মূল অংশে যান

আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ

ফাতওয়া নং: ৩৬৩ তারিখ: ১৪/০৪/২০২৬ ঈ.

বরাবর

ফাতওয়া বিভাগ

আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ, পোরশা ইসলামপুর, পোরশা, নওগাঁ, বাংলাদেশ।

বিষয়: vul boshoto talaq

প্রশ্নের বিবরণ:

আমি গত চার আগস্ট আমার স্ত্রী কে বিয়ে করি , এর কিছুদিন পর পর ই তার কোন এক বিষয় নিয়ে আমাদের মধ্যে অনেক ঝগরা সৃষ্টি হয় , আমি মানুষ হিসেবে একটু বেশিই আবেগি এবং বলা যায় আমার উত্তেজনা উন্মাদনার পর্যায়ে চলে যায় , সেদিন ঝামেলার সময় আমি ঘুমের ওষুধ খাওয়া সুরু করতে থাকি এবং এক পর্যায়ে অনেক গুলোই খেয়ে ফেলি , এবং হিতাহিত জ্ঞান শূন্য হয়ে পরি প্রাই , এবং আমার স্ত্রী কে এক তালাক বলি তার কয়েক মিনিট পর দুই তালাক বলি , তার পর তিন তালাক বলি , এবং একটু পর আমি ভুলেও যাই কি কি করেছি , কিন্তু যখন আমার বোধ আসে আমি অনেক কান্নাকাটি এবং তওবা পরি কারণ মন থেকে এটা আমি চাই না , , তার পর থেকে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য চেষ্টা করতে থাকি , তখন একটা হাদিস পাই যেখানে বলা হয় এক বৈঠকে তিন তালাক হয় না , , ঘটনার দিন থেকেই আমরা আলাদা হই না এবং সেভাবেই আমরা সংসার করতে থাকি , বলে রাখা ভালো আমার স্ত্রী এর বড় বোন নিজের মুখে সিকার করেছে যে সে আমাদের আলাকদা করার জন্য কোন হুজুরের মাধ্যমে চেস্টা করছে এবং অনেক টাকার উল্লেখ ও করেছে , , এভাবেই কয়েকমাস সংসার চলছিল, , আবার কোন এক ঘটনার যের ধরে আমার স্ত্রী এর অবাধ্যতার কারনে আমি তাকে মুখে বলি দুই তালাক , কারন পুর্বে হাদিস অনুযায়ী আমাদের এক তালাক হয়েছে, তখনও আমরা সংসার চালিয়ে যাই , যদিও এর জন্য আমি লজ্জিত কারন আমি নিজেকে ঠিক রাখতে পারি না, , হিতাহিত শূন্য হয়ে পরি , এখন গত কয়েকদিন আগে থেখেও সারাদিন আমাদের ভালো গেলেও রাতে অসুস্থ তা , ঝগরা এবং আমি পাগলের মতো আচরণ করতাম , , তাই আমি ঠিক করি এক রাত বাইরে থেকে পরদিন ওর কাছে গেলে দুরে থাকার কষ্টের জন্য মোহাব্বত বাড়বে , , আবার এসব কস্টের জন্য সেদিন রাতে আমি কয়েকটি ইয়াবা মাদক সেবন করি , ( আমি মাদক আসক্ত বা নিয়মিত মাদক সেবিও নই ) এবং তার সাথে আমায ফোনে কথা হযে থাকে সব ভালো যায় ভোরে বাসায় এসে দেখি গেটে তালা দেওয়া অন্য ভাড়াটিয়া ভুল তালা লাগিয়ে রেখেছে , এজন্য বাসায় ঢুকতে দেরি হয় , এবং আমার রাগ উঠে অনেক , তার পর আমার একটা কথা স্ত্রী এর না শোনার জন্য ওর উপর অনেক রাগ উঠে আমি সম্পূর্ণ হিতাহিত শূন্য হয় উঠি এবং উন্মাদের মতো তাকে আঘাত করি খারাপ কথা বলি , আমার মা ও আমায় আটকে রাখতে পারে নি , আমি নিজের মধ্যে ছিলাম না , , এভাবে অনেকক্ষন চলতে থাকলে আমি আট টি দুই মিলিগ্রাম এর ঘুমের ঔষধ সেবন করি এবং অসুস্থ হয়ে পরি সরির গরম হয়ে যায় এবং ঘাম ঝরে , এবং অচেতন হয়ে যাই , তখন আমার স্ত্রী আমায খারাপ অবস্থা দেখে আমার শরির মুছিয়ে দিয়ে সে নিজেও কিছু ঘুমের ওষুধ এবং ১২০ টা থাইরক্স খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে এবং বাসার মানুষেরা টের পেলে তাকে হাসপাতালে পাঠায় এবং আমাকেও উঠানো হয় আমি মাতালের মতো কোনো রকমে সেখানে পৌছে গিয়ে তার অবস্থা থেখে মুখে বলি তালাক , তখন আমার স্ত্রী অচেতন , এবং আমার কোন বিচার জ্ঞান কিছুই ছিলো না, মাদকের জন্য, এবং এত ঘুমের ওষুধ খেয়ে অচেতন অবস্থার খানিক্ষণ পরেই উঠে ওখানে যাওয়ার জন্য এর অনেকক্ষন পর পর্যন্ত আমি পাগলামো করি , তার জ্ঞান আসার পরও আমি তাকে অনেক খারাপ কথা বলি এবং আঘাত করি , , কিন্তু যখন বুঝতে পরি যে কি ঘটে গেছে , , দুজনেই ভেঙে পরি , , কারন আমরা কেউ ই এটা চাই না , , ৫ দিন চিকিৎসা শেষে আজ তাকে বাসায় এনেছি , , আল্লাহ ছাড়া ওর আর কেও নেই , জমিনে আমি ছাড়া ওর পরিবার এর সাথে যোগাযোগ করলেও কেউ ওকে দেখতে বা ওর কোন খোঁজ বা দায়িত্ব নেয় নি, , তার সাথে আগেও অনেক অবিচার করেছে , , সে আমার সাথেই থাকতে চায়। , আর তার আর কোন জায়গাও নেই যাওয়ার , , আমিও তাকে নিয়েই থাকতে চাই , , আমাদের যে শুধু ঝামেলা হয় তা না , , আমরা অনেক সুখি আলহামদুলিল্লাহ , কিন্তু ছোট জিনিস হটাৎ হটাৎ বড় হয়ে যায় , , এবং তার দেওয়া কিছু মানুষিক আঘাত আমাকে আগে থেকেই একটু উগ্র বা মানসিক বিকারগ্রস্ত করে ফেলেছে , , , আমি শুধু চাই আল্লাহ এর ফয়সালা যেন এই মেয়েটার পক্ষেই হয় , , আমাদের ভুলের জন্য যদি কোন প্রায়শ্চিত্ত থাকে তা করে বা তওবা মুক্তি পেতে চাই , , ও আর যাবে কোথায় আমাকে ছাড়া , , , আল্লাহ যেন আমাদের সম্পর্ক হালাল রাখে এবং ক্ষমা করেন ।

সমাধান:

بسم الله الرحمن الرحيم، حامدا ومصليا ومسلما

প্রশ্নোক্ত বিবরণ যদি সত্য হয়ে থাকে তাহলে ইসলামী শরীয়ত অনুসারে আপনার স্ত্রীর উপর তিন তালাক কার্যকর হয়েছে এবং আপনাদের বৈবাহিক সম্পর্ক সম্পূর্ণরূপে ছিন্ন হয়ে গেছে। এখন আপনার জন্য ঐ স্ত্রীর সাথে স্বাভাবিকভাবে ঘর-সংসার করা বৈধ হবে না। সুতরাং আপনাকে আপনার স্ত্রীর থেকে সম্পূর্ণরুপে পৃথক হয়ে যেতে হবে। তবে আপনারা যদি পুনরায় ঘর- সংসার করতে চান তাহলে আপনার স্ত্রীকে আপনার তালাকের ইদ্দত পালন করার পর অর্থাৎ ঋতুমতী হলে তিনটি ঋতু আর গর্ভবতী হলে সন্তান প্রসব হওয়ার পর স্বেচ্ছায় অন্যত্র বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে হবে। দ্বিতীয় স্বামী সহবাস করার পর যদি কোন কারণে তালাক দেয় বা দ্বিতীয় স্বামী মারা যায় তাহলে দ্বিতীয় স্বামীর ইদ্দত অতিবাহিত হওয়ার পর আপনারা রাজি থাকলে নতুনভাবে দু‘জন সাক্ষীর উপস্থিতিতে মোহর ধার্য করে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে ঘর-সংসার করতে পারবেন। উল্লেখ্য, শরীয়তের দৃষ্টিতে সাধারণ অবস্থায় তালাক খুবই অপছন্দনীয় ও গর্হিত কাজ। তাই এ ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। অতি প্রয়োজন ছাড়া তা প্রয়োগ করা কিছুতেই বাঞ্ছনীয় নয়। যদি কখনো তালাক দিতেই হয় তাহলে পরামর্শ অনুযায়ী এক তালাকের বেশি দেওয়া উচিত নয়। তাও শান্ত পরিবেশে, রাগের পরিবেশে নয়।
 قوله تعالي في"سورةالبقرة"(٢٣٠)فإن طلقها فلا تحل له من بعد حتى تنكح زوجا غيره ۞  أخرج الإمام البخاري في " الصحيح"(٥٠٦٦) و قال الليث عن نافع كان ابن عمر رضي الله عنهما إذا سئل عمن طلق ثلاثا قال لو طلقت مرة أو مرتين فإن النبي عليه السلام أمرني بهذا فإن طلقها ثلاثا حرمت حتى تنكح زوجا غيره ۞  وفي"الهداية"(٢/٣٩٩)إن كان الطلاق ثلاثا في الحرة أوثنتين في الأمة لم تحل له حتي تنكح زوجا غيره نكاحا صحيحا ويدخل بها ثم يطلقها أو يموت عنها۞  وفي"التاتارخانية"(٤/٤٢٩)رجل،قال لامرأته أنت طالق أنت طالق أنت طالق وقال عنيت بلأولى الطلاق والثانية والثالثة إفهامها صدق ديانة وفي القضاء طلقت ثلاثا  وفي"الهندية"(١/٣٥٥) إن كان الطلاق ثلاثا في الحرة أوثنتين في الأمة لم تحل له حتى تنكح زوجا غيره نكاحا صحيحا ويدخل بها ثم يطلقها أو يموت عنها۞  وفي"إمداد السائلين"(٤/٤٠) تین طلاقیں خواہ ایک جملے میں دے یا الگ الگ جملوں میں ، تینوں واقع ہو جاتی ہیں ، چاروں اماموں کا یہی مذہب ہے، جس نے اس کے خلاف فتاوی دیا ہے سخت حرام مرتکب ہوا ہے ، اور جو لوگ اس نکاح میں یہ جانتے ہوئے شریک ہوئے وہ بھی گناہگار ہوئے ، سب توبہ استغفار کریں.----انتهي و الله تعالي اعلم بالصواب---

অনলাইন ফাতওয়া || ফাতওয়া বিভাগ || আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ