মূল অংশে যান

আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ

ফাতওয়া নং: ৫০৪ তারিখ: ২২/০৬/২০২৬ ঈ.

বরাবর

ফাতওয়া বিভাগ

আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ, পোরশা ইসলামপুর, পোরশা, নওগাঁ, বাংলাদেশ।

বিষয়: ভয়াবহ দুর্ঘটানা, শারীরিক পঙ্গু্ত্ব ও চরম অসহায় অবস্থায় ঋণ মিমাংসা সংক্রান্ত শরয়ী সমাধান প্রসঙ্গে।

প্রশ্নের বিবরণ:

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমি মোঃ শহিদুল ইসলাম, গ্রাম: নোনাহার, পোরশা, নওগাঁ। বর্তমানে আমি ঢাকার সাভারে রিক্সা চালিয়ে অতি কষ্টে জীবিকা নির্বাহ করছি। আমি একটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ও জটিল বিষয়ে শরীয়তের চূড়ান্ত ফায়সালা জানতে আপনার শরণাপন্ন হয়েছি। ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ: ১. আমি জনৈক মো: আব্দুল বারী সাহেবের কাছ থেকে ব্যবসায়িক বিনিয়োগ হিসেবে ১.৫ লক্ষ টাকা গ্রহণ করি এবং তা আমার ৩৮ বিঘা আম বাগানে বিনিয়োগ করি। আমি তাকে বেশ কয়েকবার মুনাফাও প্রদান করেছি। ২. ৯ নভেম্বর ২০২৩ তারিখ ভোর ৪:২০ মিনিটে আমি এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হই। এই দুর্ঘটনায় আমার সাথে থাকা সাথী ড্রাইভার ঘটনাস্থলেই মারা যান। আল্লাহর রহমতে আমি বেঁচে ফিরলেও আমার পা মারাত্মকভাবে ভেঙ্গে যায়। বর্তমানে আমার পায়ের গোড়ালি থেকে হাটু পর্যন্ত প্রায় এক হাত লম্বা একটি লোহার রড ঢুকানো আছে। ৩. এই দুর্ঘটনার ফলে আমার প্রায় ৩৫ লক্ষ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং আমি ৯ লক্ষ টাকা ঋণের বোঝা নিয়ে সম্পূর্ণ নিঃস্ব হয়ে পড়ি। ঋণ পরিশোধের দায়ে আমি আমার নিজের জমি বিক্রি করি এবং সেই টাকা দিয়ে অন্যান্য পাওনাদারদের পাওনা কিছুটা পরিশোধ করি। ৪. ঋণের চাপে বাড়িতে থাকতে না পেরে আমি পঙ্গু শরীর নিয়ে সাভারে রিক্সাগাড়ি চালানো শুরু করি। এমতাবস্থায়, আমি আব্দুল বারী সাহেবের আত্মীয় দেলোয়ার ভাইয়ের নিকট নগর ৫০.০০০ টাকা জমা রাখি এবং তাকে এই স্পষ্ট শর্ত প্রদান করি: "ভাই, আমার এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা, পায়ের রড এবং যাবতীয় ক্ষয়ক্ষতির কথা আপনি জানেন। আমি নিরুপায় হয়ে আমার শেষ সম্বল থেকে এই ৫০.০০০ টাকা আপনার জন্য জমা রাখলাম। আপনি যদি এই টাকা গ্রহণ করেন, তবে শর্ত হলো, আপনাকে আল্লাহর ওয়াস্তে আমাকে বাকি টাকা থেকে চিরতরে ক্ষমা ও দায়মুক্তি করতে হবে। আপনি এই শর্তে টাকাগুলো গ্রহণ করলেই আমি বুঝবো আপনি আমাকে মাফ করেছেন। কিন্তু এরপরেও যদি টাকার দাবি রাখেন, তবে আমি আর কোনো টাকা দিতে পারব না। ক্ষমা না করলে আপনি এই টাকা নিয়েন না।" ৫. পাওনাদার আব্দুল বারী সাহেব আমার এই সুনিশ্চিত শর্ত ও পঙ্গুত্বের কথা জানার পর দেলোয়ার ভাইয়ের কাছ থেকে উক্ত ৫০.০০০ টাকা নিয়ে গেছেন। মুফতী সাহেবের নিকট প্রশ্নসমূহ: ক) দেনাদার দুর্ঘটনায় সব হারিয়ে শারীরিকভাবে পঙ্গু হয়ে "বাকি টাকা মাফ করার শর্তে" কিছু টাকা দিলে এবং পাওনাদার তা জেনেও গ্রহণ করলে, দেনাদার কি বাকি ঋণ থেকে দায়মুক্ত হবেন ? খ)"ক্ষমা করলেই কেবল টাকাগুলো গ্রহণ করবেন"-এই স্পষ্ট শর্তের পর টাকা গ্রহণ করা কি শরীয়ত মোতাবেক 'মৌন সম্মতি'বা চূড়ান্ত সমঝোতা হিসেবে গণ্য হবে ? গ) রিক্সা চালিয়ে জীবন অতিবাহিত করা এই অসুস্থ অবস্থায় আমার ওপর কি আর কোন ঋণের দায় অবশিষ্ট আছে।

সমাধান:

بسم الله الرحمن الرحيم، حامدا ومصليا ومسلما

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে সুস্পষ্টভাবে ক্ষমার কথা উল্লেখ করা ছাড়া দেনাদার ব্যক্তি ঋণ থেকে দায়মুক্ত হবে না। শুধু চুপ থেকে টাকা গ্রহণ করাটা সম্মতি বা চূড়ান্ত সমঝোতা হিসেবে গণ্য হবে না। অসুস্থতার এ অবস্থায়ও আপনার উপর এ ধরণের ঋণের দায় অবশিষ্ট আছে। কেননা, ঋণ হচ্ছে বান্দার হক যা সরাসরি ঋণদাতার কাছ থেকে স্পষ্টরূপে ক্ষমা নেওয়া ছাড়া দায়মুক্তি আসে না। সুতরাং তারা যদি আপনাকে স্পষ্টভাবে ক্ষমা না করে থাকে তাহলে আপনার উচিত স্পষ্টভাবে তাদের থেকে ক্ষমা চেয়ে নেওয়া। স্পষ্টভাবে তাদের কাছ থেকে ক্ষমা চাওয়ার পরও যদি তারা ক্ষমা না করে তাহলে পুরো জীবন তাদের ঋণ পরিশোধের জন্য পরিপূর্ণ প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে এবং একটু একটু করে তাদের ঋণ পরিশোধ করতে হবে। আর এই প্রচেষ্টার উপরেই যদি আপনার মৃত্যু হয়ে যায় তাহলে আশা করা যায় আল্লাহ আপনাকে ক্ষমা করবেন।
 في فتح البارى (٥/٥٤) عن ابي هريرة (رض) عن النبى صلى الله عليه و سلم قال: من اخذ اموال الناس يريد اداءها ادى الله عنه، و من اخذ يريد اتلافها اتلفه الله ۞  و في رد المحتار(٦/٤٤٣) و في الفصول العلامة: لو لم يقدر على الاداء لفقره او لنسيانه او لعدم قدرته، قال شداد و الناطفى رحمهما الله تعالى: لا يؤاخذ به في اللاخرة اذا كان الدين ثمن متاع او قرضا ۞  و في الفتاوى الهندية (٥/٤٢٣) رجل مات و عليه قرض، ذكر الناطفى: نرضو ان لا يكون مؤاخذا في دار الاخرة اذا كان في نيته قضاء الدين ۞  و في رد المحتار(٣/٤٥٥) و لو غير قادر على وفائه و يرجوان لا يؤاخذه الله بذلك: اى لو ناويا وفاء اذا قدر كما قيده في الظهرية ۞  و في کتاب النوازل (١١/٥٢٦) آپ نے صراحۃ قرض معاف نہیں کیا، تو محض خاموش رہنے سے اس کی معاف نہیں ہوگی ۞  و في فتاوی دار العلوم کراچی (٤/٤٧٧) قرض کی ادا‎ئیگی حقوق العباد میں سے ہے، جب تک صاحب حق معاف نہ کرے ان کی معاف کا وعدہ نہیں ، تاحیات آپنی پوری کوشش کرتے رہیں، اگر چہ اس کے لئے تنگی برداشت کرنی پڑے ، اور آپنے وارثوں کو بھی وصیت کردیں کہ اگر میں اس زندگی میں ادا نہ کرسکا تو وہ ادا کردیں، اگر آدائے قرض کی کوشش میں آپنی طرف سے ذرہ برابر کوتاہی نہ کی اور یہ وصیت بھی کردی تو اللہ کی رحمت سے بخشش کی امید رکھنی چہئے ۞  و في فتاوی محمودیہ (٢٥/٤٦) جو شخص کسی صورت و پریشانی سے مجبور ہو کر قرض لے اور نیت یہ ہو کہ اس کو ادا کردوں گا، پھر باوجود کوشش کے ادا کرنے کی قدرت و وسعت نہ ہوئی، اور اسی حال نیں انتقال ہوگیا تو امید ہے کہ اللہ تعالی اس سے آخرت میں مؤاخذہ نہ فرمائینگے ۞ انتهى، والله أعلم بالصواب...

অনলাইন ফাতওয়া || ফাতওয়া বিভাগ || আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ