মূল অংশে যান

আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ

ফাতওয়া নং: ২৯৭ তারিখ: ২৭/০১/২০২৬ ঈ.

বরাবর

ফাতওয়া বিভাগ

আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ, পোরশা ইসলামপুর, পোরশা, নওগাঁ, বাংলাদেশ।

বিষয়: তালাক সংক্রান্ত

প্রশ্নের বিবরণ:

আসসালামু আলাইকুম, আমার স্বামী বিদেশ থাকে তার সাথে আমার সম্পর্ক তেমন ভালো ছিলো না বিয়ের শুরু থেকেই,মাঝে মাঝে প্রায় ঝগড়া করে ৫,,,,,,, ৬ মাস কথা হতো না,,,,,, আবার মাঝে মাঝে কথা হতো,আবার ৭,,,৮ মাস কথা হতো না ঝগড়া ঝামেলা লেগেই থাকতো। একপর্যায়ে সে আমাকে মোবাইলের টেক্সটে মানে মেসেজে ডিভোর্স দিয়ে দেয়। ডিভোর্সের বিবরণ ছিলো এরকম,,,,,, আমি আবুল বাসার ও মনোয়ারা বেগমের ছেলে আব্দুল মালেক, আব্দুস সাত্তার ও আনোয়ারা বেগমের মেয়ে সুমিকে ৩ তালাক প্রধান করিলাম,,,,,,, এক তালাক, দুই তালাক তিন তালাক ও বাঈন তালাক,,,,,,,। তালাক দেওয়ার সময় আমি তার সাথে ঝগড়ারত ছিলাম না। এক বছরের মত কথা ও যোগাযোগ বন্ধ ছিলো, তখন সে ডিভোর্স দিয়ে দেয়। পরে বিদেশ থেকে আসার পর সে বলে এটা আমাকে ভয় দেখানোর জন্য করা হইছে। এটা নাকি কিছুই হবে না, আমার ছেলে একটা আছে, তার মুখের দিকে তাকিয়ে সালিশের মাধ্যমে আমাকে আবার যেতে হলো তার কাছে। গন্যমাণ্য ব্যক্তি বর্গকে আমি বিষয়টি জানিয়ে ছিলাম তারা বলে এটা কিছু হবে না। ফলে আমি ও তার সাথে ৩ মাস সংসার করলাম। কিন্তু সংসার চলাকালীন আমি কোনো প্রকারভাবে শারীরিক ও মানসিক শান্তি পাই নি। এখন সে আবার বিদেশ চলে গেছে। এখনো আগের মত সেই বেজাল চলতেছে। আর আমি ও এখন ওয়াজ কালাম শুনি তাই আমি ও এই অবৈধ সম্পর্ক রাখতে চাই না। আমি আর তার সংসার করতে ইচ্ছুক নয় কিন্তু সে আমাকে ছাড়তে চায় না। এখন আমার করনীয় কি? দোয়া করে জানিয়ে উপকৃত করবেন🙏

সমাধান:

بسم الله الرحمن الرحيم، حامدا ومصليا ومسلما

প্রশ্নোক্ত বিবরণ অনুযায়ী স্বামীর তিন তালাকের ম্যসেজের দ্বারাই আপনার উপর প্রথমেই তিন তালাক কার্যকর হয়েছে এবং আপনাদের বৈবাহিক সম্পর্ক সম্পূর্নরূপে ছিন্ন হয়ে গেছে। এর পর আপনাদের একসাথে ঘর সংসার করা মারাত্মক কবীরা গুনাহ হয়েছে। ঐ স্বামীর সঙ্গে আপনার আর কোন ধরণের বৈবাহিক সম্পর্ক নেই। আপনি চাইলে ইদ্দত পালনের পরে অন্যত্র বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারেন। এর জন্য প্রয়োজনে পরিবার বা প্রশাসনের সহায়তায়ও নিতে পারেন। আর যদি ঐ স্বামীর সঙ্গেই ঘর সংসার করতে চান তাহলে অন্যত্র বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পর ঐ দ্বিতীয় স্বামীর সাথে সহবাস করার পর যদি কোন কারণে তালাক দেয় বা মারা যায় তাহলে ইদ্দত শেষ হওয়ার পর আপনারা পরস্পরে রাযি থাকলে নতুন ভাবে দু‘জন সাক্ষীর উপস্থিতিতে মোহর ধার্য করে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে ঘর-সংসার করতে পারবেন।
الإحالة الشرعية على المطلوب- **قال الله تعالى في”سورة البقرة ” (٢٣٠) فان طلقها فلا تحل له من بعد حتى تنكح زوجا غيره **وأخرج الإمام البخاري رح في” صحيحه”(٢/٧٩١) عن عائشة رضي الله تعالى عنها أن رجلا طلق امرأته ثلاثا فتزوجت فطلق فسئل النبي صلى الله عليه وسلم اتحل للاول قال لا حتى تذوق كما ذاق الأول **وأخرج الإمام “البخاري رح في”صحيحه” (٢/٧٩٢) قال الليث عن نافع كان ابن عمرإذا سئل عن طلق ثلاثا قال لو طلقت مرة او مرتين فإن النبي صلى الله عليه وسلم أمرني بهذا فإن طلقها ثلاثا حرمت حتى تنكح زوجا غيره **وفي”عمدة القارى”(٢٠/٢٣٣) ومذهب جماهير العلماء من التابعين و من بعدهم منهم الأوزاعي والنخعي و الثوري وأبوحنيفة وأصحابه ومالك وأصحابه والشافعي وأصحابه وأحمد وأصحابه واسحاق وأبو ثور وأبو عبيد وآخرون كثيرون على أن من طلاق إمرأته ثلاثا وقعن ولكنه يأثم. وقالوا من خالف فيه فهو شاذ مخالف لأهل السنة ‘ وإنما تعلق به أهل البدع ومن لا يلتفت إليه لشذوذه عن الجماعة التي لا يجوز عليهم التواطؤ على تحريف الكتاب و السنة **وفي”التاتارخانية” (٥/١٤٧) وإن كان الطلاق ثلاثا في الحرة أو ثنتين في الأمة لا تحل له لا تنكح زوجا غيره نكاحا صحيحا ويدخل بها ثم يطلقها أو يموت عنها **وفي”الهندية”(١/٥٣٥) وإن كان الطلاق ثلاثا في الحرة أو ثنتين في الأمة لا تحل له لا تنكح زوجا غيره نكاحا صحيحا ويدخل بها ثم يطلقها أو يموت عنها **وفي”الهندية”(١/٣٥٥) إذا قال للإمرأته أنت طالق وطالق طلاق ولم يعقله بالشرط وإن كانت مدخولة طلقت ثلاثا وفي”امداد السائلين”(٤/٤٠) تین طلاقیں خواہ ایک جملے میں دے یا الگ الگ جملوں میں ، تینوں واقع ہو جاتی ہیں ، چاروں اماموں کا یہی مذہب ہے، جس نے اس کے خلاف فتاوی دیا ہے سخت حرام مرتکب ہوا ہے ، اور جو لوگ اس نکاح میں یہ جانتے ہوئے شریک ہوئے وہ بھی گناہگار ہوئے ، سب توبہ استغفار کریں..انتهى، والله أعلم بالصواب..انتهى، والله أعلم بالصواب...

অনলাইন ফাতওয়া || ফাতওয়া বিভাগ || আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ