মূল অংশে যান

আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ

ফাতওয়া নং: ২৯৬ তারিখ: ২৬/০১/২০২৬ ঈ.

বরাবর

ফাতওয়া বিভাগ

আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ, পোরশা ইসলামপুর, পোরশা, নওগাঁ, বাংলাদেশ।

বিষয়: তালাক সংক্রান্ত ঘটনার লিখিত বিবরণ

প্রশ্নের বিবরণ:

আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজের প্রয়োজনে ছেলে-মেয়েদের সাথে মেলামেশা করা হয়। আমি আমার স্ত্রীকে বহুবার বুঝিয়েছি যে এটি শুধুই পড়াশোনা ও কাজের কারণে। তবুও তিনি আমার চরিত্র নিয়ে অনেকে অপমানজনক মন্তব্য করেন এবং আমাকে অযোগ্য বলে বলেন। এক পর্যায়ে তিনি এমন কথাও বলেন যে, তার জীবনে আমার চেয়ে যোগ্য অন্য কেউ (যেমন আর্মি অফিসার) আসতে পারত। এই মানসিক চাপ ও অপমানের কারণে আমি রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে তালাক সংক্রান্ত কথা বলি। পরে বুঝতে পারি এটি একটি বড় ভুল ছিল। আমি (স্বামী) রাগের অবস্থায় আমার স্ত্রীকে অনলাইন চ্যাট/মেসেজের মাধ্যমে নিম্নোক্ত শব্দগুলো একই সময় ও একই প্রসঙ্গে, আলাদা লাইনে লিখেছি: “Talak” “Talak” “Talak” এছাড়া একই কথোপকথনে আমি আরও লিখেছি যে— আমি তাকে স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করি না, আজকের পর থেকে স্ত্রী হিসেবে মানি না, এবং তাকে ছেড়ে দিচ্ছি। উক্ত কথাগুলো লেখার পর থেকে আমরা স্বামী–স্ত্রীর সম্পর্ক বা দাম্পত্য আচরণে লিপ্ত হইনি। বর্তমানে আমি শরিয়ত অনুযায়ী নিম্নোক্ত বিষয়গুলো সম্পর্কে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত জানতে চাই: উক্ত কথাবার্তার মাধ্যমে তালাক কার্যকর হয়েছে কি না; হয়ে থাকলে তালাকের ধরন কী; আমাদের বর্তমান সম্পর্কের শরিয়তগত অবস্থান কী; ভবিষ্যতে করণীয় কী। আমি তালাক চাই না। আমি আমার স্ত্রীকে হারাতে চাই না। আমি আমার ভুল বুঝেছি এবং আমি সত্যিই আফসোস করছি। আমি চাই আমরা আবার মিলিত হই এবং আমাদের সম্পর্ক ঠিক করি। আমি ভবিষ্যতে এমন কোনো কথা বলব না এবং শান্তভাবে সমস্যা সমাধান করব।

সমাধান:

بسم الله الرحمن الرحيم، حامدا ومصليا ومسلما

প্রশ্নোক্ত বিবরণ সত্য হলে শরীয়তের বিধান অনুযায়ী চার মাযহাবের ঐক্যমতে আপনার স্ত্রীর উপর তিন তালাক কার্যকর হয়ে আপনাদের বৈবাহিক সম্পর্ক সম্পূর্ণরূপে ছিন্ন হয়ে গেছে। আপনারা একে অপরের জন্য হারাম হয়ে গেছেন। আপনাদেরকে এখনই পৃথক হয়ে যেতে হবে। ঐ স্ত্রীকে নিয়ে আর স্বাভাবিকভাবে ঘর সংসার করা বৈধ হবে না। তবে যদি আপনার স্ত্রী তালাকের ইদ্দত শেষ করার পর অর্থাৎ ঋতুমতী হলে তিনটি ঋতু, আর গর্ভবতী হলে সন্তান ভুমিষ্ঠ হওয়ার পর স্বেচ্ছায় অন্যত্র বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয় এবং দ্বিতীয় স্বামী সহবাস করার পর যদি কোন কারণে তালাক দেয় বা মারা যায় তাহলে তার ইদ্দত শেষ হওয়ার পর আপনারা পরস্পরে রাযি থাকলে নতুন ভাবে দু'জন সাক্ষীর উপস্থিতিতে মোহর ধার্য করে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে ঘর-সংসার করতে পারবেন। উল্লেখ্য, শরীয়তের দৃষ্টিতে সাধারণ অবস্থায় তালাক খুবই অপছন্দনীয় ও গর্হীত কাজ। তাই এ ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। অতি প্রয়োজন ছাড়া তা প্রয়োগ করা কিছুতেই বাঞ্ছনীয় নয়। যদি কখনো তালাক দিতেই হয় তাহলে পরামর্শ অনুযায়ী এক তালাকের বেশি দেওয়া উচিত নয়। তাও শান্ত পরিবেশে, রাগের পরিবেশে নয়।
الإحالة الشرعية على المطلوب-  قوله تعالى"في سورة البقرة"(٢٣٠) فإن طلقها فلا تحل له من بعد حتى تنكح زوجا غيره۞ وأخرج الإمام البخاري رح في"صحيحه" (٢/٧٩١) عن عيشة رض أن رجلا طلق إمرأته ثلاثا فتزوجت فطلق فسئل النبي صلى الله عليه وسلم أتحل الأول ؟ قال لا: حتى تذوق عسيلتها كما ذاق الأول وفي"المحيط البرهاني"(٤/ ٤٨٤) الأول : أن يكتب : هذا كتاب فلان ابن فلان إلى فلانة، أما بعد : فأنت طالق . وفى هذا الوجه يقع الطلاق عليها في الحال  وفي"التاتار مجانية"(٤/٥٢٨) - الأول : أن يكتب " هذا كتاب فلان بن فلان إلى فلانة أما بعد فأنت طالق " وفي هذا الوجه يقع الطلاق في الحال ، وفي الخانية : وتلزمها العدة من وقت الكتابة  وفي"ردالمحتار"(٤/٤٥٦) وإن كانت مرسومة يقع الطلاق نوي أو لم ينو  وفي"محمود به"(١٨/٢٣٩) اگر اس شخص نے زبان سے تین مرتبہ طلاق دی ہے، یا سادہ کاغذ پر تین مرتبہ طلاق تحریر کر دی ہے تو شرعاً تین طلاق واقع ہو گئیں اگر چه اسٹامپ پرلکھ کر نہ دیا ہے..انتهى، والله أعلم بالصواب

অনলাইন ফাতওয়া || ফাতওয়া বিভাগ || আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ