মূল অংশে যান

আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ

ফাতওয়া নং: ৩৯২ তারিখ: ০৩/০৫/২০২৬ ঈ.

বরাবর

ফাতওয়া বিভাগ

আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ, পোরশা ইসলামপুর, পোরশা, নওগাঁ, বাংলাদেশ।

বিষয়: বিয়ে ও তালাক

প্রশ্নের বিবরণ:

আমি শিউলি আক্তার , আমি আগে একজন পুরুষকে বিয়ে করি। পরে জানতে পারি তিনি ইসলামের বিশ্বাস মানেন না , আল্লাহ কে বিশ্বাস করেন না । আমি ৮ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে নিজে সিদ্ধান্ত নিয়ে তার সংসার থেকে আলাদা হয়ে আসি , যখন জানতে পারি নাস্তিক এর সাথে বিয়ে বৈধ থাকে না একজনের মাধ্যমে এই হাদিস জানি এবং নিজেও অনলাইন এ ঘেটে এই হাদিস পাই, আমাদের বিয়ের বয়স ১৩ বছর ছিল , এবং ১০ বছরের একটা মেয়ে ছিলো , এরপর প্রায় ৩০–৪০ দিন পর আমি আমার মেয়ের জন্য ফেরত যাই , এবং কিছুদিন একই ঘরে থাকি, তবে আমাদের মধ্যে কোনো শারীরিক সম্পর্ক (সহবাস) হয়নি। পরে আমি আবার সেখান থেকে সম্পূর্ণভাবে বের হয়ে আসি। কাজির মাধ্যমে কোন তালাক হয় নি , বা কোন আলেম এর মাধ্যমেও না , বা উনিও দেই নি ,আমি ঐ হাদিস জেনেই বের হয়ে আসি , তারপর আরেকজনকে ৪ আগস্ট ২০২৫ তারিখে বিয়ে করি। এখন জানতে চাই—আমার প্রথম বিয়ে শরিয়ত অনুযায়ী শেষ হয়েছিল কি না, এবং আমার দ্বিতীয় বিয়ে ইসলামী শরিয়তে বৈধ কি না।” আমার পরবর্তী স্বামী রাগের মাথায় আমায় তালাক দেয় , , এখন আমরা দুজনেই খুব অনুতপ্ত , , যদি বিয়ে শুদ্ধ না হয়ে থাকে তাহলে তালাক ও তো হওয়ার কথা না , , আমাদের এখন করনিয় কি , ,

সমাধান:

بسم الله الرحمن الرحيم، حامدا ومصليا ومسلما

প্রশ্নোক্ত বিবরণ অনুযায়ী আপনার স্বামী যেদিন মুরতাদ হয়েছে সেই দিনই আপনাদের বিবাহ ভেঙ্গে গেছে। কেননা, মুরতাদের সঙ্গে বিবাহ বহাল থাকে না। তবে যেদিন থেকে আপনি বিবাহ ভেঙ্গে যাওয়া এবং স্বামী হারাম হওয়ার বিষয়টি জানতে পেরেছেন সেদিন থেকে আপনার ইদ্দত শুরু হয়েছে। এরপর থেকে যদি দ্বিতীয় বিবাহ করার আগ পর্যন্ত ইদ্দত শেষ হয়ে যায় অর্থাৎ ঋতুমতী হলে তিনটি ঋতু অতিবাহিত হয়ে যায় তাহলে, আপনার দ্বিতীয় বিবাহটি সহীহ হয়েছে।এক্ষেত্রে আপনার দ্বিতীয় স্বামীর তালাক আপনার উপর কার্যকর হয়েছে। কেননা, রাগের মাথায় তালাক দিলেও তালাক কার্যকর হয়। উল্লেখ্য, আপনার দ্বিতীয় স্বামী যদি আপনাকে তিন তালাক দিয়ে থাকেন, তাহলে অন্যত্র বিবাহ করা ব্যতিত আপনি আপনার স্বামীর জন্য হালাল হবেন না। আর যদি এক বা দুই তালাকে রজয়ী দেন, তাহলে ইদ্দতের মধ্যেই মৌখিক ভাবে ফিরিয়ে নেওয়া বা স্বামী স্ত্রী সুলভ আচরণ করার দ্বারা আপনি আপনার স্বামীর জন্য বৈধ হবেন। আর যদি ইদ্দত অতিবাহিত হয়ে যায় তাহলে তা বায়েন তালাকে রূপান্তরিত হবে। সেক্ষেত্রে নতুন করে মোহর ধার্য করে দুইজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে হবে।
 قوله تعالى ( سورة البقرة – ٢٢١) و لا تنكحوا المشركات حتى يؤمن ، و لامة مؤمنة خير من مشركة و لو اعجبتكم  قوله تعالى ( سورة الممتحنة – ١٠) لا هن حل لهم و لا هم يحلون فهن  و أخرج الامام عبد الرزاق في مصنفه ( رقم الحديث- ١٢٦١٧) عن الحسن قال: اذا ارتد المرتد عن الاسلام فقد انقطع ما بينه و بين امرأته، فقال الثورى: و الرجل و المرأة سواء  و في الفتاوى التاتارخانية ( ٤/٢٦٨) اذا ارتد احد الزوجين وقعت الفرقة بينهما في الحال  و في حاشية ابن عابدين ( ٤/٣٦٢) ( و ارتداد احدهما ) اى الزوجين ( فسخ)  و في رد المحتار ( ٤/٤٣٨) و يقع طلاق كل زوج بالغ عاقل  و في رد المحتار ( ٤/٤٥٢) و يقع طلاق من غضب خلافا لابن القيم  و في رد المحتار (٥/٢٠٠) قوله ( بشبهة ) متعلق لقوله: ( وطئت) و ذلك كالموطوءة للزوج في العدة بعد الثلاث بنكاح - و كذا بدونه اذا قال: ظننت انها احل لي ، او بعد ما أبانها بالفظ الكناية، و تمامه في الفتح، و مفاده انه لو وطئها بعد الثلاث في العدة بلا نكاح عالما بحرمتها لا تجب عدة أخر لانه زنا ۞  و فی کتاب النوازل (١٠/١٤٢) اور اگر اپ کو یہ مسئلہ معلوم تھا کہ تین طلاق کے بعد میاں بیوی کا ساتھ رہنا جائز نہیں ہے، تو عدت گزر چکی اب نئی عدت کی ضرورت نہیں اور اگر مسئلہ کی لا علمی کی وجہ سے ساتھ رہتے رہے، تو جس دن سے علیحدگی کریں گے، اسی وقت سے از سر نو عدت گزارنی ہوگی  وفی فتاوی دار العلوم دیوبند ( ٧/٤٥٥) شوہر کے قادیانی ہونے کی صورت میں ہندہ سنیہ حنفیہ کا نکاح اس کے ساتھ صحیح نہیں ہوا، اور اگر شوہر بعد نکاح کے قادیانی ہو گیا تو نکاح باطل ہو گیا، پس اس صورت میں بعد عدت کے ہندہ دوسرا نکاح کرسکتی ہے  و فی کتاب النوازل ( ٩/٢٠٠) غصہ مین دی ہوئی طلاق بھی شرعا معتبر ہے، لہذا مسئولہ صورت میں بیوی پر طلاق واقع ہو چکی، اب اگر غصہ کی حالت میں تین طلاق دی ہیں، تو حلالہ شرعیہ و نکاح جدید کے دونوں کے درمیاں ازدواجی تعلق قائم نہیں ہو سکتا، اس سے پہلے مرد اور بیوی کا ایک ساتھ رہنا قطعا جائز نہیں۞انتهى، والله أعلم بالصواب...

অনলাইন ফাতওয়া || ফাতওয়া বিভাগ || আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ