মূল অংশে যান

আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ

ফাতওয়া নং: ৩৪৫ তারিখ: ০৩/০৪/২০২৬ ঈ.

বরাবর

ফাতওয়া বিভাগ

আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ, পোরশা ইসলামপুর, পোরশা, নওগাঁ, বাংলাদেশ।

বিষয়: কেনায়া শব্দ আর নিয়ত নিয়ে ভয় ওয়াস ওয়াসা

প্রশ্নের বিবরণ:

কোন একজন ব্যাক্তি দারা কিছু ঘটনা ঘটেছে ১ নং ঘটনাঃ সে একজন স্কুল টিচার সে বাচ্চাদের পরাচ্ছে এক দুই তিন।তার মনে হচ্ছে এইগুলোও কেনায়া শব্দ নাত? সে ভয় পাচ্ছে। ২ নং ঘটনাঃ সে কুরানের বিভিন্ন শব্দ সুর করে বলছে এখান থেকে একটা ওখান থেকে একটা। হঠাৎ সে মনে ভাবছে এই গুলো যদি কেনায়া শব্দ হয়,আর সেটা স্ত্রী কে উদ্দেশ্য করে বলি।তার পর অন্য কোন নিয়ত ছিল কিনা একটু পরে আর বলতে পারছে না।মন বলছে আর কিছু মনে আসে নি।আবার মন বলছে তার এই কথা দারা সংসার সে করছে এমনটা মনে হয়নি ত।কিন্ত সে তার স্ত্রী কে ভালবাসে।তাকে হারাতে চাই না।আর কুরানে শব্দ গুলো কি একটা ও মনে নাই।সেস এর টা মনে আছে তালামুন কি তাফালুন বলেছে তাছারা কিছু মনে নাই। ৩ নং ঘটনা স্ত্রী বলছে আপনি আপনার মেয়েকে জুতা পায়ে দিয়ে দেন না? সে বলছে দি দিই।ও একা একা পায়ে দেই।এই যে দি দিই বলছে এতে সমস্য হবে কি না। তার নিয়ত সাভাবিক ভাবে নাই। অজান্তে নিয়ত হয়নি ত এমন মনে হচ্ছে। এবার প্রস্ন।কেনায়া শব্দ কেও বল্ল তাহলে তার মনের ভিতর কেমন নিয়ত আসলে সেটা নিয়ত ধরা হবে? মানে কথাটা কি।যদি তার মনে হয় এই কথা দারা সব সে স করছি।বা সংসার সেস করছি এটা কি নিয়ত ধরা হবে? ৫ নং জোর করে যদি মনে খারাপ নিয়ত চলে আসে তাহলে তাকে নিয়ত ধরা হবে? সে চাই না নিয়ত করতে কিন্ত মনে নিয়ত ভেসে উঠে। আর মুখে সাভাবিক ভাবে কেনায়া সব্দ বলে তাহলে কি হবে?।আরেকেটা বিষয় জানার ছিল কেনায়া সব্দ দারা নিয়ত করলে নিয়ত হয়?মুখে কেনায়া সব্দ বলছে আর মনে কেনায়া শব্দ দারা নিয়ত করছে।তাহলে কি হবে? সরি শব্দ টা মনেই নাই।ওটা মনে আসেই নি

সমাধান:

بسم الله الرحمن الرحيم، حامدا ومصليا ومسلما

১,২,৩ নং প্রশ্নের বিবরণ অনুযায়ী তার স্ত্রীর উপর কোন তালাক কার্যকর হয়নি। তাদের বৈবাহিক সম্পর্ক বৈধ আছে। কেননা কেনায়া শব্দে তালাক হওয়ার জন্য তালাকের নিয়ত থাকা শর্ত । সে যেহেতু সুনিশ্চিত নয় এবং পরিপূর্ণ মনে নেই তাই তার তালাক কার্যকর হয় নি। হাদীস শরীফে আছে, ইবনে আব্বাস রাযি: থেকে বর্ণিত,রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা আমার উম্মতের জন্য ভুল,ভুলে যাওয়ার এবং যেগুলোতে তাদেরকে জোরপূর্বক বাধ্য করা হয়েছে সেগুলোর গুনাহের বোঝা উঠিয়ে দিয়েছেন। (ইবনে মাজাহ-১/১৪৭)। ৪নং প্রশ্নের উত্তর: যদি কেউ সংসার শেষ করা বা বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্ন করার নিয়ত করে এবং সে উদ্দেশ্যে কেনায়া শব্দ বলে তাহলে তালাক কার্যকর হবে।তবে কেনায়া শব্দ আগে বলার পর তালাকের নিয়ত করলে ঐ নিয়ত কার্যকর হবে না। । ৫ম প্রশ্নের উত্তর: জোর করে যদি মনে খারাপ নিয়ত চলে আসে বা মনে ভেসে উঠে তাহলে ঐ নিয়ত ধর্তব্য হবে না। জেনে রাখা উচিত যে, ওয়াসওয়াসা হলো শয়তানের পক্ষ থেকে কুমন্ত্রণা। এর দ্বারা শয়তানের উদ্দেশ্য হচ্ছে, ঈমানদারকে সর্বক্ষণ চিন্তা পেরেশানিতে আবদ্ধ রাখা। এর প্রতিকার হচ্ছে সেদিকে একেবারেই ভ্রুক্ষেপ না করা, বেশি বেশি আল্লাহর জিকির করা, তাওবা ইস্তেগফার করা, গুনাহের কাজ থেকে নিজেকে বিরত রাখা, এবং নিম্নে বর্ণিত দোয়াগুলো বেশি বেশি পড়া। ١) اعوذ بالله من الشيطان الرجيم ٢) رب اعوذ بك من همزات الشياطين واعوذ بك رب ان يحضرون ( سوره المؤمنون ٩٨ -٩٧ ٣) امنت بالله ورسوله
عن النبي صلى الله عليه وسلم إن الله وضع عن أمتي الخطا والنسيان وما استقر هوا عليه في “رد المحتار”(٤/٥٢٨) والكناية لا تطلق بها قضاء إلا بنية أودلالة الحال—نحو أخرجى واذهبي وقومي وفي “رد المحتار”(٤/٥٥١) كناية مثل اذهبي فيحتاج إلى النية فمن أين صار قرينة على إرادة الطلاق باذهبي مع أنه مذكوبعده-القرينة لابد أن تتقدم كما يعلم مما مرفي اعتدى ثلاثا— اذهبي وتزوجي لايقع الا بالنية وإن نوى فهي واحدةبائنة وفي “البحر الرائق” (٣/٥٢٦) أن من الكنايات عشرة لا يعتبر فيها دلالة الحال ولا تقع إلا بالنية—-اعربي اخرجي اذهبي قوم وفي “الفتاوى الهندية”(١/٤٤٣) أو قال لم يبق بيني وبينك نكاح يقع الطلاق إذنو۞ وفي “بدائعالصنائع”(٣/١٩٩) عدم الشك من الزوج في الطلاق وهوشرط الحكم بوقوع الطلاق حتى لوشك فيه لايحكم بوقوعه وفي” الأشباه والنظائر”(١٩٦) منها شك هل طلق أم لا لم يق وفی فتاوی “دار العلوم دیوبند” (٩/٣٧٨) جواب اگر نیت شوہر کے الفاظ مذکورہ سے طلاق بائن کی ہو تو طلاق بائنہ اس کی زوجہ پر واقع ہوگی ورنہ نہیں انتهى، والله أعلم بالصواب

অনলাইন ফাতওয়া || ফাতওয়া বিভাগ || আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ