আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ
ফাতওয়া নং: ৫১০
তারিখ: ০২/০৭/২০২৬ ঈ.
বরাবর
ফাতওয়া বিভাগ
আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ, পোরশা ইসলামপুর, পোরশা, নওগাঁ, বাংলাদেশ।
বিষয়: বিবাহ
প্রশ্নের বিবরণ:
আসসালামু আলাইকুম, একটা মেয়ের খুব ছোটবেলায় বিয়ে হয়েছে । সাবলিকা হওয়ার আগে। বিয়েটা কোন স্বাভাবিক বিবাহ ছিল না। যে ছেলেটার সাথে বিবাহ হয়েছে সে তাদের বাসায় লজিং থাকত। ছেলেটার সাথে মেয়েটার মায়ের একটা খারাপ সম্পর্ক এর কথা এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এই বদনাম ঘুচানোর জন্যই মেয়েটার সাথে বাসার লজিং মাস্টারের বিবাহ দেওয়া হয়। বিবাহ দেওয়ার পরেও মেয়েটার বাবার তার মায়ের উপর থেকে সন্দেহ দূর হয়নি। এক পর্যায়ে তার বাবা তার মাকে ছেড়ে চলে যায়। মেয়েটার মা মেয়েটার সংসারেই থাকতো। এর অনেক বছর পরে একটা ঘটনা মেয়ের চোখে পড়ে। মেয়েটার মা নাতি নিয়ে ঘরে থাকতো আর মেয়ে। আর মেয়ের স্বামী থাকতো বারান্দার রুমে। একদিন ভোরবেলা মেয়েটার স্বামী ঘর থেকে বের হওয়ার কথা বলে। মেয়েটি মনে করেছে তার স্বামী চলে গেছে। সে বারান্দার রুম থেকে ঘরে যেতে দরজার সামনে গিয়ে দেখে, সে তার মায়ের পেটের ভুড়ি ধরে টানছে। ভুরি ঠিকমতো ধরতে পারছে না বলে পাছায় চিমটিও দিচ্ছে কিন্তু তার মা জামাইকে তেমন কিছুই বলছে না। মেয়েটি তাদের এই অবস্থা দেখে হতভম্ব হয়ে গিয়েছে। ছেলেটি যখন তার বউকে দেখে তখন চমকে যায় এবং তাড়াহুড়া করে ঘর থেকে বের হয়ে যায়। এ বিষয়টা নিয়ে যখন মেয়েটি তার স্বামীকে কিছু বলে তখন তার উত্তরে সে বলে, তোমার দেখার ভুল ছিল। আমাদের ভিতরে এমন কিছুই নাই। এখন মেয়েটির মনে প্রশ্ন হল, তাহলে ছোটবেলায় আমি যেসব কথা শুনেছি তা কি সত্য। এই কারণ কি আমার বাবা আমার মাকে ছেড়ে চলে গিয়েছে। এখন মেয়েটির কথা হল, এই মুহূর্তে কি আমার স্বামীর ঘর করা আমার জন্য বৈধতা আছে কিনা। ইসলামের শরীয়তে কি বলে।
সমাধান:
بسم الله الرحمن الرحيم، حامدا ومصليا ومسلما
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে যেহেতু শাশুড়ি ও জামাইয়ের মাঝের সম্পর্কটি সাক্ষী দ্বারা প্রমাণিত নয় এবং শাশুড়ির সাথে যে ঘটনা ঘটেছে তাও জামাই অস্বীকার করেছে, আবার শাশুড়ির শরীরে স্পর্শ করার সময় জামাইয়ের কামউত্তেজনা ছিল কিনা তাও স্পষ্ট নয় তাই মেয়ের জন্য ঐ স্বামীর সাথে ঘর-সংসার করা বৈধ হবে। তবে স্বামী যদি বিষয়টি স্বীকার করে বা সাক্ষী দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, শাশুড়িকে উত্তেজনার সাথে জামাই স্পর্শ করেছে তাহলে ঐ মেয়ের জন্য তার স্বামীর সঙ্গে ঘর-সংসার করা বৈধ হবে না।
قوله تعالى في" سورة النساء "(٢٣) حرمت عليكم أمهاتكم....... وأمهات نسائكم ۞
وفي الهداية(٢/٢٨٩) من مسته امراة بالشهوة حرمت عليه أمها وإبنتها وقال الشافعي لا تحرم وعلى هذا الخلاف مسه امراة بشهوة...... ولنا أن المس والنظر سبب داع الى الوطىئ فيقام مقامه في موضع الاحتياط۞
وفي البحر الرائق (٣/١٧٣) قوله: والزنا واللمس والنظر بشهوة يوجب حرمة المصاهرة..... واللمس والنظر سبب داع الى الوطئ فيقام مقامه في موضع الاحتياط۞
وفي الدر المختار (٤/١٠٧) وحرم أصل ممسوسته بشهوة ولو لشعر على الرأس بحائل لا يمنع الحرارة .......وفروعهن مطلقا ۞
وفي عباد الرحمن (٤/٤٢٥) شوہر نے بیوی کے اُصول یا فروع میں سے کسی مشتہاة کو بدون حائل ہاتھ لگایا یا شوہر کے اصول یا فروع میں سے کسی عورت نے یا اس عورت نے مرد کو دون حائل کم از کم ہاتھ لگایا تو اس سے بھی ان کا ختم ہو جاتا ہے اور میاں بیوی کا رشتہ ہمیشہ کے لیے ختم ہو جاتا ہے اس کو فقہی اصطلاح میں حرمت مصاہرہ کہتے ہیں۞
وفي "إمداد السائلين"(٤/٦٧) جب تک بیوی کے پاس تین طلاق کے شرعی گواہ موجود نہ ہوں اس وقت تک صرف بیوی کے قول پر تین طلاق کا حکم نہیں لگایا جا سکتا،شوہر چونکہ دو طلاق کا اقرار کر رہا ہے اس لیے دو طلاق رجعی واقع ہو گئیں،اس لیے شوہر عدت کے اندر رجوع کر سکتا ہے،اور عدت کے بعد بی بی کے رضامندی پر دوبارہ نکاح ہو سکتا ہے،لیکن یاد رہے اگر شوہر نے واقعی تین طلاق دی ہے اور اقرار دو طلاق کر رہا ہے تو تینوں طلاقیں واقع ہو گئیں ،اگر چہ کسی نے نہ سنا ہو،اس صورت میں دو طلاق کا اقرار کر کے اگر بی بی کے ساتھ رہا تو عمر بھر حرام کاری میں مبتلا رہے گا،۔۔جواب صحیح ہے ۔لیکن اگر تین طلاق گواہ موجود نہیں مگر عورت کو یقین ہے کہ تین طلاق دی ہیں ،تو اگر شوہر رجوع بھی کرے تب بھی عورت کو لازم ہے کہ اس شخص سے الگ رہے،لأن المراة كالقاضي، یہ مرد اس عورت کے لیے حلال نہیں ہوگا، ۞
وفي دار العلوم كراچی(٣/٢٨٦) جواب: صورت مذكوہ ميں اگر اس نوجوان نے شہوت کے ساتھ اپنی ساس کے جسم کے کسی بھی حصے کو کسی حیل کے بغیر سو لیا ہے کا ایک ہی مرتبہ سوا ہو یا بالا حیل اس کا بوسہ لینا ہو تو اس نوجوان کی بیوی اس پر ہمیشہ کے لیے حرام ہو گئی اپ سوائے اس کے کوئی صورت نہیں کہ بیوی کو طلاق دے دے انتهي و الله تعالى اعلم بالصواب۞
অনলাইন ফাতওয়া || ফাতওয়া বিভাগ || আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ