মূল অংশে যান

আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ

ফাতওয়া নং: ৪৮৫ তারিখ: ১৬/০৬/২০২৬ ঈ.

বরাবর

ফাতওয়া বিভাগ

আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ, পোরশা ইসলামপুর, পোরশা, নওগাঁ, বাংলাদেশ।

বিষয়: তালাকের ব্যাপারে মাসালা

প্রশ্নের বিবরণ:

আসসালামু আলাইকুম। আমার, দীর্ঘদিন যাবত তালাকের ওসওয়াসা আছে। এখন, আমার যখন খুব বেশি ওসোওয়াসা ছিলো তখন, আমার এমন মনে হতো যে এমনিতে স্বাভাবিক অবস্থায় ঠুট বন্ধ থাকে তখন আমি নিজের জিব্বাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পাড়ি বা এটা জানি যে ঠুট বন্ধ করে তালাক বললেও তা পতিত হয় না। কিন্তু, ঠুট খুলা অবস্থায় বললে জিব্বা নাড়িয়ে বললে তা পতিত হয়। এখন, আমার যখন খুব বেশি ওসোওয়াসা ছিলো তখন আমার মানসিক অবস্থার জন্য এমন চিন্তা আসলো যে, আমি পানি খাওয়ার সময় বা ভাত খাওয়ার সময় নি বলে ফেলি। তখন, থেকে সমস্যাটা বেড়ে যায়। আমি, আগে স্বাভাবিক অবস্থায় যেভাবে খেতে পারতাম এখন খেতে সমস্যা হয়। সারাক্ষণ, স্বাভাবিক থাকি। কিন্তু, যখন কিছু খেতে যায় ঠিক সেই সময়েই আমার মস্তিষ্কে তালাকের কথা উদিত হয়। তখন আমি নিজের সাথে যুদ্ধ করি এবং মনে মনে বলি আমি এসব কখনো বলবোনা। আমার, স্ত্রীকে এমন কিছু বলার আমার ভিতরে এবং নিজ ইচ্ছায় সেইরকম সিদ্ধান্ত আমি কখনো নেয়না। কিন্তু, মাঝে মধ্যে এমন মনে হয় যে আমার তালাকের উদ্দেশ্য নিজ থেকে হয়ে যায় কিনা বা হয়ে গেলো কিনা। এবং, আমি জিব্বায় শয়তান দূর হ। এসব বলি। এখন, আমার তালাক দিবার উদ্দেশ্য কখনো আমি স্ব-ইচ্ছায় কখনো নেয়নি। কিন্তু, আমার ইচ্ছের বিরুদ্ধে অন্তরে এমন উদ্দেশ্য হয়ে যায় এবং চোখে আমার স্ত্রী ভাসে। কিন্তু, আমি জিব্বা নাড়িয়ে অন্য কিছু বলি যাতে আমি এই শব্দ না বলি। এসবে, আমি দিন দিন অস্বাভাবিক হয়ে যাচ্ছি। আমি এসব এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও পাড়তেছিনা। সারাদিন স্বাভাবিক থাকি, কিন্তু ঠিক খাওয়ার সময় এটা মনে হয়ে যায় অটো। এখন, আমার প্রশ্ন হচ্ছে, ১/ দীর্ঘদিন যাবত যেহেতু আমার সমস্যাটা হয়ে আসছে সেটা কি আমার সিদ্ধান্ত হিসেবে ধরা হবে? নাকি, এটা আমার মানসিক সমস্যার জন্য ধরা হবে? এটার শরিয়ত বিধান কি?এবং, এর জন্য আমার বৈবাহিক অবস্থার সমস্যা হবে কি? ২/ আমি যদি আমার স্ত্রীকে তালাক দেবার উদ্দেশ্য অন্তরে না রাখি, এবং সম্পূর্ণ ওসোওয়াসার জন্য জিব্বায় যদি তালাক উচ্চারিত হয়ে যায় এবং সে সময় স্ত্রীর চেহেরা চোখে ভাসে সেক্ষেত্রে তার বিধান কি? এসব সবকিছু আমার স্ত্রীর অনুপস্থিতিতে হয়েছে। ৩/ এখন, আমার এই ওসোওয়াসা থেকে কিভাবে মুক্তি পাবো। আমি কোনো ভাবেই কাজে ব্যস্ত হয়েও এর থেকে বের হতে পারছিনা। কারণ, আমি যখন খেতে যায় তখন ও এটা আমার মনে হয়ে যায়। আমাকে সুন্দর একটা সমাধান দিন। কারণ, আমার এই ওসোওয়াসার জন্য জীবন অস্বাভাবিক হয়ে যাচ্ছে। ৪/ আমিতো খাওয়ার উদ্দেশ্য খাই, এখন সেই অবস্থায় এসব মনে পড়লে জিব্বা নাড়িয়ে যদি ওসোওয়াসা বা মানসিক সমস্যার জন্য বলেও ফেলি সেক্ষেত্রে এটা কি আমার উদ্দেশ্য হিসেবে ধরা হবে? তবে, অন্তরে আমার এইরকম ইচ্ছে বা তালাক দেবার উদ্দেশ্য আমার কখনো নেয়না। ৫/ তালাক দেবার ক্ষেত্রে বলার আগে কি অন্তরে ইচ্ছে পোষণ করতে হবে আগে? বিষয়টি কি এমন? নাকি,বলার সাথে সাথেই উদ্দেশ্য হয়ে যাবে? এটা জানার জন্য বললাম। ৬/ আরেকটি হাদিস আছে যে "ওসোওয়াসা ব্যাক্তি বা সন্দেহ প্রবন ব্যাক্তির তালাক কার্যকর হবেনা" এই হাদিস দিয়ে কি বুঝানো হয়েছে? যারা তালাক সংক্রান্ত ওসোওয়াসায় ভুগছে এদের ক্ষেত্রেও কি এটা কার্যকরী? আমার উত্তরটি খুব তাড়াতাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করবেন।

সমাধান:

بسم الله الرحمن الرحيم، حامدا ومصليا ومسلما

প্রশ্নোক্ত সমস্যাটি আপনার মানসিক সমস্যার কারণে ঘটছে। এ পর্যন্ত যতটুকু ঘটেছে এর দ্বারা বৈবাহিক সম্পর্ক নষ্ট হয়নি। স্ত্রীর প্রতি নিসবত বা উদ্দেশ্য ছাড়া ওয়াসওয়াসাবশত শুধু মুখে তালাক উচ্চারিত হয়ে গেলেই তালাক কার্যকর হয় না।।ওয়াসওয়াসা বা সন্দেহ একটি মারাত্মক ব্যাধি যা সাধারণত শয়তানের কুমন্ত্রনার কারণে হয়ে থাকে। এর দ্বারা শয়তান মুমিনদেরকে চিন্তা পেরেশানিতে আবদ্ধ রাখে। এর প্রতিকার হচ্ছে, এ ধরণের সন্দেহের দিকে একেবারেই ভ্রুক্ষেপ না করা। এ ধরণের চিন্তা ভাবনাকে সব সময় এড়িয়ে যাওয়া। প্রয়োজনে মানসিক ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে পারেন। আর আপনি যে হাদীসের কথা বলেছেন এ ধরনের কোন হাদীস আমরা খুঁজে পাইনি।
 أخرج الإمام البخاري في "صحيحه" عن أبي هريرة رضي الله تعالى عنه قال. قال النبي صلى الله عليه وسلم إن الله تجاوز لي عن أمتي ماوسوست به صدورها ما لم تعمل أو تكلم (رقم الحديث —٢٥٢٨)۞  وفي حاشية الطحطاوي على المراقي (٢١٩) حتى لو أجرى الطلاق على قلبه وحرك لسانه من غير تلفظ يسمع لا يقع۞  وفي الدر المختار مع رد المحتار(٢/٣٠٩-سعيد) فلو طلق أو استثنى ولم يسمع نفسه لم يصح في الأصح*  وفي تحفة الأحوذي شرح جامع الترمذي(٤/٥٦) ان الرجل إذا حدث نفسه بالطلاق لم يكن شيء حتى يتكلم به۞  الموسوعة الفقهية الكويتية(٢٩/٢٦) فإن وجدت قرينة تدل على عدم قصده الطلاق صدق قضاء أيضا ولم يقع به عليه طلاق۞  فتاوی قاسمیہ (١٧/٤٥٩)سوال:..... زائد نے لکھی عبارت طلاق یا زبانی بغیر نسبت کے تلفظ کیا اور ڈر گیا کہ اپ تو واقع ہو گئی جس کے نتیجہ میں خود سے کہا کہ میں نے واقع طلاق سے رجوع کیا تو کیا اس قول سے طلاق واقع ہو گئی؟جواب: جب زید نے لفظ طلاق کو لکھا یا زبان سے تلفظ کیا اور اس وقت تو اس کی کوئی نیت نہیں تھی جیسا کہ سول سے معلوم ہوتا ہے تو اس کی بیوی پر طلاق واقع نہیں ہوئ اور بعد کے الفاظ وسوسہ ہیں کیونکہ اس نے طلاق کی نیت نہیں کی اور مزید ایسا لگتا ہے کہ زید شکی ادمی ہیں اسے ہر طرح کے شک کے مرض کو دور کرنے کی کوشش اورمشق کرنی چاہیے۞ انتهى، والله أعلم بالصواب¬

অনলাইন ফাতওয়া || ফাতওয়া বিভাগ || আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ