মূল অংশে যান

আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ

ফাতওয়া নং: ৩৫৭ তারিখ: ১১/০৪/২০২৬ ঈ.

বরাবর

ফাতওয়া বিভাগ

আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ, পোরশা ইসলামপুর, পোরশা, নওগাঁ, বাংলাদেশ।

বিষয়: ১ সাথে ৩ তালাক

প্রশ্নের বিবরণ:

আমরা বিয়ে করেছি ৮ বছর চলছে ৬ বছর এর একটা মেয়ে আছে।সংসার অনেক সুন্দর চলছিলো কেউ কেউ আমাদের সমপর্ক দেখে খুশি হতো কেউ হিংসা ও করতো।মাঝে মধ্যে জালে জালে জগরা হতো হটাত অনেক বড় জগড়া হতো সবাই আমার বউ কে দুশতে শুরু করলো পরে আমার বউ এক দিন আত্তহত্যা করতে গেছিলো তার ২/৩ দিন পরে আমি আমার নিজের বাড়ি রেখে ভাড়া বাসা নিয়া থাকি। মাঝে মাঝে আমাদের ২ জন এর বনি বনা নিয়া জগড়া শুরু হয়ে গেলো মাঝে মাঝে ই জগড়া হতো আর বলতো সে আমার সংসার করবে না হটাত একদিন চলে যাবে।তো হটাত তাই হলো আমাদের কে রেখে চলে গেলো গিয়া আমাকে ডিবোর্স দিছে। আমি আমার সন্তান টার জন্য অনেক রিকোস্ট করছি যে যা হইছে হইছে চলে আসো সে বলে আর আসবে না।ও চলে গেছে তো গেছে শুধু কিছু কাপর ছাড়া আর কিছু নেই নাই।আমার সন্দেহ হলো কেউ কি কালা জাদু করছে নাকি।আমি এর ভিতর ২ ৩ জন হুজুর কবিরাজ এর কাছে গেছি তারা বলছে আমাদের বাড়ির কেউ কালাজাদু করছে ৩ জন ই প্রায় একি রকম কথা বলছে একজন বলছে তাবিজ করছে আমাকে তাবিজ বের করে ও দিছে আল্লাহ ভালো যানে।আমার বউ এর অনেক রাগ।হটাত মোবাইলে কথা বলতাছি বউ আমাকে বল্ল নতুন কইরা সব শুরু করবো আপনি আমাকে মুখে তালাক দেন পরে লাগলে ১ টা কাবিন এ নতুন কইরা বিয়া করবো। আরো বলছে আমার মনে সন্দেহ লাগতাছে আমাদের সমপর্ক নিয়া আমি ডিবোর্স দিছি আপনি ও মুখে তালাক দেন পরে নতুন কইরা আবার বিয়া করবো। আমাকে অনেক চাপতাছে যে বলবেন নাকি না কইলে ফোন রাখেন আর আমাকে ফোন দিবেন না। আমি পরে বলছি যে দেখো আমি কিন্তু তালাক সমপর্কে তেমন কিছু যানি না আমাকে কথা দেও সব নতুন কইরা ঠিক করবা। পরে সে বল্ল রাস্তা তো কোন না কোন আছে যদি থাকে তাইলে নতুন কইরা বিয়া করবো। কথা দিলাম।পরে মুখে আমার কাছ থেকে ৩ তালাক নিছে। এখন আমাদের কি সমপর্ক আছে নাকি বিচ্ছেদ হয়ে গেছে।কালা যাদুর চিকিৎসা করছি সবে বরাত এর পরের দিন তার ২ দিন পর থেকে ও পরিবর্তন হইতে শুরু করলো এখন আমরা সংসার করতে চাই আমিও নিতে চাই কিন্ত ওই ৩ তালাক আমার কাছ থেকে নিছে ওইটা কি ৩ তালাক হইছে নাকি হয় নাই এ জন্য আটকে আছে ওর মনে সন্দেহ আমাদের সমপর্ক টা কি হারাম নাকি হলাল হবে।।কিন্তু ওএখন বুজতে পারতে ছে যে ও যা যা করছে অনেক কিছুই মনে নেই আমার কাছে তালাক চাওয়ার সময় আমাকে অনেক বুজিয়ে চাপ দিয়ে বুকা বানিয়ে তালাক নিছে তার নাকি কিছুই মনে নেই। এখন আমার কথা হচ্ছে কালা জাদু বা কুফুরি কারনে আমাদের এতো কিছু হইছে ওর চিকিৎসা চলোমান আছে এখন আমরা নতুন করে সংসার করতে চাই সংসার কি করতে পারবো।আর যাদের কাছে গেছি তারা সবাই বলছে আমাদের উপর বিচ্ছেদ এর যাদু করা হইছে।দয়া করে সঠিক পরামর্স দিবেন আমরা সংসার করতে চাই। আমার একটা মেয়ে আছে।আর একটা সত্য কথা তালাক দেওয়া বা নেওয়ার আগে ২ জন ই তালাক সমপর্কে তেমন কোন দারনা ছিলো না এখন দেখতেছি তালাক কতো কঠিন জিনিস তালাক কোন খেলনা না।আমি না যেনে না বুঝে ভুল করে ফেলছি যদি যানতাম তালাক এতো কঠিন জিনিস তাইলে আমি জিবনে ও দিতাম না। আর আমার বউ বলছে সব ঠিক করবে আমি সব ঠিক করার জন্য না বুঝে চাপে পরে তালাক বলে দিছি কিন্তু আমি মন থেকে তালাক দেই নাই। আমি বলে পরে বেক্কল হয়ে গেছি কিযে করলাম আল্লাহ যানে পরে এখনো অনেক তওবা করতেছি আল্লাহ যানে সমপর্ক আছে নাকি নাই এখন আপনারা বলতে পারবেন।দয়া করে সঠিক একটা সিদ্ধান্ত দিবেন।আমি কিভাবে কি হইছে সব বিস্তারিত বল্লাম।

সমাধান:

بسم الله الرحمن الرحيم، حامدا ومصليا ومسلما

প্রশ্নোক্ত বিবরণ যদি সত্য হয়ে থাকে তাহলে ইসলামী শরীয়ত ও চার মাযহাবের ঐক্যমত অনুসারে আপনার স্ত্রীর উপর তিন তালাক কার্যকর হয়েছে এবং আপনাদের বৈবাহিক সম্পর্ক সম্পূর্ণরূপে ছিন্ন হয়ে গেছে। এখন আপনার জন্য ঐ স্ত্রীর সাথে স্বাভাবিকভাবে ঘর-সংসার করা বৈধ হবে না। সুতরাং আপনাকে আপনার স্ত্রীর থেকে সম্পূর্ণরুপে পৃথক হয়ে যেতে হবে। তবে আপনারা যদি পুনরায় ঘর- সংসার করতে চান তাহলে আপনার স্ত্রীকে আপনার তালাকের ইদ্দত পালন করার পর অর্থাৎ ঋতুমতী হলে তিনটি ঋতু আর গর্ভবতী হলে সন্তান প্রসব হওয়ার পর স্বেচ্ছায় অন্যত্র বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে হবে। দ্বিতীয় স্বামী সহবাস করার পর যদি কোন কারণে তালাক দেয় বা দ্বিতীয় স্বামী মারা যায় তাহলে দ্বিতীয় স্বামীর ইদ্দত অতিবাহিত হওয়ার পর আপনারা রাজি থাকলে নতুনভাবে দু‘জন সাক্ষীর উপস্থিতিতে মোহর ধার্য করে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে ঘর-সংসার করতে পারবেন। উল্লেখ্য, শরীয়তের দৃষ্টিতে সাধারণ অবস্থায় তালাক খুবই অপছন্দনীয় ও গর্হিত কাজ। তাই এ ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। অতি প্রয়োজন ছাড়া তা প্রয়োগ করা কিছুতেই বাঞ্ছনীয় নয়। যদি কখনো তালাক দিতেই হয় তাহলে পরামর্শ অনুযায়ী এক তালাকের বেশি দেওয়া উচিত নয়। তাও শান্ত পরিবেশে, রাগের পরিবেশে নয়।
الإحالة الشرعية على المطلوب-  قوله تعالي في"سورةالبقرة"(٢٣٠)فإن طلقها فلا تحل له من بعد حتى تنكح زوجا غيره ۞  أخرج الإمام البخاري في " الصحيح"(٥٠٦٦) و قال الليث عن نافع كان ابن عمر رضي الله عنهما إذا سئل عمن طلق ثلاثا قال لو طلقت مرة أو مرتين فإن النبي عليه السلام أمرني بهذا فإن طلقها ثلاثا حرمت حتى تنكح زوجا غيره ۞  وفي"الهداية"(٢/٣٩٩)إن كان الطلاق ثلاثا في الحرة أوثنتين في الأمة لم تحل له حتي تنكح زوجا غيره نكاحا صحيحا ويدخل بها ثم يطلقها أو يموت عنها۞  وفي"التاتارخانية"(٤/٤٢٩)رجل،قال لامرأته أنت طالق أنت طالق أنت طالق وقال عنيت بلأولى الطلاق والثانية والثالثة إفهامها صدق ديانة وفي القضاء طلقت ثلاثا  وفي"الهندية"(١/٣٥٥) إن كان الطلاق ثلاثا في الحرة أوثنتين في الأمة لم تحل له حتي تنكح زوجا غيره نكاحا صحيحا ويدخل بها ثم يطلقها أو يموت عنها  وفي"إمداد السائلين"(٤/٤٠) تین طلاقیں خواہ ایک جملے میں دے یا الگ الگ جملوں میں ، تینوں واقع ہو جاتی ہیں ، چاروں اماموں کا یہی مذہب ہے، جس نے اس کے خلاف فتاوی دیا ہے سخت حرام مرتکب ہوا ہے ، اور جو لوگ اس نکاح میں یہ جانتے ہوئے شریک ہوئے وہ بھی گناہگار ہوئے ، سب توبہ استغفار کریں.----انتهي و الله تعالي اعلم بالصواب

অনলাইন ফাতওয়া || ফাতওয়া বিভাগ || আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ