মূল অংশে যান

আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ

ফাতওয়া নং: ৩৭৬ তারিখ: ১২/০৪/২০২৬ ঈ.

বরাবর

ফাতওয়া বিভাগ

আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ, পোরশা ইসলামপুর, পোরশা, নওগাঁ, বাংলাদেশ।

বিষয়: তালাক প্রসঙ্গ

প্রশ্নের বিবরণ:

প্রশ্ন:- জনৈক ব্যাক্তি সে তার স্ত্রীকে তার অনুপস্থিতিতে জনৈক ব্যাক্তির বাবা-মার সামনে মৌখিক ভাবে দুই তালাক দেয় এই ভাবে যে, তোমরা সাক্ষি থাকো যে, আমি অক দুই তালাক দিয়া দিনু , অক আমি তিন তালাক দিমুনা, কারণ ওর বাপ-মায় আমার মূল সমস্যা, ওর বাপ যেদিন মরবে ঐ দিন ওক আবার বিয়া করমু। এই কথা বলার সময় আমার মনে মনে দুই তালাকে বায়েন উদ্দেশ্য ছিল। এর পর আবার আনুমানিক ১০-১৫ দিন পর কোর্টের মাধ্যমে তিন তালাকের পেপার পাঠানো হয়। বিঃদ্রঃ মৌখিক ভাবে তালাক দেওয়ার ও ১৫দিন পূর্বে থেকে কোর্টের মাধ্যমে পেপার পাঠানো এবং তা সম্পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত মোটামুটি চার থেকে সারে চার মাস কোন রকম যোগাযোগ ছিল না। এখন আমি তাকে পুনরায় নিতে পারবো কিনা শরয়ী সমাধান চাই

সমাধান:

بسم الله الرحمن الرحيم، حامدا ومصليا ومسلما

সমাধান: প্রশ্নোক্ত বিবরণ অনুযায়ী তিন তালাকের নোটিশ প্রেরণের কারণে চার মাযহাবের ঐক্যমতে স্ত্রীর উপর তিন তালাক কার্যকর হয়ে গেছে।আপনাদের বৈবাহিক সম্পর্ক সম্পূর্ণরূপে ছিন্ন হয়ে গেছে। আপনারা একে অপরের জন্য হারাম হয়ে গেছেন। ঐ স্ত্রীকে নিয়ে আর স্বাভাবিকভাবে ঘর-সংসার করা বৈধ হবে না। তবে যদি আপনার স্ত্রী তালাকের ইদ্দত শেষ করার পর অর্থাৎ ঋতুমতী হলে তিনটি ঋতু, আর গর্ভবতী হলে সন্তান ভুমিষ্ঠ হওয়ার পর স্বেচ্ছায় অন্যত্র বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয় এবং দ্বিতীয় স্বামী সহবাস করার পর যদি কোন কারণে তালাক দেয় বা মারা যায় তাহলে তার ইদ্দত শেষ হওয়ার পর আপনারা পরস্পরে রাযি থাকলে নতুনভাবে দু'জন সাক্ষীর উপস্থিতিতে মোহর ধার্য করে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে ঘর-সংসার করতে পারবেন। উল্লেখ্য, শরীয়তের দৃষ্টিতে সাধারণ অবস্থায় তালাক খুবই অপছন্দনীয় ও গর্হীত কাজ। তাই এ ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। অতি প্রয়োজন ছাড়া তা প্রয়োগ করা কিছুতেই বাঞ্ছনীয় নয়। যদি কখনো তালাক দিতেই হয় তাহলে পরামর্শ অনুযায়ী এক তালাকের বেশি দেওয়া উচিত নয়। তাও শান্ত পরিবেশে, রাগের পরিবেশে নয়।
الإحالة الشرعية على المطلوب- قال الله تعالى في"سورة البقرة " (٢٣٠) فان طلقها فلا تحل له من بعد حتى تنكح زوجا غيره۞ وأخرج الإمام البخاري رح في" صحيحه"(٢/٧٩١) عن عائشة رضي الله تعالى عنها أن رجلا طلق امرأته ثلاثا فتزوجت فطلق فسئل النبي صلى الله عليه وسلم اتحل للاول قال لا حتى تذوق كما ذاق الأول۞ يعوأخرج الإمام "البخاري رح في"صحيحه" (٢/٧٩٢) قال الليث عن نافع كان ابن عمرإذا سئل عن طلق ثلاثا قال لو طلقت مرة او مرتين فإن النبي صلى الله عليه وسلم أمرني بهذا فإن طلقها ثلاثا حرمت حتى تنكح زوجا غيره۞ وفي"التاتارخانية" (٥/١٤٧) وإن كان الطلاق ثلاثا في الحرة أو ثنتين في الأمة لا تحل له حتى تنكح زوجا غيره نكاحا صحيحا ويدخل بها ثم يطلقها أو يموت عنها۞ وفي الهداية(٢/٣٥٩) الطلاق على ضربين صصريح وكناية فالصريح قوله أنت طالق ومطلقة وطلقتك فهذا يقع به الطلاق الرجعي لأن هذه الألفاظ تستعمل في الطلاق ولا تستعمل في غيره فكان صريحا وأنه قب الرجعة بالنص ولا يفتقر إلى النية لأنه صريح فيه لغلبة الاستعمال وكذا إذا نوى الإبانة..انتهى، والله أعلم بالصواب

অনলাইন ফাতওয়া || ফাতওয়া বিভাগ || আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ