মূল অংশে যান

আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ

ফাতওয়া নং: ৩৬৮ তারিখ: ০৮/০৪/২০২৬ ঈ.

বরাবর

ফাতওয়া বিভাগ

আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ, পোরশা ইসলামপুর, পোরশা, নওগাঁ, বাংলাদেশ।

বিষয়: জ্বিন যাদুর প্রভাবের কারণে তালাক এর বিষয়

প্রশ্নের বিবরণ:

সম্মানিত মুফতি সাহেব, (স্ত্রীর বক্তব্য) আমার সাথে একদিন আমার স্বামীর ঝগড়া হয়। তারপর সে বলে তরে এক তালাক। এঘটনা হবার পর তাকে জিজ্ঞেস করলে, সে বলে সে নিজ ইচ্ছে তালাক দেই নাই। জ্বিন যাদুর প্রভাবের কারণে কাণ্ডজ্ঞানহীন হয়ে এরকম হয়েছে। তার কিছুদিন পর রাস্তায় আবার কথা কাটাকাটি লাগে। তখন আমার স্বামী আমাকে বলে তরে এক তালাক দুই তালাক। তখনি আমি তাকে বলি যে আপনি আমাকে দুই তালাক দিয়েছেন। সে বলে না আমি একটা দিয়েছি। তারপর এই তালাকের বিষয় নিয়ে আলোচনা করলে। সে আমাকে বলে আমি তালাক দেই নাই। কারণ আমার সাথে জ্বিন যাদুর সমস্যা আছে। এর কারণে এরকম ঘটনা হচ্ছে। সে বলে, সে নাকি নিজ ইচ্ছে তালাক দেই নাই, জ্বিন যাদুর প্রভাবের কারণে কাণ্ডজ্ঞানহীন হয়ে এরকম হচ্ছে। আর বলে আমি তালাক দেই নাই। আবার একদিন ঝগড়া লাগে, সে আবার বলে তরে এক তালাক। তারপর তারে আমি বলি যে আমাদের বিচ্ছেদ হয়ে গেছে। সে বলে না হয়নি। সে নিজ ইচ্ছে এসব করছে না। তার সাথে আলোচনা করলে। সে বারবার একথাই বলে যে, সে নাকি জ্বিন যাদুর প্রভাবের কারণে কাণ্ডজ্ঞানহীন হয়ে এসব ঘটনার স্বীকার হচ্ছে। আর আমার স্বামীর জ্বিন যাদুর সমস্যা আছে, সেটা আমি যানি। কারণ তাকে অনেকবার চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এবং চিকিৎসাও করায়। আর তালাকের ঘটনা ঘটার সময় সে কি হলতে ছিল সেটা আমি বলতে পারছি না। কারণ সে আমার সাথে অনেক রাগারাগি করতো। পরে বলতো তার কিছুই স্বরন নেই। সে কি করছে বা কি বলছে। সে নিজ ইচ্ছে করে নাই এটা বলতো।,,,,,,,,,,,,,,,(স্বামীর বক্তব্য) হুজুর আমি বেশ কয়েক মাস জ্বিন যাদুর দ্বারা সমস্যায় ছিলাম। এবং জ্ঞানহীন হয়ে পরতাম। সে সময় কি করেছি বা কি বলেছি আমার কিছুই যানা নেই। এখন আমার স্ত্রীর কথা আমি নাকি তাকে তিনদিন ঝগড়া করে তালাক দিয়েছি। কিন্তু এখানে যে তালাকের ঘটনা হয়েছে, সেটাও আমি আমার স্ত্রীর কাছ থেকে যানতে পারি। আমি যে তার সাথে রাগারাগি ঝগড়া করতাম সেটাও আমি আমার স্ত্রীর কাছ থেকে যানতে পারি সবসময়। আর যে কয়কমাস আমি জ্বিন যাদুর সমস্যায় ছিলাম। তখন আমি প্রায় কাণ্ডজ্ঞানহীন অজ্ঞান অবস্থায় থাকতাম। আর অনেক রাগান্বিত হয়ে থাকতাম। তখন আমি কাকে কি বলেছি বা কি করেছি। সেটা আমি নিজেও যানতাম না। আর সুস্থ হবার পর, আমি অসুস্থ অবস্থায় কি করেছি তা আমার কিছুই যানা নাই। এরকম অবস্থায় কি নিজের জ্ঞান না থাকা অবস্থায় তালাকের ঘটনা ঘটলে তালাক পতিত হয় কি না

সমাধান:

بسم الله الرحمن الرحيم، حامدا ومصليا ومسلما

প্রশ্নের বিবরণ অনুযায়ী স্ত্রীর বক্তব্যের পক্ষে যদি সাক্ষী প্রমাণ না থাকে এবং স্বামী যদি বাস্তবেই অসুস্থতার কারণে কাণ্ডজ্ঞানহীন হয়ে পড়ে এবং সুস্থ হওয়ার পরে পূর্বের কথা স্মরণ না থাকে তাহলে অসুস্থতার কারণে কাণ্ডজ্ঞানহীন অবস্থায় তালাক দেওয়ার দ্বারা তালাক কার্যকর হয়নি। স্বামী স্ত্রী পূর্বের ন্যায় ঘর সংসার করতে পারবে।
وفي" مصنف لإبن أبي شيبة"(٩/٥٤٦) عن عمر قال: سئل جابر عن رجل طلق امرأته وهو مجنون حين أخذ مجنون؟قال لا يجوز۞ أخرج الإمام إبن ماجه في سننه عن إبن عباس رضي الله عنه عن النبي صلى الله عليه وسلم إن الله وضع عن امة الخطا والنسيان وما استقر هوا عليه (١/١٤٧)۞ وفي "حاشية إبن عابدين"(٤/٤٣٧) إذلا يلزم من التحير وهو التردد في الأمر ذهاب العقل وسئل نظما في من طلق زوجته ثلاثا في مجلس القاضي وهو مغتاظ مدهوش فعجب نظما أيضا بأن الدهش من أقسام المجنون فلا يقع ۞ و فی"فتاوی قاسمیہ (۱۴/۳۷۳) جب بے ہوشی سے افاقہ کے بعد شوہر کھاتا ہے کہ مجھے کچھ خبور نہیں کہ کیا کہا ہے اور کسی کو کہا ہے اور وہ اسی پر قسم کھانے کو تیار ہے نیز اس کی پھوپھی بہین وغیرہ بھی اس کی بے ہوشی کی قائل ہیں تو اس بے ہوشی کی حالت میں بیوی کو طلاق نہیں پڑے گا۔ انتهى، والله أعلم بالصواب۞

অনলাইন ফাতওয়া || ফাতওয়া বিভাগ || আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ