মূল অংশে যান

আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ

ফাতওয়া নং: ৫৪৬ তারিখ: ০২/০৮/২০২৬ ঈ.

বরাবর

ফাতওয়া বিভাগ

আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ, পোরশা ইসলামপুর, পোরশা, নওগাঁ, বাংলাদেশ।

বিষয়: তালাকের কিনায়া শব্দ

প্রশ্নের বিবরণ:

আসসালামু আলাইকুম, আমি বিবাহ করি প্রায় ছয় বছর আগে।তালাকের মাসালার সম্পর্কে আমার আগে তেমন ধারনা ছিল না,তো প্রায় সময় ঝগড়া ঝামেলা হলেই আমি রাগের মাথায় বিভিন্ন কিনায়া শব্দ ব্যবহার করতাম, তো একদিন ঝগড়া সময় আমার স্ত্রী বলে তাকে ছেড়ে দেওয়া জন্য আমি বলি ঠিক আছে ছেড়ে দিলাম বা দিয়ে দিলাম এই রকম শব্দ ব্যবহার করি।তো প্রায় সময় ঝগড়া ঝামেলা হলেই বলে আমারে লইয়া না খাইলে আমারে দিয়ালা তো আমি বলি ঠিক আছে তুই চলে যা আবার বলি তুই কি আমার ভাত খাইতি না, তো সে বলে না আমি তোর সংসার করব না,আমি বলি না করলে তুই চলে যা।তো এই রকম কত বার বলেছি আমার সঠিক মনে নেই, খালি মনে আছে প্রায় অনেকবারই এই কথা বলেছি। তো আমার জানার বিষয় হলে, ছেড়ে দিলাম বললে যদি নিয়ত ছাড়াই তালাক হয়ে যায়,তাইলে এই কথার দ্বারা কি তালাক পতিত হয়, বায়েন নাকি রজয়ী। আর আমি যে না জেনে প্রায় এই কথা বলেছি সেই ক্ষেত্রে এই খানে কি যত বার বলেছি তার জন্য প্রত্যেক বারের জন্য একবার করে তালাক পতিত হবে নাকি শুধু একবার পতিত হবে।এখন যে আমার সঠিক মনে নেই কত বার বলেছি সেই ক্ষেত্রে এখন আমার করনীয় কি। দয়া করে কুরআন ও হাদিসের আলোকে জানালে অনেক উপকুত হব। নিবেদন মো: মজিউল মোসা: বন্যা আক্তার কুমিল্লা।

সমাধান:

بسم الله الرحمن الرحيم، حامدا ومصليا ومسلما

প্রশ্নোক্ত বিবরণ অনুযায়ী আপনার বক্তব্য “ঠিক আছে ছেড়ে দিলাম” কথাটির দ্বারা আপনার স্ত্রীর উপর এক তালাকে রজয়ী কার্যকর হয়েছে। স্ত্রীর ইদ্দতের মধ্যে যদি আপনি তাকে মৌখিকভাবে ফিরিয়ে নেন বা স্বামী-স্ত্রী সুলভ কোনো আচরণ করে থাকেন তাহলে আপনাদের বৈবাহিক সম্পর্ক পুনর্বহাল হয়ে গেছে। এক্ষেত্রে পূর্বের মতোই ঘর-সংসার বৈধ হবে। আর যদি স্ত্রীকে ফিরিয়ে নেওয়ার আগেই ইদ্দত শেষ হয়ে যায় তাহলে তালাকটি বায়ান তালাকে রূপান্তরিত হয়েছে। এক্ষেত্রে দু’জন সাক্ষীর উপস্থিতিতে মোহর ধার্য করে পুনরায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে হবে। আর তালাকের এ কথাটি কতবার বলেছেন এটা যদি মনে না থাকে তাহলে এর কারণে একবারের বেশি তালাক পড়বে না। কেননা একবার বলাটা নিশ্চিত। এর পরেরগুলো সন্দেহ। আর সন্দেহের কারণে কোন তালাক পড়ে না। আর আপনার পরবর্তী বক্তব্য “ঠিক আছে চলে যা, তুই চলে যা” কথাগুলো যদি তালাকের নিয়তে বলে থাকেন তাহলে আপনার স্ত্রীর উপর এক তালাকে বায়েন কার্যকর হয়েছে। আর যদি তালাকের নিয়তে কথাগুলো না বলে থাকেন তাহলে আপনার স্ত্রীর উপর কোন তালাক কার্যকর হয়নি। আর যদি তালাকের নিয়ত ছিল কি না, মনে না থাকে তাহলেও তালাক কার্যকর হয়নি।
 في رد المحتار (٤/٥٣٠) سرحتك وهو "رھا کردم" لأنه صار صريحا في العرف  وفي الفتاوى الهندية (١/٤٤٧) إذا قال الرجل لامرأته: "بہشتم ترا از زنی" فاعلم بأن هذه اللفظة استعملها أهل خراسان وأهل العراق في الطلاق وأنها صريحة عند أبي يوسف رحمه الله حتى كان الواقع به رجعيا ويقع بدون النية  وفي رد المحتار (٤/٥٣٤) إن من الكناية ثلاث عشرة لا يعتبر فيها دلالة الحال ولا يقع إلا بالنية اخرجي. اذهبي  وفي فتاوى قاسميه (١٤/٧٥٢) سوال :کیا فرماتے ہیں علمائے دین و مفتیان شرع متین ذیل کے بارے میں کہ زید نے اپنی بیوی سے کہا کہ تم چلی جاؤ مجھے تم سے کوئی ضرورت نہیں ہے تم میرے سامنے مت انا نہ تم سے میں کھانا کھاؤں گا نہ پانی پیوں گا نہ تمہارے ساتھ بیٹھوں گا تم چاہیے اپنے گھر چلے جاؤ تو ان تمام باتوں پر غور کرتے ہوئے فرمائی کے اس عورت کو طلاق پڑے گی یا نہیں؟ الجواب: اگر زيد نے مذکورہ الفاظ سے طلاق دینے کی نیت کی ہے تو ایک طلاق بائن واقع ہو چکی ہے اور اگر طلاق کی نیت نہیں کی ہے تو اس سے کوئی طلق واقع نہ ہوگی بلکہ ایک قسم کی دھونس ہے نیت کے بارے میں زيد خود فیصلہ کرے..انتهى، والله أعلم بالصواب..

অনলাইন ফাতওয়া || ফাতওয়া বিভাগ || আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ