আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ
বরাবর
ফাতওয়া বিভাগ
আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ, পোরশা ইসলামপুর, পোরশা, নওগাঁ, বাংলাদেশ।
বিষয়: হুরমতে মুশাহারাত বিষয়ে প্রবল ওয়াসওয়াসা
প্রশ্নের বিবরণ:
আসসালামু আলাইকুম হুজুর,
আমার বয়স ২৪, বিবাহিত। কিছুদিন আগে কিনায়া তালাক নিয়ে ওয়াসওয়াসা আসত — স্ত্রীকে কিছু বললেই মনে হত, কোন নিয়তে বললাম, তালাকের নিয়ত ছিল কিনা। কোনো কথা মিথ্যা বললাম কিনা, এ নিয়েও সন্দেহ আসত। আলহামদুলিল্লাহ, এসব চিন্তা এখন আর তেমন কষ্ট দেয় না।
কিছুদিন আগে অনলাইনে হুরমতে মুসাহারাত বিষয়ে পড়ার পর থেকে মনে খুব ভয় ঢুকে গেছে। দুটো ঘটনা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হচ্ছে —
১। মালিশ প্রসঙ্গ:
ক্লাস ৩-৬ পড়াকালীন (বয়স আনুমানিক ৮-১১) সন্ধ্যায় শুয়ে আম্মু আমাকে দিয়ে পেট মালিশ করাতেন। এটা মূলত ক্লাস ৩-৫ এ বেশি হয়েছে; ক্লাস সিক্সে হয়তো দু-তিনবার। জিনিসটা আমার কাছে ভালো লাগত, উপভোগ্য মনে হত। তবে সে বয়সে সহবাস বা যৌনতা সংক্রান্ত কোনো ধারণাই আমার ছিল না।
২। বারান্দার থাম প্রসঙ্গ:
এর কিছুটা পরে, ১০-১১ বছর বয়সে, আমাদের বাসার বারান্দায় থাকা লোহার থামগুলোতে বেয়ে ওঠার খেলা খেলতাম। এভাবে ওঠার সময় লক্ষ্য করি, পায়ের ফাঁকে থামে চাপ পড়লে একধরনের ভালো অনুভূতি হয় — এভাবেই না বুঝে একটা কৌশল শিখে ফেলি, যাতে পায়ের ফাঁকে গোপনাঙ্গে চাপ দিয়ে বীর্যপাতের কাছাকাছি একধরনের অনুভূতি আনা যেত। ওই বয়সে বীর্য বের হত না, শুধু ওই অনুভূতিটুকু হত। এটা যে হস্তমৈথুনের সাথে সম্পর্কিত কোনো কাজ, সে জ্ঞানও তখন আমার ছিল না — কারণ ওই বয়সে হস্তমৈথুন সম্পর্কে কোনো ধারণাই ছিল না। এরপর থেকে নিজে থেকেই মাঝেমধ্যে এই কৌশলে ওই অনুভূতি আনতে শিখে যাই। বড় হওয়ার পর পেছনে ফিরে তাকিয়ে বুঝতে পারি, ওটা আসলে হস্তমৈথুনের মতোই একটা কাজ ছিল।
মূল প্রশ্ন/সন্দেহ:
আমার গোপনাঙ্গ যে আম্মুকে ছুঁয়ে থাকা অবস্থায় (মালিশের সময়) কখনো উত্থিত হয়নি — এ ব্যাপারে আমি নিশ্চিত, এবং যখন এই চিন্তাটা প্রথম মাথায় আসে তখনও আমি নিশ্চিত ছিলাম যে এমন কিছু ঘটেনি। সমস্যা হলো, শয়তান বা নফস নতুন করে প্রশ্ন তুলছে — "উত্থিত না হোক, কিন্তু তাকে ছুঁয়ে থাকা অবস্থায় তুমি যে দুই পায়ের ফাঁকে গোপনাঙ্গ নিয়ে চাপ দেওয়ার ওই কৌশলটাই করোনি, তার প্রমাণ কী? এটাও হয়ত উত্তেজনা আসাকে প্রমাণ করে।" এই প্রশ্নটা আসার পর থেকে আমি বারবার নিজেকে সেই বয়স ও পরিস্থিতিতে কল্পনা করে যাচাই করার চেষ্টা করছি, যে করেছিলাম কিনা। বহুবার চেষ্টা করেও এমন কোনো স্মৃতি মনে পড়ছে না যে মালিশের সময় আমি শুয়ে শুয়ে এভাবে চাপ দিয়েছিলাম। মনে মনে জানি যে করিনি — কিন্তু বারবার কল্পনা করে যাচাই করতে থাকার এই প্রবণতার কারণে এখন সন্দেহটা আরও দৃঢ় হচ্ছে। প্রায় ১০-১৫ বছর আগের কথা। এক ধরনের দোটানায় পড়ে যাই: চিন্তাগুলোকে পাত্তা না দিলে নিজেকে খারাপ মুসলিম মনে হয়, আবার পাত্তা দিয়ে বারবার কল্পনা করে যাচাই করতে গেলে একসময় যা নিয়ে আগে সম্পূর্ণ নিশ্চিত ছিলাম যে ঘটেনি, তা নিয়েই সন্দেহে পতিত হই। এর ফলে স্বাভাবিক জীবনযাপন ও নামাযে মনোযোগ দিতে আমার খুব সমস্যা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ক্লাস ৮-৯ এ (তখন বয়স যথেষ্ট বেশি ছিল) একবার এক আত্মীয়াকে (তাকে স্পর্শ না করেই) কল্পনা করে শুয়ে থেকে পায়ের ফাঁকে গোপনাঙ্গে চাপ দিয়ে হস্তমৈথুন করেছিলাম — সেই ঘটনার কারণেই মনে হয় শয়তান ছোটবেলার এই স্মৃতিগুলো নিয়ে সন্দেহ আরও উস্কে দিচ্ছে।
আজ থেকে প্রায় আড়াই বছর আগে আমার মধ্যে পরিবর্তন আসে এবং আমি দ্বীনের পথে চলার চেষ্টা শুরু করি। কিন্তু বর্তমানে এই ওয়াসওয়াসার কারণে না স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারছি, আর না নিয়মিত নামায আদায় করতে পারছি। আম্মুকে আমি অনেক সম্মান করি, কিন্তু তাকে নিয়ে এই ধরনের চিন্তা-সন্দেহ বারবার মাথায় আসছে, যা আমার জন্য অত্যন্ত কষ্টদায়ক।
প্রশ্ন: যেখানে গোপনাঙ্গ উত্থিত হওয়ার কোনো স্মৃতি নেই এবং প্রথমে আমি নিশ্চিতই ছিলাম যে কিছু ঘটেনি, শুধু পরে বারবার কল্পনা করে যাচাই করার ফলে সন্দেহটা তৈরি হয়েছে — এমন অবস্থায় কি হুরমতে মুসাহারাতের হুকুম প্রযোজ্য হবে? এ ধরনের বারবার-কল্পনা-থেকে-জন্ম-নেওয়া ওয়াসওয়াসার ক্ষেত্রে শরয়ী দৃষ্টিতে করণীয় কী?
সমাধান:
بسم الله الرحمن الرحيم، حامدا ومصليا ومسلما
অনলাইন ফাতওয়া || ফাতওয়া বিভাগ || আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ