আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ
বরাবর
ফাতওয়া বিভাগ
আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ, পোরশা ইসলামপুর, পোরশা, নওগাঁ, বাংলাদেশ।
বিষয়: মোহর সম্পর্কে
প্রশ্নের বিবরণ:
বরাবর মুহতারাম মুফতি সাহেব দারুল ইফতা, বিষয়: মোহর সংক্রান্ত জটিলতার শরঈ সমাধান প্রসঙ্গে। মুহতারাম, বাদ সালাম আরজ এই যে, নিম্নে বর্ণিত বিষয়ে শরীয়তের সুস্পষ্ট ও নির্ভরযোগ্য সমাধান কামনা করছি: ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ফাতেমা ও জায়েদের বিবাহ সম্পন্ন হয়। বিবাহের মজলিশে তাদের মোহর ধার্য হয়েছিল ‘মোহরে ফাতেমি’। তৎকালীন সময়ে রুপার বাজারমূল্য অনুযায়ী ‘মোহরে ফাতেমি’র সমপরিমাণ অর্থ হিসাব করে কাবিননামায় ১,৫০,০০০/- (এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার) টাকা লিপিবদ্ধ করা হয়। পরবর্তীতে জায়েদ নিজের বাড়ি নির্মাণের প্রয়োজনে তার শ্বশুরের নিকট থেকে নগদ ৫০,০০০/- (পঞ্চাশ হাজার) টাকা করজ (ঋণ) গ্রহণ করে। ফলশ্রুতিতে, মোহর ও করজ বাবদ জায়েদের নিকট মেয়ে পক্ষের মোট পাওনার পরিমাণ দাঁড়ায় ২,০০,০০০/- (দুই লক্ষ) টাকা। অন্যদিকের বিবাহ উপলক্ষে জায়েদ তার স্ত্রীকে প্রায় আড়াই ভরি স্বর্ণালংকার প্রদান করেছিল, যা নির্ধারিত মোহরের অতিরিক্ত ছিল। প্রদানের সময় এটি ‘হাদিয়া’ (উপহার/মালিকানা স্বত্বসহ) নাকি ‘আরিয়ত’ (সাময়িক ব্যবহারের অনুমতি মাত্র) হিসেবে দেওয়া হচ্ছে—সে বিষয়ে মৌখিকভাবে কোনো সুস্পষ্ট বক্তব্য উল্লেখ করা হয়নি। তবে জায়েদের পরিবার এবং ওই অঞ্চলের দীর্ঘদিনের সামাজিক প্রথা ও ‘উরফ’ (প্রচলিত রীতি) হলো, মোহরের বাইরে স্ত্রীকে যে স্বর্ণালংকার দেওয়া হয়, তা কেবল আরিয়ত বা সাময়িক ব্যবহারের জন্যই দেওয়া হয়ে থাকে; এর মালিকানা স্ত্রীকে হস্তান্তর করা হয় না। এই প্রথার আলোকেই দেখা যায়, স্বামীর প্রয়োজনে স্ত্রী বা তার পরিবার কোনো রূপ আপত্তি ছাড়াই সেই স্বর্ণ বিক্রি বা বন্ধক রাখার অনুমতি দেয় এবং দাম্পত্য বিচ্ছেদ ঘটলে উক্ত স্বর্ণালংকার স্বামীর পরিবারেই ফেরত থাকে। উক্ত প্রথার ধারাবাহিকতায়, ঘর নির্মাণের সময় জায়েদ স্ত্রীর নিকট থেকে আড়াই ভরির মধ্য থেকে দেড় ভরি স্বর্ণ নিয়ে বিক্রি করে দেয়। বর্তমানে স্ত্রীর নিকট মাত্র এক ভরি স্বর্ণ অবশিষ্ট রয়েছে। অতঃপর, বিগত ২০২৬ সালে শরঈ নিয়মে এক তালাকের মাধ্যমে তাদের দাম্পত্য জীবনের বিচ্ছেদ ঘটে। বর্তমানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে তাদের পারস্পরিক দেনা-পাওনা নিষ্পত্তির লক্ষ্যে সামাজিক সালিশী বৈঠক চলছে। সালিশে উভয় পক্ষের বক্তব্য নিম্নরূপ: মেয়ে পক্ষের দাবি: তারা কাবিননামার মোহর ও করজ বাবদ মোট ২,০০,০০০/- (দুই লক্ষ) টাকাও নগদ বুঝে নিবে, এবং বর্তমানে স্ত্রীর কাছে অবশিষ্ট থাকা এক ভরি স্বর্ণও তারা রেখে দেবে (ফেরত দেবে না)। ছেলে পক্ষের বক্তব্য: তারা শরীয়তসম্মত সকল পাওনা (মোহর ও করজের দুই লক্ষ টাকা) পূর্ণমাত্রায় পরিশোধ করতে প্রস্তুত। এমনকি বিবাহের সময় ছেলে পক্ষের কোনো প্রকার দাবি বা আবদার ছাড়াই মেয়ে পক্ষ স্বপ্রণোদিত হয়ে যেসকল আসবাবপত্র (ফার্নিচার) দিয়েছিল, সেগুলোও তারা সসম্মানে ফেরত দিতে রাজি। তবে তাদের দাবি হলো, সামাজিক ‘উরফ’ বা প্রথা অনুযায়ী উক্ত স্বর্ণের মালিক যেহেতু স্বামী, তাই অবশিষ্ট এক ভরি স্বর্ণ স্বামী ফেরত পাবে। কিন্তু মধ্যস্থতাকারী ব্যক্তিবর্গ মেয়ে পক্ষের দাবির সপক্ষে রায় দিচ্ছেন যে, দুই লক্ষ টাকা পরিশোধের পাশাপাশি এক ভরি স্বর্ণও মেয়ে পক্ষকে দিয়ে দিতে হবে। অতএব, মুফতি সাহেবের নিকট ফিকহে হানাফীর আলোকে বিনীত জিজ্ঞাসা এই যে: ১. বর্তমানে অবশিষ্ট থাকা উক্ত এক ভরি স্বর্ণের প্রকৃত শরঈ মালিক কে? ছেলে নাকি মেয়ে? ২. ছেলে পক্ষ কি করজ ও মোহর বাবদ দুই লক্ষ টাকা পরিশোধ করার পাশাপাশি এই এক ভরি স্বর্ণও মেয়ে পক্ষকে দিয়ে দিতে বাধ্য? ৩. মেয়ে পক্ষের জন্য উক্ত ২,০০,০০০/- (দুই লক্ষ) টাকার অতিরিক্ত হিসেবে এই স্বর্ণটি নিজের কাছে রেখে দেওয়া শরীয়তের দৃষ্টিতে জায়েজ হবে কি? কুরআন-সুন্নাহ ও ফিকহে হানাফীর নির্ভরযোগ্য উসূলের আলোকে এর একটি সুষ্পষ্ট ও সবিস্তার সমাধান প্রদান করে বাধিত করবেন। বিনীত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জনৈক তালিবুল ইলম
সমাধান:
بسم الله الرحمن الرحيم، حامدا ومصليا ومسلما
অনলাইন ফাতওয়া || ফাতওয়া বিভাগ || আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ