আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ
ফাতওয়া নং: ৩৮৭
তারিখ: ১৫/০৪/২০২৬ ঈ.
বরাবর
ফাতওয়া বিভাগ
আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ, পোরশা ইসলামপুর, পোরশা, নওগাঁ, বাংলাদেশ।
বিষয়: তালাক সংক্রান্ত।
প্রশ্নের বিবরণ:
বিষয়: তালাক ও রুজু সংক্রান্ত মাসআলা জানার জন্য আবেদন আমি মোঃ সুজন আলী। আমার বৈবাহিক বিষয়ে একটি জটিল মাসআলা সম্পর্কে শরীয়তের সঠিক সমাধান জানতে চাই। ঘটনার বিবরণ নিচে দেওয়া হলো— ১। প্রায় ৬ মাস আগে আমি আমার স্ত্রীকে ১ তালাক প্রদান করি। ২। উক্ত তালাক দেওয়ার পর ইদ্দতের মধ্যে আমি আমার স্ত্রীর সাথে শারীরিক সম্পর্ক করি। ৩। এরপর কিছুদিন সংসার স্বাভাবিকভাবে চলতে থাকে। ৪। পরবর্তীতে আমাদের মধ্যে আবার ঝগড়া-বিবাদ হয়। ৫। ঝগড়ার এক পর্যায়ে আমার স্ত্রী বারবার আমাকে “তালাক দিতে” বলে চাপ দেয়। ৬। তখন আমি তাকে ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে (মন থেকে তালাক দেওয়ার ইচ্ছা ছাড়া) আবার ১ তালাক উচ্চারণ করি। ৭। বর্তমানে এখনো একসাথে আছি। আমার প্রশ্নসমূহ: ১। প্রথম তালাকের পর শারীরিক সম্পর্ক করার কারণে রুজু হয়েছে কি না? ২। দ্বিতীয়বার ভয় দেখানোর জন্য তালাক দেওয়া—এটি শরীয়তের দৃষ্টিতে গণ্য হবে কি না? ৩। বর্তমানে আমাদের বৈবাহিক অবস্থা কী (রুজু করা যাবে কি না)? ৪। ভবিষ্যতে আমাদের জন্য কী করণীয়? আমি শরীয়তের সঠিক বিধান জানতে আগ্রহী এবং সেই অনুযায়ী আমল করতে চাই। বর্তমানে ৭-৮ মাসের অধিক সময় আমার স্ত্রীর মাসিক বন্ধ আছে আবেদনকারী, মোঃ সুজন আলী
সমাধান:
بسم الله الرحمن الرحيم، حامدا ومصليا ومسلما
প্রশ্নোক্ত বিবরণ যদি সত্য হয়ে থাকে তাহলে ১, প্রথম তালাকের পর শারীরিক সম্পর্ক করার দ্বারা আপনার স্ত্রী রুজু হয়েছে। ২, শরীয়তের দৃষ্টিতে ভয় দেখানোর জন্য তালাক দিলেও তালাক কার্যকর হয়ে যায়, তাই আপনার স্ত্রীর উপর দ্বিতীয় তালাকটি কার্যকর হয়েছে।৩,৪, দ্বিতীয় তালাকের পর যদি স্ত্রীর সাথে শারীরিক সম্পর্ক অথবা এ ধরনের কোন আচরণ হয়ে থাকে তাহলে আবারও আপনার স্ত্রী রুজু হয়ে গেছে। স্বামী-স্ত্রী হিসেবে ঘর সংসর করতে পারবেন। আর যদি স্বামী-স্ত্রী সূলভ কোনো আচরণ না হয়ে থাকে তাহলে ইদ্দতের মধ্যেই আপনি আপনার স্ত্রীকে ফিরিয়ে নিতে পারবেন। আর ভবিষ্যতে আপনি আর মাত্র এক তালাকের মালিক থাকবেন। যদি কখনো আপনার স্ত্রীকে আর এক তালাক দিয়ে দেন তাহলে আপনার স্ত্রী আপনার জন্য সম্পূর্ণরূপে হারাম হয়ে যাবে। এজন্য খুবই সতর্ক থাকতে হবে।
قال الله تعالى:و بعولتهن احق بردهن في ذلك ان ارادوا اصلاحا ۞
أخرج الإمام الترمذي في جامعه: عن ابي هريره (رضي) قال. قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ثلاث جدهن جد وهزلهن جد: النكاح والطلاق والرجعة ۞
وفي تبيين الحقائق (٣/١٤٩) باب الرجعة...(وتصح إن لم يطلق ثلاثا ولو لم ترض براجعتك أو راجعت امرأتي و بما يوجب حرمة المصاهرة) كالوطء والقبلة واللمس والنظر إلى داخل الفرج بشهوه۞
وفي مجمع الأنهر(٢/١١) صريحه ما استعمل فيه خاصة ولا يحتاج إلى نية۞
وفي الهداية(٢/٣٩٤) وإذا طلق الرجل امراته تطليقةرجعية او تطلقتين فله ان يراجعها في عدتها رضيت بذلك أو لم ترض الرجعه ان يقول راجعتك أو راجعت امرأتي أو يطأ بها أو يقبلها أو يلمسها بشهوة أو ينظر الى فرجها بشهوة۞
وفي كتاب النوازل(٩/٢٧٩) جواب: اگر سوال میں ذکر کردہ واقعہ صحیح ہے تو چونکہ شوہر نے دو طلاق رجعی دینے کے بعد بیوی سے عدت کے اندر رجعت کر لی ہے لہذا یہ رجعت صحیح ہو گئی ہے وہ بدستور اس کی بیوی ہے، لیکن اگر ائندہ ایک طلاق بھی دے گا تو حرام ہو جائے گی۞انتهى، والله أعلم بالصواب۞
অনলাইন ফাতওয়া || ফাতওয়া বিভাগ || আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ