মূল অংশে যান

আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ

ফাতওয়া নং: ৩৩৬ তারিখ: ২৭/০৪/২০২৬ ঈ.

বরাবর

ফাতওয়া বিভাগ

আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ, পোরশা ইসলামপুর, পোরশা, নওগাঁ, বাংলাদেশ।

বিষয়: বিবাহ সম্পর্কিত

প্রশ্নের বিবরণ:

বরাবর ফতুয়া বিভাগ আল জামিয়াতুল আরাবিয়া দারুল হেদায়া পোরশা প্রশ্ন হল : ১। যদি স্বামী সাফেই মাযহাবের হয় আর স্ত্রী হয় হানাফী মাযহাবের যদি স্বামী বিবাহের পূর্বে এমন কোন কথা বলে থাকে যার কারণে বিবাহ সম্পন্ন হবার সঙ্গে সঙ্গে স্ত্রীর মাযহাব মোতাবেক ভেঙ্গে যায় কিন্তু স্বামীর মাযহাব মোতাবেক ভাঙ্গে না কিন্তু স্বামীর মাজহাব মোতাবেক ভাঙ্গে না এবং তারা বিবাহ সম্পন্ন করে এখন স্বামীর মাযহাবে বিবাহ টিকে থাকবে কিন্তু স্ত্রী মাযহাবে বিবাহ টিকে না এমন অবস্থায় যদি তারা সংসার চালিয়ে যায় এবং পরবর্তীতে কয়েক বছর পর স্ত্রী যদি স্বামীর মাযহাব গ্রহণ করে সাফেয়ী মাযহাব হয়ে যায় তাহলে তাদের বিবাহের হুকুম কি তাদের বিবাহটা কি এখন ঠিক থাকবে? তবে স্ত্রী তার মাযহাব পরিত্যাগ করেছে এই কারণে নয় বরং তার স্বামী তাকে বুঝিয়েছে যে ওই মাযহাব টি বেশি ভালো কোরআন সুন্নাহর বেশি নিকটবর্তী এর পরে স্বামীর কথা শুনে সে তার মাযহাবকে পরিবর্তন করে ২। যদি কোন পুরুষ বিবাহের পূর্বে একথা বলে যদি আমি বিবাহ করি তাহলে আমার স্ত্রী ,,,,,,,, এবং সে একটু দেরি না করে আবার এ কথা বলে যদি এই কথাটা কোন পুরুষ বলে তাহলে সে বিবাহ করলে তার স্ত্রী কি ,,,,,,, হবে অর্থাৎ সেটাকে প্রশ্নবোধক বাক্যে পরিণত করেন তবে যখন কথা বলা শুরু করেছিল তার নিয়ত ছিল শুধু ঐ কথাটিই বলার এবং সে মনে করেছিল এটা বললে কোন কিছু হবে না কিন্তু পরবর্তীতে সে মোত্তাসিলান একটুও বিলম্ব না করে এ কথা বলে যদি কেউ এজাতীয় কথাবার্তা বলে তাহলে তার হুকুম কি বা তার বউ থাকবে কিনা বিবাহের পরে অর্থাৎ এই কথাটাকে প্রশ্নবোধক বানিয়ে ফেলে সামনের একজন ব্যক্তিকে প্রশ্ন করে সে হুজুর অর্থাৎ শুধু ঐ কথাটি বলার উদ্দেশ্যে সে কথা শুরু করেছিল কিন্তু শুধু ওই কথাটি না বলে আরো কিছু কথা বলে সেটিকে প্রশ্নবোধক বানিয়ে ফেলে এখন আমার প্রশ্ন হল এটার দ্বারা কি কোন সমস্যা সে বিবাহ করলে তার স্ত্রী স্ত্রী হিসেবে থাকবে কিনা ?

সমাধান:

بسم الله الرحمن الرحيم، حامدا ومصليا ومسلما

১/ তালাক পতিত হওয়ার ক্ষেত্রে স্বামী স্ত্রীর মাযহাবের যদি ভিন্নতা থাকে এবং যে মাযহাব অনুযায়ী তাদের ঘর সংসার বৈধ হয় সে মাযহাবের বিজ্ঞ আলেমদের সালিশি বৈঠকের মাধ্যমে যদি বৈধতার রায় নিতে পারে তাহলে তাদের ঘর সংসার বৈধ হবে । এক্ষেত্রে হানাফী মাযহাবের আলেমদের কাছে জানতে চাইলে হানাফি মাযহাব অনুযায়ী ফায়সালা দেওয়া হবে। এতে স্বামী বা স্ত্রীর মাযহাবের বিবেচনা হবে না। বরং বিচারকের ফায়সালা বা সালিসি বৈঠকের রায়ের বিবেচনা হবে। ২ নং প্রশ্নের বিবরণ অনুযায়ী বাস্তবেই যদি কোন ব্যক্তি কথার প্রথম অংশের সাথে দ্বিতীয় অংশটি মুত্তাসিলান একই বাক্যের মত প্রশ্নবোধক আকারে বলে দেয় তাহলে তার বিয়ের পর কোন তালাক কার্যকর হবে না এবং তার স্ত্রী স্ত্রী হিসেবেই বহাল থাকবে। আর যদি কথার দ্বিতীয় অংশটি মুত্তাসিলান না বলে পৃথক বাক্যে বলে তাহলে বিবাহের সাথে সাথে এক তালাকে বায়েন কার্যকর হবে ।
 في رد المحتار (٤/٢٠٧) قال في البزازيه: وسئل: اي: شيخ الاسلام عن بكر بالغة شافعية زوجت نفسها من حنفي أو شافعي بلا رضا الأب هل يصح ؟ أجاب نعم ، وإن كان يعتقدان عدم الصحه؛ لانا نجيب بمذهبنا لا بمذهب الخصم لاعتقادنا انه خطأ يحتمل الصواب، وإن سئل كيف مذهب الشافعي فيه ؟ لا نجيب بمذهبه*  وفي رد المحتار (٤/٥٩٤) إن نكحت امراة أو إن نكحتك فأنت طالق وكذا كل امراة ويكفي معنى الشرط إلا في المعينة باسم او نسب او اشارة فلو قال المرأه التي أتزوجها طالق تطلق بتزوجها*  وفی فتاوی دارالعلوم زکریا (٤/٢٠٦) سؤال ایک شافعی لڑکی نے ولی کی اجازت کی بغیر حنفی مرد سے نکاح کیا شوافع کے نزدیک بغیر ولی کے نکاح نہیں ہو سکتا اور احناف کے نزدیک ہو جاتا ہے اب اس صورت میں شوہر بیبو کے ساتھ ہمبستری کر سکتا ہے یا نہیں اور شوہر کو اپنے اوپر قدرت دے سکتی ہے یا نہیں یاد رہے کہ جنوبی افریقہ کے مسلمان بعض حنفی ہیں اور بعض شافعی- جواب : اولا لڑکی کو چاہیے والدین کی رضامندی سے نکاح کرے لیکن اگر اس ممکن نہ ہو پھر اس مسئلہ کا حل بھی یہی ہے کہ لڑکی کسی حنفی قاضی یا جمعیت کے سامنے اپنا مقدمہ پیش کر دے پھر وہ حضرات نکاح کے درست ہونے کا فیصلہ کر دے کہ تو یہ نافذ ہو جائے گا*  وفي الهدايه (٢/٣٨٩) واذا قال لامرأته أنت طالق إن شاء الله تعالى متصلا لم يقع الطلاق لقوله عليه السلام من حلف بطلاق أو عتاق وقال إن شاء الله تعالى متصلا به لا حنث عليه*  وفي الفتاوى الهنديه (١/٥٢٠) اذا قال لامرأته أنت طالق إن شاء الله تعالى متصلا به لم يقع الطلاق*

অনলাইন ফাতওয়া || ফাতওয়া বিভাগ || আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ