মূল অংশে যান

আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ

ফাতওয়া নং: ৩২৫ তারিখ: ২৭/০৪/২০২৬ ঈ.

বরাবর

ফাতওয়া বিভাগ

আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ, পোরশা ইসলামপুর, পোরশা, নওগাঁ, বাংলাদেশ।

বিষয়: তালাক

প্রশ্নের বিবরণ:

আমার বিয়ে হয় ২০২৪ সালে,বিয়ের পর আমি বেকার এবং আস্তে আস্তে রিনগ্রস্থ হয়ে পরি।১ বছর হওয়ার সাথে সাথেই আমার শ্বশুর শ্বাশুড়ি আমার বউকে ধোকার মাধ্যমে তাদের কাছে রেখে দেয় বলে চাকুরি ছাড়া মেয়ে দিবে না।এরপর আমার হতাশা আরও বেড়ে যায় আমার বউ আমার সাথে থাকতে চায় কিন্ত বাপ মা দিতে চায় না।আল্লাহর কাছে অনেক দোয়া করি ভাগ্যের যেন পরিবর্তন হয় মাসখানেক পরও পরিবর্তন না হওয়াতে বউ পাশে না থাকায় আমার হতাশা আরও বেড়ে যায় এবং বউ ডিবোর্স চাইলে আমি বলি তুমার ডিভোর্স তুমি নেও এরপর আরও হতাশায় আল্লাহর কাছে চাই সম্পর্ক যেনো শেষ হয়ে যায় এই পরিস্থিতি আমি নিতে পারতেছিনা।হটাত একদিন শ্বশুর জানতে চায় সংসার রাখবো কিনা আমি রাগে হতাশায় ক্ষোভে না করে দেই একটা দিন ঠিক হয় টাকা পয়সা লেনদেনের। এরপর আমার মামা আমাকে বউয়ের কথা জিগেশ করে একদিন আমি লজ্জা ক্ষোভ বিরক্ত নিয়ে বলি তালাক হয়ে গেছে যদিও তখনো তালাকের কোন ফয়সালা হয় নাই।এরপর টাকা পয়সা সময়মত দেওয়ার পর আমার পরিবার আমাকে বলে মেয়ের সাথে সম্পর্ক ঠিকঠাক রাখতে মেয়ে আমাকে বলতেছে আমি নাকি কাবিন নামায় তাকে তালাকের অধিকার দিছি সেই অধিকার বলে সে তালাক নামায় সিগনেচার করে দিছে যদিও আমার কাছে কোন তালাকের কাগজ আসে নাই।আমি তো তালাক সম্পর্কে কিছুই জানি না কিসের অধিকার কিসের কি আমি জানতে চাই আমার বিয়ে করা স্ত্রী কি এখনো আমার স্ত্রী না আমাদের সম্পর্ক আল্লাহ হারাম করে দিছে??তালাক সম্পর্কে আমার নুন্যতম জ্ঞ্যান নেই এই না জানার জন্য কি আমরা ২ জন হারাম হয়ে গেলাম?? আর হারাম হলে এইটা কেমন তালাক যেইখানে রুজু করার কোন সুযোগই পেলাম না??

সমাধান:

بسم الله الرحمن الرحيم، حامدا ومصليا ومسلما

প্রশ্নোক্ত বিবরণ অনুযায়ী আপনি যদি কাবিননামার তালাকের অধিকার সম্বন্ধে বাস্তবেই না জেনে থাকেন তাহলে এর ভিত্তিতে স্ত্রীর তালাক গ্রহণ কার্যকর হয়নি। তবে আপনার মামার জিজ্ঞাসার কারণে আপনি বলেছেন তালাক হয়ে গেছে একথা দ্বারা আপনার স্ত্রীর উপর এক তালাকে রজয়ী কার্যকর হয়েছে। কেননা লজ্জা, ক্ষোভ ও বিরক্ত নিয়ে এ ধরনের কথা বললেও তালাক কার্যকর হয় । এখন যদি ইদ্দতের মধ্যে আপনি আপনার স্ত্রীকে মৌখিকভাবে ফিরিয়ে নেন অথবা স্বামী স্ত্রীর মধ্যে দাম্পত্যসুলভ আচরণ ঘটে থাকে তাহলে আপনাদের বিবাহ আগের মতই বহাল রয়েছে । আর যদি ইদ্দতের মধ্যে মৌখিকভাবে ফিরিয়ে না নিয়ে থাকেন এবং স্বামী-স্ত্রী সুলভ কোন আচরণ না করে থাকেন তাহলে দুইজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে নতুন করে মোহর ধার্য করে পুনরায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে হবে।
 في الفتاوى التاتار خانيه (٤/٥٣١) وكذلك كل كتاب لم يكتبه بخطه ولم يمله بنفسه لا يقع به الطلاق إذا لم يقر أنه كتابه*  وفي المحيط البرهاني (٤/٤٨٦) وكذلك كل كتاب لم يكتبه بخطه، ولم يمله بنفسه لا يقع به الطلاق إذا لم يعلم أنه كتابه*  وفي الفتاوى الهنديه (١/٤٥٥) إذ قال لامرأته اختاري ينوي بذلك الطلاق فلها أن تطلق نفسها ما دامت في مجلسها ذلك ، وأن تطاول يوما أو أكثر.... وإذا قامت عن مجلسها قبل أن تختار نفسها وكذا إذا اشتغلت بعمل اخر يبطل خيارها*  وفي رد المحتار (٤/٥٥٢)*  وفيه أيضا (٣/٢٣٦) ولو اقر بالطلاق كاذبا أو هازلا وقع قضاء لا ديانة*  وفي خلاصة الفتاوى(٢/٧٥) وفي الاصل إذا قال طلقتك أمس وهو كاذب كان طلاقا في القضاء*  وفي البحر الرائق(٣/٤٢٨) وصرح في البزازيه بأن له في الديانة أمسكها إذا قال أردت به الخبر عن الماضي كذبا وإن لم يرد به الخبر عن الماضي أو أراد به الكذب او الهزل وقع قضاء وديانة*  وفي رد المحتار أيضا (٣/٢٣٨)*

অনলাইন ফাতওয়া || ফাতওয়া বিভাগ || আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ