মূল অংশে যান

আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ

ফাতওয়া নং: ৪৬৩ তারিখ: ২১/০৫/২০২৬ ঈ.

বরাবর

ফাতওয়া বিভাগ

আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ, পোরশা ইসলামপুর, পোরশা, নওগাঁ, বাংলাদেশ।

বিষয়: তালাকের মাসালা

প্রশ্নের বিবরণ:

আমি রনি আমি বিয়া করছি চার বছর হইছে, ৫/৯/২০২৫ তারিখে আমি আমার ওয়াইফ কে বলি যে তোমার সাথে অনেক দিন হইছে দেখা হায় না চাকরি করার কারনে দুই জন দুই খানে থাকি, তাই আমি আইতাছি তুমি বিকালে বের হইয়ো আমার ওয়াইফ কইলো কি ঠিক আছে, আমি বিকালে জাইয়া তাকে ফোন দিতাছি সে ফোন ধরেনা, তখন থেকেই অনেক রাগ হইতে ছিলো, মাগরিবের পরে ফোন দিছি তখন ধরছে, আমি বলি কই ছিলা ফোন দিতাছি বাকাল থেকে ফোন ধরো না কেনো, বলে আমি আমার বান্ধবীর বাসায় আইছি আমি কইলাম বান্ধবী আগে না স্বামী আগে, তারে আমি বলি যে বান্ধবির বাসায় তালে গাড়ির সব্দ কেনো বলে আমি লাইব্রেরীতে আমি কইলাম তাইলে দারাও আমি আইতাছি, তখন আবার বলে কি যে আমি ৩০ গোডাউনে ঘুরতে আইছি আমি বলি কার সাথে যে বলে আমার একটা বন্ধু আর একটা বান্ধবি, তখন রাত ৮ টার মতে হইবে,আমার সাথে শুরু থেকেই মিথ্যা কথা বলছে, জখন ফোন দিয়া পাইতাছিনা তখন থেকেই মাথা ১০০/১০০/ গরম , পরে জাইয়া দেখি তারা রিকশায় জাইতাছে আমি স্বামী আমার বউকে বন্ধুর পাশে বইশা জাইতাছে দেইখা আমার মাথা ঠিক নাই, তখন আরো গরম হইয়া জাইতাছি আমি, পরে তারা রিকশায় করে বাসয় গেলো বন্ধু সহকারে, বান্দবী সাথে, তার পর থেকে আমার ওয়াইফ এর শাথে ফোনে অনেক কথার কাটা কাটি চলতাছিলো আমি তখন ৩ তলার ছাদে আমি কথা বলতাছি আর আমার রাগ এতো পরি মান ছিলো যে আমি হাত দিয়া দেয়ালে ঘুশি মারি আর আমার ওয়াইফ এর সাথে কথা বলি, এক পরজায়ে নাকি আমি আমার ওয়াইফ কে নাকি ১ তালাক ২ তালাক, ৩ তালাক বলি আমি সেটা বলতে পারি না যে আমি এই কথা বলছি আমার ওয়াইফ বলে যে আমি নাকি তাকে মুখে ৩ তালাক দিছি, এর পরে আমি আমার ওয়াইফ কে বলি যে আমি তো বলতে পারিনা কি বলছি মোনে পড়েনা মাথা ঠিক ছিলোনা আমি এটা দেকবো নে, তার পরে, আমার ওয়াইফ এর সাথে বেট শেয়ার হইছে এখন এটার মাসআলা কি হইবো, আদোও কি তালাক হইছে কি না, বা স্বামী স্ত্রী বৈধ কি না, তালাক হইছে কি না, স্বামী কথা অমান্য কইরা বন্ধুর সাথে ঘুরতে গেছে, এটা বৈধ কিনা,

সমাধান:

بسم الله الرحمن الرحيم، حامدا ومصليا ومسلما

: প্রশ্নোক্ত বিবরণ যদি সত্য হয় এবং বাস্তবেই যদি রাগের কারণে স্বাভাবিক জ্ঞান-বিবেক হারিয়ে ফেলেন এবং তালাক দিয়েছেন কি না? দিলে কত তালাক দিয়েছেন? সেটাও বুঝতে পারেননি এবং পরবর্তীতেও তালাকের সংখ্যার কথাও মনে না আসে তাহলে আপনার স্ত্রীর উপর কোন তালাক কার্যকর হয়নি। আর যদি রাগের অবস্থায় আপনি আপনার স্ত্রীকে তিন তালাক দিয়েছেন এই কথা মনে থাকে বা মনে পড়ে তাহলে আপনার স্ত্রীর উপর তিন তালাক কার্যকর হয়েছে এবং আপনাদের বৈবাহিক সম্পর্ক সম্পূর্ণরূপে ছিন্ন হয়ে গেছে। কেননা সাধারণ রাগের অবস্থায় তালাক দিলেও তালাক কার্যকর হয়। আর স্ত্রী বন্ধুর সাথে ঘুরতে যাওয়াটা সম্পূর্ণরূপে শরীয়ত পরিপন্থী নাজায়েয কাজ হয়েছে। উল্লেখ্য, শরীয়তের দৃষ্টিতে সাধারণ অবস্থায় তালাক খুবই অপছন্দনীয় ও গর্হীত কাজ। তাই এ ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। অতি প্রয়োজন ছাড়া তা প্রয়োগ করা কিছুতেই বাঞ্ছনীয় নয়। যদি কখনো তালাক দিতেই হয় তাহলে পরামর্শ অনুযায়ী এক তালাকের বেশি দেওয়া উচিত নয়। তাও শান্ত পরিবেশে, রাগের পরিবেশে নয়।
 وفي الشامي(٦/٣٦٨)تاخلوة الأجنبية وفي فتح الباري (٩/٣٨٩) قال الفارسي في مجمع العرائب إن طلاق الناس غالبا انما هو في حالة الغضب فقال ابن المرابط ولو جاز عدم وقوع طلاق الغضبان لكان لكل واحد ان يقول فيما جناه كنت غضبانا واراد بذلك الرد على من قال ان الطلاق في الغضب لا يقع  وفي رد المحتار (٤/٤٣٩) ويقع الطلاق من غضب و فی" فتاوی حقانیہ")٤/٤٤٨ (سوال: کیا غصہ کی حالت میں دی گئ طلاق واقع ہو جاتی ہے یا نہيں؟ الجواب: طلاق عموما غصہ کی حالت میں دی جاتی ہے اس لئے غصہ کا ہونا طلاق پر اثر انداز نہیں ہوتا، اگر غصہ کی کیفیت اس درجہ تک پہنچ جائے کہ اس کو کلام سمجھنے کی طاقت نہ رہے تو مدہوش کے حکم میں ہوکر طلاق واقع نہیں ہوگی۞ وفي دارالعلوم دیوبند(٩/٨٤) الجواب غصہ اس درجہ پہنچ جاوے کے کچھ ہوش و حواس نہ رہیں تو اس حالت کی طلاق واقع نہیں ہوتی ۞انتهي و الله تعالي اعلم بالصواب

অনলাইন ফাতওয়া || ফাতওয়া বিভাগ || আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ