মূল অংশে যান

আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ

ফাতওয়া নং: ২৯১ তারিখ: ২৫/০১/২০২৬ ঈ.

বরাবর

ফাতওয়া বিভাগ

আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ, পোরশা ইসলামপুর, পোরশা, নওগাঁ, বাংলাদেশ।

বিষয়: তালাকের মাসালা

প্রশ্নের বিবরণ:

1/ তালাক সংক্রান্ত মাসালা পড়ার পড়ে, এগুলো স্বামীর মাথায় ঘন ঘন আসতেই থাকে। এসব নিয়ে স্বামী খুব ভয়ে থাকে। এমন, চিন্তা হয় কখনো নি ভুল করে বলে ফেলে। এসব, চিন্তা করতে করতে এসব চিন্তা থেকে বের হতে পারছেনা। স্বামী একা একা ঢাকায় থাকে। স্ত্রী সাথে থাকে না। স্ত্রী গ্রামের বাড়িতে থাকে। স্বামী যখন সজাগ অবস্থায় থাকে তখন তালাক সংক্রান্ত কিছু সে মুখে কখনো উচ্চারণ করেনি স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে। এসব, চিন্তার কারণে, রাতে যখন ঘুমানোর জন্য শুয়ে পড়ে তখন, ঘুমের মধ্যে স্বপ্নে তালাক বিষয়ে দেখে। এখন, দীর্ঘদিন যাবত ঘুম ঘুম ভাব অবস্থায় মনের মধ্যে তালাক সংক্রান্ত বিষয় উদিত হয়। কিন্তু, পুরোপুরি ঘুমন্ত কিনা সেটাও নিশ্চিত না। মাঝে মধ্যে ঘুম ভেংগে যায় আবার ঘুমার জন্য শুয়ে পড়লে তালাক সংক্রান্ত কিছু অনুভব করে যা বললে হইতো তা পতিত হয়ে যাবে। এমন প্রায় কয়েকদিন পরে পরেই হতেই থাকে। কিন্তু, খেয়াল থাকা অবস্থায় এখন পর্যন্ত স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে কখনো তালাক বলেনি। এটা ১০০% নিশ্চিত। কিন্তু, প্রায় দীর্ঘদিন যাবত ঘুমাতে গেলেই, পুরোপুরি ঘুমের মধ্যে কিনা সেটা নিশ্চিত না, কিন্তু ঘুমানোর জন্য শুয়ে পড়লে এর কিছুক্ষণ পরে অনেক সময় এমন কিছু কথা অনুভব হয় যে, স্বামী বলছে তালাক দিলাম এসব কিছু। কিন্তু, জিব্বা নাড়িয়ে বলছে কিনা সেটা পুরোপুরি নিশ্চিত না, শব্দের আওয়াজ হলো কিনা সেটা নিশ্চিত না। কিন্তু, মনে হয় সেইরকম কিছু বলেছে। ঘুমানোর আগে স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে এমন কিছু বলার প্রশ্নই আসেনা। এখন, ঘুম ঘুম ভাব অবস্থায় বলতে গেলে ঘুম আছে হইতো অথবা খেয়ালহীন চেতনায় এসব দীর্ঘদিন যাবত অনুভব করে আসতেছে,পরে সজাগ হওয়ার পরে তার স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে এমন কিছু বলার প্রশ্নই আসেনা নিজে নিজে বলে। কেউ যদি স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার উদ্দেশ্য না রেখে ঘুমায় এবং চোখ বুঝে ঘুমানোর চেষ্টা করে এবং এর কিছুক্ষণ পরে খেয়ালহীন এমন অবস্থায় সে তালাক দিলে তা পতিত হবে কি? কারণ, স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলবে এমন চিন্তা কখনো নেই। এখন, অনেকদিন এভাবে তালাক সংক্রান্ত বিষয় ঘটেই চলছে। সবগুলো, ঘুমানোর জন্য শুয়ে পড়লে এর কিছুক্ষণ পরে খেয়ালহীন ভাবে তালাক সংক্রান্ত কিছু হইতো বলেছে এবং তা খেয়াল অবস্থায় না। কারণ, খেয়াল অবস্থায় নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এমন ঘটনা প্রায় ১০-১২ দিন ঘটেছে। এখন, প্রশ্ন হলো ঘুমানোর জন্য গেলেই এসব দেখেছে কোনো উদ্দেশ্য ছিলোনা। এমন অবস্থায় তালাক হবে কি? সুন্দর করে উত্তর দিলে ভালো হয়। এখন, এসবের জন্য বৈবাহিক কোনো সমস্যা হয়েছে কি? ২/ কেউ যদি তালিকা মুখে উচ্চারণ করে তাহলে তালাক হবে কী? ৩/ স্ত্রীকে মুখে অন্যকিছু বলতে গিয়ে ভুলে যদি তালাক বলে তাহলে তা পতিত হবে কি? ৪/ তারপর, মেসেজ টাইপ করতে গিয়ে কি টাইপিং বোর্ডে যদি তালাক উঠে এবং দেওয়ার উদ্দেশ্য না থাকলে তা কেটে যদি সঠিক যা একান্ত বলার ইচ্ছে ছিলো তা লিখে সে ক্ষেত্তে তা পতিত হবে কি? ৫/ স্বামী যদি অতীতে তালাক দিয়ে থাকে এবং এখন যদি মনে না করতে পারে যে দিয়েছে কি দেয়নি সেক্ষেত্রে তার বিধান কি? ৬/ আগে তালাক সংক্রান্ত কিছু নিয়ে সন্দেহ ছিলো এবং পুরোপুরি নিশ্চিত হতে পাড়েনি আসলেই উদ্দেশ্য করে বলেছি কি বলেনি বর্তমানে এসে যদি এমন মনে হয় যে স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে এমন কিছু বলেনি তাহলে এর বিধান কি?

সমাধান:

بسم الله الرحمن الرحيم، حامدا ومصليا ومسلما

(১) প্রশ্নোক্ত বিবরণ অনুযায়ী আপনার স্ত্রীর উপর কোন তালাক কার্যকর হয়নি। এসবের কারণে আপনাদের বৈবাহিক সম্পর্কে কোন সমস্যা হবে না। কেননা,ঘুম বা ঘুমের ভাব অবস্থায় অথবা অচেতন অবস্থায় স্ত্রীকে তালাক দিলে তালাক কার্যকর হয় না। অনুরূপ তালাক উচ্চারণের বিষয়ে সন্দেহ থাকলেও তালাক কার্যকর হয় না। ২/ না, “তালিকা” শব্দ মুখে উচ্চারণ করলে তালাক কার্যকর হয় না। ৩/ হ্যাঁ, স্ত্রীকে অন্য কিছু বলতে গিয়ে যদি ভুলে তালাক বলে তাহলে এক তালাকে রজয়ী কার্যকর হবে। ৪/ ৪নং প্রশ্নের বিবরণ অনুযায়ী কোন তালাক কার্যকর হবে না। ৫+৬/ ৫ নং ও ৬ নং প্রশ্নের বিবরণ দ্বারাও কোন তালাক কার্যকর হবে না। কেননা অতীতের সন্দেহজনক কথার দ্বারা বা যে নিয়ত বা উদ্দেশ্যর ব্যাপারে সুনিশ্চিত হতে পারে না তা দ্বারা তালাক কার্যকর হয় না। হাদীস শরীফে এসেছে, ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন: আল্লাহ্ আমার উম্মাতকে ভুল, বিস্মৃতি ও জোরপূর্বক কৃতকাজের দায় থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন। (ইবনে মাজা, হাদীস নং-২০২৪) উল্লেখ্য, আপনি মুলত ওয়াসওয়াসা রোগে ৃআক্রান্ত। এ রোগে থেকে পরিত্রাণের সহজ পন্থা হল এ ধরনের কথার প্রতি ভ্রুক্ষেপ না করা, যা বলেছেন সেটা নিয়ে পুনরায় না ভাবা; বরং সেটিকে এড়িয়ে চলা। ঐ কথাগুলো মাথায় আসা মাত্র অন্য বিষয় নিয়ে ভাবা। কেননা, এগুলো নিয়ে যত বেশি চিন্তা ভাবনা করবেন তত ওয়াসওয়াসা বাড়বে।
الإحالة الشرعية على المطلوب  أخرج الإمام ابن ماجه في" سننه" برقم(٢٠٤٥) عن ابن عباس رضي الله تعالى عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم" إن الله وضع على امتي الخطا والنسيان".  في البدائع الصنائع (٣\١٢٦قديم) ثم الشك الزوج لا يخلو إما إن وقع في اصل التطليق أطلقها ام لا ..... فإن وقع في اصل التطليق لا يحكم بوقوعه لما ذكرنا  في"الدر المختار"(٣\٢٤١) (أو مخطئا) بأن أراد التكلم بغير الطلاق فجرى على لسانه الطلاق أو تلفظ به غير عالم بمعناه أو غافلا أو ساهيا.... (لا يقع...والنائم) لانتفاء الإرادة، ولذا لا يتصف بصدق ولا كذب ولا خبر ولا إنشاء  في "الاشباه و النظائر"(١٠٠) اليقين لا يزول بالشك  وفي "حاشية الطحطاوي"(٢١٩) حتى لو أجرئ الطلاق على قلبه وحرك لسانه من غير تلفظ يسمع لا يقع وإن صحح الحروف.  وفي "كتاب النوازل"(٩/٢٨٦) اپ مسئلہ یہ ہے کہ محض اس وہم و خیال اور شک کی وجہ سے شریعت مطہرہ کی روشنی میں نکاح کرنے اور نہ کرنے میں اسی طرح نکاح ہونے کی بعد طلاق واقع ہونے یا نہ ہونے کے بارے میں کیا حکم ہے؟ جواب :شریعت میں محض شکوک اور شبہات کا کوئی اعتبار نہیں ہے لہذا محض شک کی بناء پر کوئی طلاق نہ ہوگی. انتهى، والله أعلم بالصواب.

অনলাইন ফাতওয়া || ফাতওয়া বিভাগ || আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ