আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ
ফাতওয়া নং: ৫৬৬
তারিখ: ১২/০৮/২০২৬ ঈ.
বরাবর
ফাতওয়া বিভাগ
আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ, পোরশা ইসলামপুর, পোরশা, নওগাঁ, বাংলাদেশ।
বিষয়: তালাক প্রসঙ্গে
প্রশ্নের বিবরণ:
আসসালামু আলাইকুম। হুজুর আমার স্ত্রী কলেজ থেকে পিকনিক যেতে চায়। এসময় আমি বলি মাহরাম ছাড়া মহিলারা কোথাও যেতে পারে না। সে বলে তার বান্ধবীর মা হজ করে এসেছেন। তিনি স্বামীর অনুমতি নিয়ে সিলেট ঘুরে এসেছেন, তারা কি বিধান জানে না। আমি বললাম তারা হয়তো এটা জানে না। তখন আমি বলি তুমি ধর্মীয় বিধান মেনে চলতে পারলে চলো, নইলে আমার সাথে থাকার দরকার নেই (এটি বলার সময় আমার মনে উদ্দেশ্য ছিল তাকে শাসন করা, যদি কয়েকমাস / অনেক দিন বুঝানোর পরেও সে না শুনে তবে তালাক দিব)। সে বলে আপনিতো আগে এসব মানতেন না, ধর্মীয় বিধান মানতেন না। আমি বলি আগে মানতাম না, এখন মানার চেষ্টা করছি। তুমিও মানার চেষ্টা করো। সে তখন আবার বলে তাহলে আগে কেন মানতেন না। আমি বলি আগে খারাপ ছিলাম মানে এখনো খারাপ থাকবো সেটা হবে না। সে তর্ক করতে থাকে। এসময় খুব রাগ হয়। তাকে বলি তুমি তোমার মত থাক( এবার কী উদ্দেশ্য ছিল চূড়ান্ত রাগের মূহুর্তে কিছুই মনে ছিল না। তারপর ফোন রেখে দেয়। তারপর মুহূর্তে ১/২ মিনিট পর মনে করার চেষ্টা করি কি উদ্দেশ্য নিয়ে এটা বলেছি, হাজার চেষ্টা করেও মনে হচ্ছে না। শুধু এটুকু মনে ছিল প্রথমবার তাকে শাসন করার উদ্দেশ্য বলেছিলাম ধর্মীয় বিধান মানতে পারলে আমার সাথে থাক, নইলে থাকতে হবে না, যদি কয়েকমাস বলার পরেও না শুনে তালাক দিব এটি মনে করি। শেষবার/দ্বিতীয়বার কী উদ্দেশ্য ছিল সেটা মনে নাই। রাগ থেমে যাওয়ার পর তাকে জিজ্ঞেস করি দ্বিতীয়বার কি বলেছিলাম তুমি তোমার মত থাক? সে বলে, না বলেন নি। কিন্তু আমার মনে হচ্ছে আমি বলেছিলাম তুমি তোমার মত থাক। কিন্তু খুব বেশি রাগের মাথায় কি উদ্দেশ্য করেছি সেটা মনে নাই। এরকম পরিস্থিতিতে উক্ত কথার মাধ্যমে কি তালাক হয়ে যাবে? না আমাদের বিবাহ বলবত আছে?
সমাধান:
بسم الله الرحمن الرحيم، حامدا ومصليا ومسلما
প্রশ্নোক্ত বিবরণ যদি সঠিক হয়ে থাকে তাহলে আপনার স্ত্রীর উপর কোন তারা কার্যকর হয়নি। কেননা এ ধরনের বক্তব্য দ্বারা তালাক কার্যকর হওয়ার জন্য শর্ত হলো, তালাকের নিয়ত থাকার বিষয়টি সুনিশ্চিত হওয়া। আপনার প্রথম কথার মধ্যে তালাকের নিয়ত ছিল না। আর দ্বিতীয় কথার মধ্যে নিয়ত থাকার বিষয়টি সুনিশ্চিত নয়, বরং এতে সন্দেহ রয়েছে। আর সন্দেহের দ্বারা কোন তালাক কার্যকর হয় না তাই আপনার কোন কথার দ্বারাই তালাক কার্যকর হয়নি।
উল্লেখ্য, শরীয়তের দৃষ্টিতে সাধারণ অবস্থায় তালাক খুবই অপছন্দনীয় ও গর্হীত কাজ। তাই এ ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। অতি প্রয়োজন ছাড়া তা প্রয়োগ করা কিছুতেই বাঞ্ছনীয় নয়।
وفي "حاشية الطحطاوي"(٢١٩) حتى لو أجرئ الطلاق على قلبه وحرك لسانه من غير تلفظ يسمع لا يقع وإن صحح الحروف۞
في "الاشباه و النظائر"(١٠٠) اليقين لا يزول بالشك
وفي "الأشباه والنظائر"(١/١٩٨) شك هل حلف بالله أو بالطلاق أو بالعتاق فينبغي أن يكون حلفه بالطلاق ثم رايت المسالة في البزازية في شك الإيمان حلف ونسي أنه بالله تعالى أو بالطلاق والعتاق باطل۞
و في "الدر المختار" (٣\٢٩٧) والكنايات لا تطلق بها قضاء إلا بنية أو دلالة الحال
وفي "البدائع الصنائع"(٤\٢٨٤) ولا خلاف أنه لا يقع الطلاق بشئ من ألفاظ الكناية إلا بالنية فإن كان قد نوى الطلاق يقع فيهما بينه و بين الله تعالى وإن كان لم ينو فيهما بينه و بين الله
وفي "البحر الرائق" (٣\٥١٨) لا تطلق بها إلا بنية أو دلالة الحال فتطلق واحدة رجعية إلخ أي لا تطلق بالكنايات قضاء إلا باحدى هذين. ..انتهى، والله أعلم بالصواب
في "الهندية"(١\٤٤٣) والفتاوي : لم يبق بيني و بينك عمل ونوى يقع
في "قاضي خان"(١\٤١٣) او قال لم يبق بيني و بينك نكاح......يقع الطلاق إذا نوى
وفي "كتاب النوازل"(٩/٢٨٦) اپ مسئلہ یہ ہے کہ محض وہم و خیال اور شک کی وجہ سے شریعت مطہرہ کی روشنی میں نکاح کرنے اور نہ کرنے میں اسی طرح نکاح ہونے کی بعد طلاق واقع ہونے یا نہ ہونے کے بارے میں کیا حکم ہے؟جواب شریعت میں محض شکوک اور شبہات کا کوئی اعتبار نہیں ہے لہذا محض شک کی بناء پر کوئی طلاق نہ ہوگی.
وفي كتاب النوازل (٩/٤٤٦) الجواب: تیرا میرا کوئی تعلق نہیں کہنے سے اگر شوہر نے طلاق کی نیت کی تھی تو اس کی بیوی پر ایک طلاق بائن واقع ہو گئی تھی
অনলাইন ফাতওয়া || ফাতওয়া বিভাগ || আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ