মূল অংশে যান

আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ

ফাতওয়া নং: ৫১৬ তারিখ: ০২/০৭/২০২৬ ঈ.

বরাবর

ফাতওয়া বিভাগ

আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ, পোরশা ইসলামপুর, পোরশা, নওগাঁ, বাংলাদেশ।

বিষয়: হায়েজ অবস্থায় তালাক দিয়েছি এক বৈঠকে রাগের মাথায়

প্রশ্নের বিবরণ:

রাগের মাথায় তিন তালাক আলাদা আলাদা বলেছে। তবে তালাক প্রদানকারী মনে করেছিল যে তালাক দিলে হয়তো আবার বিয়ে করলে ঠিক হয়ে যাবে। এবং তার ধারণা ছিল না যে তালাক দিলে ২য় বিয়ে দেওয়া ছাড়া বিয়ে করা যাবে না এবং শরিয়া এত কঠিন তা সম্পর্কে তার সত্যিকার্থে জ্ঞান ছিল না। উল্লেখ্য রাগের মাত্রা এতই বেশি ছিল যে, শরীর কাপাকাপি করছিল এবং স্ত্রী স্বামীর গলা চেলে ধরেছিল ফলে শ্বাসবন্ধ অবস্থা হয়েছিল ফলে সে স্ত্রীকে লাথি দিয়ে তালাক তিন বার বলে এখন স্বামী স্ত্রী সংসার করতে চাচ্ছে এ ক্ষেত্রে বিধান কী? উল্লেখ যে স্ত্রীর মাসিক হয়েছে আজকে মাসিক চলাকালীন অজান্তেই তালাক দেওয়া হয়। আমি একটি হাদিস দেখলাম ৷ ইবনু ‘উমার (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি আমার স্ত্রীকে তার হায়েয অবস্থায় তালাক দিলে পর ‘উমার (রা.) বিষয়টি রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর গোচরে আনেন। তিনি বলেনঃ তাকে নির্দেশ দাও, সে যেন তার স্ত্রীকে ফিরিয়ে নেয়, যাবত না সে পবিত্রাবস্থায় ফিরে আসে, অতঃপর পুনরায় তার মাসিক ঋতু হয়, অতঃপর পবিত্রাবস্থায় ফিরে আসে। অতঃপর সে চাইলে তাকে তালাক দিতে পারে তার সাথে সহবাস করার পুর্বে। আর চাইলে সে তাকে স্ত্রী হিসাবে রেখেও দিতে পারে। এই হলো সেই ইদ্দত যা পালনের জন্য আল্লাহ্ নির্দেশ দিয়েছেন। (ইবনে মাজাহ ২০১৯, বুখারী ৪৯০৮, ৫২৫২, ৫২৫৩, ৫২৫৮, ৫৩৩২, ৬০৩৩, ৭১৬০, মুসলিম ১৪৭১, তিরমিযী ১১৭৫, ১১৭৬). পরিচ্ছেদঃ ২০৪১. হায়েয অবস্থায় তালাক দিলে তা তালাক হিসাবে পরিগণিত হবে ৪৮৭৬। সুলায়মান ইবনু হারব (রহঃ) ... ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত যে, তিনি তার স্ত্রীকে হায়েয অবস্থায় তালাক দিলেন, উমর (রাঃ) বিষয়টি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কাছে উল্লেখ করলেন। তখন তিনি বললেনঃ সে যেন তাকে ফিরিয়ে আনে। রাবী (ইবনু সীরীন) বলেন আমি বললামঃ তালাকটি কি গণ্য করা হবে? তিনি (ইবনু উমর) বললেন, তবে কি হবে? কাতাদা (রহঃ) ইউনূস ইবনু জুবায়র (রহঃ) থেকে, তিনি ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ তাকে নির্দেশ দাও সে যেন তার স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনে। আমি (ইউনুস) বললামঃ তালাকটি কি পরিগনীত হবে? তিনি (ইবনু উমর) বললেনঃ তুমি কি মনে কর? যদি সে অক্ষম হয় এবং স্বেচ্ছায় আহম্মকী করে। আবূ মামার বলেন, আবদুল ওয়ারিস আইউব থেকে তিনি সাঈদ ইবনু যুবায়র থেকে, তিনি ইবনু উমর (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে তিনি বলেছেনঃ এটিকে আমার উপর এক তালাক ধরা হয়েছিল। ৷৷৷ এই হাদিসের আলোকে কী আবার সংসার করতে পারবে? ফতোয়া চাই

সমাধান:

بسم الله الرحمن الرحيم، حامدا ومصليا ومسلما

প্রশ্নোক্ত বিবরণ সত্য হলে স্বামী তিনবার তালাক বলার কারণে ইসলামী শরীয়ত অনুযায়ী তার স্ত্রীর উপর তিন তালাক কার্যকর হয়ে গেছে এবং তাদের বৈবাহিক সম্পর্ক সম্পূর্ণরূপে ছিন্ন হয়ে গেছে। তাদের এখনই পৃথক হয়ে যেতে হবে। আর প্রশ্নে আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা:) এর যে হাদীসটি উল্লেখ করা হয়েছে সেখানে মূলত তিনি তার স্ত্রীকে এক তালাকে রাজয়ী দিয়েছিলেন। কেননা হাদিসে তিন তালাকের কথা উল্লেখ নেই,বরং কোন কোন বর্ণনায় এক তালাকের কথা এসেছে।এজন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার স্ত্রীকে ফিরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কেননা হায়েয অবস্থায় তালাক দেওয়া সুন্নত নয়। তাই ফিরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন, যাতে হায়েযের পরে চাইলে সুন্নতি পদ্ধতিতে যেন অবশিষ্ঠ তালাক দিতে পারে। আর শরীয়তে এক বা দুই তালাকের ক্ষেত্রে স্বামী চাইলে স্ত্রীকে ইদ্দত চলাকালীন সময়ের মধ্যে ফিরিয়ে নিতে পারে। এছাড়া নবীজি তাকে ফিরিয়ে নিতে বলাটায় একথার প্রমাণ যে, হায়েয অবস্থায় তালাক দিলে তালাক কার্যকর হয়। তা নাহলে নবীজি ফিরিয়ে নেওয়ার কথা বলতেন না। সুতরাং এখন যদি তারা পুনরায় ঘর সংসার করতে চায় তাহলে তালাকের ইদ্দত শেষ করার পর অর্থাৎ ঋতু মতী হলে তিন ঋতু আর গর্ভবতী হলে সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর স্ত্রীকে অন্যত্রে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে হবে এবং দ্বিতীয় স্বামী সহবাস করার পর যদি কোনো কারণে তালাক দেয় বা মারা যায় তাহলে তার ইদ্দত শেষ হওয়ার পর তারা পরস্পরে রাজি থাকলে নতুনভাবে দুজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে মহর ধার্য করে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়ে ঘর সংসার করতে পারবে। উল্লেখ্য, শরীয়তের দৃষ্টিতে সাধারণ অবস্থায় তালাক খুবই অপছন্দনীয় ও গর্হিত কাজ। তাই এ ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। অতি প্রয়োজন ছাড়া তা প্রয়োগ করার কিছুতেই বাঞ্ছনীয় নয়। যদি কখনো তালাক দিতেই হয় তাহলে পরামর্শক্রমে এক তালাকের বেশি দেওয়া উচিত নয়, তাও শান্ত পরিবেশে। রাগের পরিবেশে নয় ‌।
 قال الله تعالى في"سورة البقرة " (٢٣٠) فان طلقها فلا تحل له من بعد حتى تنكح زوجا غيره۞  وأخرج الإمام البخاري رح في" صحيحه"(٢/٧٩١) عن عائشة رضي الله تعالى عنها أن رجلا طلق امرأته ثلاثا فتزوجت فطلق فسئل النبي صلى الله عليه وسلم اتحل للاول قال لا حتى تذوق كما ذاق الأول.۞  وأخرج الإمام "البخاري رح في"صحيحه" (٢/٧٩٢) قال الليث عن نافع كان ابن عمرإذا سئل عن طلق ثلاثا قال لو طلقت مرة او مرتين فإن النبي صلى الله عليه وسلم أمرني بهذا فإن طلقها ثلاثا حرمت حتى تنكح زوجا غيره۞  وفي "فتح الباري"(٩/٣٨٩) وقال الفارسي في مجمع العرائب إن طلاق الناس غالبا إنما هو في حالة الغضب وقال ابن المرابط ولو جاز عدم وقوع طلاق الغضبان لكان لكل أحد أن يقول فيما جناه كنت غضبانا واراد بذلك الرد على من قال أن الطلاق في الغضب لا يقع۞  وفي "رد المحتار"(٤/٤٣٩) ويقع الطلاق من غضب۞  وفي"التاتارخانية" (٥/١٤٧) وإن كان الطلاق ثلاثا في الحرة أو ثنتين في الأمة لا تحل له لا تنكح زوجا غيره نكاحا صحيحا ويدخل بها ثم يطلقها أو يموت عنها۞  وفي"الهندية"(١/٥٣٥) وإن كان الطلاق ثلاثا في الحرة أو ثنتين في الأمة لا تحل له لا تنكح زوجا غيره نكاحا صحيحا ويدخل بها ثم يطلقها أو يموت عنها۞  وفي"الهندية"(١/٣٥٥) إذا قال للإمرأته أنت طالق وطالق طلاق ولم يعقله بالشرط وإن كانت مدخولة طلقت ثلاثا۞  وفي "كتاب النوازل"(٩/٢٠٠) غصہ کی حالت میں بھی طلاق واقع ہو جاتی ہے..۞  أخرج الإمام مسلم في "صحيحه" انا عبد الله انه طلق المرأة له وهي حائز تطليقة واحدة- فأمره رسول الله صلى الله عليه وسلم أن يراجعها۞  وفي" الفتاوى الهندية " (١/٤١٦) البدعي من حيث الوقت: ان يطلق المدخول بها وهي من ذوات الاقراء من حاله الحيز او في طهر جامعها فيه - وكانت الطلاق واحدا ويحتسب له ان يراجعها ۞  وفي "فتح الباري" (٩/٣٤٧) زاد الليث عن نافع طلقة واحدة-اخرج مسلم وقال في آخره جود الليث في قوله تطليقة واحدة.... طلق ابن عمر امر امرأته وهي حائض واحدة۞  وفي "نصر الباري" (١٠/٢١٨) ائمہ اربع اور جمہور فقہان کی سوری دلیل یہ ہے کہ ابن عمر خود فرماتے ہیں کہ مستقل ایک طلاق شمار کی گئی یعنی اس کے بعد مجھ کو دو ہی طلاق کا اختیار رہا نیز حالت حیض کی طلاق کے وقوع پر واضح دلیل یہ ہے کے حضور صلی اللہ علیہ وسلم نے ابن عمر کو اس طلاق کے بعد رجوع کا حکم فرمایا اور زاہد اہائی کے رجوع طلاق بدون طلاق محال ہے، والله أعلم بالصواب۞

অনলাইন ফাতওয়া || ফাতওয়া বিভাগ || আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ