মূল অংশে যান

আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ

ফাতওয়া নং: ৩৪০ তারিখ: ০৭/০৪/২০২৬ ঈ.

বরাবর

ফাতওয়া বিভাগ

আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ, পোরশা ইসলামপুর, পোরশা, নওগাঁ, বাংলাদেশ।

বিষয়: তালাকের মাসালা

প্রশ্নের বিবরণ:

আসসালামু আলাইকুম, প্রিয় মুহতরাম আমার আসলে তালাকের ব্যাপারে কোন মাসালা জানা ছিল না কি ভাবে কি বললে তালাক হয়, বা তালাকের কিনায়া শব্দ ব্যবহার করলে নিয়ত থাকলে তালাক হয়ে যায় বা কোন শব্দ তালাকের কিনায়া এই গুলো কিছুই জানতাম না, তো আমার বিয়ের হইছে প্রায় সাত বছর চলে, এই সাত বছরে প্রায় সময় ঝগড়া ঝামেলা হলে রাগের মাথায় তালাকের অনেক কিনায়া শব্দ ব্যবহার করছি, যেমন তুই ঘর থেকে বের হয়, এক্ষুনি ঘর থেকে বের হবি, তোর সাথে আমি সংসার করব না, তরে ছাইড়া দেম, তরে ভালো লাগে না, তোর সাথে সংসার করব না, তুই চলে যা,ভালো না লাগলে তুই চলে যেতে পারস, থাকলে ভালো করে থাক, নাইলে চলে যা,তোর কাউর সাথে সম্পর্ক থাকলে তুই চলে যেতে পারস,গেলে আগেই চলে যা,যত তাড়াতাড়ি চলে যাবি ততই ভালো আরো এই রকম হয় তো অনেক কথা বলেছি যা এখন মনে পরছে না। তো এই গুলো প্রায় সময় ঝগড়া ঝামেলা হলে বলতাম, তো আমি আগে জানতাম না এই গুলো তালাকের কিনায়া শব্দ বা এই গুলো বললে তালাকের নিয়ত থাকলে তালাক হয়ে যায়। তো এই গুলো বলার সময় আমারভকি নিয়ত ছিল এখন আসলে মনে নেই, যেহেতু বিষয়টা অনেক পুরানো তাই মনে করতে পারছি না কি নিয়তে কথা গুলো বলেছি। তো আমার প্রশ্ন হলে যদি আমি এই কথা গুলো তালাকের নিয়তে বলি আর এখন যেহেতু মনে করতে পারছি না কি নিয়তে বলেছি এই ক্ষেত্রে কি তালাক পতিত হবে আর হলে কত তালাক পতিত হবে আমি তো এই কথা প্রায় বলেছি।আর আমার যেহেতু নিয়তের ব্যাপারে সন্দেহ আছে এই ক্ষেত্রে তালাক কি পতিত হবে আশা করি সঠিক পরামর্শ দিয়ে সাহায্য করবেন। ২/ আজকে প্রায় দুই বছর আগে আমাদের ঝগড়া হয়, রমজান মাসে আমাদের মাঝে পারিবারিক ভাবে ঝামেলা হয়, তখন আমি প্রবাসে ছিলাম, আমি বলি তরে তালাক দেম, ছাইড়া দেম, তরে নিয়া খামু না,।তো সে বলে আমার সংসার করবে না আমার ভাত খাইবে না তো আমি বলি আমার সংসার না করলে তুই আমার বাড়ি থেকে বের হয়ে যা,এক্ষনি আমার বাড়ি থেকে বের হবি, তোর আমার বাড়িতে থাকার দরকার নাই, তো বলে ঠিক আছে আমাকে ডিভোর্স দিয়া দেয় তো আমি বলি তুই চলে যা গেলে কাগজ পাঠাইয়া দেম, বা তুই ডিভোর্স দিয়া চলে যায়, তুই যাইয়া কাগজ পাঠাইয়া দিস আমি সাইন করে দেম। তুই যাইয়া আমারে কাগজ পাঠাইয়া দিস, আমি এখন প্রবাসে আছি তরে কেমনে ডিভোর্স দিব।তো আমার মারে বলি তার সাথে সংসার করতাম, তুমি তারে এক্ষুনি ঘর থেকে বের করে দাও,তাইরে আমি ছাইড়া দেম বা তালাক দেম এই রকম কিছু বলি।তার পর বলে আমারে ছেড়ে দাও তো আমি ঠিক আছে ছেড়ে দিলাম বা দিয়া দিলাম এই রকম শব্দ একবার ব্যবহার করি, তো এই সব গুলো কথা একদিনে ঝগড়া সময় সবকিছু এক সাথে একটা পর একটা বলি। গত চার মাস আগে তালাকের ব্যাপারে বিভিন্ন মাসালা জানার পর এখন খালি সন্দেহ কাজ করে আমি যে এই কথা গুলো বলেছি এই গুলো বলার কারনে আমাদের মধ্যে কোন তালাক পতিত হল কিনা বা আমাদের সম্পর্ক একেবারে বিচ্ছেদ হয়ে গেলে কিনা খালি এজ চিন্তা মাথায় আসে। আমার প্রশ্ন এই গুলো বলার সময় তালাকের নিয়ত কি ছিল কিছুই মনে করতে পারছি না। একবার মনে হয় নিয়ত ছিল আরেক বার মনে হয় নিয়ত ছিল না, খালি একটা দ্বিধা দ্বন্ধ মনে কাজ করে। যেহেতু তালাকের নিয়তের ব্যাপারে সন্দেহ কাজ, আর ঠিক কি শব্দ কি ভাবে ব্যবহার করছি এই বিষয়ে সন্দেহ আছে এই ক্ষেত্রে কি তালাক পতিত হবে। আর হলেই বা কত তালাক পতিত হবে। ৩/ আমার খালি তালাকের ব্যাপারে সন্দেহ কাজ করে মনে হয় আমি অতীতে এমন কথা বলেছি যেই কথা বললে সম্পর্ক একে বারে বিচ্ছেদ হয়ে যায়। খালি এই সব চিন্তা মাথায় আসে, আমি যদি অতীতে এমন কথা বলে থাকি যেই কথা বললে তালাক হয়ে যায় আর এখন যেহেতু আমি সঠিক ভাবে মনে করতে পারছি না যে আসলে কি বলেছি এই ক্ষেত্রে কি তালাক পতিত হবে। ৪/ আমি সারাদিন খালি তালাকের ওয়াসার মধ্যে থাকি, মনে হয় আমাদের মাঝে একেবারে বিচ্ছেদ হয়ে গেছে এখন এক সাথে আছি এই জন্য গুন্নাহগার হতে হবে, খালি এই সব চিন্তা মাথায় আসে। মনে হয় আমি এমন কথা বলেছি যেই কথা বললে তালাক হয়ে যায় বা সম্পর্ক একেবারে বিচ্ছেদ হয়ে যায়, কিন্তু আসলে কি বলেছি এই সব কিছু মনে করতে পারছি না সঠিক ভাবে। মাঝে মাঝে মনে হয় এই সব সন্দেহ দূর করার জন্য ইসলামি ভাবে হালালা করে নতুন করে বিবাহ করলে মনে হয় এই সন্দেহ একেবারে দূর হয়ে যাবে। খালি এই চিন্তা মাথায় আসে। দয়া করে জানাবেন এই ক্ষেতে এখন আমার করনীয় কি। কি করলে এই এই চিন্তা থেকে মুক্তি পেতে পারি। ৫/ অতীতে যদি তালাক শব্দ ব্যবহার করে থাকি বা এমন কিছু বলেছি যেই কথা বললে তালাক হয় আর এখন যেহেতু আমার সঠিক ভাবে মনে নেই এই ক্ষেতে কি তালাক হবে।বা এখন আমার কি করনীয়। ৫/ আমার এই বননা অনুযায়ী কি আমাদের মধ্যে তালাক পতিত হয়েছে হলে মোট কত তালাক হয়েছে আর এখন আমার কি করনীয় আশা করি সঠিক পরামর্শ দিবেন। আর এখন যে আমরা এক সাথে সংসার করছি আমাদের কি এতে কোন গুনাহ হবে।

সমাধান:

بسم الله الرحمن الرحيم، حامدا ومصليا ومسلما

আপনার প্রথম বর্ণনা অনুযায়ী আপনার স্ত্রীর উপর কোন তালাক কার্যকর হয়নি। আপনাদের বৈবাহিক সম্পর্ক বৈধ আছে। কেননা কেনায়া শব্দে তালাক হওয়ার জন্য তালাকের নিয়ত থাকার বিষয়টা সুনিশ্চিত হতে হয় আপনি যেহেতু সুনিশ্চিত নন এবং পরিপূর্ণ মনে নেই তাই আপনার তালাক কার্যকর হয়নি। হাদীস শরীফে আছে, ইবনে আব্বাস রাযি: থেকে বর্ণিত,রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা আমার উম্মতের জন্য ভুল,ভুলে যাওয়া এবং যেগুলোতে তাদেরকে জোরপূর্বক বাধ্য করা হয়েছে সেগুলোর গুনাহের বোঝা উঠিয়ে দিয়েছেন।(ইবনে মাজা-১-১৪৭)। ২য় বর্ণনায় আপনার স্ত্রীকে "ছেড়ে দিলাম বা দিয়া দিলাম" বলার কারণে এক তালাকে রজয়ী পতিত হয়েছে। আপনি যদি ইদ্দতের মধ্যে স্ত্রীকে ফিরিয়ে নেন অথবা স্বামী স্ত্রী সুলভ আচরণ করে থাকেন তাহলে আপনাদের বৈবাহিক সম্পর্ক বহাল আছে। আর যদি ইদ্দতের মধ্যে স্ত্রীকে ফিরিয়ে না নেন এবং স্বামী স্ত্রী সুলভ কোনো আচরণ না করে থাকেন তাহলে আপনাদের বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে গেছে। সেক্ষেত্রে বৈধভাবে ঘর সংসার করতে চাইলে দুই জন উপযুক্ত সাক্ষীর উপস্থিতিতে নতুন করে মোহর ধার্য করে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে হবে। ৩,৪,৫ নং প্রশ্নের বিবরণ অনুযায়ী কোন তালাক কার্যকর হবে না। কেননা সন্দেহের ভিত্তিতে কোন তালাক কার্যকর হয় না। আর ভুলে যাওয়া বিষয়কে আল্লাহ তালা ক্ষমা করে দিয়েছেন,যা আগেই হাদীসে উল্লেখ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, আপনি একজন ওয়াসওয়াসার রোগী। আর ওয়াসওয়াসা হলো শয়তানের পক্ষ থেকে কুমন্ত্রণা। এর দ্বারা শয়তানের উদ্দেশ্য হচ্ছে ঈমানদারকে সর্বক্ষণ চিন্তা পেরেশানিতে আবদ্ধ রাখা। আর এর প্রতিকার হচ্ছে, সেদিকে একেবারেই ভ্রুক্ষেপ না করা এবং এধরনের চিন্তা ভাবনাকে সবসময় এড়িয়ে যাওয়া।
اخرج الإمام ابن ماجة في “سننه” عن ابن عباس رضي الله عن النبي صلى الله عليه وسلم إن الله وضع عن أمتي الخطا والنسيان وما استقر هوا عليه في “رد المحتار”(٤/٥٢٨) والكناية لا تطلق بها قضاء إلا بنية أودلالة الحال—نحو أخرجى واذهبي وقومي وفي “رد المحتار”(٤/٥٥١) كناية مثل اذهبي فيحتاج إلى النية فمن أين صار قرينة على إرادة الطلاق باذهبي مع أنه مذكوبعده-القرينة لابد أن تتقدم كما يعلم مما مرفي اعتدى ثلاثا— اذهبي وتزوجي لايقع الا بالنية وإن نوى فهي واحدةبائنة وفي “البحر الرائق” (٣/٥٢٦) أن من الكنايات عشرة لا يعتبر فيها دلالة الحال ولا تقع إلا بالنية—-اعربي اخرجي اذهبي قومي وفي “الفتاوى الهندية”(١/٤٤٣) أو قال لم يبق بيني وبينك نكاح يقع الطلاق إذنو وفي “بدائعالصنائع”(٣/١٩٩) عدم الشك من الزوج في الطلاق وهوشرط الحكم بوقوع الطلاق حتى لوشك فيه لايحكم بوقوعه وفي” الأشباه والنظائر”(١٩٦) منها شك هل طلق أم لا لم يقع وفی فتاوی “دار العلوم دیوبند”(٩/٣٧٨) جواب اگر نیت شوہر کے الفاظ مذکورہ سے طلاق بائن کی ہو تو طلاق بائنہ اس کی زوجہ پر واقع ہوگی ورنہ نہیں انتهى، والله أعلم بالصواب

অনলাইন ফাতওয়া || ফাতওয়া বিভাগ || আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ