মূল অংশে যান

আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ

ফাতওয়া নং: ২৮৪ তারিখ: ১৩/০১/২০২৬ ঈ.

বরাবর

ফাতওয়া বিভাগ

আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ, পোরশা ইসলামপুর, পোরশা, নওগাঁ, বাংলাদেশ।

বিষয়: ওয়াকফিয়া জমি ও মাদরাসা–মসজিদ সংক্রান্ত প্রশ্ন

প্রশ্নের বিবরণ:

প্রেক্ষাপট একজন দাতা আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে মাদরাসা ও মসজিদের জন্য মোট ২২ বিঘা জমি ওয়াকফ করেন। উক্ত ওয়াকফিয়া জমি মাদরাসা–মসজিদের মৌজার পার্শ্ববর্তী অন্য একটি মৌজায় অবস্থিত। বর্তমানে দাতার সন্তান উক্ত ওয়াকফিয়া জমি এবং তার আয় সংক্রান্ত কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এই প্রেক্ষিতে শরঈ বিধান জানার উদ্দেশ্যে নিম্নোক্ত প্রশ্নসমূহ পেশ করা হলো। প্রশ্ন–১. দাতার সন্তান ওয়াকফকৃত জমির স্থান পরিবর্তন করতে চায়। বর্তমানে ওয়াকফিয়া জমি মাদরাসা–মসজিদের পার্শ্ববর্তী মৌজায় মোট ২২ বিঘা। কিন্তু দাতার সন্তান মাদরাসা–মসজিদ থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ১০ বিঘা জমি দেওয়ার প্রস্তাব করছে। এখন প্রশ্ন হলো— ১.১- দাতার সন্তান কি ওয়াকফিয়া জমির স্থান পরিবর্তন করতে পারবে? ১.২- ওয়াকফকৃত জমির পরিমাণ কম বা বেশি করার অধিকার দাতার সন্তান রাখে কি না? প্রশ্ন–২ ওয়াকফকৃত ২২ বিঘা জমির চাষাবাদ বাবদ পূর্বে দাতার সন্তান মাদরাসা–মসজিদের একজন শিক্ষককে চাষাবাদসহ ও বেতন বাবদ প্রতি বছর আনুমানিক ৭০,০০০ থেকে ৮০,০০০ টাকা প্রদান করত (কখনো ৭০ হাজার, কখনো ৮০ হাজার)। কিন্তু ২০২৩ সন থেকে ২০২৬ সন পর্যন্ত উক্ত ওয়াকফ জমির বাবদ শিক্ষককে কোনো টাকা প্রদান করা হয়নি। এখন প্রশ্ন হলো— ২.১- ২২ বিঘা জমি চাষাবাদের জন্য উল্লিখিত ৭০–৮০ হাজার টাকা কি পর্যাপ্ত ছিল? ২.২- যদি পর্যাপ্ত না হয়ে থাকে, তাহলে আনুমানিক কত টাকা প্রদান করা উচিত ছিল? ২.৩- উক্ত সময়ের জন্য চাষাবাদের বাবদ যে টাকা দেওয়া হয়নি, তা কি এখন পরিশোধ করা আবশ্যক? প্রশ্ন–৩ ২০২৩ সন থেকে ২০২৬ সন পর্যন্ত মাদরাসা–মসজিদের শিক্ষককে চাষাবাদসহ বেতন বাবদ বকেয়া অর্থ এখনো পরিশোধ করা হয়নি। এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হচ্ছে—উক্ত বকেয়া অর্থ পরিশোধ করার ব্যাপারে ইসলামের বিধান কী?

সমাধান:

بسم الله الرحمن الرحيم، حامدا ومصليا ومسلما

ওয়াকফ শরীয়তের দৃষ্টিতে একটি স্থায়ী ও অপরিবর্তনীয় দান। ওয়াকফ করার সাথে সাথে দাতার মালিকানা বিলুপ্ত হয়ে তা আল্লাহ তাআলার মালিকানায় চলে যায় । সুতরাং ওয়াকফের পর দাতা নিজের বা তার সন্তান ও বংশধরের কারো জন্য ওয়াকফকৃত জমির স্থান পরিবর্তন করা বা জমির পরিমাণ কমানো জায়েয নেই। প্রশ্নোক্ত বিবরণ অনুযায়ী ২২ বিঘা ওয়াকফিয়া জমি চাষাবাদ করে প্রতি বছর নামমাত্র ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা মসজিদ মাদরাসায় প্রদান করা বাজারদর হিসেবে পর্যাপ্ত ছিল না। সুতরাং এ অবস্থায় শরীয়ত অনুযায়ী করণীয় হল, দাতার সন্তান যে সময় থেকে ওয়াকফিয়া জমি নিজ দখলে রেখেছে, সে সময় থেকে বর্তমান পর্যন্ত ঐ এলাকার অনুরূপ কৃষি জমির বাজারদর অনুযায়ী নায্য ভাড়া নির্ধারণ করতে হবে। এরপর সেই পরিমাণ অর্থ উক্ত মসজিদ মাদ্রাসার কাছে হস্তান্তর করতে হবে ।তাহলেই তিনি দায়মুক্ত হবেন। অন্যথায় ঐ পরিমাণ টাকার দায় দাতার সন্তানের জিম্মায় ঋণ হিসেবে বহাল থাকবে। দুনিয়াতে তা আদায় না করে থাকলে আখেরাতে অবশ্যই আল্লাহ তাআলার কাছে জবাবদিহিতার সম্মুখীন হতে হবে।
الإحالة الشرعية على المطلوب-  في"الدرالمختار"(٦/٥٦٢) ويبدأ من غلة بعمارته ثم ما هو أقرب لعمارته كإمام مسجد ومدرس مدرسة يعطون بقدر كفايتهم۞  وفي"الهندية"(٢/٣٤٦) وعندهما حبس العين على حكم ملك الله تعالى على وجه تعود منفعته إلى العباد فيلزم ولا يباع ولا يوهب ولا يورث أن الفتوى على قولهما۞  وفيه أئضا(٢/٤٠٥) أن الفتوى في غصب الدور والعقار الموقوفة بالضمان نظرا للوقف كما أن الفتوى في غصب منافع الوقف بالضمان نظرا للوقف۞  وفي"محمود به"(٢١/١٢٣) مسجد کی موقوفہ زمین کے عوض میں غیر موقوفہ زمین مسجد میں لینا درست نہیں اگرچہ اس کی عوض دو چند زمین مسجد کو دی جائے۞  وفي"دارالعلوم ديوبند"(١٣/١٨٢) زمین موقوفہ پر قبضہ رکھنا بطریق موروثیت حرام و ناجائز ہے اس کے قبضہ سے اس کو نکلنا لازم ہے..انتهى، والله أعلم بالصواب۞

অনলাইন ফাতওয়া || ফাতওয়া বিভাগ || আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ