আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ
বরাবর
ফাতওয়া বিভাগ
আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ, পোরশা ইসলামপুর, পোরশা, নওগাঁ, বাংলাদেশ।
বিষয়: তালাকের মাসালা
প্রশ্নের বিবরণ:
আসসালামু আলাইকুম,
১/ আমাদের বিয়ে হয় ২০১৯ সালে,তো আমার তালাকের ব্যাপারে কোন ধারনা ছিল না যে কি ভাবে কি বললে তালাক পতিত হয়। না জেনে আমি বিয়ার পর ঝগড়া লাগলে রাগের মাথায় প্রায় সময় এই সব কথা বলতাম,তোর সাথে সংসার করতাম, তরে ভালো লাগে না, ভালো না লাগলে তুই চলে যায়, বা গেলে আগেই চলে যায়, তুই গেলে আমি আবার বিয়া করতে পারব, তরে নিয়া খামু না, তোর সাথে থাকতে ভালো লাগে না,তরে ছেড়ে দেওয়া ব্যবস্থা করতাছি, থাকলে ভালো করে থাক, না থাকলে চলে যায়, এত নাটক করার দরকার নাই, তোর কাউর সাথে সম্পর্ক থাকলে তুই যাইয়া বিয়া কইরা লায়, তাতে আমার সমস্যা নাই,তুই গেলে আমি বাচি,আমারে কয় আমি বিয়া দিয়া দেম সমস্যা নাই, তুই আমারে ছাইড়া চলে যায়। তো আমার স্ত্রী বলে তুই আমারে নিয়া না খাইলে আমারে ডিভোর্সর কাগজ দিয়া দেয় আমি চলে যায়, তুই কেমনে দিবি আমারে দিয়া দেয়, তো আমি বলি কেমনে দেম তুই গেলে তো চলে, তুই কেমনে যাবি চলে যায়, তুই এখনি চলে যায় আমি গাড়ি ভাড়া দিয়া দিচ্ছি এই সব প্রায় সময় ঝগড়া ঝামেলা রাগের মাথায় বলতাম। আসলে ঝগড়া লাগলে রাগের মাথায় আমার মাথা ঠিক থাকে না, তো ওই সময় আমার তালাকের মাসালার ব্যাপারে তেমন কোন ধারনা ছিল না, যে কি বললে তালাক হয়, এই সব কথা বলার সময় তালাকের নিয়ত থাকলে তালাক হয়ে যায় এই সব কিছু আমি জানতাম না। তো এইবসব কথা বলার সময় কি নিয়ত ছিল সঠিক ভাবে মনে করতে পারছি না, এই ক্ষেত্রে কি তালাক পতিত হবে।
২/ আজকে প্রায় দুই বছর আগে আমাদের ঝগড়া হয়, রমজান মাসে আমাদের মাঝে পারিবারিক ভাবে ঝামেলা হয়, তখন আমি প্রবাসে ছিলাম, তরে নিয়া খামু না,তো সে বলে আমার সংসার করবে না আমার ভাত খাইবে না তো আমি বলি আমার সংসার না করলে তুই আমার বাড়ি থেকে বের হয়ে যা,এক্ষনি আমার বাড়ি থেকে বের হবি, তোর আমার বাড়িতে থাকার দরকার নাই, তো বলে ঠিক আছে আমাকে ডিভোর্স দিয়া দেয় তো আমি বলি তুই চলে যা গেলে কাগজ পাঠাইয়া দেম, বা তুই ডিভোর্স দিয়া চলে যায়, তুই যাইয়া কাগজ পাঠাইয়া দিস আমি সাইন করে দেম। তুই যাইয়া আমারে কাগজ পাঠাইয়া দিস, আমি এখন প্রবাসে আছি তরে কেমনে ডিভোর্স দিব।তো আমার মারে বলি তার সাথে সংসার করতাম, তুমি তারে এক্ষুনি ঘর থেকে বের করে দাও,তাইরে আমি ছাইড়া দেম বা তালাক দেম এই রকম কিছু বলি।তার পর বলে আমারে ছেড়ে দাও তো আমি ঠিক আছে ছেড়ে দিলাম বা দিয়া দিলাম আমার মনে আমি একবার এই রকম শব্দ ব্যবহার করি, তো এই সব গুলো কথা একদিনে ঝগড়া সময় বলি সব একসাথে। একটা পর একটা তার পর যখন জানতে পারি এই রকম শব্দ ব্যবহার করলে তালাক হয়ে যেতে পারে তখন নামাজ পরে তওবা করি যে আল্লাহ আর জীবনে এই রকম শব্দ কোন দিন ব্যবহার করব না। তার পর থেকে এই রকম মনে হয় না আর ব্যবহার করছি। তো গত দুই মাস আগে তালাকের ব্যাপারে বিভিন্ন মাসালা জানার পর এখন খালি সন্দেহ কাজ করে যে আমি যে অতীতে ঝামেলা সময় কথা গুলো বলেছি এই কথা বলার কারনে কি আমাদের মাঝে কোন তালাক পতিত হল কিনা বা হলেও কত তালাক হল এই আজে বাজে চিন্তা মাথায় আসে।তো পরে জানতে পারি ছেড়ে দিলাম বা দিয়া দিলাম বললে নাকি এক তালাক রজয়ী হয় এতে নিয়ত থাকা লাগে না, এইটা শুনার পর খালি সন্দেহ কাজ করে যে অতীতে আর কোন দিন এই রকম শব্দ ব্যবহার করছি কিনা বা করলেও কত বার ব্যবহার করছি কিছুই মনে করতে পারছি না।
আমার প্রশ্ন এই গুলো বলার সময় তালাকের নিয়ত কি ছিল কিছুই মনে করতে পারছি না। একবার মনে হয় নিয়ত ছিল আরেক বার মনে হয় নিয়ত ছিল না, খালি একটা দ্বিধা দ্বন্ধ মনে কাজ করে। যেহেতু তালাকের নিয়তের ব্যাপারে সন্দেহ কাজ, আর ঠিক কি শব্দ কি ভাবে ব্যবহার করছি এই বিষয়ে সন্দেহ আছে এই ক্ষেত্রে কি তালাক পতিত হবে। আর হলেই বা কত তালাক পতিত হবে। যেহেতু আমার কোন কিছু মনে নেই, এখন আমার করনীয় কি।
৩/ আমার খালি মনে হয় অতীতে এমন কিছু কথা বলেছি যেই কথা বললে তালাক পতিত হয় কিন্তু কি বলেছি তা সঠিক মনে নেই, যদি এমন কিছু বলেও থাকি আর এখন যেহেতু সঠিক মনে নেই এই ক্ষেতে কি তালাক পতিত হবে।
সমাধান:
بسم الله الرحمن الرحيم، حامدا ومصليا ومسلما
অনলাইন ফাতওয়া || ফাতওয়া বিভাগ || আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ