আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ
ফাতওয়া নং: ৩১৩
তারিখ: ১০/০৪/২০২৬ ঈ.
বরাবর
ফাতওয়া বিভাগ
আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ, পোরশা ইসলামপুর, পোরশা, নওগাঁ, বাংলাদেশ।
বিষয়: তালাকের মাসালা
প্রশ্নের বিবরণ:
১/ দীর্ঘদিন যাবত তালাকের মাসালা জানার পরে এই ব্যাপারে দুশ্চিন্তা হয়ে আসছে। আগে, তালাক সংক্রান্ত সমস্যা হয়েছে ঘুম ঘুম ভাব অবস্থায় পরবর্তী ফতোয়া এসেছে তা পতিত হয়নি। এখন, আগে ঘটে যাওয়া বিষয় নিয়ে বর্তমানে চিন্তা হচ্ছে আগে ঘটনায় তালাক পতিত হয়েছে কিনা। কিন্তু, বর্তমানে এসে আমার কাছে এমন মনে হচ্ছে যে, আমি কখনো আমার স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলিনি। এমন চিন্তা মাঝে মধ্যে আসে। তখন, অস্থিরতা লাগে। এখন, আজকে ঘুমিয়ে যাওয়ার পরে ঘুম হালকা ভেংগেছে এমন অবস্থায় কিছু একটা মনে হলো বলেছি। কিন্তু, কি বলেছি তা নিশ্চিত হতে পারছিনা। দীর্ঘদিন যাবত এই সমস্যার জন্য মনে হলো তালাক বলেছি কিনা। ঘুম হালকা ভেংগেছে, আমি কি বলতেছি তা যদি আমি নিজের স্বজ্ঞানে বলতে না পাড়ি সে ক্ষেত্রে তা পতিত হবে কি? ২/ আগে তালাক সংক্রান্ত কিছু যদি ঘটে থাকে সেক্ষেত্রে যদি বর্তমানে এসে এমন মনে হয় যে আমি স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে কখনো এমন কিছু বলেনি এবং বললে হইতো বর্তমানে আমার মনে থাকতো। এবং অনেক কিছুই ভুলে গিয়েছি যা এখন মনে নেই। এমন অবস্থায় শরিয়তের বিধান কি? ৩/ কোনো কিছু পড়তে গিয়ে বা অন্যকোনো উদ্দেশ্য তালাক সংক্রান্ত কিছু বললে, তখন যদি স্ত্রীর কথা মাথায় স্বরন হয়ে যায় সেক্ষেত্রে শরিয়তের বিধান কি? ৪/ জিব্বা,না নাড়ানো অবস্থায় ভিতর থেকে যদি তালাক সংক্রান্ত কথা উদিত হয় তখন যদি ঠুট খুলা অবস্থায় থাকে সেক্ষেত্রে তা পতিত হবে কি? ৫/ উদ্দেশ্য ছিলো কিনা নিয়ত ছিলো কিনা এসব নিয়ে যদি সন্দেহ তৈরি হয়। সেক্ষেত্রে তা পতিত হবে কি? ৬/ অনেকে বলে উচ্চারণ এর সময় শব্দের আওয়াজ না হলে তা পতিত হবে না। সেক্ষেত্রে, কেউ যদি তা মেনে আমল করে তা পতিত হবে কি? ৭/ কেউ যদি পূর্বে তালাক দিয়ে থাকে এবং পরবর্তীতে এসে যদি ভুলে যায় এবং মনে না থাকে সেক্ষেত্রে তার ক্ষেত্রে শরিয়তের বিধান কি? ৮/ স্ত্রী যদি বলে কোথায় যাবে সেক্ষেত্রে যাইয়ো বললে, তা কি কেনায়া হিসেবে কাজ করবে? 9/ ঘুম থেকে স্বাভাবিক জ্ঞানে না ফিড়া অবস্থায় যেমন ঘুম ভেংগেছে কিন্তু পুরোপুরি ভাংগেনি চোখ মেলেনি, সে কি বলছে বা কি করছে সচেতন অবস্থায় না, এমন হয় যদি সে তালাক বলে ফেলে সেক্ষেত্রে তা পতিত হবে কি? ১১/ কেউ যদি শয়তানের ওসওয়াসায় তালাক বলে ফেলে এবং উদ্দেশ্য যদি না থাকে সেক্ষেত্রে ইসলামের শরীয়ত বিধান কি? উপরোক্ত সকল ঘটনা স্ত্রীর অনুপস্থিতিতে ঘটেছে।
সমাধান:
بسم الله الرحمن الرحيم، حامدا ومصليا ومسلما
১.২.৩.৪.৫.৯.প্রশ্নের বিবরণ অনুযায়ী আপনার স্ত্রীর উপর কোন তালাক কার্যকর হয়নি। কেননা তালাকের কথা বলার ব্যাপারে সন্দেহ থাকলে তালাক কার্যকর হয় না। হাদিস শরীফে এসেছে, হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা আমার উম্মতের অন্তরে যা উদিত হয় সেগুলোকে মাফ করে দিয়েছেন যতক্ষণ পর্যন্ত তা না বলে অথবা আমল না করে। (সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১২৭) ৬.-এটিও একটি মত যে, তালাক শব্দ উচ্চারণের আওয়াজ নিজ কান পর্যন্ত না পৌঁছলে তালাক কার্যকর হবে না। তবে আরেকটি মত হল, তালাক শব্দ যদি মুখে উচ্চারণ করে এবং তার আওয়াজ কানে না শুনে থাকে তাহলেও তালাক কার্যকর হবে। দ্বিতীয় মতটি উত্তম । কেননা এটিতে অধিক সতর্কতা রয়েছে। ৭.'তালাক দেওয়ার বিষয়টি যেহেতু সুনিশ্চিত নয় তাই তার ঘর সংসার বৈধ হবে। কেননা সন্দেহের ভিত্তিতে তালাক কার্যকর হয় না । এ ধরনের বিষয়গুলিকে আল্লাহ তায়ালার ক্ষমা করে দিয়েছেন। হাদিস শরীফে এসেছে, ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা আমার উম্মতের ভুল এবং জবরদস্তির মুখে যা করতে বাধ্য হয়, তা ক্ষমা করে দিয়েছেন”, (সুনানে ইবনে মাজাহ ২০৪৫) ৮. না কেনায়া শব্দ হিসেবে কাজ করবে না। ১০. 'স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বললে তালাক কার্যকর হবে অন্যথায় হবে না।
أخرج الإمام مسلم في "صحيحه"(١/٧٨) عن أبي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم إن الله تجاوز لأمتى ما حدثت به أنفسها ما لم يتكلموا أو يعلموا به(رقم الحديث١٢٧)۞
اخرجه الامام ابن ماجه" في سننه "عن ابْن عَباسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا عن النبي صلى الله عليه و سلم قَالَ: "إنَّ اللَّهَ تَجَاوَزَ لِي عَنْ أُمَّتِي الْخَطَأَ وَالنِّسْيَانَ وَمَا اسْتُكْرِهُوا عَلَيْهِ" ، [رقم:٢٠٤٥]
وفي "حاشية الطحطاوي"(٢١٩) حتى لو أجرئ الطلاق على قلبه وحرك لسانه من غير تلفظ يسمع لا يقع وإن صحح الحروف۞
وفي "الأشباه والنظائر"(١/١٩٨) شك هل حلف بالله أو بالطلاق أو بالعتاق فينبغي أن يكون حلفه
بالطلاق ثم رايت المسالة في البزازية في شك الإيمان حلف ونسي أنه بالله تعالى أو بالطلاق والعتاق باطل۞
وفي الدر المختار (٢/٣٠٩ طبع سعيد) فلو طلق او استثنى ولم يسمع نفسه لم يصح في الاصح
وفي فتاوى عباد الرحمن (٥/٧٩) الجواب: يعني ميري تین طلاق ہیں اس جملہ میں بیوی کی طرف طلق کی ظاہری کوئی نسبت موجود نہیں ہے اور بولتے وقت اپنی بیوی کی طرفطلاق منسوب کرنے کا کوئی مقصد اور ارادہ نہیں تھا تو معنوی نسبت بھی موجود نہیں ہے اس لۓ کوئی طلاق واقع نہیں..
وفي "كتاب النوازل"(٩/٢٨٦) اپ مسئلہ یہ ہے کہ محض وہم و خیال اور شک کی وجہ سے شریعت مطہرہ کی روشنی میں نکاح کرنے اور نہ کرنے میں اسی طرح نکاح ہونے کی بعد طلاق واقع ہونے یا نہ ہونے کے بارے میں کیا حکم ہے؟جواب شریعت میں محض شکوک اور شبہات کا کوئی اعتبار نہیں ہے لہذا محض شک کی بناء پر کوئی طلاق نہ ہوگی..انتهى، والله أعلم بالصواب...
অনলাইন ফাতওয়া || ফাতওয়া বিভাগ || আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ