মূল অংশে যান

আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ

ফাতওয়া নং: ৪৯২ তারিখ: ৩০/০৬/২০২৬ ঈ.

বরাবর

ফাতওয়া বিভাগ

আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ, পোরশা ইসলামপুর, পোরশা, নওগাঁ, বাংলাদেশ।

বিষয়: talak

প্রশ্নের বিবরণ:

আসসালামু আলাইকুম। আমি একটি জটিল নিকাহ ও তালাক সংক্রান্ত বিষয়ে শরয়ি ফয়সালা জানতে চাই। ১. আমি বাংলাদেশি। কয়েক বছর আগে একটি মেয়েকে বিয়ে করি। বিয়ের সময় মেয়ের বাবা বা ওলি উপস্থিত ছিলেন না। তবে দুইজন সাক্ষী কাবিননামায় সাক্ষর করেন এবং আরও কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন। পরে কয়েক মাস পর মেয়ের পরিবার বিষয়টি জানতে পারে এবং তারা আমাদের সম্পর্ক মেনে নেয়। আমি তাদের বাসায়ও যেতাম। তবে বিষয়টি প্রকাশ্যে ঘোষণা করা হয়নি এবং আমার নিজের বাবা-মাও এখনও জানেন না। ২. বিয়ের পরে রাগের মাথায় আমি স্ত্রীকে বিভিন্ন সময়ে এ ধরনের কথা বলতাম: - "তুই এটা করলে তালাক" - "তুই ওটা না করলে তালাক" - "অমুক সময়ের মধ্যে না এলে তালাক" - "এখন রান্না না করলে তালাক হয়ে যাবি" ইত্যাদি। এসব কথার সময় আমার উদ্দেশ্য অনেক ক্ষেত্রে ভয় দেখানো বা চাপ সৃষ্টি করা ছিল, তবে আমি তখন মনে করতাম এসব বললে তালাক হয়ে যায়। এভাবে একদিন শর্ত দেই যে একমাস দেখা করব না । ৩. পরে একজন আলেমের বক্তব্য শুনে জানতে পারি যে কিছু শর্তযুক্ত তালাকের ক্ষেত্রে নিয়ত ও কাফফারার বিষয় থাকতে পারে। এরপর আমরা এক মাসের আগেই একসাথে থাকা শুরু করি । কারণ আমি এভাবে ভাবি যে যদি কাফফারের বিষয়টা হয়ে থাকে তাহলে তো খুবই ভালো । সেক্ষেত্রে তালাকই হয়নি । অথবা যদি বাই চান্স তালাক হয়েও থাকে তবে সেটা তো একতালাক হলো । আর একতলাক করলে তো কোন সমস্যা নেই । এর কয়েক মাস পর ৪. এরপর একদিন ঝগড়ার সময় আমি এক বৈঠকে স্ত্রীকে বলি: "এক তালাক, দুই তালাক, তিন তালাক।" ৫. পরের দিন আমার শ্বশুর শাশুড়ির সামনে আবার বলি: "এক তালাক, দুই তালাক, তিন তালাক।" ৬. এরপর কিছুদিন আলাদা থাকার পর আমরা আবার একসাথে থাকা শুরু করি। আমি নিজে গবেষণা করে মনে করেছিলাম: (ক) ওলি ছাড়া বিয়ে হওয়ায় হয়তো নিকাহই সহীহ হয়নি, অথবা (খ) এক বৈঠকের তিন তালাককে এক তালাক ধরা হলে হয়তো এখনো রুজু বা নতুন নিকাহের সুযোগ আছে। তবে এ সিদ্ধান্ত আমি নিজেই নিয়েছিলাম, কোনো মুফতির ফতোয়া নিইনি। সাত-আট মাস পরে আজকের ঘটনা ৭. আমি আবার ঝগড়ার সময় আমি স্ত্রীকে স্পষ্টভাবে "তিন তালাক" বলেছি। আমার প্রশ্ন: আমরা কি স্বামী-স্ত্রীর হিসাবে থাকতে পারবো? বা কোন ভাবে থাকার সুযোগ আছে? কারণ আমি ওকে ছাড়া বাঁচবো না । আমি অনেক বদ মেজাজ এই মাথা গরম হয়ে যায় তাই রাগের মাথায় কি বলি কন্ট্রোল করতে পারিনা । যেমন সম্প্রতি একটু ঝগড়া হওয়ার পরে আমার স্ত্রী বাবার বাড়ি চলে যায় । আমি ফোন দে বলি আজকে রাতের মধ্যে না আসলে তালাক দিব । যদিও আসেনি কিন্তু অনেক কষ্ট করে নিজেকে কন্ট্রোল করে তালাক দিই নাই । পরের দিন আবার বলি এক থেকে তিন গুনবো, এর মধ্যে তুই চলে আসার ডিসিশন জানাবি , না হলে তালাক দিব । ও কোন ডিসিশন জানাই তারপরও নিজেকে কন্ট্রোল করেছি । কিন্তু একটা পর্যায়ে কন্ট্রোল করতে না পেরে রাগের মাথায় বলে ফেলেছি । এখন আমরা একসাথে থাকতে চাই কিভাবে থাকতে পারি নাকি থাকার কোন সুযোগ নেই অনুগ্রহ করে জানাবেন । আমি আমার স্ত্রীকে ছাড়া বাঁচতে পারব না প্লিজ কোন উপায় বলুন কি করতে পারি আমরা দয়া করে কুরআন, সহীহ হাদিস ও ফিকহি দলিলের আলোকে বিস্তারিত ফয়সালা জানালে উপকৃত হব।

সমাধান:

بسم الله الرحمن الرحيم، حامدا ومصليا ومسلما

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে হানাফী মাযহাব অনুযায়ী আপনাদের বিবাহ সহীহ হয়েছে এবং প্রশ্নোক্ত বক্তব্যের কারণে আপনার স্ত্রীর উপর তিন তালাক কার্যকর হয়ে আপনাদের বৈবাহিক সম্পর্ক সম্পূর্ণরূপে ছিন্ন হয়ে গেছে। আপনারা একে অপরের জন্য হারাম হয়ে গেছেন। এখন আপনার জন্য ঐ স্ত্রীর সাথে স্বাভাবিকভাবে ঘর-সংসার করা বৈধ হবে না। সুতরাং আপনাকে আপনার স্ত্রী থেকে সম্পূর্ণরূপে পৃথক হয়ে যেতে হবে। তবে যদি আপনারা পুনরায় সংসার করতে চান তাহলে আপনার স্ত্রীকে আপনার তালাকের ইদ্দত শেষ করার পর অর্থাৎ ঋতুমতী হলে তিনটি ঋতু আর গর্ভবতী হলে সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর স্বেচ্ছায় অন্যত্র বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে হবে। দ্বিতীয় স্বামী সহবাস করার পর যদি কোনো কারণে তালাক দেয় বা মারা যায় তাহলে দ্বিতীয় স্বামীর ইদ্দত শেষ হওয়ার পর আপনারা পরস্পরে রাজি থাকলে নতুন ভাবে দুজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে মোহর ধার্য করে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে ঘর সংসার করতে পারবেন। উল্লেখ্য, শরীয়তের দৃষ্টিতে সাধারণ অবস্থায় তালাক খুবই অপছন্দনীয় ও গর্হিত কাজ। তাই এ ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। অতি প্রয়োজন ছাড়া তা প্রয়োগ করা কিছুতেই বাঞ্ছনীয় নয়। যদি কখনো তালাক দিতে হয় তাহলে পরামর্শ অনুযায়ী এক তালাকের বেশি দেওয়া উচিত নয়। তাও শান্ত পরিবেশে, রাগের পরিবেশে নয়।
 قوله تعالى في"سورةالبقرة"(٢٣٠) فإن طلقها فلا تحل له من بعد حتى تنكح زوجا غيره  أخرج الإمام البخاري في " صحيحه"(٥٠٦٦) و قال الليث عن نافع كان ابن عمر رضي الله عنهما إذا سئل عمن طلق ثلاثا قال لو طلقت مرة أو مرتين فإن النبي عليه السلام أمرني بهذا فإن طلقها ثلاثا حرمت حتى تنكح زوجا غيره  وفي الدر المختار (٤/٤٥٦) ويقع طلاق من غضب  وفي"الهداية"(٢/٣٩٩) إن كان الطلاق ثلاثا في الحرة أوثنتين في الأمة لم تحل له حتى تنكح زوجا غيره نكاحا صحيحا ويدخل بها ثم يطلقها أو يموت عنها  وفي"التاتارخانية"(٤/٤٢٩) رجل قال لامرأته أنت طالق أنت طالق أنت طالق وقال عنيت بلأولى الطلاق والثانية والثالثة إفهامها صدق ديانة وفي القضاء طلقت ثلاثا  وفي"الهندية"(١/٣٥٥) إن كان الطلاق ثلاثا في الحرة أوثنتين في الأمة لم تحل له حتى تنكح زوجا غيره نكاحا صحيحا ويدخل بها ثم يطلقها أو يموت عنها  وفي فتاوی قاسمیہ(١٧/٢٩٠) غصہ کی حالت میں بھی طلاق واقع ہو جاتی ہے جب شوہر کی زبان سے تین بار بيوی کےلیئے طلاق کا لفظ نکلا ہے تو اس سے شرعی طور پر تین طلاق واقع ہو چکی ہیں، اپ بغیر حلالہ کے دو بارہ نکاح درست نہیں، وفي"إمداد السائلين"(٤/٤٠) تین طلاقیں خواہ ایک جملے میں دے یا الگ الگ جملوں میں ، تینوں واقع ہو جاتی ہیں ، چاروں اماموں کا یہی مذہب ہے، جس نے اس کے خلاف فتاوی دیا ہے سخت حرام م تکب ہوا ہے ، اور جو لوگ اس نکاح میں یہ جانتے ہوئے شریک ہوئے وہ بھی گناہگار ہوئے ، سب توبہ استغفار کریں.--انتهى و الله تعالى أعلم بالصواب

অনলাইন ফাতওয়া || ফাতওয়া বিভাগ || আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ