মূল অংশে যান

আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ

ফাতওয়া নং: ৩৩৭ তারিখ: ০৫/০৩/২০২৬ ঈ.

বরাবর

ফাতওয়া বিভাগ

আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ, পোরশা ইসলামপুর, পোরশা, নওগাঁ, বাংলাদেশ।

বিষয়: তালাক বিষয়ক

প্রশ্নের বিবরণ:

১ম ঘটনা: আমার মা স্ত্রীকে অনেক বকাবকি করতেছিল, মা কে শান্ত করার জন্য, আর যেনো স্ত্রীকে না বকে তাই মনে মনে তালাক দিচ্ছিনা বলে মন স্থির করে, স্ত্রী কে যাও তোকে ছেড়ে দিলাম সংসার করবো নাহ বলি এবং সাথে সাথে স্ত্রী কে বলি যে আমি ছাড়িনি, মা কে শোনানোর জন্য বলেছি। মা তবুও না থামলে প্রথমে স্ত্রীর গলায় পরে নিজের গলায় আমি ছুরি ধরি নিজেই। তখনও আমি জানতাম না যে ছেড়ে দিলাম বললেই তালাক হতে পারে। ২য় ঘটনা: ৯ মাস পর অফিসে এক ভাই বলেছিল স্ত্রী কে কি ছেড়ে দিয়েছি কিনা। বললাম যে না না। ঐ দিন পরে বাসায় আমি শুধু একা শুয়ে নিজে নিজে চিন্তা করতে ছিলাম। স্ত্রী আমার মা এর সাথে কথা বলেনা তাই ভাবতে ভাবতে মুখে যাহ তোকে ছেড়ে দিয়েছি বলেই একদম সঙ্গে সঙ্গে লা হাওলা ওলা কুয়াতা ইল্লা বিল্লাহ না না ছাড়িনি বলি। আমার মনে এবারও তালাক এর কোন নিয়ত ছিল নাহ। আমি একাই ছিলাম। কি হতে পারে দয়া করে জানাবেন। দুটি ঘটনার একবারেও আমি জানতাম না এভাবে বললে তালাক হতে পারে। আল্লাহ আমাকে মাফ করুন।

সমাধান:

بسم الله الرحمن الرحيم، حامدا ومصليا ومسلما

তোরে ছেড়ে দিয়েছি’ছেড়ে দিলাম ’ শব্দটি বাংলাদেশে স্ত্রীর ক্ষেত্রে তালাকের জন্য ‘ছরীহ’ তথা স্পষ্ট শব্দ। এ শব্দে তালাক দেয়া আর তালাক শব্দে তালাক দেয়া একই কথা। আর ছরীহ তালাকের ক্ষেত্রে নিয়ত থাকা বা না থাকার কোন ধর্তব্যতা নেই। সর্বাবস্থায়ই তা স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে বললে তালাক হিসেবে পরিগণিত হয়। আর কথা কাটাকাটির সময় বলার দ্বারা একথা প্রমাণ করে যে, তালাক দেওয়ার উদ্দেশ্যেই কথাটি বলা হয়েছে এটা অস্বিকার করার কোন সুযোগ নেই। সুতরাং ‘তোরে ছেড়ে দিলাম’ এবং দ্বিতীয়বার যাহ তোকে ছেড়ে দিয়েছি ’ বলার দ্বারা আপনার স্ত্রীর উপর দুই তালাকে রযয়ী পতিত হয়ে গেছে। সুতরাং স্ত্রীকে এখন মৌখিক বা শারীরিকভাবে স্ত্রীসূলভ আচরণ দ্বারা ফিরিয়ে আনতে পারবেন। তবে মনে রাখতে হবে,আপনি আর এক তালাকের মালিক থাকবেন। যদি ভবিষ্যতে আর এক তালাকও প্রদান করে থাকেন, তাহলে উক্ত স্ত্রীআপনার উপর হারাম হয়ে যাবে।
 في رد المحتار (٤/٥٣٠)وقله سرحتك وهو “رها كردم” لأنه صار صريحا فى العرف…….. أن الصريح مالم يستعمل إلا فى الطلاق من أى لغة كانت الخ  وفي الفتاوى التا ترخانية(٤/٤٦٣) إذا قال الرجل لامرأته: بهشتم ترا أززنى فاعلم أن هذه اللفظة استعمالها أهل خراسان وأهل العراق فى الطلاق، وأنه صريحة عند أبى يوسف، كان الواقع بها رجعيا، ويقع بدون النية، وفى الخلاصة: وبه أخذ الفقيه أبو الليث وفى التفريد: وعليه والفتوى  وفي رد المحتار (٤/٥٢١)لو كرر لفظ الطلاق وقع الكل وإن نوى التأكيد دين  وفي الهداية(٢/٣٩٥)والرجعة أن يقول راجعتك، وأو راجعت أمرأتى….أو يطأها أو يقبلها، أو يلمسها بشهوة.انتهى، والله أعلم بالصواب

অনলাইন ফাতওয়া || ফাতওয়া বিভাগ || আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ