মূল অংশে যান

আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ

ফাতওয়া নং: ৫৯২ তারিখ: ০৭/০৯/২০২৬ ঈ.

বরাবর

ফাতওয়া বিভাগ

আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ, পোরশা ইসলামপুর, পোরশা, নওগাঁ, বাংলাদেশ।

বিষয়: কাবিন নামার ১৭-১৮ নাম্বার কলম জালিয়াতি করে স্ত্রী তালাকে তাফওয়ীজ দিলে বৈধ হবে কি না?

প্রশ্নের বিবরণ:

বরাবর  সম্মানিত মুফতি সাহেব দাঃবাঃ বিষয়: তালাক প্রসঙ্গে আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ  মুহতারাম আমি অত্যন্ত আবেগঘন ও জটিল একটি শরয়ী সমস্যার সঠিক সমাধানের জন্য আপনাদের দ্বারস্থ হয়েছি। অনুগ্রহ করে পুরো বিষয়টি বিবেচনা করে পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহর আলোকে ফতোয়া প্রদানে কৃতজ্ঞ থাকব। ঘটনার বিবরণ এই— আমার স্ত্রীর নাম তাহমিনা শিফা (পিতা: শহিদুল ইসলাম, সাং: পশ্চিম লালপুর)। আমরা দীর্ঘ দেড় বছর যাবত অত্যন্ত সুখে-শান্তিতে সংসার করে আসছি। এই দীর্ঘ সময়ে আমাদের মধ্যে কখনো বড় কোনো ধরনের কলহ হয়নি এবং আমাদের দুজনের কেউই কখনো মুখে 'তালাক' বা 'ডিভোর্স' শব্দ উচ্চারণ করিনি। বিবাহ সম্পন্ন হওয়ার সময় কাবিননামার ১৭ ও ১৮ নম্বর কলামে (যেখানে স্ত্রীকে তালাক প্রদানের অধিকার বা তালাক-ই-তাফবীযের অনুমতি দেওয়া না দেওয়ার ঘর টি থাকে) আমি আমার স্ত্রীকে কোনো প্রকার তালাকের অধিকার প্রদান করিনি। বিয়ের মজলিসে কাবিননামার ১৭ ও ১৮ নম্বর ঘর দুটি সম্পূর্ণ খালি ছিল। মূল কাজী সাহেব সরাসরি আমাদের কাবিননামাটি পূরণ করেননি; বরং আমাদের সাথে যাওয়া আমার একজন পরিচিত ব্যাক্তি আমাদের সামনে সেটি পূরণ করেন এবং উক্ত কলাম দুটি খালি রাখেন। কিন্তু গত কয়েক দিন আগে আমি যখন কাজী অফিস থেকে মূল কাবিননামা তুলতে যাই, তখন দেখতে পাই যে, কাজী সাহেব আমার কোনো অনুমতি, জিজ্ঞাসা বা পরামর্শ ছাড়াই সম্পূর্ণ নিজের ইচ্ছামতো স্বেচ্ছায় ১৮ নম্বর কলামটি পূরণ করে দিয়েছেন। সেখানে শর্ত হিসেবে লেখা হয়েছে— "বনিবনা না হলে এবং অবশিষ্ট মোহর আদায় না হলে, [স্ত্রী তালাক গ্রহণ করতে পারবে]"। বিগত কিছুদিন আগে আমার স্ত্রী তার বাপের বাড়ি বেড়াতে যায়। সেখানে যাওয়ার পর শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে সম্পূর্ণ একটি কুসংস্কার ও কাল্পনিক কুৎসা বুঝিয়ে বিভ্রান্ত করে। তারা আমার স্ত্রীর মনে এই বিশ্বাস স্থাপন করায় যে— আমার মা নাকি আমার স্ত্রীকে (তার অজান্তে) পিরিয়ডের রক্ত খাইয়েছেন এবং এর মাধ্যমে তার গর্ভের সন্তান নষ্ট (গর্ভপাত) করে ফেলেছেন! (নাউযুবিল্লাহ) তারা ধারণা করে বলে যাচ্ছে— এই কারণে সন্তান হচ্ছে না। অথচ ওই সমস্যা বা অসুস্থতা বিয়ের পরে এমনকি বিয়ের আগেও আমার স্ত্রীর ছিল।   বাস্তবতা হচ্ছে— এই জঘন্য ও কাল্পনিক অভিযোগের ব্যাপারে আমি বা আমার পরিবার বিন্দুমাত্র কিছুই জানি না। এবং পবিত্র কোরআন ও হাদিসের ভিত্তিতে যারা রুকাইয়া করেন, তাদের কয়েকজনের কাছে আমি নিজে উপস্থিত হয়ে জিজ্ঞেস করেছি। তারা এটা সম্পূর্ণ ভূল বলেছেন এবং এমন কোন সমস্যা নাই বলেছেন। আমার মা একজন স্বশিক্ষিত মানুষ, তিনি বলছেন, তিনি পবিত্র কোরআন শপথ / স্পর্শ করে বলতে পারবেন— এমন কিছু তিনি কখনোই করেননি।  এই মিথ্যা ও অভিযোগের ভিত্তিতে তারা আমার স্ত্রীর মাধ্যমে আমাকে 'তালাক-ই-তাফবীয' বা ডিভোর্সের নোটিশ পাঠিয়েছে। আমি তাদের স্পষ্ট বলেছি, যদি তারা এই অভিযোগটির বিন্দুমাত্র সত্যতা প্রমাণ করতে পারে, তবে আমি আমার স্ত্রী ও সন্তানের অধিকার রক্ষার্থে আমার বাবা-মা থেকে সম্পূর্ণ আলাদা হয়ে নতুন বাসা নিয়ে থাকতে প্রস্তুত। কিন্তু তারা কোনো প্রমাণ দিতে পারেনি, উল্টো আমার শ্বশুর আমাকে 'নাস্তিক' সহ বিভিন্ন আপত্তিকর কথা-বার্তা বলে যাচ্ছেন। এমতাবস্থায়, শরীয়তের আলোকে নিচের প্রশ্নগুলোর জরুরি উত্তর জানতে চাচ্ছি: ১. বিয়ের মজলিসে স্বামী মুখে বা লিখিতভাবে স্ত্রীকে তালাকের কোনো অধিকার না দেওয়া সত্ত্বেও এবং কাবিননামার কলামটি খালি থাকা সত্ত্বেও, পরবর্তীতে কাজী সাহেব যদি নিজের ইচ্ছামতো বা কনের পক্ষের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে ১৮ নম্বর ঘর পূরণ করেন, তবে শরীয়তের দৃষ্টিতে উক্ত 'তালাক-ই-তাফবীয'-এর কোনো কার্যকারিতা বা বৈধতা থাকবে কি? ২. শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে আমার মায়ের ওপর আনা গর্ভপাতের এই কুসংস্কারাচ্ছন্ন মিথ্যা অপবাদ এবং অবাস্তব অনুমানের ওপর ভিত্তি করে স্ত্রী যে তালাক দিল, ইসলামের দৃষ্টিতে সেই তালাকের হুকুম কী? ৩.এমতাবস্থায় আমি তালাক  না দেওয়া সত্ত্বেও, আমার জীবদ্দশায় সে অন্য কোন পুরুষের জন্য হালাল/বৈধ স্ত্রী হতে পারবে? ৪.স্বামীর অজান্তেই কাবিন নামার ১৭-১৮ নাম্বার কলমে কেহ এমন কিছু লিখে দিলো, যে স্ত্রী তালাক নিতে পারবে। অথচ স্বামী এই বিষয়ে জানেই না, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ৭০ % পরুষ জানেই না, ১৭-১৮ নাম্বার কলমে কি লেখা আছে।এখন ক্বযাআন ( বিচারিক) ভাবে সিদ্ধান্ত কি হবে, এবং দ্বিয়ানতান ( দায়বদ্ধতা) / শরীয়তের ফয়সালা কি হবে। বিনীত নিবেদনে আবু সুফিয়ান অর্জুনতলা, সেনবাগ, নোয়াখালী।  যোগাযোগ : 01606144873

সমাধান:

بسم الله الرحمن الرحيم، حامدا ومصليا ومسلما

:: প্রশ্নোক্ত বিবরণ অনুযায়ী আপনি যদি বাস্তবেই মৌখিকভাবে বা লিখিতভাবে স্ত্রীকে তালাকে তাফবীযের কোন অধিকার না দিয়ে থাকেন আর আপনার অজান্তেই কাযী সাহেব ১৮ নম্বার কলামটি পূর্ণ করেন তাহলে ইসলামী শরীয়তের দৃষ্টিকোন থেকে এর দ্বারা আপনার স্ত্রী তালাকে তাফবীযের অধিকার প্রাপ্ত হবে না আর নিজের উপর তালাক প্রয়োগ করলেও উক্ত তালাক কার্যকর হবে না। কেননা, তালাকে তাফবীযের অধিকার প্রাপ্ত হওয়ার জন্য স্বামীর অনুমতি শর্ত। এমতাবস্থায় যদি স্ত্রী নিজের উপর তালাক প্রয়োগ করে অন্যত্র বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয় তাহলে দ্বিতীয় স্বামীর সাথে ঘর-সংসার করাও তার জন্য বৈধ হবে না।
 أخرج الامام ابن ماجه في سننه (١/٥٨٣/ رقم الحديث: ٢٠٤٧) عن عمرو بن شعيب عن ابيه عن جده (رض) ان النبى صلى الله عليه و سلم قال: لا طلاق فيما لا يملك ٭  و في الدر المختار (٤/٤١٩) و محله المنكوحة و اهله زوج عاقل بالغ مستيقظ ٭  و في الفتاوى الهندية(١/٤٥٦) ثم لا بد من النية في قوله: اختارى فان اختارت نفسها في قوله اختارى كانت واحدة بائنة --- فاذا اختارت نفسها فانكر قصد الطلاق فالقول له نع يمينه ٭  و فيه ايضا(١/٤٧٦) اولياء المرأة اذا طلبوا من الزوج ان يطلقها فقال الزوج، لابيها، ماذا تريد منى افعل ما تريد؟ و خرج ثم طلقها ابوها لم تطلق ان لم يرد الزوج التفويض، و يكون القول قوله انه لم يرد به التفويض كذا في الخلاصة ٭  و في رد المحتار(٤/٤٥٦) و لو استكتب من آخر كتابا بطلاقها و قرأه على الزوج فأخذه الزوج و ختمه و عنونه و بعث به اليها فأتاها، وقع ان أقرّ الزوج انه كتابه، او قال للرجل ابعث به اليها، او قال له اكتب نسخه و ابعث بها اليها، و ان لم يقرّ انه كتابه و لم تقم بينة ركنه وصف الامر على وجهه لا تطلق قضاء لو لا ايانة، و كذا كل كتاب لم يكتبه بخطه و لم يمله بنفسه لا يقع الطلاق ما لم يقرّ انه كتابه ٭  و فی دار العلوم زکریا (٤/١٨٤) لیکن شوہر کی اجازت کے بغیر عورت کو طلاق کا کوئی اختیار نہیں، اگر چہ غیر اسلامی قوانین میں ہو، اسلامی قانون پر اس کا کوئی اثر مرتب نہ ہوگا ٭  و في فتاوی عثمانی (٢/٤٠٢) اور اگر تفویض سے مراد یہ ہے کہ اس نے عورت کو آپنے اوپر طلاق واقع کرنے کا اختیار دے دیا ہے تو معاملہ عورت کے ہاتھ میں ہے، اگر وہ آپنے نفس پر طلاق واقع کرلے تو طلاق ہو جائے گی ، ورنہ نہيں ٭  و في کتاب النوازل (٩/١٣٩) شریعت میں طلاق دینے کا اختیار مرد کو ہے، عورت کی طرف سے طلاق کا کوئی اعتبار نہیں ہے، لہذا مسئولہ صورت میں زینب کی طوف سے آپنے شوہر کو طلاق دینے سے اس پر کوئی طلاق واقع نہیں ہوئی، جب تک شوہر طلاق نہ دے، یا ان میں شرعی تفریق واقع نہ ہو وہ بدستور شوہر یعنی زید کی بیوی رہے گی، اور کسی دوسرے شخص سے اس کا نکاح حلال نہ ہوگا، لہذا اس کا نکاح اس حالت ميں جو دوسرے سے کیا گیا ہے، وہ قطعا غیر معتبر ہے، ان دونوں میں زوجیت کا تعلق یقینا حرام ہے، اور دونوں میں تفریق ضروری ہے، اور اس حرکت پر توبہ و استغفار لازم ہے ٭  و في فتاوی دار العلوم دیوبند(٩/٩٣) جب تک زید گویہ علم نہ ہو کہ اس اقرار نامہ میں کیا شرائط ہیں تو وہ اقرار نامہ زید کی طرف سے زید کا مسلمہ نہ سمجھاجاوے گا، اور جب کہ وہ شرائط زید کو تسلیم نہیں ہیں تو تحقق شرط سے طلاق واقع نہ ہوگی٭انتهى والله اعلم بالصواب

অনলাইন ফাতওয়া || ফাতওয়া বিভাগ || আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ