মূল অংশে যান

আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ

ফাতওয়া নং: ৩৬৪ তারিখ: ১৬/০৩/২০২৬ ঈ.

বরাবর

ফাতওয়া বিভাগ

আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ, পোরশা ইসলামপুর, পোরশা, নওগাঁ, বাংলাদেশ।

বিষয়: স্ত্রী কর্তৃক তালাক

প্রশ্নের বিবরণ:

আমি ২০২৪ সালে ফেব্রুয়ারিতে বিয়ে করি। বিয়ের মজলিসে কাবিনের ১৮ নং কলাম নিয়ে কোনো আলোচনা হয় নি। ১৮ নং কলাম সম্পর্কে আমার কোনো ধারণা ছিলো না। কাজী সাহেব আমাকে জিজ্ঞেস না করেই নিজ থেকেই এই কলাম পূরণ করে দিয়েছেন। তিনি সেখানে লিখেছেন "হ্যাঁ করিয়াছে,দেশের প্রচলিত আইনের আইনের বিধান মোতাবেক।" আমার স্ত্রীর সাথেও এসব নিয়ে কখনো আলোচনা হয় নি। সে নিজেও এই কলাম সম্পর্কে অবগত ছিলো না। বিয়ের মজলিসে আমার বাবা উপস্থিত ছিলেন না অসুস্থতার জন্য। পরের দিন কাজী যখন আমার বাবার কাছ সাইন নেয়ার জন্য আসছিলেন তখন আমার বাবা বলেছেন "এটা কেটে দেন"। আমার শশুর তখন বললো " না ভাই সমস্যা হবে না"। আমি তখনও বুঝি নাই যে উনারা আসলে কোন বিষয় নিয়ে বা কলাম নিয়ে এই কথা বলেছেন। আমার বাবা আমার শশুরের পীড়াপীড়ি করে তড়িৎ গতিতে বিয়ের সিদ্ধান্তে নাখোশ ছিলেন। আমি তাই সমস্যা এড়ানোর জন্য বলছি " থাক আব্বা এটা সমস্যা নেই"। এখন আমার শশুর বলতেছে আমি নাকি তালাকের ক্ষমতা অর্পণ করেছি! যেই কলাম নিয়ে আমার ধারণা নেই, আমাকে অবগত করা হয় নি সেখানে কাজী নিজের ইচ্ছানুযায়ী সব লিখে সাইন করে নিলো, এখন সেই কলামের ভিত্তিতে আমার শশুর বাড়ির লোকেরা তার মেয়েকে দিয়ে ডিভোর্স লেটার পাঠিয়েছেন। ডিভোর্স এর মূল কারণ হলো আমার শশুর বিয়ের আগে আমার স্ত্রী সম্পর্কে যা যা বর্ননা দিয়েছিলেন সবই শতভাগ মিথ্যা ও বানোয়াট ছিলো। আমি যখন তার চালাকি ধরে ফেললাম তখন উনি, আমার শাশুড়ী ও স্ত্রী আমাকে মানসিক রোগী ট্যাগ দিয়েছে, আমাকে সন্দেহপ্রবন তোহমদ দিয়ে বললো উনারা মেয়ে দিবেন না। এরপর আমি উনাদেরকে পারিবারিক ভাবে বসার জন্য বলি। কিন্তু উনারা বসতে রাজি হননি। আমরা উলামায়ে কেরামদের দারস্থ হওয়ার প্রস্তাব দেই তাতেও আমার শশুর রাজি হন নি। শেষে উনারা বললেন উনারা দুয়া ইস্তেখারা করে দেখেছেন ডিভোর্স হলে ভালো হয় তাই উনারা ডিভোর্স লেটার পাঠিয়েছেন। তালাকনামায় যেখানে লিখা ছিলো "বিয়ের পর থেকেই বনিবনা না হওয়ায় নিরুপায় হয়ে নিজের নফসের উপর তালাকে তাফয়ীজ নিয়া উক্ত স্বামীর সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করিলাম।" উল্লেখ্য উনারা কোনো তালাক চান নি আমার কাছে। খোলা তালাকের কথা উনি প্রথমে বললেও পরে কাজীর সাথে পরামর্শ করে উনি তাফয়ীজ নিয়েছেন। আমার শশুর মাত্রাতিরিক্ত চালাক ও ধূর্ত। চালাকি করেছেন সেটা নাকি দোষ না কিন্তু আমি কেন উনার চালাকি ধরে ফেললাম সেটা নাকি সন্দেহ হয়ে গেছে! উনি তাবলীগের মুরুব্বি অথচ শরঈ বিধান মোতাবেক সমস্যা সমাধানে নারাজ। এখন আমার প্রশ্ন আমাকে না বুঝিয়ে, না বলে এভাবে কাবিনের কাজীর লেখায় কি আমার স্ত্রী তালাকের ক্ষমতা পায়? এভাবে কি তালাক হয়?

সমাধান:

بسم الله الرحمن الرحيم، حامدا ومصليا ومسلما

প্রশ্নোক্ত বিবরণ যদি সত্য হয় এবং বাস্তবেই যদি আপনি ১৮ নং ধারা সম্পর্কে না জেনেই কাবিন নামায় স্বাক্ষর করে থাকেন, তাহলে স্ত্রী এর কারণে তালাকের কোন অধিকার লাভ করেনি।ফলে সে কাজী অফিসে গিয়ে নিজের উপর তালাক গ্রহণ করার দ্বারা শরীয়ত অনুযায়ী তার উপর কোন তালাক কার্যকর হয়নি। সুতরাং স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক এখনো পূর্বের মতই বহাল আছে। শরীয়তের আলোকে আপনাদের স্বামী স্ত্রী হিসেবে ঘর-সংসার করতে কোন অসুবিধা নেই।
في"الدر المختار"(٤/٤١٩) ومحله المنكوحة وأهله زوج عاقل بالغ مستيقظ.--------- ** وفي"التاتارخانية"(٤/٥٣١) وكذلك كل كتاب لم يكتبه بخطه ولم يمله بنفسه لا يقع به الطلاق إذا لم يقر أنه كتابه.---------------------------------------------------------------------- ** وفي"المحيط البرهاني"(٤/٤٨٦) وكذلك كل كتاب لم يكتبه بخطه ولم يمله بنفسه لا يقع به الطلاق إذا لم يعلم أنه كتابه.---------------------------------------------------------------- ** وفي"الهندية" (١/٤٤٦) وكذلك كل كتاب لم يكتبه بخطه ولم يمله بنفسه لا يقع به الطلاق إذا لم يقر أنه كتابه.------------------------------------------------------------------------- ** وفي"فتاوي عثماني"(٢/٤٠٢) اگر تفویض سے مراد یہ ہے کہ اس نے عورت کو اپنے اوپر طلاق واقع کر نے کا اختیار دے دیا ہے تو معاملہ عورت کے ہاتھ میں ہے اگر وہ اپنے نفس پر طلاق واقع کر لے تو طلاق واقع ہو جائے گی ورنہ نہیںانتهى، والله أعلم بالصواب.

অনলাইন ফাতওয়া || ফাতওয়া বিভাগ || আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ