظاءر(١/٩٨)شك هل حلف باالله أو بالطلاق أو بالعتاق ينبغي أن يكون باطلا ثم رأيت المسألة في البزازية في شك الايمان  وفي فتاوی عباد الرحمن (٤/٥٢٩) طلاق واقع ہونے کے لیے طلاق کے الفاظ بولنا یا لکھنا ضروری ہے الفاظ بولے بغیر صرف دل میں سوچنے سے طلاق واقع نہیں ہوتی  وفی کتاب النوازل(٩/٢٧٨) سوال۔۔۔۔۔۔۔۔ میں نے اپنی بیوی کو اپنی زبان سے صرف دو بار طلاق طلاق کے لفظ دہرائے ہیں کیا اس صورت میں میرے بیوی پر طلاق واقع ہو گئی؟ الجواب و باللہ التوفیق اگر سوال میں ذکر کردہ واقعہ سوال صحیح ہے تو اپ کی بیوی پر دو طلاق رجعی واقع ہوئی ہیں عدت( تین ماہورائی )کے اندر اندر اپ کو رجوع کرنے کا اختیار ہیں لیکن اگر ائندہ ایک مرتبہ بھی طلاق دے دی تو بیوی حرام ہو جائ گا  فتاوی عباد الرحمن (٥/٧٩)جواب يعني میری تین طلاق ہیں اس جملہ میں بیوی کی طرف طلاق کی ظاہری کوئی نسبت موجود نہیں ہے اور بولتے وقت اپنی بیوی کی طرف طلاق منسوب کرنے کا کوئی قصد اور ارادہ نہیں تھا تو معنوبی نسبت بھی موجود نہیں ہیں اس لیے کوئی طلاق واقع نہیں ہوئی..انتهى، والله أعلم بالصواب

অনলাইন ফাতওয়া || ফাতওয়া বিভাগ || আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ