মূল অংশে যান

আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ

ফাতওয়া নং: ৪০২ তারিখ: ০২/০৫/২০২৬ ঈ.

বরাবর

ফাতওয়া বিভাগ

আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ, পোরশা ইসলামপুর, পোরশা, নওগাঁ, বাংলাদেশ।

বিষয়: তালাকের বিষয়

প্রশ্নের বিবরণ:

আসসালামু আলাইকুম,, ‎হুজুর,, আজ থেকে দুই বছর আগে আমি তালাকের মাসালা পড়ার সময় ‎হঠাৎ আমার মনের ভিতরে ওয়াসওয়াসা আসে যে আমার স্ত্রী আমার বিয়ের পরে ,,,,, আমার তালাকের কোন নিয়ত উদ্দেশ্য কিছুই ছিল না হঠাৎ আমার মনে এই ধরনের বাক্য উদিত হয়। আমার স্মৃতিপটে তালাকের এই লাইন ভেসে ওঠার সময় অথবা মনে মনে বলার সময় ঠোঁট ও মুখ বন্ধ শুধু জিব্বা নড়েছিল । এরপর থেকে আমার ওয়াসওয়াসা আসে যে আমার তালাক হয়ে গেল কিনা?? আমি অনলাইনে অনেক ওয়েবসাইট থেকে আর্টিকেল পড়েছি সব মুফতি সাহেবগণ লিখেছেন মুখে উচ্চারণ ছাড়া শুধু জিহ্বা নড়লে তালাক হবে না।। ‎শুধুমাত্র আপনাদের ওয়েব সাইট যার নাম দেওয়া "দারুল হেদায়া,পঁরশা,নওগা এই ওয়েবসাইটে একটা আর্টিকেল লেখা আছে যে আর্টিকেল লিখেছেন মুফতি আলিম সাহেব। সেখানে লেখা আছে কোন কোন আলেম বলেছেন শুধু জিব্বা নড়লেও সতর্কতামূলক তালাক কার্যকর হয়ে যাবে। এই আর্টিকেল পড়ার পর থেকেই আমি অত্যন্ত পেরেশানির মধ্যে ডুবে আছি শুধু ওয়াসওয়াসা হচ্ছে আমার তালাক হয়ে গেল কিনা তাহলে কি আমি বিবাহ করতে পারব না ।। ‎ ‎হুজুর এখন আপনার কাছে আমার কয়েকটি প্রশ্ন,, ‎১,, মুখ ও ঠোট বন্ধ মনে মনে বলার সময় আওয়াজহীন শুধু জিহ্বা নড়লে কি তালাক হবে?? ‎২,, তালাক মুখে বলেছিলাম নাকি মনে মনে নাকি শুধু জিহ্বা নড়েছিল এটা যাচাই করার জন্য স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার কোন নিয়ত উদ্দেশ্য কোন কিছুই নাই মনের ভিতর ওই ধরনের কোন চিন্তাভাবনায় নাই শুধুমাত্র যাচাই করার জন্য যদি মুখে কখনো তালাকের বিষয় উচ্চারিত হয়ে যায় তাহলে কি তালাক হবে? আমি গত দুই বছর ধরে শুধু যাচাই করি কীভাবে বলেছিলাম কখনো মনে মনে বলে দেখি কখনো জিহ্বা নাড়িয়ে দেখি ।।আমি সম্পূর্ণ পাগলের মতো হয়ে গেছি আমি অনেক হাসি খুশি মানুষ গত দুই বছর আমার আনন্দ শেষ হয়ে গেছে ‎৩, কেউ যদি নফি করে বলে যে, আমার স্ত্রী তালাক না তাহলে কি হুকুম? ‎৪,, মুখে উচ্চারণ ছাড়া শুধু দুই একটা শব্দ বা হরফের ক্ষেত্রে অর্থাৎ যেখানে যেখানে জিহ্বা টাচ লাগে সেসকল স্থানে জিহ্বা লাগাটা কি মনে মনে বলার অন্তর্ভুক্ত?? ‎ ‎৫,, আপনি আমাকে ফতুয়া দেওয়ার পরে কি আমার ফতুয়া অনুযায়ী চলা আবশ্যক হয়ে যাবে অর্থাৎ অন্যদের উক্তির দিকে আর খেয়াল করবো না? ‎হুজুর কিতাবের হাওলাসহ দিলে আমার ওয়াসওসা একটু দূর হতো

সমাধান:

بسم الله الرحمن الرحيم، حامدا ومصليا ومسلما

সমাধান: আপনি দারুল হেদায়া পোরশা এর ওয়েবসাইট থেকে যে ফাতওয়াটি পড়েছেন সেটি বুঝতে আপনার ভুল হয়েছে। সেখানে মূলত উচ্চারণের সর্বনিম্ন ধরণটির কথা বলা হয়েছে। উচ্চারণের জন্য তো অবশ্যই ঠোঁট মুখ খোলা রেখে জিহবা নাড়িয়ে উচ্চারণ করতে হয়, তবে আওয়াজ এত মৃদু হয় যা তার কান পর্যন্ত পৌঁছে না। যেমন নামাযে অনেকে এরকম নিম্নস্বরে কেরাত পড়ে থাকে। এর দ্বারা নামায হয়ে যায়। তাই অনেক বিজ্ঞ ওরামায়ে কেরাম বলেছেন, সতর্কতামূলক এরকম উচ্চারণ দ্বারা তালাকও হয়ে যাবে। আর ঠোঁট মুখ যদি বন্ধ রাখে তাহলে তো উচ্চারণের মধ্যেই তা গণ্য হবে না। আর আপনার বর্ণিত ১/২/৩/ নাম্বার প্রশ্নের দ্বারা স্ত্রীর উপর কোন তালাক কার্যকর হবে না। ৪/ নাম্বার প্রশ্নের অবস্থাটি উচ্চারণের মধ্যে গণ্য হবে না। আর আপনি এ ফাতওয়া অনুযায়ী আমল করবেন। অন্যদের কাছ থেকে ফাতওয়া নিতে গেলে আরো বেশি বিভ্রান্তি ও ওসওয়াসাতে পড়ে যাবেন।
في الهداية(١/٣٣٩) ثم المخافتة أن يسمع نفسه والجهل أن يسمع غيره وهذا عند الفقيه أبي جعفر الهندواني رحمه الله لأن مجرد حرقة اللسان لا يسمى قراءة بدون صوت وقال الكرخ أدنى الجهر أن يسمع نفسه وأدنى المخافتة التصحيح الحروف لأن القراءة فعل اللسان دون الصماخ وفي "حاشية الطحطاوي"(٢١٩) حتى لو أجرئ الطلاق على قلبه وحرك لسانه من غير تلفظ يسمع لا يقع وإن صحح الحروف۞ وفي "الأشباه والنظائر"(١/١٩٨) شك هل حلف بالله أو بالطلاق أو بالعتاق فينبغي أن يكون حلفه۞ بالطلاق ثم رايت المسالة في البزازية في شك الإيمان حلف ونسي أنه بالله تعالى أو بالطلاق والعتاق باطل۞ وفي الدر المختار (٢/٣٠٩ طبع سعيد) فلو طلق او استثنى ولم يسمع نفسه لم يصح في الاصح..انتهى، والله أعلم بالصواب

অনলাইন ফাতওয়া || ফাতওয়া বিভাগ || আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ