মূল অংশে যান

আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ

ফাতওয়া নং: ৪৮৪ তারিখ: ২৯/০৫/২০২৬ ঈ.

বরাবর

ফাতওয়া বিভাগ

আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ, পোরশা ইসলামপুর, পোরশা, নওগাঁ, বাংলাদেশ।

বিষয়: যিহার সম্পর্কে

প্রশ্নের বিবরণ:

হুজুর 480এবং482নাম্বার প্রশ্নটা একটু ভুল লিখেছিলাম, নিচে ঠিক করে লিখছি,দয়া করে নিচের লেখা গুলো পড়ে উওর দিয়েন,একদিন স্ত্রী অনেক কান্নাকাটি করে স্বামী তখন বলে তুমিও আজুরি কান্নাকাটি করো আমার মাও আজুরি কান্নাকাটি করে দুই জোনার মিল আছে, স্ত্রী ওয়াসওয়াসার রুগী, স্ত্রী কিছুক্ষণ পর তার স্বামীকে জিজ্ঞেস করে তোমার মাও আজুরি কান্নাকাটি করে আমি ও আজুরি কান্নাকাটি করি এই জন্য বলেছো যে দুই জোনার মিল আছে , স্বামী বলে হ্যাঁ দুই জোনায় তো আজুরি কান্নাকাটি করো, স্ত্রী কিছুক্ষণ পর আবার এই একি প্রশ্ন করে তখন স্বামী রাগ করে বলে-(ঐ জন্য বলিনি তো গুদির মিল আছে)(ঐ জন্য বলিনি তো গুদির জন্য মিল আছে) (ঐ জন্য মিল আছে নাতো গুদির জন্য মিল আছে)(ঐ জন্য বলিনি তো গুদির জন্য বলেছি) এই চারটি কথার মধ্যে যেকোনো একটি কথা বলে, কোন কথাটা বলেছে ঠিক মনে নেই, কিন্তু ঐ চারটি কথার মধ্যে যেকোনো একটি কথা বলেছে,স্বামী আল্লাহ কছম কেটে বলেছে যে সে এই কথার দ্বারা গালি দিয়েছি, তার মার সাথে কোনো তুলনা করে নি,তার মনে কোনো নিয়ত ছিল না, শুধু মাত্র রাগের বসে ঐ ভাবে গালি দিয়ে ফেলেছে, স্বামী বলে তুমি আমাকে বিশ্বাস করতে পারো আমি গালি হিসেবে ঐ কথা বলেছি। স্বামী আরো বলে মা হলেন একজন সম্মানিত ব্যক্তি,মার সাথে কেউ স্ত্রী তুলনা করে,আমি ঐ ভাবে কিছু বলি নি, তুমি ভয় পেয়ো না, যিহার হয় নি, কোনো কাফফারা দেওয়া লাগবে না, স্ত্রী মনে ভয় যায় না, এভাবে দুই মাস যাওয়ার পর স্ত্রী আবার স্বামী কে বলে তুমি রোজা রেখে কাফফারা আদায় করে দেও আমার ভয় যাচ্ছে না, তখন স্বামী বোঝানোর জন্য আবার বলে কিছু হবে না তুমি আমাকে বার বার জিজ্ঞেস করছিলে যে মার সাথে কিসের মিল আছে আমি বলেছি গুদির মিল আছে, এই কথা বলেছি তাই কি হয়ছে কি,এই কথার দ্বারা আমি গালি দিয়েছি কোনো তুলনা করি নি কোনো কাফফারা দেওয়া লাগবে না, আমি এই বিষয়ে ভিডিও দেখেছি, তুমি একলা আল্লাহর ভয় পাও আমি ভয় পায় নি? আল্লাহ ভয় আমিও পায়, স্বামী বলে কথাটা আমি কি ভাবে বলেছি আমি জানি, আমি তোমাকে আল্লাহ কছম কেটে বলছি যে আমি রাগের বসে গালি দিয়েছে, তুমি ভয় পেয়ো না আমার মনে কোনো নিয়ত ছিল না, আমি ঐ ভাবে কথা বলিনি, তুমি প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার পরও বার বার একি প্রশ্ন জিজ্ঞেস করছিলে ঐ জন্য রাগ করে ঐভাবে গালি দিয়েছি, স্বামী বলছে কোনো কাফফারা আদায় করতে হবে না, এটা যিহার হয়নি, কিন্তু স্ত্রী তো ওয়াসওয়াসার রুগি স্ত্রী মন থেকে ভয় যাচ্ছে না, এখন স্বামীর এই দুই দিনের কথা দ্বারা কি যিহার হতে পারে? কোনো কাফফারা কি ওয়াজিব হয়েছে?

সমাধান:

بسم الله الرحمن الرحيم، حامدا ومصليا ومسلما

প্রশ্নোক্ত বিবরণ অনুযায়ী স্বামীর কোন কথার দ্বারা যেহার হয়নি। তাই তার উপর কোন কাফফারাও ওয়াজিব হবে না। উল্লেখ্য, আপনি মূলত সন্দেহের রোগে আক্রান্ত। সন্দেহ একটি মারাত্মক ব্যাধি যা সাধারণত শয়তানের কুমন্ত্রনার কারণে হয়ে থাকে। এর দ্বারা শয়তান মুমিনদেরকে চিন্তা পেরেশানিতে আবদ্ধ রাখে। এর প্রতিকার হচ্ছে, এ ধরণের সন্দেহের দিকে একেবারেই ভ্রুক্ষেপ না করা। এ ধরণের চিন্তা ভাবনাকে সব সময় এড়িয়ে যাওয়া।
 أخرج الإمام مسلم في "صحيحه"(١/٧٨) عن أبي هريرة قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم إن الله تجاوز لأمتى ما حدثت به أنفسها ما لم يتكلموا أو يعلموا به(رقم الحديث١٢٧)۞  في الفتاوى الهندية(١/٥٦٣)وإن قال ظهرك علي كظهر أمي أوكبطنها أو كفرجها لا يكون ظهارا۞  وفي الجوهرة النيرة(٢/١٢٦) وإن قال ظهرك علي كظهر أمي أوكبطنها أو كفرجها أو بطنك أو فخذك أو يدك لأو رجلك لا يكون مظاهرا۞  في الفتاوى الهندية(١/٥٦٤)قال لها أنت مثل أمي ولم يقل علي ولم ينوى شئا لا يلزمه في قولهم۞..انتهى، والله أعلم بالصواب

অনলাইন ফাতওয়া || ফাতওয়া বিভাগ || আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ