আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ
বরাবর
ফাতওয়া বিভাগ
আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ, পোরশা ইসলামপুর, পোরশা, নওগাঁ, বাংলাদেশ।
বিষয়: মসজিদের জমি এওয়াজ বদলনামা রেজিস্ট্রি করে ঐ জমিতে বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করা যাবে কি?
প্রশ্নের বিবরণ:
আসসালামু আলাইকুম মুহতারাম। আমাদের গ্রামের জুমার মসজিদ নির্মাণ এবং মসজিদের উন্নয়নের জন্য আমার বাবা ও চাচারা সম্মিলিত ভাবে ১০ কাঠা জমি দান করেন ১৯৭৯ সালে। তখনকার গ্রামের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ/কমিটি প্রায় ৩ কাঠা জমি মসজিদ নির্মানের জন্য আমাদের বসত বাড়ির উঠানের একপাশে মসজিদের জন্য রাখেন এবং অবশিষ্ট ৭ কাঠা জমি মাঠে নেন (একই দাগে মাঠের মধ্যে ফসলি জমি)। সে অনুযায়ী তখন গ্রামবাসি ৩ কাঠা মধ্যে কিছু অংশে মাটির দেয়াল তুলে মসজিদ নির্মাণ করেন এবং অবশিষ্ট ৭ কাঠা জমির ফসল বিক্রি করে মসজিদের ফান্ডে জমা দেয়ার কথা হয়েছিল। এভাবেই চলে আসছে বছরের পর বছর ধরে কোন সমস্যা নাই। স্বাভাবিকভাবেই পারিবারিক প্রয়োজনে আমার বাবা-চাচারা বসতি বৃদ্ধি করেছে মসজিদের সীমানার নিকট পর্যন্ত বাড়ি-ঘর নির্মাণ করা হয়েছে কোন দিন কেউ কিছু বলেনি বা নিষেধ করেনি। ১৯৯৮ সালের মাঝামাঝির দিকে গ্রামবাসী গ্রামের জনবল বৃদ্ধি পাওয়ার কারনে মসজিদ বড় ও পাকা করার সিদ্ধান্ত নেয়। এমতাবস্থায় বর্তমান কমিটি/গ্রামবাসী মসজিদের সাথেই একজায়গায় ১০ কাঠা জমি দাবি করে যেহেতু জমির দাগ একটাই। তখন আমার বাবা-চাচারা বলেন যে এতদিন থেকে কেউ কোন কথা বলেন নি, আমরা বাড়িঘর করেছি, প্রত্যেক বছরে জমির ফসল নিয়ে আসলেন, আমরা ফসল দিয়ে আসলাম আমরা এখন বাড়িঘর ভাংব কিভাবে? আপনারা একজায়গায় জমি নিলে আগেই বলতেন। তাছাড়া সবার সম্মতিতেই মাঠের জমি নিয়েছেন। আমাদেরকে কেন একজায়গায় জমি দিতে হবে? এ নিয়ে সালিসি হয়েছে হওয়ার পরে আমরা মসজিদের উত্তর পাশের জমির মালিকের নিকট থেকে ২ শতক জমি ক্রয় করে দিয়েছি এবং আমাদের বাড়িতে ঢুকার রাস্তা রেখে যতটুকু দেয়া গেছে মসজিদকে দেয়া হয়েছে তারপর আধাপাকা বিল্ডিং মসজিদ নির্মান করা হয়। এখন প্রায় ৮ শতাংশ জমিসহ বাউন্ডারি ওয়াল করা রয়েছে। আমার বাবা-চাচারাও পাকা বাড়িঘর নির্মাণ করেছে যার যার বাটওয়ার করে। পরবর্তীতে ২০১২ সালে এক গ্রাম্য মাতবরের উসকানিতে আবার একজায়গায় ১০ কাঠা জমি দাবি করা হয়। আমাদেরকে দোষারোপ করে যে আমরা জমি দিতে চেয়ে এখন চিচ্ছিনা এবং উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যানকে (মিজানুর রহমান মাস্টার) সালিসি করার জন্য গ্রামবাসী ডেকে আনেন। তিনি জমির দলিল এবং সরজমিনে সবকিছু দেখে ও গ্রামের অন্যান্যদের সাথে পরামর্শ করে বুঝতে পারেন এবিষয়ে সবারই কম/বেশি ভুল আছে। তাই তিনি আমার বাবাকে বলেন যে, যেহেতু মসজিদের বিষয় আপনি মসজিদের পূর্বে রাস্তার পূর্ব পাশের জমিটা যেহেতু আপনার উক্ত জমি হতে অবশিষ্ট মসজিদের ফসলি জমির বদলে দিয়ে দেন।(যদিও দাগ আলাদা) তাহলে মসজিদের জমিটা একজায়গায় হয়েগেল গ্রামের মানুষের চাহিদাও পুরা হলো। আমার বাবা-চাচরা এ ফয়সালা মেনে নিয়েছিলেন। বর্তমানে ঐ জমিতে মসজিদের টয়লেট ও প্রশাবখানা তৈরি করেছে গ্রামের মানুষ। ২০২৫ সালের শেষের দিকে মসজিদ ফাউন্ডেশন দিয়ে করার জন্য আলোচনা হয়। তখন আবার সম্পূর্ণ ১০ কাঠাই মসজিদের জন্য রাস্তার পূর্বের জমির সাথে এওয়াজ বদল করে নিতে চাচ্ছে গ্রামবাসী। উল্লেখ্য এই জায়গা আমারা ভাইদের বাটোয়ারা অনুযায়ী আমার বাড়ি করার জন্য নির্ধারিত রয়েছে। মসজিদের সাথে যদি এওয়াজ বদল করা হয় তাহলে আমি কি মসজিদের জায়গায় বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস করতে পারব? কুরআন- হাদিসের আলোকে সমাধান চাই। আল্লাহ সবাইকে হেফাজত করুন। আমিন।
সমাধান:
بسم الله الرحمن الرحيم، حامدا ومصليا ومسلما
অনলাইন ফাতওয়া || ফাতওয়া বিভাগ || আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ