মূল অংশে যান

আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ

ফাতওয়া নং: ৩৩৫ তারিখ: ১৪/০৪/২০২৬ ঈ.

বরাবর

ফাতওয়া বিভাগ

আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ, পোরশা ইসলামপুর, পোরশা, নওগাঁ, বাংলাদেশ।

বিষয়: পারিবারিক তালাক সংক্রানত্ শরীয়াহর সিদ্ধােন্তর / বা আবস্থান জানার জন্য আবেদন

প্রশ্নের বিবরণ:

বিষয়: পারিবারিক তালাক সংক্রানত্ শরীয়াহর সিদ্ধােন্তর / বা আবস্থান জানার জন্য আবেদন । আমরা স্বামী-স্ত্রী আমাদের দাম্পত্য অবস্থার শরীয়াহসম্মত অবস্থা জানতে চাই। নিচে ঘটনাগুলো ধারাবাহিকভাবে লিখছি। ১। আমাদের বিয়ে হয় ২০২১ সালে। বর্তমানে আমাদের দুইটি কন্যা সন্তান রয়েছে ১ম জন তিন বছর ২য় জন ২ বছর। স্ত্রী পরিবারের মানুষদের সাথে কটূ কথা বলা ও পারিবারিক শান্তি প্রতিনিয়ত বিনষ্ট করা , সে আমার বাবার সাথে ঝামেলায় জরায় আমি বাড়ি না থাকা অবস্থায় । ঝামেলা শুনে আমি দ্রত বাড়ি আসলে সে আমাকে বলে তুমার ফ্যামিলি চায় তুমি আমাকে তালাক দাও তাই তুমি এখন আমাকে তালাক দাও পরে সেই সময় সে কথা কাটা কাটি চিৎকার চেচা মেছি করে ও আবারো সামালের বাহিরে চলে যায় অন্যদিকে আমার বাবা ও আমার সাথে রাগ করে বাড়ি তেকে বের হয়ে যাবেন বলে হুশিযার করে ,বলে সে বাড়িতে তাকলে ,তখন এই হঠ্যগুল এর মাঝে বাবার সাতে বাকবিন্ডায় জরানো/ ফ্যামিলির শন্তি নষ্ট এবং আমার নিয়ন্ত্রন এর বাহিরে যাওয়ায় হঠ্যগুল এর মাঝেই আমি তাকে বলি ’তরে আমি তালাক দিলাম যা’ বের হয়ে যা । ২। উপরের গঠনার পর আমি মানষিক ভাবে বিধ্বস্থ হয়ে পরি কারন হলো : ফ্যমিলির বিভন্ন মানুুষ আমাকে প্রেমের বিয়ের কারনে দোষারপ করে এবং কথা শুনায় । এর এক সাপ্তাহ পর সে আবার আসে এবং ফ্যামিলির অনেকের কাছে মাপ চায় কিন্তু আমি তাকে মেনে নিতে পারছিলান না কারন সে এর আগেও অনেক বার কথা দিয়ে কথা রাখে নাই মাপ চেয়েও উলটা পালটা কাজ করে। সে সময় যখন সে আমাদের ঘরে আসে আমার কাছে আসতে চায় তখন আমি ঘ্রিনা আর খোব আনুভব করি,তাকে চোকের সামনে সহ্য করতে পারছিলাম না, সে যাতে আমার কাছে না আসে আর আমার কাছে মনে হচ্ছিলো এইগুলা তার অভিনয় তাই তখন তাকে আমি সহ্য করতে পারছিলাম না ঐ মূহুর্তে আমি চাচ্ছিলাম সে যেনো আমার চোকের সামনে তেকে সরে যায় তখন তাকে আমার দেখেই মাতায় রক্ত চরে যায় এবং আমি প্রচন্ড রাগে চেচামেচি শুরু করি তাকে যেনো ঘরে ডুকানো বা একস্পেট না করা হয় এবং তখন আমি তাকে বলি -- নে তকে আরেক তালাক দিলাম, যা আর নাটক করিছনা ২ তালাক হইলো এইরকম একটা কথা বলি , আমার যতদূর মনো আছে(সম্পূর্ন বাক্য ক্লিয়ার মনে নেই)। এবং বের হয়ে যেতে বলি ঘর থেকে।তখন আমার চাচা ও শুনেন কথাগুলা পরে তিনি শাক্ষদেন অমি এইটা রাগের মাথায় দেই এইটা হয়নাই পরে উনি আমাকে গালি গালাজ করেন তারপর ১ দিন পর তারা আবার উভয় পক্ষের ময়মূরব্বিয়ানর আমাদের মিলিয়ে দেন। ”এটি তালাক হিসেবে গণ্য হবে কি না জানতে চাই? ৩। পরে উভয় পরিবারের মুরুব্বিদের মাধ্যমে আমাদের মিল করা হয়। ৪। বিগত এক সাপ্তাহ আগে আবার আমাদের মাঝে ঝামেলা হয় এবং এক পর্যায়ে সে বলে তুমি বউ চালাতে পারো না, তখন আমি তাকে বলি -----নেক্সটাইম আর কোনো সময় যদি তুমি আমারে এই কথা কউ তাহলে তুমার সাথে আমার ঐ দিনঅই তালাক অইবো। সাতে সাথেই সে উত্তর দেয়--- নাও বল্লাম তুমি বউ চালাইতে পারো না , নাও দাও এখন আমারে তালাক দাও তুমি আমারে এই কথার জন্য তালাক দিবা ?। আমাকে উল্ঠা প্রশ্ন করে,তখন আমি অবাক হয়ে যাই তার এই কথা শুনে ,কারন তাকে কথাটা আমি এই নিয়তে বলি যাতে সে অন্য কোনো দিন আর আমাকে আগাত বা এইধরনের কথা না বলে মানে আজকের কথা মাথায় রেখে বলি নাই অন্য দিন অন্য সময় মাথায় রেখে বলে ছিলাম ,কারন এই কথাটা শুনলে আমার অনেক খারাপ লাগে এই কথাটা শুনিয়ে আমাকে অনেকেই ছোটো করেছে । আমার নিয়ত ছিলো সর্তসাপেক্ষে তাকে অন্য দিনের জন্য সর্থক করা যাতে এমন আর না করে কিন্তু তার উত্তরে ,সে যখন আমাকে বল্লো( নাও বল্লাম তুমি বউ চালাইতে পারো না , নাও দাও এখন আমারে তালাক দাও তুমি আমারে এই কথার জন্য তালাক দিবা?) তার তাৎক্ষনাত উত্তর শুনে আমি অবাক হই ,,,মানে সে আমার কাছে তালাক চাইতেছে কেনো? তাহলে কি সে আমার কথা বুঝে নাই ? তখন আমি ঐ স্থান নিরবে ত্যাগ করি।পরে সে আমার সাথে কথা বলতে আসে সভাবিক ভাবে অমি তখন বলি তুমার সাথে আমার সর্ম্পক আছে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ আছে কারন আমি তুমাকে যেই কথা বলছি ---নেক্সটাইম আর কোনো সময় যদি তুমি আমারে এই কথা কউ তাহলে তুমার সাথে আমার ঐ দিনঅই তালাক অইবো ,আমি তাকে বল্লাম এইবাবে সর্তসাপেক্ষে তালাক হয়ে যায় সে তখন বলে আরে ভাই আমি তুমার কথার মানেই বুঝি নাই ,আমিতো জাস্ট তুমি যেই কথা বলছো তার প্রতিবাদ করে এই ভাবে বলছি যেহেতু ২ টা মুখে বলে দিছো তাহলে এখনি দিয়ে দাও পরে দেওয়ার দরকার কি এই সাধারন কথার জন্য যেহেতু তালাক দিবা এখনি দাও।তখন সে আমাকে বলে ,এইটা যে সর্তসাপেক্ষে ছিলো আমিতো এখনো বিষয়টা বুঝি নাই আর তখনতো প্রতিবাদ সরুপ বলছি কথায় কথা বলছি। ৫। স্বামীর নিয়ত ছিল ভয় দেখানো ও সতর্ক করা, সাথে সাথে তালাক কার্যকর করা নয়। আমাদের প্রশ্নসমূহ: ১। প্রথম ও দ্বিতীয় তালাক শরীয়াহ অনুযায়ী গণ্য হয়েছে কি না ২। শর্তসাপেক্ষ কথাটি তালাক হিসেবে কার্যকর হয়েছে কি না ৩। বর্তমানে আমরা স্বামী-স্ত্রী হিসেবে বৈধ অবস্থায় আছি কি না ৪। আমাদের করণীয় কী বিদ্রঃ আমাদের বিয়ের ৪ বছর হয়েছে ২ টা মেয়ে সন্তান রয়েছে প্রথমজন ৩ বছর ২য় জন ২ বছর । বিয়ের শুরু থেকেই পারিবারিক দন্ধ চলছে আমার স্ত্রি কিছুটা ভালো হলেও অমি মনে করি সে একটো নেগেটিভ চিন্তা করে বেশি আর তার ফ্যামিলিতে ২ বোন আছে বড় ,ভাই (বড়) , মা আছেন বাবা নেই বড় হয়েছে খালার কাছে খালার বাড়ি । আমার শশুর বাড়ির কেউই তাকে সংসার করনিয় বর্জনিয় কি তা বুঝাইতে আমি দেখিনাই তেমন বরং অনেক সময় তারা ঝামেলা আরো বারিয়েছেন । বিয়ের সময় তার বয়স ছিলো আনোমানিক ১৯ আমার ২৩( ২০২১ এ বিয়ে হয়) অর প্রথম ২ বার ঝামেলার মাঝখ্ানে সে হায়েজ অব্স্তায় চিলো । আমরা শরীয়াহ অনুযায়ী সঠিক সিদ্ধান্ত মেনে চলতে ইচ্ছুক। স্বাক্ষর: স্বামীর নাম: হানজালা স্ত্রীর নাম: মুন্নি আক্তার তারিখ: ২/২০/২০২৬ যোগাযোগ: ০১৭০৮১১৮৩৫১ । পয়েন্ট ২ এর ক্ষেত্রে (সংযুক্ত) ( এক জ্ন মুফ্তির সাথে কথা কইছিলাম তার কিছু প্রশ্ন ও আমার উত্তর) যে হেতু সে ১ম গঠনার ১ সাপ্তাহ পর ফিরে এসে দবি করছে সে ভালো হয়েগেছে তখন তা আমি মানতে নারাজ ছিলাম কারন একটা মানুষ এক সাপ্তাহে কিভাবে সংসুধন হয়? কারন এর আগেও সে ভিবিন্ন বার প্রতিস্রুতি দিয়ে তা ভঙ্গ করেছে । তাই তার প্রতিটা কথা প্রতিটা অযুহাত এবং তখন ফিরে এসেও কথার ফাকে ফাকে আমাকে ধুস দেখাচ্ছিলো অভিযোগ করছিলো এবং ভিবিন্ন বাহানা দিচিছলো এই কারনে তাকে অমি মেনে নিতে পারছিলাম না দেখেই মাথা গরম হচ্ছিলো প্রচন্ড রাগ উটছিলো যদি ও আমার ফ্যামিলির অনেকে আমেকে তখন বলছিলো সে ভালো হয়ে যাবে তাও আমি মানতে রাজি ছিলাম না তার এইসকল আচরন ও কথা বা অযুহাত দেখে । তখন ঐ মূহূর্তে আমার মনে হচিছলো কেউ তাকে সরাচ্চে না কেন আমার সামন থেকে এবং তাকে দেখেই আমার প্রচন্ড রাগ উটে যায় তাকে তখন ভিবিন্ন উল্টা পাল্টা কথা শুনাই তাও সে একি ধরনের কাজ করছিলো আামার সামনে বসে বসে । তখন সম্ভবত আমার চাচি আমার টিক মনে নেই কে ওকে আবার আমার ঘরের ভিতরে নিয়ে আসতে চাচ্চিলো ,তখনি আমি দুই নাম্বার পয়েন্টের কথা গুলা বলি । তবে এই মূহূর্তে আমার টিক মনে নেই আমি তাকে কি বলেছিলাম ( নে তকে আরেক তালাক দিলাম ২ তালাক / নে তরে আরেকটা দিলাম যা এখন দুইটা দিলাম খুসি নি / তরে আরেকটা দিলাম । কোনোটাই ক্লিয়ার মনে হচ্ছে না ।যাই ভাবি একবার মনে হয় এইটা তো আরেকবার ঐ টা। গত ( ২১/২/২০২৬ ) অপনারা আমাকে জিগ্গেস করেছিলে আমার কি তখন ঞ্জান ছিলো কিনা ? আসলে এই উল্লেখিত পরিস্তিতিতে আমি আসলে খুবি রাগান্নিতো ছিলাম কালি গালাজ করছিলাম কার সামনে কি বলছিলাম বাদ বিচার করছিলাম না তাই আমি বলেছিলাম হিতাহিত ঞ্জান হারিয়ে ফেলি । আর নিয়তের কথাও জানতে চেয়েছিলেন- আমি আপনাদের কে তাৎক্ষনিক ভবে বলেছিলাম তালাক এর নিয়তে, কিন্তু---- আমার মনে হচ্ছেনা এইরকম কিছু না আমার যতদূর মনে হয় এইখানে যেই কহিনিগুলা:- বাকবিতন্ডা, কলিগালাজ উল্লেখ করলাম পয়েন্ট ২ এর প্রেক্ষিতে এর মাঝেই আমি কথাগুলা বলি অইরকম ভাবে নিয়ত করেছিলাম কিনা তা অমার স্পষট মনে হচ্ছে না বা এ মূহূর্তে আমি ক্লিয়ার হতে পারছিনা আামার যতদূর মনে হয় গঠনা প্রবাহের কারনেই মুখ তেকে এই ধরনের কথা বের হয়ে আসে কারন তখন আমি ঐ রকম ভাবে চিন্তা করে কথা বলার মতো অবস্তায় ছিলাম না প্রচন্ড রাগের ফলে । এইটাই আমার সর্ব শেষ কথা।

সমাধান:

بسم الله الرحمن الرحيم، حامدا ومصليا ومسلما

সমাধান: : প্রশ্নোক্ত বিবরণ সত্য হলে শরীয়তের বিধান অনুযায়ী আপনার স্ত্রীর উপর তিন তালাক কার্যকর হয়ে গেছে। কেননা আপনার আগের দুই তালাক কার্যকর হয়েছে। পরবর্তীতে শর্তযুক্ত তালাকের শর্ত পাওয়া যাওয়ার কারণে আরো এক তালাক কার্যকর হয়ে মোট তিন তালাক হয়েছে। এখন আপনাদের বৈবাহিক সম্পর্ক সম্পূর্ণরূপে ছিন্ন হয়ে গেছে। আপনারা একে অপরের জন্য হারাম হয়ে গেছেন। ঐ স্ত্রীকে নিয়ে আর স্বাভাবিকভাবে ঘর-সংসার করা বৈধ হবে না। তবে যদি আপনার স্ত্রী তালাকের ইদ্দত শেষ করার পর অর্থাৎ ঋতুমতী হলে তিনটি ঋতু, আর গর্ভবতী হলে সন্তান ভুমিষ্ঠ হওয়ার পর স্বেচ্ছায় অন্যত্র বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয় এবং দ্বিতীয় স্বামী সহবাস করার পর যদি কোন কারণে তালাক দেয় বা মারা যায় তাহলে তার ইদ্দত শেষ হওয়ার পর আপনারা পরস্পরে রাযি থাকলে নতুনভাবে দু'জন সাক্ষীর উপস্থিতিতে মোহর ধার্য করে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে ঘর-সংসার করতে পারবেন। উল্লেখ্য, শরীয়তের দৃষ্টিতে সাধারণ অবস্থায় তালাক খুবই অপছন্দনীয় ও গর্হীত কাজ। তাই এ ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। অতি প্রয়োজন ছাড়া তা প্রয়োগ করা কিছুতেই বাঞ্ছনীয় নয়। যদি কখনো তালাক দিতেই হয় তাহলে পরামর্শ অনুযায়ী এক তালাকের বেশি দেওয়া উচিত নয়। তাও শান্ত পরিবেশে, রাগের পরিবেশে নয়।
الإحالة الشرعية على المطلوب- قال الله تعالى في"سورة البقرة " (٢٣٠) فان طلقها فلا تحل له من بعد حتى تنكح زوجا غيره۞ وأخرج الإمام البخاري رح في" صحيحه"(٢/٧٩١) عن عائشة رضي الله تعالى عنها أن رجلا طلق امرأته ثلاثا فتزوجت فطلق فسئل النبي صلى الله عليه وسلم اتحل للاول قال لا حتى تذوق كما ذاق الأول وأخرج الإمام "البخاري رح في"صحيحه" (٢/٧٩٢) قال الليث عن نافع كان ابن عمرإذا سئل عن طلق ثلاثا قال لو طلقت مرة او مرتين فإن النبي صلى الله عليه وسلم أمرني بهذا فإن طلقها ثلاثا حرمت حتى تنكح زوجا غيره وفي"التاتارخانية" (٥/١٤٧) وإن كان الطلاق ثلاثا في الحرة أو ثنتين في الأمة لا تحل له حتى تنكح زوجا غيره نكاحا صحيحا ويدخل بها ثم يطلقها أو يموت عنها وفي الهندية(١/٤٨٨)إذا أضاف الطلاق إلي الشرط وقع عقيب الشرط إتفاقا..انتهى، والله أعلم بالصواب۞

অনলাইন ফাতওয়া || ফাতওয়া বিভাগ || আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ