আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ
ফাতওয়া নং: ৬০৯
তারিখ: ০৪/০৯/২০২৬ ঈ.
বরাবর
ফাতওয়া বিভাগ
আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ, পোরশা ইসলামপুর, পোরশা, নওগাঁ, বাংলাদেশ।
বিষয়: মুখে কেনায়া বাক্য একবার বলা অবস্থায় মনের ভেতরে বিচ্ছেদের নিয়ত বারবার, ক্রমাগত ও অনবরত হওয়ার কারণে তালাকের হুকুম জানতে চেয়ে ফতোয়া আবেদন।
প্রশ্নের বিবরণ:
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ,মুহতারাম মুফতি সাহেব,ইসলামী শরিয়তের আলোকে একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল দাম্পত্য বিষয়ের সুনির্দিষ্ট ও চূড়ান্ত ফায়সালা কামনা করছি। দয়া করে স্বামীর মানসিক অবস্থা এবং মনের ভেতর নিয়তটি যেভাবে বারবার ঘুরপাক খাচ্ছিল—সেই তীব্রতার বিষয়টি গভীরভাবে বিবেচনা করে সঠিক রেফারেন্সসহ সমাধান জানিয়ে উপকৃত করবেন।ঘটনার বিবরণ ও পারিপার্শ্বিক অবস্থা:এক স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে তীব্র পারিবারিক ঝগড়া ও কথা-কাটাকাটি চলছিল। রাগের চরম মুহূর্তে স্বামী তার স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে মুখে সুনির্দিষ্টভাবে মাত্র একবার একটি কেনায়া (ইঙ্গিতসূচক) বাক্য উচ্চারণ করে। বাক্যটি ছিল: "অন্য কোনো ছেলে দেখ।"নিয়ত ও চিন্তার বারবার পুনরাবৃত্তির বিস্তারিত বিবরণ:১. স্বামী মুখে এই বাক্যটি নিশ্চিতভাবে মাত্র একবারই উচ্চারণ করেছেন। মুখে তিনি বাক্যটি একাধিকবার বলেননি।২. মুখে বলার সময় স্বামীর মনে সুনির্দিষ্ট "তিন (৩)" সংখ্যাটির কোনো নিয়ত বা ধারণা ছিল না। অর্থাৎ, 'আমি তোমাকে তিন তালাক দিয়ে একবারে বিদায় করছি'—এমন কোনো সংখ্যার কথা মনে ছিল না।৩. তবে তখন স্বামীর মনে শুধু তালাকের(সম্পর্ক শেষ করার বা আলাদা হয়ে যাওয়ার) নিয়ত ছিল।৪. বিশেষভাবে লক্ষণীয় বিষয় (খটকার মূল জায়গা): ঝগড়ার ওই মুহূর্তের তীব্রতার কারণে বিচ্ছেদের ওই একটি নিয়ত বা ইচ্ছাই স্বামীর মনের ভেতর বারবার,অনবরত হচ্ছিল। অর্থাৎ, মনের ভেতরে বিচ্ছেদের চিন্তা ও নিয়তটি একবার হয়েই শেষ হয়ে যায়নি, বরং তা মনের গভীরে বারবার আসছিল এবং একের পর এক তার পুনরাবৃত্তি ঘটছিল। বর্তমানে স্বামী-স্ত্রী উভয়েই নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে শরিয়তসম্মত উপায়ে পুনরায় একসাথে সংসার করতে আগ্রহী। কিন্তু তাদের মনে তীব্র খটকা ও সংশয় তৈরি হয়েছে যে—মুখে ১ বার বললেও মনের ভেতরে বিচ্ছেদের নিয়তটি বারবার, ক্রমাগত এবং অনবরত হবার কারণে শরিয়তের পরিভাষায় তালাকের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে ৩ তালাক (চূড়ান্ত বিচ্ছেদ) হয়ে গেল কি না? নাকি মনে নিয়ত বারবার হওয়া সত্ত্বেও মুখের উচ্চারণ মাত্র ১ বার হওয়ায় এটি কেবল ১টি তালাক হিসেবেই গণ্য হবে?অতএব, শরিয়তের সঠিক মূলনীতি অনুযায়ী দয়া করে স্পষ্ট করে জানাবেন:এই পরিস্থিতিতে কত সংখ্যক তালাক কার্যকর হয়েছে?মুখের উচ্চারণ একবার থাকা অবস্থায় মনের ভেতর নিয়তের এই বারবার, ক্রমাগত ও অনবরত পুনরাবৃত্তি কি তালাকের সংখ্যা বাড়াতে পারে?তাদের জন্য পুনরায় শরিয়তসম্মত উপায়ে একসাথে সংসার শুরু করার সঠিক নিয়ম বা সুরত কী?অনুগ্রহ করে বিস্তারিত সমাধান দিয়ে তাদের মনের সমস্ত খটকা দূর করতে সাহায্য করবেন
সমাধান:
بسم الله الرحمن الرحيم، حامدا ومصليا ومسلما
প্রশ্নোক্ত বিবরণ যদি সত্য হয় তাহলে “অন্য কোন ছেলে দেখো” কথাটি বলার সময় তিন তালাকের নিয়ত না থাকার কারণে শুধু এক তালাকে বায়েন কার্যকর হয়েছে। বিচ্ছেদের নিয়তটি মনের ভেতরে বারবার আসা ও পুণরাবৃত্তির কারণে নতুন করে আর কোন তালাক কার্যকর হবে না। এ অবস্থায় তারা যদি পুনরায় বৈধভাবে ঘর-সংসার করতে চায় তাহলে দুইজন স্বাক্ষীর উপস্থিতিতে নতুনভাবে মোহর নির্ধারণ করে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে হবে।
প্রকাশ থাকে যে, ভবিষ্যতে স্বামী শুধুমাত্র দুই তালাকের মালিক থাকবেন, তিনি যদি ভবিষ্যতে আর কখনো দুই তালাক প্রদান করেন তাহলে তিন তালাক পতিত হয়ে তাদের বৈবাহিক সম্পর্ক সম্পূর্ণরূপে ছিন্ন হয়ে একে অপরের জন্য হারাম হয়ে যাবে। তখন এভাবে বিবাহ নবায়ন করেও আর এক সাথে ঘর সংসার করা বৈধ হবে না। তাই ভবিষ্যতে তালাকের ব্যাপারে খুবই সতর্ক থাকতে হবে।
أخرج الامام مسلم في صحيحه (١/٧٨٩/رقم الحديث:١٢٧) عن أبى هريرة (رض) قال: قال رسول الله صلى الله عليه و سلم: ان الله تجاوز لامتي ما حدثت به انفسها ما لم يتكلموا او يعملوا به ٭
و أخرج الامام ابن أبى شيبة في مسنده (٩/٥٩٦/ رقم الحديث: ١٨٤٦٠) عن ابراهيم في الخلية: ان نوا طلاقا فأدنى ما يكون تطليقة بائنا، ان شاءت و شاء تزوجها، و ان نوا ثلاثا فثلاث ٭
و فيه ايضا (٩/٥٩٤/ رقم الحديث: ١٨٤٤٨) عن إبراهيم قال: ان نوا طلاقا فأدنى ما يكون من نيته في ذلك واحدة بائن، ان شاء و شاءت تزوجها، و ان نوا ثلاثا فثلاث ٭
و في الفتاوى الهندية(١/٤٤٢) و يابتغى الازواج تقع واحدة بائنة ان نواها، او اثنتين و ثلاث ان نواها هذا في شرح الوقاية ٭
و في حاشية الطحطاوى على الدر المختار(٢/١٣٢) لا تطلق بها قضاء الا بنية او دلالة الحال ٭
و في رد المحتار(٤/٥٢٦) و منها: عديت عنها فيقع به البائن بالنية، و نوى الطلاق تقع واحدة بائنة ٭
و في مراقى الفلاحى(٢١٩) حتى لو أجرئ الطلاق على قلبه و حرك لسانه من غير تلفظ يسمع لا يقع و ان صحح الحروف ٭
و في کتاب النوازل(٩/٤٥١) شوہر کا آپنی بیوی سے یہ کہنا کہ "تم آپنے والدین کو خبر کردو تجھے لے جائیں گے" اور یہ کہنا کہ "دوسرا لڑکا تلاش لیں" اور " تمہارا گزرانہ میرے پاس نہیں ہو سکتا" یہ سب الفاظ کنائی میں سے ہیں، شوہر نے اگر مذکورہ الفاظ کہتے وقت طلاق کی نیت کی تھی تو تجدید نکاح کے بغیر زید کے لئے آپنی بیوی سے وطی کرنا حلال نہ تھا، لہذا زید پر توبہ و استغفار لازم ہوگا، اور نکاح جدید بھی لازم ہوگا، اور اگر زید نے طلاق کی نیت نہیں کی تھی تو مذکورہ الفاظ کہنے سے کوئی طلاق واقع نہیں ہوئی ٭
و فیہ ایضا(٩/٤٩٨) البتہ دوسرا خط جس میں یہ لکھا ہے کہ تم نکاح کر لو تو کر لو، اس کے بارے میں تحقیق کی جائے گی، اگر اس کی نیت اس سے طلاق کی ہے، تو آپ پر ایک طلاق بائن واقع ہو جائے گی، اور اگر وہ یہ کہے کہ میں نے طلاق کی نیت سے یہ الفاظ نہیں کہے ہیں، بلکہ ایسے ہی دھمک کی نیت سے کہے ہیں، تو طلاق واقع نہ ہوگی ٭
وفي فتاوی دار العلوم دیوبند(٩/٣٤) حدیث صحیح میں ہے ان اللہ تجاوز عن امتی ما وسوست به صدورھا ما لم تعمل بھا او تتکلم بھا رواہ الشیخان- پس معلوم ہوا کہ اس صورت میں محمد ابراھیم کی زوجہ پر طلاق واقع نہیں ہوئی ٭
و فیہ ایضا (٩/٤١) خیال و وسوسہ سے طلاق واقع نہیں ہوتی ٭انتهى والله اعلم بالصواب
অনলাইন ফাতওয়া || ফাতওয়া বিভাগ || আল জামি'আতুল আরাবিয়া দারুল হিদায়াহ