মূল অংশে যান

আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ

ফাতওয়া নং: ৩০৬ তারিখ: ০৪/০২/২০২৬ ঈ.

বরাবর

ফাতওয়া বিভাগ

আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ, পোরশা ইসলামপুর, পোরশা, নওগাঁ, বাংলাদেশ।

বিষয়: খোলা তালাক ইদ্দত এবং দ্বিতীয় বিবাহ নিয়ে

প্রশ্নের বিবরণ:

আসসালামুআলাইকুম সম্মানিত মুফতি হুজুর সাহেব আমার অনেক কম বয়সে বিয়ে হয় বিয়ের কিছুদিন পর থেকে আমার স্বামী আমার সাথে অমানবিক আচরণ করে গায়ে হাত তুলে কারনে অকারণে 6 বছর সহ্য করার পর দেখি তিনি কখনো পরিবর্তন হবেন না আমার সারাজীবন অত্যাচার সহ্য করে থাকতে হবে আমি আর পারছিলাম না বাবার বাড়ি থেকে অনেক প্রেসার দিতো তার সাথেই সংসার করার কিন্তু আমি অনেক চেষ্টা করেছি তাকে ভালো বানানোর জন্য কিন্তু আমাকে মুক্তি দিবে না আবার অন্যায় অত্যাচার জুলুম ও করবে আমাদের কাবিন নামা করা ছিল না তাই তাকে যোর করি তালাকের পাওয়ার দেওয়ার জন্য এমনটা বলি যে আপনি আমাকে শারীরিক মানসিক নির্যাতন করেন আর করতে পারবেন না বেগানা মেয়েদের কে দেখতে পারবেন না পূর্বে সে এগুলো অনেক করছে তারপর বলি আমাকে তালাকের পাওয়ার দেন সে প্রথমে দিতে চাইনি পরে বলছে দিয়ে দিলাম পরে আমি বলছি সুন্দর ভাবে বলেন বলছে আমি তোমাকে তালাকের পাওয়ার দিলাম তারপরও তার মধ্যে কোন কিছুর পরিবর্তন দেখিনি তার দুই চারদিন পর আমি তাকে মেসেজ এর মাধ্যমে জানিয়ে দেই আপনার দেওয়া অর্পিত তালাকের পাওয়ার প্রয়োগ করে নিজের প্রতি তালাক গ্রহন করলাম তার সামনে না আমি একা ছিলাম মুখেও সেটা বলি এখন কি আমাদের তালাক হয়েছে? ইদ্দত এবং দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে প্রশ্ন..... ইদ্দত এর বিষয় সম্পর্কে এতো বেশি ধারনা না থাকায় নিরুপায় হয়ে দ্বিতীয় বিবাহ নামক অপরাধ করে ফেলেছি দ্বিতীয় বিয়ে করেছি একবছর ইদ্দত পালন না করেই এখন কি বিবাহ শুদ্ধ করতে নতুন করে ইদ্দত পালন করতে হবে? যেহেতু ইদ্দত এর সময়কাল শেষ হয়ে গেছে এখন নতুন করে বিয়ে পড়ালেই হবে? আমার এখন করনীয় কি দয়া করে জানাবেন। আল্লাহর কাছে অনেক কান্না কাটি করছি তিনি যেন মাফ করে দেন আমি অনেক চিন্তিত দয়া করে খুব দ্রুত প্রশ্নের উত্তরটি দিলে অনেক বেশি খুশি হবো

সমাধান:

بسم الله الرحمن الرحيم، حامدا ومصليا ومسلما

প্রশ্নোক্ত বিবরণ অনুযায়ী আপনাকে লক্ষ্য্ করে আপনার স্বামীর বক্তব্য “আমি তোমাকে তালাকের পাওয়ার দিলাম” এর দ্বারা আপনার তালাক দেওয়ার অধিকার অর্জিত হয়েছে। তবে এধনের কথা বা বাক্য প্রাপ্ত অধিকার ঐ বৈঠক ও সময়ের সাথে সীমাবদ্ধ থাকে। আপনি যেহুতু ঐ বৈঠকে ঐ সময়ে নিজের উপর তালাক গ্রহণ না করে কয়েকদিন পরে করেছেন তাই আপনার উপর কোন তালাক কার্যকর হয়নি। এখনো আপনি প্র্থম স্বামীর বৈধ স্ত্রী হিসেবেই বহাল আছেন। তাই আপনাকে এখনই দ্বিতীয় ব্যক্তির থেকে পৃথক হয়ে যেতে হবে। কেননা দ্বিতীয় বিবাহটি সহীহ হয়নি। আপনি যদি বৈধ ভাবে অন্যত্র বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে চান তাহলে ঐ স্বামীর কাছ থেকে আবার তালাকের অধিকার নিয়ে ঐ বৈঠকেই তালাক গ্রহন করতে হবে। এরপর তিনটি ঋতুস্রাব অতিবাহিত হওয়া পর্যন্ত ইদ্দত পালন করতে হবে। এরপর আপনি চাইলে অন্য কাউকে বিবাহ করতে পারবেন।
 وفي"الهندية"(١/٤٥٥) إذا قال لإمرأته اختاري ينوي بذلك الطلاق.... فلها أن تطلق نفسها ما دامت في مجلسها ذلك  وفيه أئضا(١/٤٥٧) ولو قال لها اختاري فقالت طلقت نفسي كا ن جوابا ويقع به الطلاق بائنا وإن كان التفويض مقرونا بذكر الطلاق بأن قال لها اختاري الطلاق فقالت اخترت الطلاق فهي واحدة رجعية  وفي"قاسميه"(١٦/١٨٦) شوہر نے بیوی کو نکاح کے باقی رکھنے اور نہ رکھنے کا اختیار دیا اب اگر بیوی اس اختيار پر اسی مجلس میں عمل کر لیتی تو ایک طلاق رجعی واقع ہو جاتی اور اس مجلس ختم ہونے کے بعد بیوی کو طلاق کا اختیار نہیں رہا...انتهى، والله أعلم بالصواب

অনলাইন ফাতওয়া || ফাতওয়া বিভাগ || আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ