মূল অংশে যান

আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ

ফাতওয়া নং: ৪৬২ তারিখ: ২৮/০৬/২০২৬ ঈ.

বরাবর

ফাতওয়া বিভাগ

আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ, পোরশা ইসলামপুর, পোরশা, নওগাঁ, বাংলাদেশ।

বিষয়: তালাক

প্রশ্নের বিবরণ:

আমি আমার স্ত্রী কে পূর্ববর্তী সময়ে এক তালাক দিয়েছিলাম। আর এই বিষয়টা আমার স্ত্রী নিজেও জানে সে এক তালাকে পতিত। তারপর হঠাৎ একদিন মোবাইল নিয়ে আমাদের মধ্যে ঝগড়া হয়, তখন আমি আমার স্ত্রীকে বলি "তুমি যদি মোবাইলটা ভাঙো তাহলে তুমি তালাক "। তারপর আমার স্ত্রী মোবাইলটা ভাঙেনি। তারপর আমি অতিরিক্ত মোবাইল দেখতাম সেজন্য আমার স্ত্রী আমার থেকে মোবাইলটি নেওয়ার জন্য হাতাহাতি করেছিল। তারপর আমি আমার মোবাইলটা আমার স্ত্রীকে দিয়ে দিয়েছিলাম। তবে মোবাইল ভাঙ্গেনি এবং মোবাইল ভালোই ছিল। তারপর আমরা দুজনেই মোবাইলটা ব্যবহার করতে থাকি। তবে আমাদের মধ্যে মোবাইলটা নিয়ে হাতাহাতির কারণে আমার মনে সন্দেহ হয়, হাতাহাতির সময় আমার স্ত্রী মোবাইলটা ভেঙে ফেলার জন্য হাতাহাতি করেছিলো কিনা। এই বিষয় টা নিয়ে আমি অনেক চিন্তিত ছিলাম। আমি নিজেও জানি মোবাইলটা আমার স্ত্রী ভাঙেনি। তারপরও আমার মনে সন্দেহ হয়। আমি অনেক ভয়ে ছিলাম কারণ আমার স্ত্রী পূর্ববর্তী সময়েও এক তালাকে পতিত ছিল। তারপর আমি মোবাইলের বিষয় টা নিয়ে ভাবতে ভাবতে আমি ক্লান্ত হয়ে যায়। আমি মনে মনে ভাবতাম আমার স্ত্রী হয়তো মোবাইলের জন্য আরেকটি তালাক হয়ে যেতে পারে। তারপর আমি আমার বাড়িতে চলে যায়, তারপর আমি ভেবেছিলাম অতীতে এক তালাক দিয়েছিলাম বর্তমানে মোবাইল ভাঙার জন্য এক তালাক দিয়েছি সেজন্য দুই তালাক হবে। তারপর আমি আমার স্ত্রী কে ডাক দিয়ে আমার কাছে নিয়ে আসি। তারপর আমি আমার স্ত্রী কে কিছু জিজ্ঞাসা না করেই, আমি আমার স্ত্রী কে সরাসরি বলেছিলাম "তুমি দুই তালাক হয়েছো"। তারপর আমার স্ত্রী বললো সে মোবাইল ভাঙেনি তাহলে দুই তালাক হবে কিভাবে। তারপর আমিও বুঝতে পারলাম আমার মোবাইলটা আমার স্ত্রী ভাঙেনি, যেহুতু মোবাইলটা ভাঙেনি তাহলে আমার স্ত্রী তালাক হয়নি। তবে এখন আমার জানার বিষয় হলো: আমি যে আমার স্ত্রী কে বলেছিলাম "তুমি দুই তালাক হয়েছো" এই কথাটি বলার জন্য আমার স্ত্রী কি দুই তালাক হয়ে যাবে? এবং এই কথা বলার জন্য আমার স্ত্রী কি নতুন করে তালাকে পতিত হবে?

সমাধান:

بسم الله الرحمن الرحيم، حامدا ومصليا ومسلما

প্রশ্নোক্ত বিবরণ অনুযায়ী আপনার বক্তব্য "তুমি দুই তালাক হয়েছো"কথাটির দ্বারা যদি স্ত্রী তালাকের শর্তটি ভেঙেছে কিনা এটি জানা বা জিজ্ঞাসা করা উদ্দেশ্য হয় তাহলে এর কারণে নতুন কোন তালাক কার্যকর হয়নি। আর এ ধরনের কোন উদ্দেশ্য না থাকলে দুই তালাক কার্যকর হয়েছে। উল্লেখ্য, শরীয়তের দৃষ্টিতে সাধারণ অবস্থায় তালাক খুবই অপছন্দনীয় ও গর্হিত কাজ। তাই এ ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। অতি প্রয়োজন ছাড়া তা প্রয়োগ করা কিছুতেই বাঞ্ছনীয় নয়। যদি কখনো তালাক দিতে হয় তাহলে পরামর্শ ক্রমে এক তালাকের বেশি দেওয়া উচিত নয়,তাও শান্ত পরিবেশে। রাগের পরিবেশে নয়।
 في الفتاوى التاتارخانية(٤/٤٠١) إذا قال لها قد طلقتك او قال لها انت طالق واراد الخبر عما مضى كذبا وسعه فيما بينه وبين الله أن يمسكها وإن لم يرد الخبر عما مضى واراد الكذب فهي طالق في القضاء وفيها بينه وبين وبه۞  وفي مختارات النوازل(٢/١٢٢) ولو قال قد كنت طلقتك لا يقع به اخرى ۞  وفي الفتاوى الهندية(١/٤٨٨) وإذا أضافه إلى الشرط وقع عقيب الشرط اتفاقا۞ وفي البحر الرائق(٣/٤٠٠) ولو أقر بالطلاق وهو كاذب وقع في القضاء إذا ارادت به الخبر عن الماضي كاذبا وإن لم يراد به الخبر عن الماضي أو اراد به الكذب أو الهزل وقع قضاء ديانة۞انتهى، والله أعلم بالصواب۞

অনলাইন ফাতওয়া || ফাতওয়া বিভাগ || আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ