আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ
ফাতওয়া নং: ৫১২
তারিখ: ২৯/০৬/২০২৬ ঈ.
বরাবর
ফাতওয়া বিভাগ
আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ, পোরশা ইসলামপুর, পোরশা, নওগাঁ, বাংলাদেশ।
বিষয়: তালাক
প্রশ্নের বিবরণ:
আসসালামু অআলাইকুম র:অ:, হুজুর আমার নিকাহ হয়েছে ছয় বছর হল,আমার নিকাহর পরে থেকে আমার স্ত্রীর সাথে আগে যখন ঝগরা হত তখন আমি রাগের মাথায় বলতাম আমি তোমাকে ছেরে দেব আমি তোমাকে ডিভোর্স দেব কিন্তু কখনো তালাক দিছি বা তালাক দিলাম বলেছি কিনা আমার মনে নেই এবং আমার মনে বড় সন্দেহ হচ্ছে যে আগে আমি তালাক শব্দটা বলেছিলাম বলি নাই এই নিয়ে আমি খুব চিন্তিত আছি আমার কি তালাক হয়ে গেছে আর এখন কয়দিন আগে আমি রাগের মাথায় স্ত্রী কে বলেছিলাম তুমি আমার ডিভোর্স দাও তালাক দাও স্ত্রী তখন বলেছিলো আমি কেন দেব তুমি দাও তারপরে আমি রাগের মাথায় একবার বলেছিলাম আমি তোমার তালাক দিছি তাহলে আমার তালাক কয়টি গননা হবে, হুজুর আমার চিন্তা হচ্ছে আমার পুরো তিন তালাক হয়ে গেল নাকি আমি এটা নিয়ে খুব টেনশনে আছি হুজুর আপনি একটি সমাধানের পথ দেখান
সমাধান:
بسم الله الرحمن الرحيم، حامدا ومصليا ومسلما
আপনার উপরোক্ত বক্তব্য যদি সত্য হয়ে থাকে তাহলে আপনার স্ত্রীর উপরে এক তালাকে রাজয়ী পতিত হয়েছে। আপনি যদি ইদ্দতের মধ্যে স্ত্রীকে ফিরিয়ে নেন অথবা স্বামী-স্ত্রীসুলভ আচরণ করে থাকেন তাহলে আপনাদের বৈবাহিক সম্পর্ক বহাল আছে। আর যদি ইদ্দতের মধ্যে স্ত্রীকে ফিরিয়ে না নেন এবং স্বামী-স্ত্রীসুলভ কোনো আচরণও না করে থাকেন তাহলে আপনাদের বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে গেছে। সেক্ষেত্রে বৈধভাবে ঘর সংসার করতে চাইলে দুই জন উপযুক্ত সাক্ষীর উপস্থিতিতে নতুন করে মোহর ধার্য করে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে হবে। তবে মনে রাখতে হবে, ভবিষ্যতে স্বামী শুধুমাত্র দুই তালাকের মালিক থাকবে, যদি ভবিষ্যতে আর দুই তালাক প্রদান করে, তাহলে তিন তালাক পতিত হয়ে স্ত্রী তার উপরে হারাম হয়ে যাবে।
উল্লেখ্য, শরীয়তের দৃষ্টিতে সাধারণ অবস্থায় তালাক খুবই অপছন্দনীয় ও গর্হিত কাজ। তাই এ ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। অতি প্রয়োজন ছাড়া তা প্রয়োগ করা কিছুতেই বাঞ্ছনীয় নয়। যদি কখনো তালাক দিতে হয় তাহলে পরামর্শক্রমে এক তালাকের বেশি দেওয়া উচিত নয়। তাও শান্ত পরিবেশে, রাগের পরিবেশে নয়।
প্রকাশ থাকে যে,আপনার মধ্যে সন্দেহের রোগ আছে। সন্দেহ একটি মারাত্মক ব্যাধি যা সাধারণত শয়তানের কুমন্ত্রনার কারণে হয়ে থাকে। এর দ্বারা শয়তান মুমিনদেরকে চিন্তা পেরেশানিতে আবদ্ধ রাখে। এর প্রতিকার হল, এ ধরনের সন্দেহের দিকে ভ্রুক্ষেপ না করা। এ ধরনের চিন্তা ভাবনাকে সব সময় এড়িয়ে চলা।
وفي "الفتاوى الهندية" (١/٤٢٢) أنت طالق ومطلقة وطلقتك تقع واحدة رجعية،وإن نوى الأكثر أو الإبا نة أو لم بنوي شيئا۞
وفي التاتار خانية(٤/٤٠٠) فالصريح قوله انت طالق و مطلقة وطلقتك فهذا يقع به الطلاق الرجعي ولا يفتقر الى النية۞
وفي "الهداية" (١/٤٩٣) واذا اطلق الرجل امرأته تطليقة رجعية أو تطليقتين فله أن يرجعها في عدتها رضيت بذلك أو لم ترض۞
وفي الهداية(٢/٣٩٥)والرجعة أن يقول راجعتك، وأو راجعت أمرأتى….أو يطأها أو يقبلها، أو يلمسها بشهوة۞
و في"كتاب الفتاوى" (٥/٦٠) و في السوال:میں نے بیوی سے جھگڑے کے دوران ایک عور ت کو گوا بنا کر ایک مرتبہ طلاق کے الفاظ نکالا صرف اور صرف ایک مرتبہ طلاق کہا ایک عورت جو درمیان میں کھڑی تھی اس کی طرف اشارہ کرکے کہا آپ گوا رہیں میں نے آج سے ان کو طلاق دیا ، جواب : آپ نے سوال میں جس طلاق کا ذکر کیا ہے اس سے ایک طلاق رجعی پڑ گئ انتهى۞ والله أعلم بالصواب۞
অনলাইন ফাতওয়া || ফাতওয়া বিভাগ || আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ